Al-Ahzab
আল-আহযাব: 7
মূল আরবি
وَإِذْ أَخَذْنَا مِنَ ٱلنَّبِيِّـۧنَ مِيثَـٰقَهُمْ وَمِنكَ وَمِن نُّوحٍ وَإِبْرَٰهِيمَ وَمُوسَىٰ وَعِيسَى ٱبْنِ مَرْيَمَ ۖ وَأَخَذْنَا مِنْهُم مِّيثَـٰقًا غَلِيظًا
English Translations
And [mention, O Muḥammad], when We took from the prophets their covenant and from you and from Noah and Abraham and Moses and Jesus, the son of Mary; and We took from them a solemn covenant
And (remember) when We took from the Prophets their covenant, and from you (O Muhammad SAW), and from Nuh (Noah), Ibrahim (Abraham), Musa (Moses), and 'Iesa (Jesus), son of Maryam (Mary). We took from them a strong covenant.
And (recall) when We took from the prophets their covenant, and from you and from NūH and Ibrāhīm and Mūsā and ‘Īsā, the son of Maryam, and We did take from them a firm covenant,
And call to mind, (O Prophet), when We took the covenant from all Prophets; and also from you and Noah and Abraham, Moses, and Jesus the son of Mary. We took from them a solemn covenant
And when We exacted a covenant from the prophets, and from thee (O Muhammad) and from Noah and Abraham and Moses and Jesus son of Mary. We took from them a solemn covenant;
And remember We took from the prophets their covenant: As (We did) from thee: from Noah, Abraham, Moses, and Jesus the son of Mary: We took from them a solemn covenant:
বাংলা অনুবাদ
স্মরণ কর, আমি যখন নবীদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম আর তোমার কাছ থেকেও; আর নূহ্, ইব্রাহীম, মূসা আর মারইয়াম পুত্র ‘ঈসা থেকেও। আমি তাদের কাছ থেকে নিয়েছিলাম দৃঢ় অঙ্গীকার
আর স্মরণ কর, যখন আমি অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম নবীদের থেকে এবং তোমার থেকে, নূহ, ইবরাহীম, মূসা ও মারইয়াম পুত্র ঈসা থেকে। আর আমি তাদের কাছ থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম।
স্মরণ কর, যখন আমি নাবীদের নিকট হতে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম এবং তোমার নিকট হতেও এবং নূহ, ইবরাহীম, মূসা, মারইয়াম তনয় ঈসার নিকট হতে, তাদের নিকট হতে গ্রহণ করেছিলাম দৃঢ় অঙ্গীকার –
আর স্মরণ করুন, যখন আমরা নবীগণের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম এবং আপনার কাছ থেকেও, আর নূহ, ইব্রাহিম, মূসা ও মারইয়াম পুত্র ঈসার কাছ থেকেও। আর আমরা তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করেছিলাম দৃঢ় অঙ্গীকার--
আর স্মরণ কর! যখন আমি শপথ গ্রহণ করেছিলাম নাবীদের কাছ থেকে এবং তোমার কাছ থেকে, নূহ, ইবরাহীম ও ‘ঈসা ইবনু মারইয়ামের কাছ থেকে এবং তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করেছিলাম অতি দৃঢ় প্রতিশ্র“তি।
