Al-Ahzab

আল-আহযাব: 1

33:1
টেক্সট কপি
33 আল-আহযাব Al-Ahzab · 73 আয়াত الأحزاب

মূল আরবি

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِىُّ ٱتَّقِ ٱللَّهَ وَلَا تُطِعِ ٱلْكَـٰفِرِينَ وَٱلْمُنَـٰفِقِينَ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا

English Translations

Sahih International

O Prophet, fear Allāh and do not obey the disbelievers and the hypocrites. Indeed, Allāh is ever Knowing and Wise.

Muhsin Khan

O Prophet (Muhammad SAW)! Keep your duty to Allah, and obey not the disbelievers and the hypocrites (i.e., do not follow their advices). Verily! Allah is Ever AllKnower, AllWise.

Taqi Usmani

O Prophet, fear Allah and do not obey the disbelievers and the hypocrites. Surely Allah is All-Knowing, All-Wise.

Abul Ala Maududi

O Prophet, fear Allah and do not obey the unbelievers and the hypocrites. Verily Allah is All-Knowing, Most Wise.

Pickthall

O Prophet! Keep thy duty to Allah and obey not the disbelievers and the hypocrites. Lo! Allah is Knower, Wise.

Yusuf Ali

O Prophet! Fear Allah, and hearken not to the Unbelievers and the Hypocrites: verily Allah is full of Knowledge and Wisdom.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

হে নবী (সা)! আল্লাহকে ভয় কর, আর কাফির ও মুনাফিকদের আনুগত্য কর না, নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞাতা, মহাপ্রজ্ঞাময়।

রাওয়াই আল-বায়ান

হে নবী, আল্লাহকে ভয় কর এবং কাফির ও মুনাফিকদের আনুগত্য করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সম্যক জ্ঞানী, মহাপ্রজ্ঞাময়।

শাইখ মুজিবুর রহমান

হে নাবী! আল্লাহকে ভয় কর এবং কাফিরদের ও মুনাফিকদের আনুগত্য করনা। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

হে নবী! আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করুন এবং কাফিরদের ও মুনাফিকদের আনুগত্য করবেন না। আল্লাহ্‌ তো সর্বজ্ঞ হিকমতওয়ালা।

ফাতহুল মাজীদ

হে নাবী! আল্লাহকে ভয় কর এবং কাফিরদের ও মুনাফিকদের অনুসরণ করবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।

মুখতাসার

১. হে নবী! আপনি ও আপনার সাথীরা আদেশ-নিষেধ মান্য করার মাধ্যমে আল্লাহ ভীরুতার উপর অটল থাকুন এবং শুধু তাঁকেই ভয় করুন। আর কাফির ও মুনাফিকদের প্রবৃত্তির অনুসরণের কাজে তাদের আনুগত্য করবেন না। আল্লাহ কাফির ও মুনাফিকদের ছল-চাতুরী সম্পর্কে জানেন। তিনি তাঁর সৃষ্টি ও পরিচালনায় প্রজ্ঞাবান।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত আছে যে, হযরত উবাই ইবনে কা'ব (রাঃ) হযরত যির (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেনঃ “সূরায়ে আহযাবের কতটি আয়াত গণনা করা হয়?" উত্তরে তিনি বলেনঃ “ তেহাত্তরটি।” তখন হযরত উবাই ইবনে কা'ব (রাঃ) বলেনঃ “না, না। আমি তো দেখেছি যে, এ সূরাটি প্রায় সূরায়ে বাকারার সমান ছিল। এই সূরার মধ্যেই নিম্নের আয়াতটিও আমরা পাঠ করতামঃ (আরবি)অর্থাৎ “বুড়ো ও বুড়ী যদি ব্যভিচারে লিপ্ত হয়ে পড়ে তবে তোমরা তাদেরকে অবশ্যই প্রস্তরাঘাতে হত্যা করে ফেললো, এটা হলো আল্লাহর পক্ষ হতে শাস্তি এবং আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, বিজ্ঞানময়।” এর দ্বারা জানা যায় যে, এই সূরার।

