Al-Hajj

আল-হাজ্জ: 41

22:41
22 আল-হাজ্জ Al-Hajj · 78 আয়াত الحج

আরবি

ٱلَّذِينَ إِن مَّكَّنَّـٰهُمْ فِى ٱلْأَرْضِ أَقَامُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتَوُا۟ ٱلزَّكَوٰةَ وَأَمَرُوا۟ بِٱلْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا۟ عَنِ ٱلْمُنكَرِ ۗ وَلِلَّهِ عَـٰقِبَةُ ٱلْأُمُورِ

English Translations

Sahih International

[And they are] those who, if We give them authority in the land, establish prayer and give zakāh and enjoin what is right and forbid what is wrong. And to Allāh belongs the outcome of [all] matters.

Muhsin Khan

Those (Muslim rulers) who, if We give them power in the land, (they) order for Iqamat-as-Salat. [i.e. to perform the five compulsory congregational Salat (prayers) (the males in mosques)], to pay the Zakat and they enjoin Al-Ma'ruf (i.e. Islamic Monotheism and all that Islam orders one to do), and forbid Al-Munkar (i.e. disbelief, polytheism and all that Islam has forbidden) [i.e. they make the Quran as the law of their country in all the spheres of life]. And with Allah rests the end of (all) matters (of creatures).

Taqi Usmani

(The ones who help Allah are) those who, when We give them power in the land, establish Salāh, pay Zakāh, bid what is Fair and forbid what is Unfair. And with Allah lies the fate of all matters.

Abul Ala Maududi

(Allah will certainly help) those who, were We to bestow authority on them in the land, will establish Prayers, render Zakah, enjoin good, and forbid evil. The end of all matters rests with Allah.

Pickthall

Those who, if We give them power in the land, establish worship and pay the poor-due and enjoin kindness and forbid iniquity. And Allah's is the sequel of events.

Yusuf Ali

(They are) those who, if We establish them in the land, establish regular prayer and give regular charity, enjoin the right and forbid wrong: with Allah rests the end (and decision) of (all) affairs.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

(এরা হল) যাদেরকে আমি যমীনে প্রতিষ্ঠিত করলে তারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত প্রদান করে, সৎ কাজের আদেশ দেয় ও মন্দ কাজে নিষেধ করে, সকল কাজের শেষ পরিণাম (ও সিদ্ধান্ত) আল্লাহর হাতে নিবদ্ধ।

রাওয়াই আল-বায়ান

তারা এমন যাদেরকে আমি যমীনে ক্ষমতা দান করলে তারা সালাত কায়েম করবে, যাকাত দেবে এবং সৎকাজের আদেশ দেবে ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে; আর সব কাজের পরিণাম আল্লাহরই অধিকারে।

শাইখ মুজিবুর রহমান

আমি তাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করলে তারা সালাত কায়েম করবে, যাকাত দিবে এবং সৎ কাজের আদেশ করবে ও অসৎ কার্য হতে নিষেধ করবে। সকল কাজের পরিণাম আল্লাহর ইখতিয়ারে।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

তারা এমন লোক যাদেরকে আমরা যমীনের বুকে প্রতিষ্ঠিত করলে সালাত কায়েম করবে, যাকাত দেবে এবং সৎকাজের নির্দেশ দেবে ও অসৎকাজে নিষেধ করবে; আর সব কাজের চুড়ান্ত পরিণতি আল্লাহ্‌র ইখতিয়ারে।

ফাতহুল মাজীদ

আমি এদেরকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করলে এরা সালাত কায়েম করবে, যাকাত দিবে এবং সৎ কার্যের নির্দেশ দিবে ও অসৎ কার্যে নিষেধ করবে; আর সকল কর্মের পরিণাম আল্লাহর ইখতিয়ারে।

মুখতাসার

৪১. যাদেরকে সাহায্যের ওয়াদা দেয়া হয়েছে যদি আমি তাদেরকে তাদের শত্রুর উপর বিজয় দিয়ে এ জমিনে প্রতিষ্ঠা করি তাহলে তারা পরিপূর্ণভাবে সালাত আদায় করবে, নিজেদের সম্পদের যাকাত দিবে, শরীয়ত যা আদেশ করেছে তারা তারই আদেশ করবে এবং যা নিষেধ করেছে তারা তাই নিষেধ করবে। বস্তুতঃ সাওয়াব ও শাস্তির ব্যাপারে সকল কিছুর প্রত্যাবর্তনস্থল হলেন কেবল আল্লাহ তা‘আলা।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

হযরত উছমান (রাঃ) বলেনঃ “এই আয়াতটি আমাদের ব্যাপারে অবতীর্ণ। হয়। আমাদেরকে বিনা কারণে আমাদের দেশ থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল। অতঃপর মহান আল্লাহ আমাদেরকে সাম্রাজ্য ও রাজত্ব দান করেন। আমরা নামায কায়েম করি, রোযা রাখি এবং মানুষকে ভাল কাজের আদেশ করি ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করি ও বিরত রাখি। সুতরাং এই আয়াত আমার এবং আমার সঙ্গীদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়।আবুল আলিয়া (রঃ) বলেন যে, এর দ্বারা রাসূলুল্লাহর (সঃ) সাহাবীদেরকে বুঝানো হয়েছে।রাসূলের (সঃ) খলীফা হযরত উমার ইবনু আবদিল আযীয (রঃ) স্বীয় খুৎবায় এই আয়াতটি তিলাওয়াত করেন। অতঃপর বলেনঃ “এই আয়াতে শুধুমাত্র বাদশাহদের বর্ণনা নেই। বরং এতে বাদশাহ্ ও প্রজা উভয়েরই বর্ণনা রয়েছে। বাদশাহর উপর তো দায়িত্ব এই যে, তিনি রাবরই আল্লাহর হক তোমাদের নিকট থেকে আদায় করবেন। তার হকের ব্যাপারে তোমরা অবহেলা করলে তিনি তোমাদেরকে পাকড়াও করবেন। আর একজনের হক অপরের নিকট হতে আদায় করে দিবেন এবং সাধ্যমত তোমাদেরকে সরল সঠিক পথ প্রদর্শন করবেন। তোমাদের উপর তার হক এই যে, প্রকাশ্যে ও গোপনে সন্তুষ্ট চিত্তেও তোমরা তাঁর আনুগত্য করবে।”আতিয়্যাহ (রঃ) বলেনঃ “এই আয়াতেরই অনুরূপ ভাব নিম্নের আয়াতেও রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “যারা ঈমান আনে ও ভাল কাজ করে তাদের সাথে আল্লাহ ওয়াদা করেছেন যে, তিনি তাদেরকে যমীনে খলীফা বানিয়ে দিবেন।" (২৪:৫৫)মহান আল্লাহ বলেনঃ সব কাজের পরিণাম আল্লাহরই ইখতিয়ারে। খোদাভীরু লোকদের পরিণাম ভাল হবে। তাদের প্রত্যেক পুণ্যের বিনিময় তাঁর কাছেই রয়েছে।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

তারা [১] এমন লোক যাদেরকে আমরা যমীনের বুকে প্রতিষ্ঠিত করলে সালাত কায়েম করবে [২], যাকাত দেবে এবং সৎকাজের নির্দেশ দেবে ও অসৎকাজে নিষেধ করবে; আর সব কাজের চুড়ান্ত পরিণতি আল্লাহ্‌র ইখতিয়ারে।