৭. আর হে নবী! আপনি সেই সময়ের কথা স্মরণ করুন যখন আমি নবীদের নিকট থেকে এই মর্মে দৃঢ় অঙ্গীকার নেই যে, তাঁরা যেন এককভাবে আল্লাহর এবাদত করেন। আর তাঁর সাথে কাউকে শরীক না করে। আর যেন তাঁরা তাঁদের উপর প্রেরিত ওহী পৌঁছে দেয়। বিশেষ করে আমি, নূহ, ইব্রাহীম, মূসা ও ঈসার নিকট থেকে তা গ্রহণ করেছি। তাঁদের নিকট থেকে তাঁদের উপর ন্যস্ত আল্লাহর বার্তা পৌঁছানোর দায়িত্ব পালনের জন্য সুদৃঢ় অঙ্গীকার নিয়েছি।
তাফসীর
৭-৮ নং আয়াতের তাফসীরআল্লাহ তা'আলা বলেনঃ আমি এই পাঁচজন স্থিরপ্রতিজ্ঞ নবীর নিকট হতে এবং সাধারণ সমস্ত নবীর নিকট হতে দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়েছিলাম যে, তারা আমার দ্বীনের প্রচার করবেন ও তার উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবেন। তারা পরস্পরে একে অপরকে সাহায্য করবেন এবং একে অপরকে সমর্থন করবেন। তারা পরস্পরের মধ্যে ইত্তেহাদ ও ইত্তেফাক কায়েম রাখবেন। যেমন তিনি অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “স্মরণ কর, যখন আল্লাহ নবীদের অঙ্গীকার নিয়েছিলেনঃ তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত যা কিছু দিয়েছি তার শপথ! যখন একজন রাসূল আসবে তখন নিশ্চয়ই তোমরা তাকে বিশ্বাস করবে এবং তাকে সাহায্য করবে।
তিনি বললেনঃ তোমরা কি স্বীকার করলে? এবং এই সম্পর্কে আমার অঙ্গীকার কি তোমরা গ্রহণ করলে? তারা বললো: আমরা স্বীকার করলাম। তিনি বললেনঃ তবে তোমরা সাক্ষী থাকো এবং আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষী থাকলাম।” (৩:৮১) এখানে সাধারণ নবীদের বর্ণনা দেয়ার পর বিশিষ্ট মর্যাদা সম্পন্ন নবীদের নামও উল্লেখ করেছেন। অনুরূপভাবে তাদের নাম নিম্নের আয়াতেও রয়েছেঃ (আরবি)এখানে হযরত নূহ (আঃ)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে যিনি ভূ-পৃষ্ঠে আল্লাহ তাআলার সর্বপ্রথম নবী ছিলেন। হযরত মুহাম্মাদ (সঃ)-এর বর্ণনা রয়েছে যিনি ছিলেন সর্বশেষ নবী এবং হযরত ইবরাহীম (আঃ), হযরত মূসা (আঃ) ও হযরত ঈসা (আঃ)-এর বর্ণনা দেয়া হয়েছে যারা ছিলেন মধ্যবর্তী নবী।
এতে সূক্ষ্মদর্শিতা এই রয়েছে যে, প্রথম নবী হযরত আদম (আঃ)-এর পরবর্তী নবী হযরত নূহ (আঃ)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং হযরত মুহাম্মাদ (সঃ)-এর পূর্ববর্তী নবী হযরত ঈসা (আঃ)-এর নাম উল্লেখ রয়েছে। আর মধ্যবর্তী নবীদের মধ্যে হযরত ইবরাহীম (আঃ) ও হযরত মূসা (আঃ)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এখানেও তো এই ক্রমপর্যায় রয়েছে যে, প্রথম ও শেষের নাম উল্লেখ করার পর মধ্যবর্তী নবীদের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। আর এ আয়াতে সর্বপ্রথম সর্বশেষ নবী (সঃ)-এর বর্ণনা দেয়া হয়েছে। কারণ তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বাপেক্ষা অধিক মর্যাদা সম্পন্ন নবী। অতঃপর একের পর এক ক্রমানুযায়ী অন্যান্য নবীদের উল্লেখ রয়েছে।