কতকগুলো আয়াত আল্লাহর নির্দেশক্রমে রহিত হয়ে গেছে। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলাই সর্বাধিক সঠিক জ্ঞানের অধিকারী। ১-৩ নং আয়াতের তাফসীরসতর্ক করার সুন্দর পন্থা এই যে, বড়দেরকে বলতে হবে যাতে ছোটরা তা শুনে সাবধান হয়ে যায়। আল্লাহ তা'আলা স্বীয় নবী (সঃ)-কে যখন কোন কথা গুরুত্বের সাথে বলেন তখন বুঝে নিতে হবে যে, অন্যের জন্যে এর গুরুত্ব আরো বেশী। আল্লাহর হিদায়াত অনুযায়ী পুণ্য লাভ করার নিয়তে তাঁর ফরমানের আনুগত্য করা এবং তাঁর ফরমান অনুযায়ী তার শাস্তি থেকে বাচার উদ্দেশ্যে তাঁর নাফরমানী পরিত্যাগ করার নাম হলো তাকওয়া। আর কাফির ও মুনাফিকদের কথা না মানা, তাদের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ না করা এবং স্বীকার করে নেয়ার নিয়তে তাদের কথা না শোনার নামও তাকওয়া।

জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অধিকারী তো। একমাত্র আল্লাহ। তিনি তাঁর প্রশস্ত ও ব্যাপক জ্ঞানের মাধ্যমে প্রত্যেক কাজের ফুল বা পরিণাম সম্যক অবগত। তার সীমাহীন হিকমতের কারণে তার কোন কাজ, কোন কথা বিবেচনা ও নীতি বহিভূর্ত হয় না। তাই তিনি স্বীয় নবী (সঃ)-কে বলেনঃ অতএব তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে তোমার প্রতি যা অহী করা হয় তুমি তারই অনুসরণ কর, যাতে তুমি খারাপ পরিণতি ও বিভ্রান্তি হতে বাঁচতে পার। আল্লাহ তা'আলার কাছে কারো ক্রিয়াকলাপ গোপন নেই। নিজের সমস্ত কাজকর্মে শুধু আল্লাহর উপরই ভরসা কর। তার উপর যে ভরসা করে তার জন্যে তিনিই যথেষ্ট হন। কারণ তিনি সমস্ত কাজের উপর পূর্ণ শক্তিশালী।

তাঁর প্রতি যে আকৃষ্ট হয় বা তাঁর দিকে যে ঝুঁকে পড়ে সে সফলকামই হয়ে থাকে।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

হে নবী! আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করুন এবং কাফিরদের ও মুনাফিকদের আনুগত্য করবেন না। আল্লাহ্‌ তো সর্বজ্ঞ হিকমতওয়ালা [১]।

[১] সূরাতুল-আহ্‌যাব মদীনায় নাযিল হয়। এর অধিকাংশ আলোচ্য বিষয় আল্লাহ সমীপে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর বিশিষ্ট স্থান ও উচ্চ মর্যাদা সংশ্লিষ্ট। এ সূরার বিভিন্ন শিরোনামে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নির্দেশ পালনের বাধ্যবাধকতা, তার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আবশ্যকতা এবং তাকে দুঃখ-যন্ত্রণা দেয়া হারাম হওয়ার কথা বিবৃত হয়েছে। সূরার অবশিষ্ট বিষয়সমূহও এগুলোরই পরিপূরক ও সহায়ক। তাছাড়া বিবাহিত পুরুষ ও বিবাহিতা মহিলাকে রজম করার আয়াতটি এ সূরাতেই ছিল। পরবর্তীতে সেটার বিধান বহাল রেখে তেলাওয়াত রহিত করা হয়। [দেখুন, কুরতুবী; ইবন কাসীর] এ ব্যাপারে উবাই ইবন কা'ব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। [দেখুন, মুসনাদে আবী দাউদ আত-তায়ালিসী, ৫৪২; ইবন হিব্বান ৪৪২৮; মুস্তাদরাকে হাকিম: ৪/৩৫৯]

