Al-Ahzab

আল-আহযাব: 29

33:29
টেক্সট কপি
33 আল-আহযাব Al-Ahzab · 73 আয়াত الأحزاب

মূল আরবি

وَإِن كُنتُنَّ تُرِدْنَ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَٱلدَّارَ ٱلْـَٔاخِرَةَ فَإِنَّ ٱللَّهَ أَعَدَّ لِلْمُحْسِنَـٰتِ مِنكُنَّ أَجْرًا عَظِيمًا

English Translations

Sahih International

But if you should desire Allāh and His Messenger and the home of the Hereafter - then indeed, Allāh has prepared for the doers of good among you a great reward."

Muhsin Khan

But if you desire Allah and His Messenger, and the home of the Hereafter, then verily, Allah has prepared for AlMuhsinat (gooddoers) amongst you an enormous reward.

Taqi Usmani

but if you intend (to gain the pleasure of) Allah and His messenger and (the betterment of) the Hereafter, then, Allah has prepared a great reward for those of you who are good in their deeds”.

Abul Ala Maududi

But if you seek Allah and His Messenger and the Abode of the Hereafter, then surely Allah has prepared a great reward for those of you who do good.”

Pickthall

But if ye desire Allah and His messenger and the abode of the Hereafter, then lo! Allah hath prepared for the good among you an immense reward.

Yusuf Ali

But if ye seek Allah and His Messenger, and the Home of the Hereafter, verily Allah has prepared for the well-doers amongst you a great reward.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

আর তোমরা যদি আল্লাহ, তাঁর রসূল ও পরকালের গৃহ কামনা কর, তবে তোমাদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল তাদের জন্য আল্লাহ মহা পুরস্কার প্রস্তুত করে রেখেছেন।

রাওয়াই আল-বায়ান

‘আর যদি তোমরা আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও পরকালীন নিবাস কামনা কর, তবে তোমাদের মধ্য থেকে সৎকর্মশীলদের জন্য আল্লাহ অবশ্যই মহান প্রতিদান প্রস্তুত করে রেখেছেন’।

শাইখ মুজিবুর রহমান

আর যদি তোমরা আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও আখিরাত কামনা কর তাহলে তোমাদের মধ্যে যারা সৎ কর্মশীল আল্লাহ তাদের জন্য মহা প্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

‘আর যদি তোমরা কামনা কর আল্লাহ্, তাঁর রাসূল ও আখিরাতের আবাস, তবে তোমাদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীলা আল্লাহ্ তাদের জন্য মহাপ্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন।

ফাতহুল মাজীদ

আর যদি তোমরা আল্লাহ্, তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও পরকাল চাও, তবে তোমাদের মধ্যে যারা সৎ গুণসম্পন্ন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের জন্য উত্তম পুরস্কার প্রস্তুত করে রেখেছেন।

মুখতাসার

২৯. আর যদি তোমরা আল্লাহ ও তদীয় রাসূলের সন্তুষ্টি, জান্নাত ও পরকালের জীবন কামনা করো তবে তোমাদের অবস্থার উপর ধৈর্য ধারণ করো। কেননা, আল্লাহ ধৈর্য ধারণকারী ও উত্তম সং¯্রবের মাধ্যমে সদাচারী তাদের উদ্দেশ্যে মহা পুরস্কার প্রস্তুত করে রেখেছেন।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

33:28

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

‘আর যদি তোমরা কামনা কর আল্লাহ্, তাঁর রাসূল ও আখিরাতের আবাস, তবে তোমাদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীলা আল্লাহ্ তাদের জন্য মহাপ্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন [১]।