আল্লাহ তা'আলা তাঁর সমস্ত নবীর উপর দরূদ ও সালাম নাযিল করুন! এই আয়াতের তাফসীরে রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আমি সমস্ত নবীর পূর্বে সৃষ্ট হয়েছি এবং দুনিয়ায় সর্বশেষে আগমন করেছি। তাই আমা হতেই শুরু করা হয়েছে।” (এ হাদীসটি ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন) কিন্তু এর একজন বর্ণনাকারী সাঈদ ইবনে বাশীর দুর্বল এবং সনদ হিসেবে এটা মুরসাল রূপে বর্ণিত হয়েছে। এটাই বেশী সামঞ্জস্যপূর্ণ। কেউ কেউ এটাকে মাওকুফ রূপে বর্ণনা করেছেন। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলাই সর্বাধিক সঠিক জ্ঞানের অধিকারী। হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) বলেন যে, হযরত আদম (আঃ)-এর সন্তানদের মধ্যে পাঁচজন নবী আল্লাহ তা'আলার নিকট খুইব পছন্দনীয়।
তাঁরা হলেনঃ হযরত নূহ (আঃ), হযরত ইবরাহীম (আঃ), হযরত মূসা (আঃ), হযরত ঈসা (আঃ) এবং হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা (সঃ)। এর একজন বর্ণনাকারী হামযাহ দুর্বল। এও বলা হয়েছে যে, এই আয়াতে যে অঙ্গীকারের বর্ণনা রয়েছে তা হলো ওটাই যা আল্লাহ তা'আলা রোযে আযলে হযরত আদম (আঃ)-এর পিঠ হতে সমস্ত মানুষকে বের করে গ্রহণ করেছিলেন।হযরত উবাই ইবনে কা'ব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত আদম (আঃ)-কে উচ্চে তুলে ধরা হয়। তিনি তাঁর সন্তানদের দেখেন। তাদের মধ্যে তিনি ধনী, নির্ধন, সুন্দর, কুৎসিত সর্বপ্রকারের লোককেই দেখতে পান। তিনি বলেনঃ “হে আল্লাহ! যদি আপনি এদের সবাইকে সমান করতেন তবে কতই না ভাল হতো!” মহামহিমান্বিত আল্লাহ জবাবে বলেনঃ “এটা এজন্যেই করা হয়েছে যে, যেন আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
তাদের মধ্যে যারা নবী ছিলেন। তিনি তাদেরকেও দেখেন। তাঁরা জ্যোতির্ময় রূপে প্রকাশিত ছিলেন। তাঁদের উপর নূর বর্ষিত হচ্ছিল। তাদের নিকট হতেও নবুওয়াত ও রিসালাতের একটি বিশেষ অঙ্গীকার নেয়া হয়েছিল। যার বর্ণনা এই আয়াতে রয়েছে।ঘোষিত হচ্ছেঃ সত্যবাদীদেরকে তাদের সত্যবাদীতা সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করবার জন্যে, অর্থাৎ তাদেরকে রাসূল (সঃ)-এর হাদীসগুলো পৌঁছিয়ে দিতো। আর আল্লাহ তা'আলা অমান্যকারীদের জন্যে প্রস্তুত রেখেছেন বেদনাদায়ক শাস্তি। সুতরাং হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি এবং মনে প্রাণে বিশ্বাস করছি যে, আপনার রাসূলগণ আপনার বান্দাদের কাছে আপনার বাণী কমবেশী ছাড়াই পৌছিয়ে দিয়েছেন।
তারা পূর্ণভাবে মঙ্গল কামনা করেছে এবং সত্যকে পরিষ্কারভাবে উজ্জ্বল পন্থায় জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন। যাতে সন্দেহের লেশ মাত্র নেই, যদিও হতভাগ্য ও হঠকারীরা তাদেরকে মানেনি। আমাদের বিশ্বাস আছে যে, আপনার রাসূলদের সমস্ত কথা ন্যায় ও সত্য। যারা তাঁদের পথ অনুসরণ করেনি তারা বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ট। তারা বাতিলের উপর রয়েছে।
আর স্মরণ করুন, যখন আমরা নবীদের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহন করেছিলাম [১] এবং আপনার কাছ থেকেও, আর নূহ, ইব্রাহিম, মূসা, ও মারইয়াম পুত্র ঈসার কাছ থেকেও। আর আমরা তাদের কাছ থেকে গ্রহন করেছিলাম দৃঢ় অঙ্গীকার--
[৩] উল্লেখিত আয়াতে নবীগণ থেকে যে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি গ্রহণের কথা আলোচিত হয়েছে তা সমস্ত মানবকুল থেকে গৃহীত সাধারণ অঙ্গীকার থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। যেমন উবাই ইবন কা'ব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে সহীহ সনদে এসেছে, ‘রেসালত ও নবুওয়ত সংক্রান্ত অঙ্গীকার নবী ও রাসূলগণ থেকে স্বতন্ত্ররূপে বিশেষভাবে গ্ৰহণ করা হয়েছে। [আহমাদ: ৫/১৩৫, মিশকাতুল মাসাবীহঃ ১/১৪৪, মুস্তাদরাকে হাকিম: ২/৩২৪, আল-লালকায়ী: আস-সুন্নাহ: ৯৯১, ইবন বাত্তাহ: আল-ইবান্নাহ ২/৬৯,৭১,২১৫,২১৭] নবী আলাইহিস সালামগণ থেকে গৃহীত এ অঙ্গীকার ছিল নবুওয়ত ও রেসালাত বিষয়ক দায়িত্ত্বসমূহ পালন এবং পরস্পর সত্যতা প্রকাশ ও সাহায্য-সহযোগিতা প্ৰদান সম্পর্কিত।
[সূরা আল-আহযাব (৩৩): আয়াত ৭] পূর্ণ পৃষ্ঠা
তখন উবাই তাকে জিজ্ঞাসা করলেন এবং বললেন: "কুরআন আমাকে ব্যস্ত রাখত, আর বাজারে বেচাকেনা (সাফকু) আপনাকে ব্যস্ত রাখত?" তিনি উমরের প্রতি কঠোর ভাষা প্রয়োগ করলেন। লুত আলাইহিস সালামের বাণী— "এরা আমার কন্যা" [আল-হিজর: ৭১] প্রসঙ্গে বলা হয়েছে যে: তিনি এর দ্বারা মুমিন নারীদের উদ্দেশ্য করেছিলেন, অর্থাৎ তোমরা তাদের বিবাহ করো। এটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। সপ্তম মাসআলা— একদল আলেম বলেছেন: নবীর কন্যাদের মুমিনদের বোন বলা যাবে না, আর তাদের মামাদের মুমিনদের মামা এবং খালাদের মুমিনদের খালা বলা যাবে না। ইমাম শাফিঈ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: জুবায়ের আসমা বিনতে আবু বকর সিদ্দিককে বিবাহ করেছিলেন, যিনি ছিলেন আয়িশার বোন; কিন্তু তাকে মুমিনদের খালা বলা হয়নি।
অন্য একদল আলেম এটি সাধারণভাবে প্রয়োগ করেছেন এবং বলেছেন: মুআবিয়া হলেন মুমিনদের মামা; অর্থাৎ এটি কেবল সম্মানের ক্ষেত্রে, বংশীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে নয়। অষ্টম মাসআলা— মহান আল্লাহর বাণী: (তবে তোমরা যদি তোমাদের বন্ধুদের প্রতি কোনো সদয় আচরণ করতে চাও), এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জীবনে ইহসান করা এবং মৃত্যুর সময় অসিয়ত করা; অর্থাৎ তা জায়েজ। এটি কাতাদাহ, হাসান ও আতা বলেছেন। মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ বলেছেন, আয়াতটি ইহুদি ও নাসারাদের জন্য অসিয়ত করার বৈধতার বিষয়ে নাজিল হয়েছে; অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি তার বন্ধু ও নিকটাত্মীয়ের জন্য এটি করবে যদিও সে কাফির হয়।
সুতরাং মুশরিক ব্যক্তি বংশীয় দিক থেকে অলী (বন্ধু), দ্বীনের দিক থেকে নয়; ফলে তার জন্য অসিয়ত করা যেতে পারে। কাফির ব্যক্তিকে অসিয়ত কার্যকরকারী (ওছি) নিযুক্ত করা যাবে কি না সে বিষয়ে উলামাগণ মতভেদ করেছেন; কেউ জায়েজ বলেছেন আবার কেউ নিষেধ করেছেন। তাদের মধ্যে ইমাম মালিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি বিষয়টিকে শাসকের বিবেচনার ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। মুজাহিদ, ইবনে যায়েদ ও রুম্মানী এই মত পোষণ করেছেন যে, এর অর্থ হলো: তোমাদের মুমিন বন্ধুদের প্রতি। আয়াতের শব্দবিন্যাস এই মতকেই শক্তিশালী করে, তবে অলী শব্দটিকে ব্যাপক রাখাটাও সুন্দর। বংশীয় সম্পর্ক কাফির হওয়ার কারণে রহিত হয় না, বরং তা কেবল ইসলামের বন্ধুর মতো তার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করা থেকে বিরত রাখে।
নবম মাসআলা— মহান আল্লাহর বাণী: (এটি কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে)। এখানে "কিতাব" শব্দটি "আল্লাহর কিতাব" প্রসঙ্গে পূর্বে উল্লিখিত দুটি অর্থই বহন করার সম্ভাবনা রাখে। আর "মাসতুরান" এসেছে আপনার বক্তব্য "আমি কিতাবটি লিপিবদ্ধ করেছি" থেকে, যখন আপনি তা সারিবদ্ধভাবে লিখে থাকেন। কাতাদাহ বলেন: অর্থাৎ আল্লাহর নিকট এটি লিখিত রয়েছে যে, কোনো কাফির কোনো মুসলিমের উত্তরাধিকারী হবে না। কাতাদাহ আরও বলেন: কোনো কোনো কিরাআতে রয়েছে— "এটি আল্লাহর নিকট লিখিত ছিল"। কুরযী বলেছেন: এটি তাওরাতে ছিল। [সূরা আল-আহযাব (৩৩): আয়াত ৭]আর স্মরণ করুন, যখন আমি নবীদের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম এবং আপনার কাছ থেকে এবং নূহ, ইব্রাহিম, মুসা ও মারইয়াম তনয় ঈসার কাছ থেকে; আর আমি তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করেছিলাম সুদৃঢ় অঙ্গীকার।
(৭)(১). আস-সাফকু: বেচাকেনা।(২). দেখুন খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৭৯ এবং পরবর্তী অংশ।
ইবনে জারীর মদীনার অধিবাসী আবু মুহাম্মদ নামক এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ওমর ইবনুল খাত্তাবকে এই আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম—আর যখন আপনার পালনকর্তা বনী আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের বংশধরদের বের করলেন
। তিনি বললেন: তুমি আমাকে যা জিজ্ঞাসা করলে, আমিও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তা-ই জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তখন তিনি বলেছিলেন: “আল্লাহ আদমকে তাঁর কুদরতি হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে তাঁর পক্ষ থেকে রূহ ফুঁকে দিয়েছেন। এরপর তাকে বসিয়ে তাঁর ডান হাত দিয়ে তার পিঠ মর্দন করলেন এবং একদল ক্ষুদ্র পিপীলিকার ন্যায় বংশধরকে বের করে বললেন—এদেরকে আমি জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেছি।
এরপর তাঁর অপর হাত দিয়ে তার পিঠ মর্দন করলেন—এবং তাঁর উভয় হাতই ডান (কল্যাণময়)—তখন বললেন—এদেরকে আমি জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি; তারা আমার ইচ্ছানুযায়ী আমল করবে, অতঃপর আমি তাদের নিকৃষ্টতম আমল দিয়ে সমাপ্তি ঘটাব এবং তাদের জাহান্নামে প্রবেশ করাব।”আবদ বিন হুমাইদ, মুসনাদের যাওয়াইদ অংশে আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্বল, ইবনে জারীর, ইবনে আবি হাতিম, আবুশ শাইখ, কিতাবুর রাদ্দ আলাল জাহমিয়াতে ইবনে মানদাহ, লালকাঈ, ইবনে মারদুওয়াইহ, আসমা ওয়াস সিফাত গ্রন্থে বায়হাকী এবং ইবনে আসাকির তাঁর ইতিহাসে উবাই বিন কাব থেকে এই আয়াত সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন—আর যখন আপনার পালনকর্তা বনী আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের বংশধরদের বের করলেন
থেকে বাতিলপন্থীরা যা করেছে তার কারণে
পর্যন্ত।
তিনি বলেন: আল্লাহ তাদের নিজ নিজ আকৃতিতে রূহ হিসেবে সৃষ্টি করলেন, অতঃপর তাদের কথা বলার ক্ষমতা দিলেন এবং তারা কথা বলল। এরপর তাদের থেকে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করলেন এবং তাদের নিজেদের ব্যাপারে সাক্ষী রাখলেন যে, ‘আমি কি তোমাদের পালনকর্তা নই?’ তারা বলল, ‘অবশ্যই’
। তিনি বললেন: “আমি তোমাদের বিরুদ্ধে সাত আকাশকে সাক্ষী রাখছি এবং তোমাদের পিতা আদমকে সাক্ষী রাখছি, যাতে তোমরা কিয়ামতের দিন বলতে না পার
যে, ‘আমরা তো এ বিষয়ে অবগত ছিলাম না’। তোমরা জেনে রেখো, আমি ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই এবং আমি ছাড়া আর কোনো পালনকর্তা নেই। তোমরা আমার সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না।
আমি অচিরেই তোমাদের কাছে আমার রাসূলদের পাঠাব, যারা তোমাদেরকে আমার অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দেবে এবং আমি তোমাদের প্রতি আমার কিতাবসমূহ নাযিল করব।” তারা বলল: “আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনিই আমাদের পালনকর্তা এবং ইলাহ; আপনি ছাড়া আমাদের আর কোনো পালনকর্তা নেই এবং আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।” তারা এভাবে স্বীকৃতি দিল। এরপর তাদের সামনে আদমকে তুলে ধরা হলো যেন তিনি তাদের দিকে তাকাতে পারেন। তিনি ধনবান ও দরিদ্র এবং সুন্দর ও অসুন্দর সব রকমের মানুষ দেখলেন। তিনি বললেন: “হে পালনকর্তা! আপনি যদি আপনার বান্দাদের মাঝে সমতা বজায় রাখতেন!” আল্লাহ বললেন: “আমি পছন্দ করি যে, আমার শুকরিয়া আদায় করা হোক।”তিনি তাদের মধ্যে নবীদের প্রদীপের মতো দেখলেন, তাঁদের ওপর নূর ছিল।
তাঁদের থেকে রিসালাত ও নবুওয়াতের ব্যাপারে আলাদাভাবে অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছিল যে, তাঁরা যেন দ্বীন পৌঁছে দেন। আর এটিই হলো আল্লাহর বাণী: আর যখন আমরা নবীদের থেকে তাদের অঙ্গীকার গ্রহণ করলাম
(সূরা আহযাব, আয়াত ৭)। আর এটিই হলো আল্লাহর বাণী: আল্লাহর সেই ফিতরাত (প্রকৃতি), যার ওপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন
(সূরা রূম, আয়াত ৩০)। এই সম্বন্ধেই তিনি বলেছেন: আমি তাদের অধিকাংশের মধ্যেই অঙ্গীকার পালনের প্রবণতা পাইনি; বরং আমি তাদের অধিকাংশকেই নাফরমান হিসেবে পেয়েছি
(সূরা আরাফ, আয়াত ১০২)। আর এ বিষয়েই তিনি বলেছেন: তারা পূর্বে যা অস্বীকার করেছিল, তাতে তারা ঈমান আনার ছিল না
(সূরা আরাফ, আয়াত ১০১)।
তিনি বললেন: সেদিন আল্লাহর জ্ঞানেই নির্ধারিত ছিল যে, কে তাঁকে অস্বীকার করবে আর কে তাঁকে বিশ্বাস করবে। ঈসার রূহও ছিল সেইসব রূহের অন্তর্ভুক্ত, যাদের অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি আদমের যুগে নেওয়া হয়েছিল। অতঃপর আল্লাহ তাঁকে মানুষের আকৃতিতে মারইয়ামের কাছে পাঠালেন এবং তিনি তাঁর সামনে পূর্ণ মানবরূপে আত্মপ্রকাশ করলেন।উবাই বলেন: অতঃপর তিনি তাঁর মুখ দিয়ে প্রবেশ করলেন।