[১] এ আয়াতের উপসংহার

اِنَّ اللّٰهَ كَانَ عَلِيْمًا حَكِيْمًا

বলে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করার এবং কাফের ও মুনাফেকদের অনুসরণ না করার পূর্ব বর্ণিত যে হুকুম তার তাৎপর্য ও যৌক্তিকতা বর্ণনা করা হয়েছে। কেননা, যে আল্লাহ যাবতীয় কর্মের পরিণতি ও ফলাফল সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবহিত, তিনি অত্যন্ত প্রজ্ঞাময়। মানুষের যাবতীয় কল্যাণ ও মঙ্গল তাঁর পরিজ্ঞাত। [ইবন কাসীর]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-আহজাব (৩৩): আয়াত ১] পূর্ণ পৃষ্ঠা

[সূরা আল-আহজাব (৩৩): আয়াত ১]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামেহে নবী! আল্লাহকে ভয় করুন এবং কাফের ও মুনাফিকদের আনুগত্য করবেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময় (১)।মহান আল্লাহর বাণী: (হে নবী! আল্লাহকে ভয় করুন) এখানে "আইয়ু" (أَيُّ) শব্দটিতে যম্মাহ (পেশ) প্রদান করা হয়েছে কারণ এটি একটি একক সম্বোধন (নিদায়ে মুফরাদ), এবং এর সাথে সতর্কতাসূচক ‘হা’ (التنبيه) যুক্ত থাকা আবশ্যক। আর "আন-নাবিয়্যু" শব্দটি ব্যাকরণবিদদের মতে "আইয়ু"-এর বিশেষণ (নাত), তবে আখফাশের মতে এটি "আইয়ু"-এর সংযোজন (সিলাহ)। মাক্কী বলেন: আরবদের ভাষায় কোনো একক বিশেষ্য (ইসমে মুফরাদ) অন্য কিছুর ‘সিলাহ’ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার নজির নেই।

আন-নাহহাস বলেন: অধিকাংশ ব্যাকরণবিদের মতে এটি ভুল, কারণ ‘সিলাহ’ সর্বদা একটি বাক্য (জুমলা) হয়ে থাকে। এর স্বপক্ষে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয় তা হলো—এটি যেহেতু একটি অপরিহার্য বিশেষণ, তাই একে ‘সিলাহ’ নাম দেওয়া হয়েছে; আর এভাবেই কুফী ব্যাকরণবিদরা অনির্দিষ্ট পদের (নাকিরাহ) বিশেষণকে ‘সিলাহ’ বলে অভিহিত করেন। অধিকাংশ ব্যাকরণবিদের মতে একে মূল অবস্থানের (মাউজি‘) ভিত্তিতে ‘নসব’ (যবর) দেওয়া জায়েয নেই। তবে আল-মাযিনী একে জায়েয মনে করেন; তিনি একে ‘ইয়া যায়দু আয-যারিফা’ (হে বুদ্ধিমান যায়দ) বাক্যের মতো গণ্য করেছেন, যেখানে ‘যায়দ’-এর অবস্থানের ভিত্তিতে ‘আয-যারিফা’ শব্দটিতে ‘নসব’ দেওয়া হয়েছে।

মাক্কী বলেন: এই (যায়দের) বিশেষণটি অতিরিক্ত হতে পারে, কিন্তু "আইয়ু"-এর বিশেষণটি অপরিহার্য, তাই অবস্থানের ভিত্তিতে একে ‘নসব’ দেওয়া সংগত নয়। তদুপরি, অর্থগতভাবে "আইয়ু"-এর বিশেষণটিই প্রকৃতপক্ষে সম্বোধিত, তাই এতে ‘নসব’ হওয়া সুন্দর দেখায় না। বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মদিনায় হিজরত করলেন, তখন তিনি ইহুদিদের—কুরাইজা, নাযির ও বনু কাইনুকা—ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন। তাদের মধ্যে কিছু লোক মুনাফিকি অবস্থায় তাঁর অনুসারী হয়েছিল, তাই তিনি তাদের প্রতি নমনীয় আচরণ করতেন এবং তাদের ছোট-বড় সবাইকে সম্মান করতেন।

তাদের থেকে কোনো মন্দ কাজ প্রকাশ পেলে তিনি তা ক্ষমা করে দিতেন এবং তাদের কথা শুনতেন; তখন এই আয়াত নাজিল হয়। আরও বলা হয়েছে যে, ওয়াহিদী, কুশাইরী, সা‘লাবী, মাওয়ারদী এবং অন্যান্যদের বর্ণনা অনুযায়ী এটি আবু সুফিয়ান ইবনে হারব, ইকরিমা ইবনে আবি জাহল এবং আবুল আওয়ার আমর ইবনে সুফিয়ান সম্পর্কে নাজিল হয়েছে। তারা উহুদ যুদ্ধের পর মুনাফিকদের সরদার আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুলের কাছে মদিনায় এসেছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের এই শর্তে নিরাপত্তা দিয়েছিলেন যে তারা তাঁর সাথে কথা বলবে। তখন তাদের সাথে আবদুল্লাহ ইবনে সাদ ইবনে আবি সারহ এবং তু'মাহ ইবনে উবাইরিকও দাঁড়িয়েছিলেন।

তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললেন—যখন উমর ইবনে খাত্তাব তাঁর কাছে ছিলেন—"আপনি আমাদের উপাস্য লাত, উযযা ও মানাতের সমালোচনা করা ছেড়ে দিন এবং বলুন যে যারা এগুলোর উপাসনা করে তাদের জন্য এগুলোর সুপারিশ ও শক্তি রয়েছে, তবে আমরা আপনাকে ও আপনার প্রতিপালককে নিজ অবস্থায় ছেড়ে দেব।" তাদের এই বক্তব্য নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে অত্যন্ত পীড়াদায়ক মনে হলো। তখন উমর (রা.) বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে তাদের হত্যা করার অনুমতি দিন।" নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "আমি তাদের নিরাপত্তা দিয়েছি।" তখন উমর (রা.) বললেন: "তোমরা আল্লাহর লানত ও ক্রোধ নিয়ে এখান থেকে বেরিয়ে যাও।" অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আদেশ দেওয়া হলো যাতে তারা মদিনা থেকে বের হয়ে যায় এবং এই আয়াত নাজিল হলো।

"হে নবী! আল্লাহকে ভয় করুন" অর্থাৎ আল্লাহকে ভয় করুন। (এবং কাফেরদের আনুগত্য করবেন না) মক্কাবাসীদের মধ্য থেকে অর্থাৎ আবু সুফিয়ান, আবুল আওয়ার এবং ইকরিমা। (এবং মুনাফিকদের) মদিনাবাসীদের মধ্য থেকে অর্থাৎ আবদুল্লাহ ইবনে উবাই, তু'মাহ এবং আবদুল্লাহ ইবনে সাদ ইবনে আবি সারহ—যেসব বিষয়ে আপনাকে নিষেধ করা হয়েছে।(১). পাণ্ডুলিপি ‘জিম’ এবং ‘কাফ’-এ রয়েছে: (তার হাতে বায়আত গ্রহণ করেছিল)।(২). মূল পাঠ্যগুলোতে রয়েছে: (উমর)।(৩). আসবাবুন নুযূল গ্রন্থে রয়েছে: (এবং উপকারিতা)।