[১] এ আয়াতে সকল পুণ্যবতী স্ত্রীগণকে অধিকার প্রদান করা হয়েছে যে, তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বর্তমান দারিদ্র্যপীড়িত চরম আর্থিক সঙ্কটপূৰ্ণ অবস্থা বরণ করে হয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক অক্ষুন্ন রেখে জীবন যাপন করবেন অথবা তালাকের মাধ্যমে তার থেকে মুক্ত হয়ে যাবেন। প্রথমাবস্থায় অন্যান্য স্ত্রীলোকের তুলনায় পুরস্কার এবং আখেরাতে স্বতন্ত্র ও সুউচ্চ মর্যাদাসমূহের অধিকারী হবেন। আর দ্বিতীয় অবস্থা, অর্থাৎ তালাক গ্রহণের পরিপ্রেক্ষিতেও তাদেরকে দুনিয়ার অপরাপর লোকের ন্যায় বিশেষ জটিলতা ও অপ্রীতিকর অবস্থার সম্মুখীন হতে হবে না; বরং সুন্নত মোতাবেক যুগল বস্ত্ৰ প্রভৃতি প্রদান করে সসম্মানে বিদায় দেয়া হবে।

ইসলামী পরিভাষায় একে বলা হয় “তাখঈর”। অর্থাৎ স্ত্রীকে তার স্বামীর সাথে থাকার বা আলাদা হয়ে যাবার মধ্য থেকে যে কোন একটিকে বাছাই করে নেবার ফায়সালা করার ইখতিয়ার দান করা। [ফাতহুল কাদীর;বাগাওয়ী] হাদীসে এসেছে, উন্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত আছে যে, যখন অধিকার প্রদানের এ আয়াত নাযিল হয়, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে এটি প্রকাশ ও প্রচারের সূচনা করেন। আয়াত শোনানর পূর্বে বলেন যে, আমি তোমাকে একটি কথা বলব-উত্তরটা কিন্তু তাড়াহুড়া করে দেবে না। বরং তোমার পিতা-মাতার সাথে পরামর্শের পর দেবে।

আয়েশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেন, আমাকে আমার পিতা-মাতার সাথে পরামর্শ না করে মতামত প্রকাশ করা থেকে যে বারণ করেছিলেন, তা ছিল আমার প্রতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এক অপার অনুগ্রহ। কেননা, তার অটুট বিশ্বাস ছিল যে, আমার পিতা-মাতা কখনো আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বিচ্ছিন্নতা অবলম্বনের পরামর্শ দেবেন না। এ আয়াত শোনার সঙ্গে সঙ্গেই আমি আরয করলাম যে, এ ব্যাপারে আমার পিতা-মাতার পরামর্শ গ্রহণের জন্য যেতে পারি কি? আমি তো আল্লাহ্ তা'আলা, তাঁর রাসূল ও আখেরাতকে বরণ করে নিচ্ছি। আমার পরে অন্যান্য সকল পুণ্যবতী স্ত্রীগণকে কুরআনের এ নির্দেশ শোনানো হলো।

আমার মত সবাই একই মত ব্যক্ত করলেন; রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে দাম্পত্য সম্পর্কের মোকাবেলায় ইহলৌকিক প্রাচুর্য ও স্বাচ্ছন্দ্যকে কেউ গ্রহণ করলেন না। [মুসলিম: ১৪৭৫]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-আহযাব (৩৩): আয়াত ২৮ হতে ২৯] পূর্ণ পৃষ্ঠা

দুর্গ ও জনপদসমূহের ব্যাপারে তিনি পূর্ণ ক্ষমতাবান; এটি নাক্কাশ বলেছেন। এবং বলা হয়েছে: (আল্লাহ সর্ববিষয়ে) অর্থাৎ তোমাদের যা কিছু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তার ওপর (ক্ষমতাবান), তাঁর কুদরতকে প্রতিহত করা যায় না এবং তাঁর ক্ষেত্রে অক্ষমতা হওয়া অসম্ভব, তিনি সুমহান। এবং 'তাসিরুনা' ও 'তাসুরুনা' (সীন বর্ণে কাসরা ও যম্মাহ যোগে) উভয়টিই পড়া যায়; এটি আল-ফাররা বর্ণনা করেছেন। ‌‌[সূরা আল-আহযাব (৩৩): আয়াত ২৮ হতে ২৯]হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের বলুন, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও এর চাকচিক্য কামনা করো, তবে এসো, আমি তোমাদের ভোগ-সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দেই এবং সৌজন্যের সাথে তোমাদের বিদায় দেই।

