Al-Ahzab

আল-আহযাব: 11

33:11
টেক্সট কপি
33 আল-আহযাব Al-Ahzab · 73 আয়াত الأحزاب

মূল আরবি

هُنَالِكَ ٱبْتُلِىَ ٱلْمُؤْمِنُونَ وَزُلْزِلُوا۟ زِلْزَالًا شَدِيدًا

English Translations

Sahih International

There the believers were tested and shaken with a severe shaking.

Muhsin Khan

There, the believers were tried and shaken with a mighty shaking.

Taqi Usmani

At that occasion, the believers were put to a trial and were shaken with a violent convulsion.

Abul Ala Maududi

The believers were then put to a severe test and were most violently convulsed.

Pickthall

There were the believers sorely tried, and shaken with a mighty shock.

Yusuf Ali

In that situation were the Believers tried: they were shaken as by a tremendous shaking.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

সে সময় মু’মিনগণকে পরীক্ষা করা হয়েছিল আর তাদেরকে ভীষণ কম্পনে প্রকম্পিত করা হয়েছিল।

রাওয়াই আল-বায়ান

তখন মুমিনদেরকে পরীক্ষা করা হয়েছিল। আর তারা ভীষণভাবে প্রকম্পিত হয়েছিল।

শাইখ মুজিবুর রহমান

তখন মু’মিনরা পরীক্ষিত হয়েছিল এবং তারা ভীষণভাবে প্রকম্পিত হয়েছিল।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

তখন মুমিনগণ পরীক্ষিত হয়েছিল এবং তারা ভীষণভাবে প্রকম্পিত হয়েছিল।

ফাতহুল মাজীদ

তখন মু’মিনদেরকে পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং তারা ভীষণভাবে প্রকম্পিত হয়েছিল।

মুখতাসার

১১. এহেন অবস্থানে খন্দকের যুদ্ধের দিন মুমিনদেরকে পরীক্ষা করা হয়েছিল। যখন তারা শত্রুদের চতুর্মুখী আক্রমণের সম্মুখীন হয়েছিল। তারা সেদিন ভীষণ ভীতির সম্মুখীন হয়ে মারাত্মকভাবে দুর্বিপাকে পড়েছিল। আর উক্ত পরীক্ষায় প্রকৃত মুমিন আর কাফিরের মধ্যে পার্থক্য ফুটে উঠেছিল।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

১১-১৩ নং আয়াতের তাফসীরআহযাবের যুদ্ধে মুসলমানরা যে ভীতি-বিহ্বলতা ও উদ্বেগপূর্ণ অবস্থার সম্মুখীন হয়েছিল এখানে তারই বর্ণনা দেয়া হচ্ছে। বাহির হতে আগত শত্রুরা পূর্ণ শক্তি ও বিপুল সংখ্যক সৈন্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, আর ভিতরে শহরের মধ্যে বিদ্রোহের অগ্নি দাউ দাউ করে জ্বলে উঠেছে। ইয়াহূদীরা হঠাৎ করে সন্ধিচুক্তি ভঙ্গ করে অস্বস্তিকর অবস্থা সৃষ্টি করে দিয়েছে। মুসলমানরা খাদ্য ও পানীয়ের অভাবে পতিত হয়েছে। মুনাফিকরা প্রকাশ্যভাবে পৃথক হয়ে গেছে। দুর্বল মনের লোকেরা বিভিন্ন ধরনের কথা বলতে শুরু করেছে। তারা একে অপরকে বলছেঃ “পাগল হয়েছো না কি?

দেখতে পাচ্ছ না যে, অতি অল্পক্ষণের মধ্যে পট পরিবর্তন হতে যাচ্ছে? চলো, পালিয়ে যাই।” ইয়াসরিব দ্বারা মদীনাকে বুঝানো হয়েছে। যেমন সহীহ হাদীসে এসেছে যে, নবী (সঃ) বলেছেনঃ “স্বপ্নে আমাকে তোমাদের হিজরতের স্থান দেখানো হয়েছে। তা দু’টি কংকরময় ভূমির মধ্যস্থলে অবস্থিত। প্রথম আমার ধারণা হয়েছিল যে, ওটা বোধহয় হিজর হবে। কিন্তু না, তা ইয়াসরিব।” আর একটি রিওয়াইয়াতে আছে যে, ঐ স্থানটি হলো মদীনা। অবশ্য একটি দুর্বল রিওয়াইয়াতে আছে যে, যে ব্যক্তি মদীনাকে ইয়াসরিব বলে সে যেন তা হতে তাওবা করে। মদীনা তো হলো তাবা, ওটা তাবা। (এ হাদীসটি শুধু মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে।

এর ইসনাদে দুর্বলতা রয়েছে)বর্ণিত আছে যে, আমালীকের মধ্যে যে লোকটি এখানে এসে অবস্থান করেছিল তার নাম ছিল ইয়াসরিব ইবনে আবীদ ইবনে মাহবীল ইবনে আউস ইবনে আমলাক ইবনে লাআয ইবনে ইরাম ইবনে সাম ইবনে নূহ (আঃ)। তার নামানুসারেই এ শহরটিও ইয়াসরিব নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে। একটি উক্তি এও আছে যে, তাওরাত শরীফে এর এগারোটি নাম রয়েছে। ওগুলো হলো: মদীনা, তাবা, তায়্যেবাহ্, সাকীনা, জাবিরাহ, মুহিব্বাহ, মাহবুবাহ, কাসিমাহ, মাজরূরাহ, আযরা এবং মারহ্মাহ্।কা’ব আহ্বার (রঃ) বলেন, আমরা তাওরাতে একথাগুলো পেয়েছি যে, আল্লাহ তা'আলা মদীনা শরীফকে বলেনঃ “হে তাইয়্যেবা, হে তাবা এবং হে মাসকীনা!

ধন-ভাণ্ডারে জড়িত হয়ে পড়ো না। সমস্ত জনপদের মধ্যে তোমার মর্যাদা সমুন্নত হবে। কিছু লোক খন্দকের যুদ্ধের সময় বলেছিলঃ “হে ইয়াসরিববাসী! এখানে তোমাদের কোন স্থান নেই, তোমরা ফিরে চল।' বানু হারিসা গোত্র বলতে শুরু করেঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমাদের বাড়ীতে চুরি হওয়ার আশংকা রয়েছে। ওগুলো জনহীন অবস্থায় পড়ে আছে। সুতরাং আমাদেরকে বাড়ী ফিরে যাবার অনুমতি দিন।” আউস ইবনে কায়সী বলেছিলঃ “আমাদের বাড়ীতে শত্রুদের ঢুকে পড়ার ভয় রয়েছে। সুতরাং আমাদেরকে বাড়ী ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হালে।” আল্লাহ তা'আলা তাদের অন্তরের কথা বলে দিলেন যে, আসলে পলায়ন করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য, তাদের ঘরবাড়ী অরক্ষিত ছিল না।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

তখন মুমিনগণ পরীক্ষিত হয়েছিল এবং তারা ভীষণভাবে প্রকম্পিত হয়েছিল।

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-আহযাব (৩৩): আয়াত ১১] পূর্ণ পৃষ্ঠা

তিনটি বর্ণের (শব্দের) ক্ষেত্রে; এবং মুসহাফে এগুলি আলিফ যোগে লেখা হয়েছে। কারণ "আতায়না" শব্দের আলিফ এবং "আর-রাসূলা", "আদ-যুনূনা" ও "আস-সাবীলা" শব্দের শুরুতে প্রবেশকারী আলিফ পরবর্তী প্রান্তিক আলিফের প্রয়োজনীয়তা মিটিয়ে দেয়, যেমন "আবী জাদ" এর আলিফ "হাওয়াজ" এর আলিফ থেকে অভাবমুক্ত করে। এর স্বপক্ষে আরেকটি যুক্তি হলো: এই আলিফকে ফাতাহ্ (যবর)-এর স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে এবং যা পূর্ববর্তী হরকতের অবলম্বন হিসেবে যুক্ত হয়, অথচ উচ্চারণে এটি বিলুপ্ত হওয়ার নিয়ত রাখা হয়। যখন এর ওপর ভিত্তি করে আমল করা হয়, তখন ফাতাহ্ সহ আলিফটি একটি একক বিষয়ের ন্যায় হয়ে যায়, যা ওয়াকফ (বিরতি) করার সময় উভয়কে বিলুপ্ত করা আবশ্যক করে।

আরও বিবেচনা করা হয় যে, লিপিতে আলিফের আকৃতি উচ্চারণে কোনো স্থান দখল করে না; এটি "সিহরানি", "ফাতারা আস-সামাওয়াতি ওয়াল আরদা", "ওয়া'আদনা মূসা" এবং অনুরূপ শব্দগুলোর আলিফের মতো যা লিপি থেকে উহ্য থাকে কিন্তু উচ্চারণে বিদ্যমান থাকে «১», অথচ এটি লিপি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর স্বপক্ষে তৃতীয় একটি যুক্তি হলো: এটি ঐসব লোকের উপভাষা অনুযায়ী লেখা হয়েছে যারা বলে "লাকাইতুর রাজুলা" (আলিফসহ)। আর কিরাআত করা হয়েছে ঐসব লোকের উপভাষা অনুযায়ী যারা আলিফ ছাড়া "লাকাইতুর রাজুল" বলে। আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের অবহিত করেছেন একদল ভাষাবিদ থেকে যে, তারা আরবদের থেকে বর্ণনা করেছেন: "কামার রাজুলু" (ওয়াও সহ), "মারারতু বি-রাজুলি" (ইয়া সহ) - সংযোগ ও বিরতি উভয় অবস্থায়।

এবং উভয় অবস্থায় "লাকাইতুর রাজুলা" (আলিফ সহ)। কবি বলেছেন:উমায়রা কি তার পিতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে … সে কি সেনাদলের মাঝে আরোহীদের চিনে নিতে চাইছে? «২»এখানে এই ভাষার ওপর ভিত্তি করে "আর-রিকাবা" শব্দে আলিফ বহাল রাখা হয়েছে। অন্য একজন কবি বলেছেন:যখন জাওযা নক্ষত্রপুঞ্জ সুরাইয়ার অনুগামী হয় … তখন আমি ফাতেমার বংশধরদের ব্যাপারে নানাবিধ ধারণা পোষণ করি।এই ভাষার ওপর ভিত্তি করেই নাফে’ এবং অন্যগণ কিরাআত নির্ধারণ করেছেন। ইবনে কাসীর, ইবনে মুহাইসিন এবং কিসায়ী ওয়াকফ করার সময় আলিফ বহাল রেখে এবং সংযোগ (ওয়াসল) করার সময় তা বিলুপ্ত করে পাঠ করেছেন।

ইবনুল আম্বারী বলেন: যারা আলিফ ছাড়া সংযোগ করেছেন এবং আলিফসহ বিরতি দিয়েছেন, তাদের জন্য এটি যুক্তি হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ যে, বিরতির সময় ফাতাহ্-কে অবশিষ্ট রাখার জন্য আলিফের প্রয়োজন পড়েছিল, কারণ আলিফ তাকে অবলম্বন দান করে ও শক্তিশালী করে। ‌‌[সূরা আল-আহযাব (৩৩): আয়াত ১১]সেখানে মুমিনগণ পরীক্ষিত হয়েছিল এবং তারা ভীষণভাবে প্রকম্পিত হয়েছিল (১১)"হুনা" নিকটবর্তী স্থানের জন্য ব্যবহৃত হয়। "হুনালিকা" দূরবর্তী স্থানের জন্য। এবং "হুনাকা" মধ্যবর্তী স্থানের জন্য। এটি সময়ের প্রতিও ইঙ্গিত করে, অর্থাৎ সেই সময়ে মুমিনদের পরীক্ষা করা হয়েছিল যাতে মুনাফিক থেকে একনিষ্ঠ ব্যক্তি পৃথক হয়ে যায়।

এই পরীক্ষা ছিল ভয়, যুদ্ধ, ক্ষুধা, অবরুদ্ধ অবস্থা এবং সম্মুখ লড়াইয়ের মাধ্যমে। (তারা ভীষণভাবে প্রকম্পিত হয়েছিল) অর্থাৎ তাদের প্রচণ্ডভাবে নাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।(১). মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (এটি উচ্চারণে বিদ্যমান এবং উচ্চারণে সাব্যস্ত হয় এবং এটি … )।(২). কবিতাটি বিশর ইবনে আবি খাযিমের। 'ই’তারাফাল কাওম' অর্থ: তাদের জিজ্ঞাসা করা।