[১] এই আয়াতে তাদেরই বিশেষণ উল্লেখ করা হয়েছে, যাদেরকে তাদের ভিটেমাটি থেকে বিনা কারণে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এজন্যেই আবুল আলীয়া বলেন, এখানে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের কথা বলা হয়েছে। [ইবন কাসীর] হাসান বসরী বলেন, তারা হচ্ছে এ উম্মতের সে সমস্ত লোক, যারা কোন জায়গা জয় করলে সেখানে সালাত কায়েম করে। ইবন আবী নাজীহ বলেন, এখানে শাসকদের উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে। দাহহাক বলেন, এটা এমন এক শর্ত যা আল্লাহ্‌ তা'আলা যাদেরকে রাষ্ট্র ক্ষমতা প্ৰদান করেছেন তাদের উপর আরোপ করেছেন। [কুরতুবী] উমর ইবন আবদুল আযীয বলেন, এটি শুধু গভর্ণরের দায়িত্ব নয়, এটা গভর্ণর ও যাদের উপর তাকে গভর্ণর বানানো হয়েছে তাদের সবার দায়িত্ব। আমি কি তোমাদেরকে গভর্ণরের উপর কি দায়িত্ব আর গভর্ণরের জন্য তোমাদের উপর কি দায়িত্ব সেটা জানিয়ে দেব না? গভর্ণরের দায়িত্ব হচ্ছে, তোমাদের উপর আল্লাহ্‌র হকের ব্যাপারে তোমাদেরকে পাকড়াও করা। আর তোমাদের কারও দ্বারা অপর কারও আক্রান্ত হলে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে তার হক আদায় করা। আর যতটুকু সম্ভব তোমাদেরকে সহজ সরল সঠিক পথে পরিচালিত করা। আর তোমাদের উপর ওয়াজিব হচ্ছে, আনুগত্য করা। তবে জোর করে নয়। অনুরূপভাবে প্রকাশ্য কথার বিপরীতে গোপনে ভিন্ন কথা না বলা। [ইবন কাসীর] আতিয়্যাহ আল-আওফী বলেন, এ আয়াতটি অন্য একটি আয়াতের মত। যেখানে বলা হয়েছে, “তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে আল্লাহ্‌ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে যমীনে প্রতিনিধিত্ব দান করবেন, যেমন তিনি প্রতিনিধিত্ব দান করেছেন তাদের পূর্ববতীদেরকে”। [সূরা আন-নূরঃ ৫৫]

আয়াতে বলা হয়েছে যে, আমি তাদেরকে যমীনে প্রতিষ্ঠিত করলে তারা তাদের ক্ষমতাকে সালাত কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, সৎকর্মের আদেশ ও অসৎকর্মে নিষেধের কাজে প্রয়োগ করবে। এই আয়াত মদীনায় হিজরতের অব্যবহিত পরে তখন নাযিল হয়, যখন মুসলিমদের কোথাও পূর্ণ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিল না। কিন্তু আল্লাহ্‌ তা'আলা তাদের সম্পর্কে পূর্বেই বলে দিলেন যে, তারা ক্ষমতা লাভ করলে তা দ্বীনের উল্লেখিত গুরুত্বপূর্ণ কার্য সম্পাদনে ব্যয় করবে। এ কারণেই ওসমান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেনঃ ثَنَاءٌ قَبْلَ بَلاَء অর্থাৎ আল্লাহ্‌ তা'আলার এই এরশাদ কর্ম অস্তিত্ব লাভ করার পূর্বেই কর্মীদের গুণ ও প্রশংসা করার শামিল। [আত-তাহরীর ওয়াত তানওয়ীর] এরপর আল্লাহ্‌ তা'আলার এই নিশ্চিত সুসংবাদ দুনিয়াতে বাস্তব রূপ লাভ করেছে। চারজন খোলাফায়ে রাশেদীন এ আয়াতের বিশুদ্ধ প্রতিচ্ছবি ছিলেন। [কুরতুবী] আল্লাহ্‌ তা’আলা তাদেরকেই ক্ষমতা দান করলেন এবং কুরআনের ভবিষ্যদ্বাণীর অনুরূপ তাদের কর্ম ও কীর্তি বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিয়েছেন যে, তারা তাদের ক্ষমতা এ কাজেই ব্যয় করেন। তারা সালাত প্রতিষ্ঠিত করেন, যাকাতের ব্যবস্থা সুদৃঢ় করেন, সৎকাজের প্রবর্তন করেন এবং মন্দ কাজের পথ রুদ্ধ করেন।

[২] সালাত কায়েম করার অর্থ হলোঃ সময়মত, সালাতের সীমারেখা, আরকান ও আহকামসহ জামা‘আতের সাথে আদায় করা।