(২৮) আর তোমরা যদি আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও পরকাল কামনা করো, তবে তোমাদের মধ্য হতে যারা সৎকর্মশীলা আল্লাহ তাদের জন্য মহা প্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন। (২৯)এতে আটটি মাসআলা রয়েছে: প্রথমটি: আল্লাহ তাআলার বাণী: (হে নবী! আপনার স্ত্রীদের বলুন)। আমাদের উলামায়ে কেরাম বলেন: এই আয়াতটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কষ্ট প্রদান থেকে বিরত রাখার পূর্ববর্তী প্রসঙ্গের সাথে সম্পর্কিত। তিনি তাঁর কোনো কোনো স্ত্রীর পক্ষ থেকে কষ্ট পেয়েছিলেন। বলা হয়ে থাকে: তাঁরা পার্থিব সম্পদের কোনো বিষয় তাঁর নিকট চেয়েছিলেন। আবার বলা হয়েছে: ভরণপোষণ বৃদ্ধির দাবি করেছিলেন।

আবার বলা হয়েছে: তাঁরা একে অপরের প্রতি ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে তাঁকে কষ্ট দিয়েছিলেন। আরও বলা হয়েছে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন তিনি তাঁদের নিকট এই আয়াতটি তিলাওয়াত করেন এবং তাঁদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতের মধ্যে কোনো একটি বেছে নেয়ার সুযোগ (ইখতিয়ার) দেন। ইমাম শাফিয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: যে ব্যক্তি কোনো স্ত্রীর অধিকারী (স্বামী), তার ওপর তাকে ইখতিয়ার দেওয়া আবশ্যক নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তাঁর স্ত্রীদের ইখতিয়ার দেওয়ার জন্য, অতঃপর তাঁরা তাঁকেই পছন্দ করে নিয়েছিলেন।

এর সারমর্ম হলো এই যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একজন 'রাজন্য নবী' হওয়ার এবং তাঁর সামনে দুনিয়ার ধনভাণ্ডারের চাবিকাঠি অর্পণ করার, অথবা একজন 'নিঃস্ব নবী' হওয়ার মধ্যে ইখতিয়ার দিয়েছিলেন। তিনি জিবরাঈল (আ.)-এর সাথে পরামর্শ করলেন, জিবরাঈল (আ.) তাঁকে বিনয় ও দারিদ্র্যের দিকে ইঙ্গিত করলেন, তখন তিনি সেটিই বেছে নিলেন। যখন তিনি এই উচ্চতর মর্যাদাটি বেছে নিলেন, তখন আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল তাঁকে তাঁর স্ত্রীদেরও ইখতিয়ার প্রদানের নির্দেশ দিলেন, যাতে তাঁদের মধ্যে যদি কেউ তাঁর সাথে এই কৃচ্ছ্রতাপূর্ণ জীবন অপছন্দ করেন তবে (বিচ্ছেদের মাধ্যমে) তাঁর মর্যাদা সংরক্ষিত থাকে।

আরও বলা হয়েছে যে, এই ইখতিয়ার প্রদানের কারণ ছিল এই যে, তাঁর জনৈক স্ত্রী তাঁর নিকট স্বর্ণের একটি আংটি চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি রূপার একটি আংটি তৈরি করে তাতে স্বর্ণের—মতান্তরে জাফরানের—প্রলেপ দিয়েছিলেন; কিন্তু তিনি স্বর্ণেরই আংটি দাবি করলেন। তখন এই ইখতিয়ারের আয়াত নাজিল হয় এবং তিনি তাঁদের ইখতিয়ার দেন, তখন তাঁরা বললেন, আমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকেই গ্রহণ করলাম। বর্ণিত আছে যে, তাঁদের মধ্যে একজন বিচ্ছেদ বেছে নিয়েছিলেন। আল্লাহই ভালো জানেন। ইমাম বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন—এবং শব্দগুলো মুসলিমের—জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু বকর (রা.) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন...