Al-Hajj
আল-হাজ্জ: 67
আরবি
لِّكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنسَكًا هُمْ نَاسِكُوهُ ۖ فَلَا يُنَـٰزِعُنَّكَ فِى ٱلْأَمْرِ ۚ وَٱدْعُ إِلَىٰ رَبِّكَ ۖ إِنَّكَ لَعَلَىٰ هُدًى مُّسْتَقِيمٍ
English Translations
For every [religious] community We have appointed rites which they perform. So, [O Muḥammad], let them [i.e., the disbelievers] not contend with you over the matter but invite [them] to your Lord. Indeed, you are upon straight guidance.
For every nation We have ordained religious ceremonies [e.g. slaughtering of the beast of cattle during the three days of stay at Mina (Makkah) during the Hajj (pilgrimage)] which they must follow; so let them (pagans) not dispute with you on the matter (i.e. to eat of the cattle which you slaughter, and not to eat of cattle which Allah kills by its natural death), but invite them to your Lord. Verily! You (O Muhammad SAW) indeed are on the (true) straight guidance. (i.e. the true religion of Islamic Monotheism).
For every Ummah (religious community) We have appointed a way of worship they are to observe. Therefore, they should never quarrel with you in the matter. And do call (them) to your Lord. Surely, you are on straight Guidance.
For every people We have prescribed a way of worship which they follow. So, (O Muhammad), let them not dispute with you concerning this, and call them to Your Lord. You are certainly on the Straight Way.
Unto each nation have We given sacred rites which they are to perform; so let them not dispute with thee of the matter, but summon thou unto thy Lord. Lo! thou indeed followest right guidance.
To every People have We appointed rites and ceremonies which they must follow: let them not then dispute with thee on the matter, but do thou invite (them) to thy Lord: for thou art assuredly on the Right Way.
বাংলা অনুবাদ
প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য আমি (‘ইবাদাতের) নিয়ম-কানুন নির্ধারণ করে দিয়েছি যা তারা অনুসরণ করে। কাজেই তারা যেন এ বিষয়ে তোমার সঙ্গে তর্ক বিতর্ক না করে। তুমি (তাদেরকে) তোমার প্রতিপালকের দিকে ডাক, তুমি অবশ্যই সরল সঠিক পথে আছ।
আমি প্রত্যেক জাতির জন্য ইবাদাতের নিয়ম-কানুন নির্ধারণ করে দিয়েছি, তারা যার অনুসরণকারী। সুতরাং তারা যেন তোমার সাথে এ ব্যাপারে কোন বিতর্ক করতে না পারে। আর তুমি তোমার রবের দিকে আহবান কর। নিশ্চয় তুমি সরল পথেই রয়েছ।
আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছি ইবাদাত-পদ্ধতি যা তারা অনুসরণ করবে। সুতরাং তারা যেন তোমার সাথে এ ব্যাপারে বিতর্ক না করে। তুমি তাদেরকে তোমার রবের দিকে আহবান কর, তুমিতো সরল পথেই প্রতিষ্ঠিত।
আমরা প্রত্যেক উম্মতের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছি ‘মানসাক’ (ইবাদাত পদ্ধতি) যা তারা পালন করে। কাজেই তারা যেন এ ব্যাপারে আপনার সাথে বিতর্ক না করে। আর আপনি আপনার রবের দিকে ডাকুন, আপনি তো সরল পথেই প্রতিষ্ঠিত।
আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছি ইবাদত পদ্ধতি যা তারা অনুসরণ করে। সুতরাং তারা যেন এ ব্যাপারে তোমার সাথে বিতর্ক না করে। তুমি তাদেরকে তোমার প্রতিপালকের দিকে আহ্বান কর, তুমি অবশ্যই সরল পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
৬৭. প্রত্যেক ধর্মপন্থীর জন্যই আমি একটি শরীয়ত নির্ধারণ করেছি। তারা স্বভাবতঃ নিজেদের শরীয়ত অনুযায়ী চলে। তাই হে রাসূল! আপনার শরীয়তকে নিয়ে যেন মুশরিক ও অন্যান্য ধর্মবলম্বীরা আপনার সাথে ঝগড়া না করে। কারণ, আপনি হলেন তাদের চেয়েও সর্বাধিক সত্যপন্থী। যেহেতু তারা বাতিলপন্থী। তাই আপনি মানুষদেরকে খাঁটি তাওহীদের দিকে ডাকুন। নিশ্চয়ই আপনি এমন এক সরল পথের উপর রয়েছেন যাতে কোন ধরনের বক্রতা নেই।
তাফসীর
৬৭-৬৯ নং আয়াতের তাফসীর: প্রকৃতপক্ষে আরবী ভাষায় (আরবী) এর শাব্দিক অর্থ হলো ঐ স্থান যেখানে মানুষ যাতায়াত করার অভ্যাস করে নেয়। হজ্জের আহকাম পালন করাকে এ জন্যেই (আরবী) বলা হয় যে, মানুষ বার বার সেখানে গমন করে এবং অবস্থান করে।বর্ণিত আছে যে, এখানে ভাবার্থ হলোঃ আমি প্রত্যেক নবীর উম্মতের জন্যে শরীয়ত নির্ধারণ করেছি। এই ব্যাপারে তারা যেন বিতর্কে লিপ্ত না হয়’ এর দ্বারা মুশরিকদেরকে বুঝানো হয়েছে। যদিও প্রত্যেক উম্মতের তাদের শক্তি হিসেবে তাদের কার্যাবলী নির্ধারণ করা। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “প্রত্যেকের জন্যে একটা দিক রয়েছে যে দিকে সে মুখ করে থাকে। এখানেও রয়েছেঃ “আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্যে ইবাদত পদ্ধতি নির্ধারিত করে দিয়েছি যা তারা অনুসরণ করে। তাহলে, (আরবী) বা সর্বনামের পুনরাবৃত্তিও তাদের উপরই হবে। অর্থাৎ এগুলি তারা আল্লাহর নির্ধারণ ও ইচ্ছানুযায়ী পালন করে থাকে। সুতরাং হে নবী (সঃ)! তাদের বিতর্কের কারণে তুমি মন খারাপ করে সত্য হতে সরে পড়ে না বরং তাদেরকে তুমি তোমার প্রতিপালকের দিকে আহ্বান করতে থাকো। তুমি তো সরল পথেই প্রতিষ্ঠিত। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “এইলোকগুলি যেন তোমার উপর আল্লাহর আয়াতসমূহ অবতীর্ণ হওয়ার পর তোমাকে তা (প্রচার করা) হতে বিরত না রাখে, তুমি তোমার প্রতিপালকের দিকে আহ্বান করতে থাকো।" (২৮:৮৭) তারা যদি তোমার সাথে বিতণ্ডা করে তবে তাদেরকে বলে দাওঃ তোমরা যা কর সে সম্বন্ধে আল্লাহ সম্যক অবহিত। যেমন আল্লাহ তাআলা কয়েক জায়গায় এই বিষয়ের পুনরাবৃত্তি করেছেন। এক জায়গায় রয়েছেঃ “যদি তারা তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তবে তাদেরকে বলে দাওঃ আমার আমল আমার জন্যে এবং তোমাদের অমল তোমাদের জন্যে, আমি যে আমল করছি তা হতে তোমরা দায়িত্ব মুক্ত এবং তোমরা যে আমূল করছে তা হতে আমিও দায়িত্ব মুক্ত।” সুতরাং এখানেও তাদেরকে ধমকের সুরে বলা হচ্ছেঃ তোমরা যা কর সে সম্বন্ধে আল্লাহ সম্যক অবহিত। তোমাদের ক্ষুদ্র হতে ক্ষুদ্রতম কাজও তার দৃষ্টি এড়ায় না তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হওয়ার জন্যে তিনিই যথেষ্ট।ঘোষিত হচ্ছেঃ তোমরা যে বিষয়ে মতভেদ করছো আল্লাহ কিয়ামতের দিন সে বিষয়ে তোমাদের মধ্যে বিচার মীমাংসা করে দিবেন। ঐ সময় সমস্ত মতভেদ মিটে যাবে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “তুমি এরই দাওয়াত দিতে থাকে এবং আমার হুকুমের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকো, তুমি তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না এবং স্পষ্টভাবে ঘোষণা করে দাওঃ আমার উপর আল্লাহ যে কিতাব অবতীর্ণ করেছেন আমি তার উপর ঈমান এনেছি (শেষ পর্যন্ত)।”
আমরা প্রত্যেক উম্মতের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছি ‘মানসাক’ [১] (ইবাদাত পদ্ধতি) যা তারা পালন করে। কাজেই তারা যেন এ ব্যাপারে আপনার সাথে বিতর্ক না করে। আর আপনি আপনার রব-এর দিকে ডাকুন, আপনি তো সরল পথেই প্রতিষ্ঠিত।
[১] আয়াতের منسك শব্দটি مصدر ধরে অর্থ করা হবে, শরী‘আত। [কুরতুবী] অর্থাৎ প্রত্যেক নবীর উম্মতের জন্যই আল্লাহ্ তা’আলা সুনির্দিষ্ট শরী‘আত ও ইবাদাত পদ্ধতি নির্ধারণ করেছেন। তারা সে অনুসারে ইবাদাত করবে। যদিও তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে পার্থক্য ছিল। কিন্তু মূল আদল, হিকমতে কোন পার্থক্য ছিল না। [সা‘দী] সে সব উম্মত তাদের কাছে যে শরী‘আত এসেছে, সেটা অনুসারে আমল করে। সুতরাং তাওরাত ছিল ইবাদাত ও শরী‘আতের পদ্ধতি, কিন্তু তা ছিল মূসা আলাইহিস সালামের সময় হতে ঈসা আলাইহিস সালামের সময় পর্যন্ত। আর ইঞ্জীল ছিল ইবাদাত ও শরী‘আতের পদ্ধতি, তবে তা ছিল ঈসা আলাইহিস সালামের সময় হতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময় পর্যন্ত। সে ধারাবাহিকতায় মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের জন্যও আল্লাহ্ তা’আলা ইবাদাত ও হজ্জের নিয়মাবলী বিধিবদ্ধ করেছেন। সুতরাং তাদেরকে তা মেনে চলতে হবে। [ফাতহুল কাদীর]
অথবা আয়াতের منسك শব্দটি اسم ظرف বা স্থান নির্দেশক বিশেষ্য। তখন এর অর্থ হবে نسك এর স্থান। হজের স্থান, বা ইবাদাতের স্থান। [ফাতহুল কাদীর] কেননা, অভিধানে نسك এর অর্থ এমন নির্দিষ্ট স্থান, যা কোন বিশেষ ভাল অথবা মন্দ কাজের জন্য নির্ধারিত থাকে। এ কারণেই হজ্জের বিধি-বিধানকে مناسك الحغ বলা হয়। কেননা, এগুলোতে বিশেষ বিশেষ স্থান বিশেষ বিশেষ কাজের জন্য নির্ধারিত আছে। [ইবন কাসীর] সে হিসেবে আয়াতের অর্থ হবে, প্রতিটি উম্মতের জন্যই আমরা শরী‘আত হিসেবে ইবাদতের জন্য একটি স্থান নির্ধারণ করেছি। তারা সেখানে একত্রিত হবে। তাই কাফেররা যেন আপনার সাথে এ ব্যাপারে ঝগড়া না করে। অথবা আয়াতের অর্থ, প্রতিটি উম্মতই একটি স্থানকে তাদের জন্য নির্ধারণ করে নিয়েছে। আর আল্লাহ্ প্রকৃতিগতভাবে তাদের সেটা করতে দেন। (শরী‘আতগতভাবে সেগুলো আল্লাহ্র পক্ষ থেকে অনুমোদিত নয়) তারা সেটা করবেই। সুতরাং আপনি তাদের সে সমস্ত কর্মকাণ্ড নিয়ে তাদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হবেন না। তাদের সাথে এ সমস্ত বাতিল বিষয় নিয়ে তর্ক করে আপনি আপনার কাছে যে হক এসেছে সেটাকে ছেড়ে দিবেন না। আর এজন্যই আয়াতের পরবর্তী অংশে বলা হয়েছে, “আপনি তাদেরকে আপনার রব-এর দিকে ডাকুন, আপনি তো সরল পথেই প্রতিষ্ঠিত।” অৰ্থাৎ আপনার বিরোধীরাই পথচ্যুত। আপনি স্পষ্ট সরল-সোজা পথে আছেন যা আপনাকে মনজিলে মাকসূদে পোঁছে দিবে। [ইবন কাসীর]
অথবা আয়াতে منسك অর্থ যবেহ করার বিধি-বিধান বা জন্তুর গোশত খাওয়ার পদ্ধতি। [ফাতহুল কাদীর] সে হিসেবে আয়াতে কাফেরদের কোন সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে। কোন কোন কাফের মুসলিমদের সাথে তাদের যবেহ করা জন্তু সম্পর্কে অনর্থক তর্ক-বিতর্ক করত। তারা বলত: তোমাদের দ্বীনের এই বিধান আশ্চর্যজনক যে, যে জন্তুকে তোমরা স্বহস্তে হত্যা কর, তা তো হালাল এবং যে জন্তুকে আল্লাহ্ তা'আলা সরাসরি মৃত্যু দান করেন অর্থাৎ সাধারণ মৃত জন্তু তা হারাম। তাদের এই বিতর্কের জবাবে আলোচ্য আয়াত নাযিল হয়। [কুরতুবী] অতএব, এখানে منسك এর অর্থ হবে যবেহ করার নিয়ম। জবাবের সারমর্ম এই যে, মৃতজন্তু হালাল নয়, এটা এই উম্মত ও শরী‘আতেরই বৈশিষ্ট্য নয়; পূর্ববর্তী শরীআতসমূহেও তা হারাম ছিল। সুতরাং তোমাদের এই উক্তি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এই ভিত্তিহীন কথার উপর ভিত্তি করে নবীগণের সাথে বিতর্কে প্রবৃত্ত হওয়া একেবারেই নির্বুদ্ধিতা।
