Al-Ahzab
আল-আহযাব: 45
মূল আরবি
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِىُّ إِنَّآ أَرْسَلْنَـٰكَ شَـٰهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا
English Translations
O Prophet, indeed We have sent you as a witness and a bringer of good tidings and a warner
O Prophet (MuhammadSAW)! Verily, We have sent you as witness, and a bearer of glad tidings, and a warner,
O prophet, We have sent you as a witness and as a bearer of good news and a warner,
O Prophet, We have sent you forth as a witness, a bearer of good tidings, and a warner,
O Prophet! Lo! We have sent thee as a witness and a bringer of good tidings and a warner.
O Prophet! Truly We have sent thee as a Witness, a Bearer of Glad Tidings, and Warner,-
বাংলা অনুবাদ
হে নবী (সা.)! আমি তোমাকে পাঠিয়েছি (যুগে যুগে প্রেরিত নবী রসূলগণ যে তাঁদের উম্মাতের কাছে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দিয়েছেন- এ কথার) সাক্ষীস্বরূপ এবং সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে,
হে নবী, আমি তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে।
হে নাবী! আমিতো তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষী হিসাবে এবং সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রূপে –
হে নবী! অবশ্যই আমরা আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে
হে নাবী! আমি তোমাকে প্রেরণ করেছি সাক্ষীরূপে, (মু’মিনদের জন্য) সুসংবাদদাতারূপে ও (কাফিরদের জন্য) সতর্ককারীরূপে।
৪৫. হে নবী! নিশ্চয়ই আমি আপনাকে মানুষদের প্রতি সাক্ষী স্বরূপ পাঠিয়েছি। আপনাকে যা দিয়ে তাদের নিকট পাঠানো হয়েছে আপনি তা তাদের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন। আপনি মুমিনদেরকে তাদের উদ্দেশ্যে আল্লাহ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত জান্নাতের সুসংবাদদাতা ও কাফিরদের উদ্দেশ্যে প্রস্তুতকৃত শাস্তির দুঃসংবাদ পেিবশনকারী।
তাফসীর
৪৫-৪৮ নং আয়াতের তাফসীরহযরত আতা ইবনে ইয়াসার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁকে বললামঃ তাওরাতে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর যে বিশেষণ বর্ণনা করা হয়েছে আমাকে তার খবর দিন। উত্তরে তিনি বললেনঃ “হ্যা, কুরআন কারীমে তার যে বিশেষণ বর্ণনা করা হয়েছে তারই কতক অংশ তাওরাতেও বর্ণিত হয়েছে। তাওরাতে রয়েছেঃ হে নবী (সঃ)! আমি তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষীরূপে এবং সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রূপে। অজ্ঞ ও নিরক্ষর লোকদেরকে তুমি সতর্ক করবে। তুমি আমার বান্দা ও রাসূল। আমি তোমার নাম মুতাওয়াকিল (ভরসাকারী) রেখেছি।
তুমি কঠোর চিত্ত ও কর্কশভাষী নও। তুমি বাজারে গোলমাল ও চীকার করে বেড়াও না। তুমি মন্দকে মন্দ দ্বারা দূরীভূত কর না। বরং তুমি ক্ষমা ও মাফ করে থাকো। আল্লাহ তোমাকে কখনো উঠিয়ে নিবেন না যে পর্যন্ত না তুমি মানুষের বক্রকৃত দ্বীনকে সোজা করবে। আর তারা যে পর্যন্ত বলবেঃ আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নেই। যার দ্বারা অন্ধের চক্ষু উজ্জ্বল হয়ে যাবে, বধির শ্রবণশক্তি ফিরে পাবে এবং মোহরকৃত অন্তর খুলে যাবে।” (এটা ইমাম আহমাদ (রঃ), ইমাম বুখারী (রঃ) এবং ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত অহাব ইবনে মুনাব্বাহ (রঃ) বলেন, আল্লাহ তা'আলা বানী ইসরাঈলের নবীদের মধ্যে শুইয়া (আঃ) নামক একজন নবীর নিকট অহী করলেনঃ “তুমি তোমার কওম বানী ইসরাঈলের জন্যে দাঁড়িয়ে যাও।
আমি তোমার মুখের ভাষায় আমার কথা বলবো। আমি অজ্ঞ ও মূর্খ লোকদের মধ্যে। একজন নিরক্ষর নবীকে পাঠাবো। সে না বদ স্বভাবের হবে, না কর্কশভাষী হবে। সে হাটে-বাজারে হট্টগোল সৃষ্টি করবে না। সে এতো শান্ত-শিষ্ট হবে যে, জ্বলন্ত প্রদীপের পার্শ্ব দিয়ে সে গমন করলেও প্রদীপটি নিভে যাবে না। যদি সে বাঁশের উপর দিয়েও চলে তবুও তাতে তার পায়ের শব্দ হবে না। আমি তাকে সুসংবাদ প্রদানকারী ও ভয় প্রদর্শনকারী রূপে প্রেরণ করবো। সে সত্যভাষী হবে। আমি তার সম্মানার্থে অন্ধের চক্ষ খুলে দিবো, বধির শ্রবণশক্তি ফিরে পাবে এবং দাগ ও কালিমাযুক্ত অন্তরকে পরিষ্কার করে দিবো।
আমি তাকে প্রত্যেক ভাল কাজের দিকে পরিচালিত করবো। সমস্ত ভাল স্বভাব তার মধ্যে বিদ্যমান থাকবে। লোকের অন্তর জয়কারী হবে তার পোশাক-পরিচ্ছদ এবং সৎ কাজ করা তার প্রকৃতিগত বিষয় হবে। তার অন্তর আল্লাহর ভয়ে ভীত থাকবে। তার কথাবার্তা হবে হিকমত পূর্ণ। সত্যবাদিতা ও অঙ্গীকার পালন হবে তার স্বভাবগত বিষয়। ক্ষমা ও সদাচরণ হবে তার চরিত্রগত গুণ। সত্য হবে তার শরীয়ত। তার স্বভাব-চরিত্রে থাকবে ন্যায়পরায়ণতা। হিদায়াত হবে তার কাম্য। ইসলাম হবে তার মিল্লাত। তার নাম হবে আহমাদ (সঃ)। তার মাধ্যমে আমি পথভ্রষ্টকে সুপথ প্রদর্শন করবো, মূর্খদেরকে বিদ্বান বানিয়ে দিবো।
অধঃপতিতকে করবো মর্যাদাবান। অপরিচিতকে করবো খ্যাতি সম্পন্ন ও সকলের পরিচিত। তার কারণে আমি রিক্ত হস্তকে দান করবো প্রচুর সম্পদ। ফকীরকে বানিয়ে দিবো বাদশাহ। কঠোর হৃদয়ের লোকের অন্তরে আমি দয়া ও প্রেম-প্রীতি দিয়ে দিবো। মতভেদকে ইত্তেফাকে পরিবর্তিত করবো। মতপার্থক্যকে করে দিবো একমত। তার কারণে আমি দুনিয়াকে ধ্বংসের হাত হতে রক্ষা করবো। সমস্ত উম্মত হতে তার উম্মত হবে শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদা সম্পন্ন। মানব জাতির উপকারার্থে তাদের আবির্ভাব ঘটবে, তারা সৎ কার্যের নির্দেশ দান করবে ও মন্দ কার্যে বাধা দেবে। তারা হবে একত্ববাদী মুমিন ও নিষ্ঠাবান।
পূর্ববর্তী নবীদের উপর যা কিছু অবতীর্ণ করা হয়েছে তা তারা মেনে নেবে। তারা মসজিদে, মজলিসে, চলা-ফেরাতে এবং উঠা-বসাতে আমার মহিমা ও পবিত্রতা ঘোষণাকারী হবে। তারা আমার জন্যে দাঁড়িয়ে ও বসে নামায পড়বে। আল্লাহর পথে দলবদ্ধ ও সারিবদ্ধভাবে যুদ্ধ করবে। তাদের মধ্যে হাজার হাজার লোক আমার সন্তুষ্টির অন্বেষণে ঘরবাড়ী ছেড়ে জিহাদের জন্যে সদা প্রস্তুত থাকবে। অযু করার জন্যে তারা মুখ-হাত ধৌত করবে। পায়ের গোছার অর্ধেক পর্যন্ত তারা কাপড় পরিধান করবে। আমার কিতাব তাদের বুকে বাঁধা থাকবে। আমার নামে তারা কুরবানী করবে। তারা হবে রাত্রে আবেদ এবং দিনে মুজাহিদ।
এই নবীর আহূলে বায়েত ও সন্তানদের মধ্যে আমি অগ্রগামী, সত্যের সাধক, শহীদ ও সৎ লোকদেরকে সৃষ্টি করবো। তারপরে তার উম্মত দুনিয়ায় সত্যের পথে মানুষকে আহ্বান করতে থাকবে এবং ন্যায় ও ইনসাফ কায়েম করবে। তাদেরকে যারা সাহায্য করবে তাদেরকে আমি মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করবো। পক্ষান্তরে তাদের যারা বিরোধিতা ও বিরুদ্ধাচরণ করবে এবং অমঙ্গল কামনা করবে তাদের জন্যে আমি খুব মন্দ দিন আনয়ন করবো। আমি এই নবীর উম্মতকে নবীর ওয়ারিশ বানিয়ে দিবো। তারা তাদের প্রতিপালকের দিকে আহ্বানকারী হবে। তারা ভাল কাজের আদেশ করবে এবং মন্দ কাজ হতে নিষেধ করবে। তারা নামায কায়েম করবে, যাকাত দেবে এবং তাদের অঙ্গীকার পূর্ণ করবে।
ঐ ভাল কাজ আমি তাদের হাতেই সমাপ্ত করাবো, যা তারা শুরু করেছিল। এটা আমার অনুগ্রহ। এই অনুগ্রহ আমি। যাকে ইচ্ছা প্রদান করে থাকি এবং আমি বড় অনুগ্রহশীল।” (এটা ইমাম বুখারী (রঃ) ও ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, (আরবি) এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয় ঐ সময় যখন তিনি হযরত আলী (রাঃ) ও হযরত মুআয (রাঃ)-কে ইয়ামনের শাসনকর্তা করে পাঠাচ্ছিলেন। অতঃপর তিনি তাদেরকে বললেনঃ “তোমরা দু’জন যাও, সুসংবাদ শুনাবে, ঘৃণা উৎপাদন করবে না, সহজ পন্থা বাতলাবে, তাদের প্রতি কঠোর হবে কেননা, আমার প্রতি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে- “হে নবী (সঃ)!
আমি তো তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষীরূপে এবং সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রূপে।' অর্থাৎ তুমি তোমার উম্মতের উপর সাক্ষী হবে, জান্নাতের সুসংবাদদাতা ও জাহান্নাম হতে সতর্ককারী হবে এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে এই সাক্ষ্যদানের দিকে আহ্বানকারী হবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মা'বুদ নেই এবং কুরআনের মাধ্যমে উজ্জ্বল প্রদীপ হবে।” সুতরাং আল্লাহ তা'আলার উক্তি (আরবি) বা সাক্ষী দ্বারা বুঝানো হয়েছে আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষী হওয়াকে। আর কিয়ামতের দিন রাসূলুল্লাহ (সঃ) মানুষের আমলের উপর সাক্ষী হবেন। যেমন কুরআন কারীমে ঘোষিত হয়েছেঃ (আরবি)অর্থাৎ “তোমাকে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষীরূপে উপস্থিত করবো।” (৪:৪১) যেমন তিনি অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “যেন তোমরা (উম্মতে মুহাম্মাদী সঃ) লোকদের (অন্যান্য নবীদের উম্মতের) উপর সাক্ষী হও এবং রাসূল (সঃ) তোমাদের উপর সাক্ষী হন।” (২:১৪৩)মহান আল্লাহ বলেনঃ হে নবী (সঃ)!
তুমি মুমিনদেরকে জান্নাতের সুসংবাদ প্রদানকারী এবং কাফিরদেরকে জাহান্নাম হতে ভয় প্রদর্শনকারী। আর তুমি আল্লাহর অনুমতিক্রমে সমগ্র সৃষ্টিকে আল্লাহর দাসত্বের দিকে আহ্বানকারী। তোমার সত্যতা ঐ রকম সুপ্রতিষ্ঠিত যেমন সূর্যের আলো সুপ্রতিষ্ঠিত। যদি কোন হঠকারী লোক অকারণে হঠকারিতা করে তবে সেটা অন্য কথা।এরপর মহা প্রতাপান্বিত আল্লাহ বলেনঃ তুমি কাফির ও মুনাফিকদের কথা মেনে নিয়ো না, বরং তাদের কথা ছেড়ে দাও। আর তারা যে তোমাকে কষ্ট দেয় ও তোমার প্রতি নির্যাতন করে সেটা তুমি উপেক্ষা কর, ওটাকে কিছুই মনে করো , বরং আল্লাহ তা'আলার উপর নির্ভরশীল হও।
কর্মবিধায়করূপে তিনিই যথেষ্ট।
হে নবী ! অবশ্যই আমরা আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে [১];
[১] ‘মুবাশ্শির’ এর মর্মার্থ এই যে, তিনি স্বীয় উম্মতের মধ্য থেকে সৎ ও শরীয়তানুসারী ব্যক্তিবর্গকে জান্নাতের সুসংবাদ দেন এবং ‘নাযির’ অর্থাৎ, তিনি অবাধ্য ও নীতিচ্যুত ব্যক্তিবর্গকে আযাব ও শাস্তির ভয়ও প্রদর্শন করেন। [তাবারী, বাগভী]
[সূরা আল-আহযাব (৩৩): আয়াত ৪৫ থেকে ৪৬] পূর্ণ পৃষ্ঠা
তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, তাঁর বান্দাদের ওপর আল্লাহর সালাত (রহমত) কেমন? তিনি বললেন: (সুব্বুহুন কুদ্দুস - আমার রহমত আমার ক্রোধের ওপর প্রাধান্য পেয়েছে)। এই বাণীর ব্যাখ্যার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেছেন: এটি মহান আল্লাহর কালামের অন্তর্ভুক্ত এবং এটিই বান্দাদের ওপর তাঁর সালাত। আবার কেউ বলেছেন, ‘সুব্বুহুন কুদ্দুস’ হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা এবং তিনি আল্লাহর সালাত সম্পর্কিত শব্দগুচ্ছ—যা হলো (আমার রহমত আমার ক্রোধের ওপর প্রাধান্য পেয়েছে)—উচ্চারণ করার আগে এটি পাঠ করেছেন। কারণ তিনি প্রশ্নকারীর কথা থেকে বুঝতে পেরেছিলেন যে, সে বান্দাদের ওপর আল্লাহর সালাত সম্পর্কে এমন কিছু ধারণা করেছে যা মহান আল্লাহর শানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তাই তিনি তাঁর সংবাদের আগে পবিত্রতা ও মহিমা প্রকাশের শব্দ উপস্থাপন করেছেন। মহান আল্লাহর বাণী: (যাতে তিনি তোমাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন) অর্থাৎ ভ্রষ্টতা থেকে হেদায়েতের দিকে। আর এর অর্থ হলো হেদায়েতের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত রাখা; কারণ সম্বোধনের সময় তারা হেদায়েতের ওপরই ছিল। অতঃপর মহান আল্লাহ মুমিনদের প্রতি তাঁর রহমতের সংবাদ দিয়ে তাদের আশ্বস্ত করে বলেছেন: (আর তিনি মুমিনদের প্রতি পরম দয়ালু)। [সূরা আল-আহযাব (৩৩): আয়াত ৪৪]যেদিন তারা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে সেদিন তাদের অভিবাদন হবে ‘সালাম’ এবং তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন সম্মানজনক প্রতিদান।
(৪৪)"তারা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে" বাক্যাংশের সর্বনামটি কার দিকে ফিরবে সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেছেন, এটি মহান আল্লাহর দিকে ফিরবে; অর্থাৎ তিনি মুমিনদের প্রতি দয়ালু, তাই কিয়ামতের দিন তিনি তাদের আল্লাহর আযাব থেকে নিরাপত্তা দেবেন। আর সেই দিন তারা তাঁর সাক্ষাৎ লাভ করবে। আর "তাদের অভিবাদন" বলতে একে অপরের প্রতি অভিবাদন বোঝানো হয়েছে। "সালাম" মানে হলো আল্লাহর আযাব থেকে আমাদের ও তোমাদের জন্য নিরাপত্তা। আবার কেউ বলেছেন: এই অভিবাদন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে হবে। এর অর্থ হলো: তিনি তাদের বিপদ-আপদ থেকে মুক্ত রাখবেন অথবা আশঙ্কাজনক বিষয় থেকে নিরাপত্তার সুসংবাদ দেবেন।
"যেদিন তারা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে" অর্থাৎ কিয়ামতের দিন জান্নাতে প্রবেশের পর। আয-যাজ্জাজ এই অর্থই করেছেন এবং মহান আল্লাহর এই বাণীটি প্রমাণ হিসেবে পেশ করেছেন: "সেখানে তাদের অভিবাদন হবে সালাম" [সূরা ইউনুস: ১০]। আবার কেউ বলেছেন: "যেদিন তারা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে" অর্থাৎ যেদিন তারা মৃত্যুশয়তানের (মালাকুল মাউত) সাক্ষাৎ পাবে। বর্ণিত আছে যে, তিনি কোনো মুমিনের রূহ কবজ করেন না তাকে সালাম দেওয়া ছাড়া। বারা ইবনে আযিব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "যেদিন তারা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে সেদিন তাদের অভিবাদন হবে সালাম"—অর্থাৎ রূহ কবজ করার সময় মৃত্যুশয়তান মুমিনকে সালাম দেবেন; তিনি তাকে সালাম না দেওয়া পর্যন্ত রূহ কবজ করেন না।
[সূরা আল-আহযাব (৩৩): আয়াত ৪৫ থেকে ৪৬]হে নবী! আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে। (৪৫) এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে। (৪৬)(১). পাণ্ডুলিপি ‘আলিফ’ ও ‘জীম’-এ রয়েছে: (কালাম) মান কালাম। [ ..... ](২). দ্রষ্টব্য খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ৩১৩।
এবং কিসরার নদীসমূহ—আর তারা তোমাদের জন্য তাদের কন্যাদের বিছানা করে দেবে। তোমরা কি আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করবে এবং তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করবে? তখন নুমান ইবনে শারীক তাকে বললেন: হে কুরাইশ ভ্রাতা, আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই তা আপনার জন্য হবে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তেলাওয়াত করলেন: আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী, আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী এবং উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে।
(সূরা আল-আহযাব, আয়াত ৪৫)।অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকরের হাত ধরে দাঁড়িয়ে গেলেন।আবদ ইবনে হুমাইদ এবং আবুশ শায়খ কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন তোমরা দারিদ্র্যের কারণে তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না
।
তিনি বলেন: অভাব-অনটনের ভয়ে।তিনি বলেন: জাহেলিয়াত যুগের লোকেরা দারিদ্র্য এবং যুদ্ধবন্দী হওয়ার আশঙ্কায় তাদের কন্যাদের হত্যা করত। আর তোমরা অশ্লীলতার নিকটবর্তী হয়ো না, চাই তা প্রকাশ্য হোক বা গোপন।
তিনি বলেন: এর প্রকাশ্য এবং গোপন উভয় রূপ।ইবনে জারীর, ইবনুল মুনযির, ইবনে আবি হাতিম এবং ইবনে মারদুওয়াইহ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন তোমরা দারিদ্র্যের কারণে তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না
। তিনি বলেন: অভাবের ভয়ে। আর তোমরা অশ্লীলতার নিকটবর্তী হয়ো না, চাই তা প্রকাশ্য হোক বা গোপন।
তিনি বলেন: জাহেলিয়াত যুগে তারা গোপনে ব্যভিচার করাতে কোনো দোষ মনে করত না, কিন্তু প্রকাশ্যে একে ঘৃণা করত; তাই আল্লাহ গোপনে এবং প্রকাশ্যে উভয় অবস্থাতেই ব্যভিচার হারাম করে দিয়েছেন।ইবনুল মুনযির এবং ইবনে আবি হাতিম আতা-এর সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে তোমরা অশ্লীলতার নিকটবর্তী হয়ো না, চাই তা প্রকাশ্য হোক
এর ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: প্রকাশ্য।
আর যা গোপন
এর ব্যাখ্যায় বলেন: গোপন।ইবনে আবি হাতিম ইমরান ইবনে হুসাইন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ব্যভিচারী, চোর এবং মদ্যপায়ী সম্পর্কে তোমাদের অভিমত কী? তারা বললেন: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।তিনি বললেন: এগুলো অশ্লীল কাজ এবং এগুলোর জন্য শাস্তি রয়েছে।ইবনে আবি হাতিম ইবনে আবি হাযিম আর-রাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তার মনিবকে বলতে শুনেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, মানুষের কাছে হাত পাতা অশ্লীল কাজের অন্তর্ভুক্ত।ইবনে আবি হাতিম ইয়াহইয়া ইবনে জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার কাছে এ সংবাদ পৌঁছেছে যে, আল্লাহ তাঁর কিতাবে যেসব অশ্লীল কাজ থেকে নিষেধ করেছেন তার অন্তর্ভুক্ত হলো—ব্যক্তি কোনো নারীকে বিয়ে করল, অতঃপর যখন সে তার সন্তান প্রসব করল, তখন সে তাকে কোনো প্রকার সন্দেহ ছাড়াই তালাক দিয়ে দিল।ইবনে আবি হাতিম এবং ইবনে মারদুওয়াইহ ইবনে আব্বাস থেকে তোমরা অশ্লীলতার নিকটবর্তী হয়ো না, চাই তা প্রকাশ্য হোক
এর ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মা ও কন্যাদের বিয়ে করা।
আর যা গোপন
এর ব্যাখ্যায় বলেন: ব্যভিচার।ইবনে আবি হাতিম এবং আবুশ শায়খ ইকরিমা থেকে তোমরা অশ্লীলতার নিকটবর্তী হয়ো না, চাই তা প্রকাশ্য হোক
এর ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মানুষের প্রতি জুলুম করা। আর যা গোপন
এর ব্যাখ্যায় বলেন: ব্যভিচার এবং চুরি।ইবনে আবি হাতিম সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে তোমরা প্রাণ হত্যা করো না
এর ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন: অর্থাৎ মুমিনের প্রাণ, যা হত্যা করা আল্লাহ হারাম করেছেন যথাযথ কারণ ব্যতীত।
সাঈদ ইবনে মানসুর, ইবনে জারির, আবদ ইবনে হুমাইদ এবং ইবনে মারদুওয়াইহ সাঈদ ইবনে মুসায়্যিব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই দিনসমূহের শ্রেষ্ঠ হলো জুমার দিন, আর এটিই হলো 'শাহেদ' (সাক্ষী), এবং 'মাশহুদ' (সাক্ষ্যকৃত) হলো আরাফার দিন।"ইবনে জারির আবু দারদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "জুমার দিনে তোমরা আমার প্রতি অধিক হারে দরুদ পাঠ করো, কেননা এটি একটি 'মাশহুদ' (উপস্থিতির) দিন, ফেরেশতারা এই দিনে উপস্থিত হন।"আবদুর রাজ্জাক, ফিরইয়াবি, আবদ ইবনে হুমাইদ, ইবনে জারির এবং ইবনে মুনজির আলী ইবনে আবি তালিব থেকে আল্লাহর এই বাণী— "সাক্ষী ও সাক্ষ্যকৃত"—প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: 'শাহেদ' (সাক্ষী) হলো জুমার দিন এবং 'মাশহুদ' (সাক্ষ্যকৃত) হলো আরাফার দিন।ইবনে জারির এবং ইবনে মারদুওয়াইহ হাসান ইবনে আলী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, জনৈক ব্যক্তি তাঁকে "সাক্ষী ও সাক্ষ্যকৃত" (শাহিদ ও মাশহুদ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল।
তিনি বললেন: "তুমি কি আমার আগে অন্য কাউকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছ?" সে বলল: "হ্যাঁ, আমি ইবনে আমরু এবং ইবনে জুবায়েরকে জিজ্ঞাসা করেছি; তাঁরা বলেছেন: দিন দুটি হলো বাতাসের দিন এবং জুমার দিন।" তিনি বললেন: "না, বরং 'শাহেদ' (সাক্ষী) হলেন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।" অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন— (নিশ্চয়ই আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষীরূপে এবং সুসংবাদদাতাস্বরূপ) [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৪৫]; (এবং আমি আপনাকে এদের বিরুদ্ধে সাক্ষীরূপে উপস্থিত করব) [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৮৯]। আর 'মাশহুদ' (সাক্ষ্যকৃত) হলো কিয়ামতের দিন। অতঃপর তিনি পাঠ করলেন— (এটি এমন এক দিন যখন সকল মানুষকে সমবেত করা হবে) [সূরা হুদ, আয়াত: ১০৩]; (এবং এটি একটি উপস্থিতির দিন) [সূরা হুদ, আয়াত: ১০৩]।তাবারানি 'আল-আওসাত'-এ, আবদ ইবনে হুমাইদ, ইবনে মারদুওয়াইহ এবং ইবনে আসাকির বিভিন্ন সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, "প্রতিশ্রুত দিন" হলো কিয়ামতের দিন।
আর "সাক্ষী ও সাক্ষ্যকৃত" প্রসঙ্গে তিনি বলেন: 'শাহেদ' (সাক্ষী) হলেন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং 'মাশহুদ' (সাক্ষ্যকৃত) হলো কিয়ামতের দিন। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন— (এটি এমন এক দিন যখন সকল মানুষকে সমবেত করা হবে) [সূরা হুদ, আয়াত: ১০৩]; (এবং এটি একটি উপস্থিতির দিন) [সূরা হুদ, আয়াত: ১০৩]। ইবনে জারির আলীর সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: 'শাহেদ' (সাক্ষী) হলেন আল্লাহ এবং 'মাশহুদ' (সাক্ষ্যকৃত) হলো কিয়ামতের দিন।
