Al-Ahzab

আল-আহযাব: 49

33:49
টেক্সট কপি
33 আল-আহযাব Al-Ahzab · 73 আয়াত الأحزاب

মূল আরবি

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِذَا نَكَحْتُمُ ٱلْمُؤْمِنَـٰتِ ثُمَّ طَلَّقْتُمُوهُنَّ مِن قَبْلِ أَن تَمَسُّوهُنَّ فَمَا لَكُمْ عَلَيْهِنَّ مِنْ عِدَّةٍ تَعْتَدُّونَهَا ۖ فَمَتِّعُوهُنَّ وَسَرِّحُوهُنَّ سَرَاحًا جَمِيلًا

English Translations

Sahih International

O you who have believed, when you marry believing women and then divorce them before you have touched them [i.e., consummated the marriage], then there is not for you any waiting period to count concerning them. So provide for them and give them a gracious release.

Muhsin Khan

O you who believe! When you marry believing women, and then divorce them before you have sexual intercourse with them, no 'Iddah [divorce prescribed period, see (V. 65:4)] have you to count in respect of them. So give them a present, and set them free i.e. divorce, in a handsome manner.

Taqi Usmani

O you who believe, when you marry the believing women, and then divorce them before you have touched them, then they have no obligation of any ‘iddah (waiting period) for you that you may count. So give them (due) benefits, and release them in a pleasant manner.

Abul Ala Maududi

Believers, when you marry believing women and then divorce them before you have touched them, you may not require them to observe a waiting period that you might reckon against them. So make provision for them and release them in an honourable manner.

Pickthall

O ye who believe! If ye wed believing women and divorce them before ye have touched them, then there is no period that ye should reckon. But content them and release them handsomely.

Yusuf Ali

O ye who believe! When ye marry believing women, and then divorce them before ye have touched them, no period of 'Iddat have ye to count in respect of them: so give them a present. And set them free in a handsome manner.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

হে মু’মিনগণ! তোমরা যখন কোন মু’মিন নারীকে বিবাহ কর, অতঃপর তাদেরকে স্পর্শ করার পূর্বেই তাদেরকে তালাক দাও, তখন তাদের জন্য তোমাদেরকে কোন ইদ্দত পালন করতে হবে না যা তোমরা (অন্যক্ষেত্রের তালাকে) গণনা করে থাক। কাজেই কিছু সামগ্রী তাদেরকে দাও আর তাদেরকে বিদায় দাও উত্তম বিদায়ে।

রাওয়াই আল-বায়ান

হে মুমিনগণ, যখন তোমরা মুমিন নারীদেরকে বিবাহ করবে অতঃপর তাদেরকে স্পর্শ করার পূর্বেই* তালাক দিয়ে দেবে তবে তোমাদের জন্য তাদের কোন ইদ্দত নেই যা তোমরা গণনা করবে। সুতরাং তাদেরকে কিছু উপহার সামগ্রী প্রদান কর এবং সুন্দরভাবে তাদেরকে বিদায় দাও। * স্পর্শ করার পূর্বে অর্থাৎ সহবাসের পূর্বে।

শাইখ মুজিবুর রহমান

হে মু’মিনগণ! তোমরা মু’মিনা নারীদেরকে বিয়ে করার পর তাদেরকে স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দিলে তোমাদের জন্য তাদের পালনীয় কোন ইদ্দাত নেই যা তোমরা গননা করবে। তোমরা তাদেরকে কিছু সামগ্রী দিবে এবং সৌজন্যের সাথে তাদেরকে বিদায় করবে।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা মুমিন নারীদেরকে বিয়ে করবে, তারপর তাদেরকে স্পর্শ করার আগে তালাক দিবে, তখন তোমাদের জন্য তাদের পালনীয় কোন 'ইদ্দত নেই যা তোমরা গুণবে। সুতরাং তোমরা তাদেরকে কিছু সামগ্ৰী দেবে এবং সৌজন্যের সাথে তাদেরকে বিদায় করবে।

ফাতহুল মাজীদ

হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা মু’মিন নারীদেরকে বিবাহ কর, তারপর তাদেরকে স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দিয়ে দাও, তখন তোমাদের জন্য তাদের ওপর কোন ইদ্দাত নেই যা তোমরা গণনা করবে। অতএব তোমরা তাদেরকে কিছু ভোগের সামগ্রী দাও এবং সম্মানজনকভাবে তাদেরকে বিদায় করে দাও।

মুখতাসার

৪৯. ওহে আল্লাহর উপর ঈমান আনয়নকারী ও তাঁর শরীয়তের উপর আমলকারীরা! তোমরা মুমিন রমণীদের সাথে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হয়ে তাদের সাথে বাসর করার পূর্বে তালাক দিলে তাদের গর্ভ সন্তানমুক্ত সাব্যস্ত হওয়ার উদ্দেশ্যে তোমাদের জন্য তাদের উপর মাস কিংবা মাসিকের হিসাব দ্বারা কোন মেয়াদ পালন বর্তায় না। যেহেতু তাদের সাথে তোমাদের বাসরই হয় নি। আর তোমরা তালাক জনিত কারণে তাদের ভাঙ্গা মনের সান্ত্বনাস্বরূপ তোমাদের সম্পদ দ্বারা সামর্থ্য অনুযায়ী তাদেরকে উপকৃত করো। আর কষ্ট না দিয়ে তাদেরকে নিজ পরিবারে যেতে দাও।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

এই আয়াতে অনেকগুলো হুকুম বর্ণনা করা হয়েছে। এ কথা দ্বারা বুঝা যায় যে, শুধু বিবাহ বন্ধনের পরও তালাক দেয়া যেতে পারে। এর প্রমাণ হিসেবে এর চেয়ে উত্তম আর কোন আয়াত নেই। এতে কিছুটা মতভেদ রয়েছে যে, প্রকৃতপক্ষে বিবাহ কি শুধু ঈযাব-ককূলের নাম? না কি শুধু সহবাসের জন্যেই বিবাহ? না কি উভয় কাজের জন্যেই বিবাহ? কুরআন কারীমে কথাটি বন্ধন ও সহবাস উভয় কাজের জন্যে প্রয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু এই আয়াতে শুধু বন্ধনের জন্যে ব্যবহৃত হয়েছে। এই আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হচ্ছে যে, সহবাসের পূর্বে স্বামী স্ত্রীকে তালাক দিতে পারে। এখানে মুমিনাতের উল্লেখ করার কারণ এই যে, সাধারণতঃ মুমিনরা মুমিনা নারীদেরকেই বিয়ে করে থাকে।

তবে আহলে কিতাব স্ত্রীদের ব্যাপারেও এটাই প্রযোজ্য হবে। পূর্বযুগীয় গুরুজনদের একটি বড় দল এ আয়াত হতে একটি দলীল গ্রহণ করেছেন যে, তালাক তখনই প্রযোজ্য হবে যখন পূর্বে বিবাহ হয়ে থাকবে। এ আয়াতে বিবাহের পরে তালাকের কথা উল্লেখ করা। হয়েছে। বিবাহের পূর্বে তালাক সহীহ নয় এবং তা প্রযোজ্যও হয় না। ইমাম শাফেয়ী (রঃ), ইমাম আহমাদ (রঃ) এবং আরো কয়েকজন বড় বড় মনীষীরও উক্তি এটাই। ইমাম আবু হানীফা (রঃ) ও ইমাম মালিক (রঃ)-এর মত এই যে, বিবাহের পূর্বেও তালাক হয়ে থাকে। যেমন কেউ যদি বলে, “আমি যদি অমুক মহিলাকে বিয়ে করি তবে সে তালাকপ্রাপ্তা ।" এমতাবস্থায় তাঁদের উভয়ের মতে যদি সে ঐ মহিলাকে বিয়ে করে তবে তার তালাক হয়ে যাবে।

আবার ইমাম মালিক (রঃ) ও ইমাম আবূ হানীফা (রঃ)-এর মধ্যে ঐ লোকটির ব্যাপারে মতানৈক্য রয়েছে যে বলেঃ ‘আমি যে মহিলাকে বিয়ে করবো সেই তালাকপ্রাপ্তা হবে।” এই অবস্থায় ইমাম আবু হানীফা (রঃ) বলেন যে, যে নারীকেই সে বিয়ে করবে সেই তালাকপ্রাপ্তা হয়ে যাবে। কিন্তু ইমাম মালিক (রঃ)-এর মত এই যে, তার তালাক হবে না। কেননা লোকটি কোন নারীকে নির্দিষ্ট করেনি। জমহুর উলামা এর বিপরীত মত পোষণ করেন। তাঁদের দলীল এ আয়াতটি। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হয় যে, যদি কেউ বলেঃ “আমি যে মহিলাকে বিয়ে করবো তার উপরই তালাক পড়ে যাবে, তবে এর হকুম কি?

উত্তরে তিনি এ আয়াতটি তিলাওয়াত করেন এবং বলেনঃ “এই অবস্থায় তালাক হবে না। কেননা, মহামহিমান্বিত আল্লাহ বিবাহের পরে তালাকের কথা বলেছেন। সুতরাং বিবাহের পূর্বের তালাক কিছুই নয়।" হযরত আমর ইবনে শুআয়েব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা হতে এবং তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “ইবনে আদম যার মালিক নয় তাতে তালাক নেই।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ), ইমাম আবু দাউদ, (রঃ) ইমাম তিরমিযী (রঃ) এবং ইমাম ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন) অন্য এক হাদীসে আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “বিবাহের পূর্বে তালাক নেই।” (এ হাদীসটি ইমাম ইবনে মাজাহ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ তোমরা মুমিনা নারীদেরকে বিয়ে করার পর তাদেরকে স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দিলে তোমাদের জন্যে তাদের পালনীয় কোন ইদ্দত নেই যা তোমরা গণনা করবে।

এ ব্যাপারে আলেমগণ একমত যে, যদি কোন নারীকে সহবাসের পূর্বে তালাক দেয়া হয় তবে তার জন্যে কোন ইদ্দত নেই। সুতরাং সে তখনই যার সাথে ইচ্ছা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যেতে পারে। হ্যা, তবে যদি এই অবস্থায় তার স্বামী মৃত্যুবরণ করে তাহলে এ হুকুম প্রযোজ্য হবে না। বরং তাকে চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করতে হবে। সুতরাং বিবাহের পরেই এবং স্পর্শ করার পূর্বেই যদি স্বামী স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেয়, আর যদি এ বিবাহের মহরও ধার্য হয়ে থাকে তবে স্ত্রী অর্ধেক মহর পাবে। কিন্তু যদি মহর নির্ধারিত না হয়ে থাকে তবে অল্প কিছু স্ত্রীকে দিলেই তা যথেষ্ট হবে।

অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবি)অর্থাৎ “যদি তোমরা তাদেরকে স্পর্শ করার পূর্বেই তালাক প্রদান কর এবং তাদের জন্যে মহর নির্ধারণ করে থাকো তবে যা নির্ধারণ করেছে তার অর্ধেক তারা পাবে।” (২:২৩৭) আর এক জায়গায় রয়েছে (আরবি)অর্থাৎ “যদি তোমরা তোমাদের স্ত্রীদেরকে স্পর্শ করার পূর্বেই তালাক দিয়ে দাও তবে এতে কোন অপরাধ নেই। যদি তাদের জন্যে কোন মহর নির্ধারণ না করে থাকো তবে নিজ নিজ সাধ্যানুসারে তাদেরকে কিছু না কিছু দিয়ে দাও। ধনী তার শক্তি অনুযায়ী দেবে এবং গরীবও তার শক্তি অনুযায়ী দেবে, এটা প্রচলিত পন্থায় দিতে হবে, এটা সৎকর্মশীলদের জন্যে অবশ্যকরণীয় কাজ।” (২:২৩৬)হযরত সাহল ইবনে সা'দ (রাঃ) ও হযরত আবু উসায়েদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তারা দু'জন বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) উমাইয়া বিনতে শারাহীলকে বিয়ে করেন।

অতঃপর সে যখন নবী (সঃ)-এর কাছে আসলো তখন তিনি তার দিকে হাত বাড়ালেন। কিন্তু সে যেন এটা অপছন্দ করলো। তখন তিনি হযরত আবু উসায়েদ (রাঃ)-কে হুকুম করলেন যে, তার বিদায়ের সামান তৈরী করে দেয়া হালে এবং মূল্যবান দু'খানা কাপড় তাকে পরিয়ে দেয়া হোক। (এ হাদীসটি সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে)হযরত আলী ইবনে আবি তালহা (রাঃ) বলেন যে, যদি স্ত্রীর জন্যে মহর নির্ধারণ করা হয় এবং স্পর্শ করার পূর্বেই তালাক দিয়ে দেয়া হয় হবে তার জন্যে অর্ধেক মহর ছাড়া আর কিছুই নেই। আর মহর ধার্য করা না হলে তাকে সাধ্যমত প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কিছু দিতে হবে এবং এটাই হবে সৌজন্যের সাথে বিদায় করা।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা মুমিন নারীদেরকে বিয়ে করবে, তারপর তাদেরকে স্পর্শ করার আগে তালাক দিবে, তখন তোমাদের জন্য তাদের পালনীয় কোন 'ইদ্দত নেই যা তোমরা গুণবে। সুতরাং তোমরা তাদেরকে কিছু সামগ্ৰী দেবে এবং সৌজন্যের সাথে তাদেরকে বিদায় করবে।

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-আহযাব (৩৩): আয়াত ৪৯] পূর্ণ পৃষ্ঠা

"যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে তারা জান্নাতের সুশোভিত কাননসমূহে থাকবে; তারা তাদের প্রতিপালকের কাছে যা চাইবে তা-ই তাদের জন্য রয়েছে। এটাই হলো মহা অনুগ্রহ।" [সূরা আশ-শূরা: ২২]। সুতরাং এই সূরায় যে আয়াতটি রয়েছে তা একটি সংবাদ, আর যা 'হা-মীম-আইন-সীন-কাফ' (সূরা আশ-শূরা)-এ রয়েছে তা এর ব্যাখ্যা। (আর আপনি কাফির ও মুনাফিকদের আনুগত্য করবেন না) অর্থাৎ দীনের ব্যাপারে তারা আপনাকে আপসকামিতার যে পরামর্শ দেয়, তাতে তাদের অনুসরণ করবেন না এবং তাদের সহায়তা করবেন না। "কাফিরদের" দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: আবু সুফিয়ান, ইকরামা এবং আবু আল-আওয়ার আস-সুলামী; তারা বলেছিল: হে মুহাম্মদ, আপনি আমাদের উপাস্যদের মন্দ বলবেন না, তবে আমরা আপনার অনুসরণ করব।

আর "মুনাফিকদের" দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: আবদুল্লাহ ইবনে উবাই, আবদুল্লাহ ইবনে সাদ এবং তু’মা বিন উবায়রিক; তারা কল্যাণের অজুহাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাদের ডাকে সাড়া দিতে উৎসাহিত করেছিল। আর (তাদের পক্ষ থেকে আসা কষ্ট উপেক্ষা করুন) অর্থাৎ তারা আপনাকে যে কষ্ট দেয়, তার বিনিময়ে তাদের কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। মহান আল্লাহ তাকে তাদের শাস্তি প্রদান ত্যাগ করতে এবং তাদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন; এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী ক্রিয়ামূলটি (আযা) কর্মবাচ্যের (মাফউল) সাথে সম্পর্কিত। এই ব্যাখ্যা অনুসারে আয়াতের যে অংশটি কাফিরদের সাথে বিশেষিত, তা রহিত (মানসুখ) হয়ে গেছে এবং এর রহিতকারী হলো ‘আয়াতুস সাইফ’ (তলোয়ারের আয়াত)।

এতে দ্বিতীয় একটি অর্থও রয়েছে: অর্থাৎ তাদের কথা এবং তারা আপনাকে যে কষ্ট দেয় তা থেকে বিমুখ থাকুন এবং তাতে লিপ্ত হবেন না; এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী ক্রিয়ামূলটি কর্তার (ফায়েল) সাথে সম্পর্কিত। এটি মুজাহিদের ব্যাখ্যা, আর এই আয়াতটি ‘আয়াতুস সাইফ’ দ্বারা রহিত। (আর আল্লাহর ওপর ভরসা করুন) তিনি তাকে নিজের ওপর ভরসা করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং এই বলে তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, "কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট"। এই বক্তব্যের শক্তির মাঝে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি নিহিত রয়েছে। আর ‘ওয়াকীল’ অর্থ হলো: হেফাজতকারী এবং বিষয়ের আঞ্জামদানকারী। ‌‌[সূরা আল-আহযাব (৩৩): আয়াত ৪৯]হে মুমিনগণ!

যখন তোমরা মুমিন নারীদের বিবাহ করো, অতঃপর তাদের স্পর্শ করার পূর্বেই তালাক দিয়ে দাও, তখন তোমাদের জন্য তাদের পালনীয় কোনো ইদ্দত নেই যা তোমরা গণনা করবে। সুতরাং তোমরা তাদের কিছু সামগ্রী প্রদান করো এবং সৌজন্যের সাথে তাদের বিদায় দাও। (৪৯)এতে সাতটি মাসআলা রয়েছে: প্রথমটি হলো- আল্লাহ তাআলার বাণী: "হে মুমিনগণ! যখন তোমরা মুমিন নারীদের বিবাহ করো, অতঃপর তাদের তালাক দাও"। যখন জায়েদ (রা.)-এর ঘটনা এবং জয়নব (রা.)-কে তার তালাক প্রদানের বিষয়টি ঘটল—আর তিনি এমন স্ত্রী ছিলেন যার সাথে বাসর সম্পন্ন হয়েছিল এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার ইদ্দত শেষ হওয়ার পর তাকে বিবাহের পয়গাম পাঠিয়েছিলেন, যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি—তখন আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে বাসর বা সহবাসের পূর্বে তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর বিধান সম্পর্কে সম্বোধন করলেন এবং উম্মতের জন্য সেই বিধানটি স্পষ্ট করে দিলেন।

সুতরাং তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর সাথে যদি সহবাস না হয়ে থাকে, তবে কিতাবুল্লাহর অকাট্য বিধান এবং উম্মতের ইজমা (ঐক্যমত) অনুযায়ী তার কোনো ইদ্দত পালন করতে হবে না। তবে যদি সহবাস সম্পন্ন হয়, তবে সর্বসম্মতভাবে তার ওপর ইদ্দত পালন করা ওয়াজিব।(১). ১৬তম খণ্ড, ২০ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।(২). মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (আপনার পক্ষ থেকে তাদের কষ্টের ওপর)।

তাফসীর আদ-দুররুল মানসূর

পূর্ণ পৃষ্ঠা পূর্ণ পৃষ্ঠা

যদি তারা মীমাংসা চায়। আর নারীদেরও তেমনই ন্যায়সংগত অধিকার রয়েছে যেমন রয়েছে তাদের ওপর পুরুষদের, তবে নারীদের ওপর পুরুষদের এক পর্যায়ের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।আবু দাউদ, ইবনে আবি হাতিম এবং বায়হাকি তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে আসমা বিনতে ইয়াজিদ বিন আস-সাকান আল-আনসারিয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে আমাকে তালাক দেওয়া হয়েছিল, আর তখন তালাকপ্রাপ্তা নারীর জন্য কোনো ইদ্দত নির্ধারিত ছিল না। যখন আমাকে তালাক দেওয়া হলো, তখন আল্লাহ তাআলা তালাকের ইদ্দত হিসেবে এই আয়াত নাযিল করেন: "আর তালাকপ্রাপ্তা নারীরা তিন ঋতু পর্যন্ত নিজেদের প্রতীক্ষায় রাখবে।" সুতরাং তিনিই ছিলেন প্রথম নারী যার বিষয়ে তালাকের ইদ্দত নাযিল হয়েছিল।আবদ ইবনে হুমাইদ কাতাদাহ থেকে আল্লাহর বাণী: "আর তালাকপ্রাপ্তা নারীরা তিন ঋতু পর্যন্ত নিজেদের প্রতীক্ষায় রাখবে" এর ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন যে: জাহেলিয়াত যুগে তাদের কেউ যখন তালাক দিত, তখন তার জন্য কোনো ইদ্দত ছিল না।আবু দাউদ, নাসাঈ এবং ইবনুল মুনযির ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন: "আর তালাকপ্রাপ্তা নারীরা তিন ঋতু পর্যন্ত নিজেদের প্রতীক্ষায় রাখবে", এবং "তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যারা ঋতুস্রাব হওয়ার বয়স অতিক্রম করেছে, তাদের ব্যাপারে যদি তোমরা সন্দিহান হও, তবে তাদের ইদ্দতকাল হবে তিন মাস" (সূরা আত-তালাক, আয়াত ৪)

এই আয়াতগুলো দ্বারা পূর্ববর্তী বিধান রহিত ও ব্যতিক্রম করা হয়েছে এবং তিনি (আল্লাহ) বলেছেন: "অতঃপর স্পর্শ করার পূর্বেই যদি তোমরা তাদের তালাক দাও, তবে তাদের ওপর তোমাদের কোনো ইদ্দত পালনের অধিকার নেই যা তোমরা গণনা করবে" (সূরা আল-আহযাব, আয়াত ৪৯)।মালিক, শাফিঈ, আবদুর রাজ্জাক, আবদ ইবনে হুমাইদ, ইবনে জারীর, ইবনুল মুনযির, ইবনে আবি হাতিম, আন-নাহহাস তাঁর 'নাসিখ' গ্রন্থে, আদ-দারাকুতনী এবং বায়হাকি 'সুনান' গ্রন্থে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: প্রকৃতপক্ষে 'কুরু' (ঋতু) বলতে পবিত্রতার সময়কালকেই বোঝায়।

মালিক, শাফিঈ এবং বায়হাকী ইবনে শিহাবের সূত্রে উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে,আব্দুর রহমানের কন্যা হাফসা যখন তৃতীয় ঋতুস্রাবের রক্তে প্রবেশ করলেন (অর্থাৎ ঋতুস্রাব শুরু হলো), তখন তিনি স্থানান্তরিত হলেন (অর্থাৎ ইদ্দত পূর্ণ করে অন্য গৃহে চলে গেলেন)।ইবনে শিহাব বলেন: আমি বিষয়টি আব্দুর রহমানের কন্যা আমরাহ-এর নিকট উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন: উরওয়াহ সত্য বলেছেন। কিছু লোক এই বিষয়ে তাঁর (আয়েশার) সাথে বিতর্ক করেছিল; তারা বলেছিল: আল্লাহ তো বলেছেন "তিন কুরু" (তিনটি সময়কাল)। তখন আয়েশা (রা.) বলেছিলেন: তোমরা সত্য বলেছ, কিন্তু তোমরা কি জানো 'ইকরা' (কুরু) কী?

'ইকরা' হলো পবিত্রতার সময়কাল (তুহর)।ইবনে শিহাব বলেন: আমি আবু বকর বিন আব্দুর রহমানকে বলতে শুনেছি: আমি আমাদের ফকীহদের মধ্যে এমন কাউকেই পাইনি যিনি আয়েশা (রা.) যা বলেছেন তার বিপরীত কিছু বলেছেন।আব্দুর রাজ্জাক, ইবনে জারীর এবং বায়হাকী ইবনে উমর ও যায়েদ বিন সাবিত (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন; তাঁরা উভয়ে বলেছেন: 'ইকরা' হলো পবিত্রতার সময়কাল।আব্দুর রাজ্জাক, ইবনে জারীর, ইবনুল মুনযির এবং বায়হাকী আমর বিন দীনার থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণের মতে 'ইকরা' হলো ঋতুস্রাব।ইবনে জারীর এবং বায়হাকী ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে আল্লাহর বাণী "তিন কুরু" সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: (এর অর্থ) তিনটি ঋতুস্রাব।আবদ বিন হুমাইদ মুজাহিদ থেকে আল্লাহর বাণী "এবং তালাকপ্রাপ্তা মহিলারা তিন কুরু পর্যন্ত নিজেদের অপেক্ষায় রাখবে" প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: (এর অর্থ) ঋতুস্রাব।আবদ বিন হুমাইদ কাতাদাহ থেকে "এবং তালাকপ্রাপ্তা মহিলারা তিন কুরু পর্যন্ত নিজেদের অপেক্ষায় রাখবে" আয়াত প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন: এতে তালাকের ইদ্দত তিন ঋতুস্রাব সাব্যস্ত করা হয়েছে।

অতঃপর এর মধ্য থেকে সেই তালাকপ্রাপ্তা মহিলার বিধান রহিত করা হয়েছে যার সাথে তার স্বামীর সহবাস হয়নি। আল্লাহ তাআলা সূরা আল-আহযাবে বলেছেন: (হে মুমিনগণ! যখন তোমরা মুমিন নারীদের বিবাহ করো, অতঃপর স্পর্শ করার পূর্বেই তাদের তালাক দিয়ে দাও, তখন তোমাদের জন্য তাদের পালনীয় কোনো ইদ্দত নেই যা তোমরা গণনা করবে) (সূরা আল-আহযাব, আয়াত ৪৯)। সুতরাং এমন নারী ইচ্ছা করলে সেদিনই বিবাহ করতে পারবে।আর এই তিন (কুরু) এর বিধান থেকে আরও রহিত করে আল্লাহ বলেছেন: (তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ঋতুস্রাব হওয়ার বয়স অতিক্রম করেছে, যদি তোমরা সংশয়ে থাকো...) (সূরা আত-তালাক, আয়াত ৪)

সুতরাং সেই বৃদ্ধা নারী যার ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে গেছে এবং সেই নারী যার ঋতুস্রাব এখনো শুরু হয়নি, তাদের ইদ্দত হলো তিন মাস; তাদের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাবের কোনো বিধান নেই। আবার গর্ভবতী নারীর বিধানটিও তিন কুরু থেকে রহিত করা হয়েছে, আল্লাহ বলেছেন: (তাদের ইদ্দত হলো সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত) (সূরা আত-তালাক, আয়াত ৪)। সুতরাং গর্ভবতীদের বিধান কুরুর সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, বরং তাদের ইদ্দতের সময়সীমা হলো সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত।মালিক, শাফিঈ, আব্দুর রাজ্জাক (তার মুসান্নাফ গ্রন্থে), আবদ বিন হুমাইদ এবং বায়হাকী উরওয়াহ ও আমরাহর সূত্রে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: যখন নারী তৃতীয় ঋতুস্রাবে প্রবেশ করবে, তখন সে তার স্বামী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং অন্য স্বামীদের জন্য হালাল হবে।আমরাহ বলেন: আয়েশা (রা.) বলতেন: 'কুরু' হলো পবিত্রতার সময়কাল, ঋতুস্রাব নয়।মালিক, শাফিঈ, আব্দুর রাজ্জাক, আবদ বিন হুমাইদ এবং বায়হাকী যায়েদ বিন সাবিত (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: যখন তালাকপ্রাপ্তা নারী তৃতীয় ঋতুস্রাবে প্রবেশ করবে, তখন সে তার স্বামী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং অন্য স্বামীদের জন্য হালাল হবে।মালিক, শাফিঈ এবং বায়হাকী ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: যখন কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দেয় এবং সে (স্ত্রী) তৃতীয় ঋতুস্রাবের রক্তে প্রবেশ করে, তখন সে স্বামী থেকে মুক্ত হয়ে যায় এবং স্বামীও তার থেকে মুক্ত হয়; সে স্বামীর উত্তরাধিকারী হবে না এবং স্বামীও তার উত্তরাধিকারী হবে না।আব্দুর রাজ্জাক, আবদ বিন হুমাইদ এবং বায়হাকী আলক্বামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে,এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দিল, অতঃপর...