Al-Hajj

আল-হাজ্জ: 61

22:61
22 আল-হাজ্জ Al-Hajj · 78 আয়াত الحج

আরবি

ذَٰلِكَ بِأَنَّ ٱللَّهَ يُولِجُ ٱلَّيْلَ فِى ٱلنَّهَارِ وَيُولِجُ ٱلنَّهَارَ فِى ٱلَّيْلِ وَأَنَّ ٱللَّهَ سَمِيعٌۢ بَصِيرٌ

English Translations

Sahih International

That is because Allāh causes the night to enter the day and causes the day to enter the night and because Allāh is Hearing and Seeing.

Muhsin Khan

That is because Allah merges the night into the day, and He merges the day into the night. And verily, Allah is All-Hearer, All-Seer.

Taqi Usmani

That is because Allah makes night enter into the day and makes day enter into the night and that Allah is All-Hearing, All-Seeing.

Abul Ala Maududi

So shall it be because it is Allah Who causes the night to emerge out of the day and causes the day to emerge out of the night and Allah is All-Hearing, All-Seeing.

Pickthall

That is because Allah maketh the night to pass into the day and maketh the day to pass into the night, and because Allah is Hearer, Seer.

Yusuf Ali

That is because Allah merges night into day, and He merges day into night, and verily it is Allah Who hears and sees (all things).

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

এটা এজন্য যে, আল্লাহ রাতকে ঢুকিয়ে দেন দিনে, আর দিনকে ঢুকিয়ে দেন রাতে (দুঃখ বেদনার অন্ধকার দূর করে আনন্দের আলো এনে দেন আর আনন্দিত জনকে দুঃখের অাঁধারে ডুবিয়ে দেন)। আর আল্লাহ তো সব কিছু শোনেন, সব কিছু দেখেন।

রাওয়াই আল-বায়ান

এটা এজন্য যে, নিশ্চয় আল্লাহ রাতকে দিনের মধ্যে প্রবেশ করান এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করান। আর নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সম্যক দ্রষ্টা।

শাইখ মুজিবুর রহমান

ওটা এ জন্য যে, আল্লাহ রাতকে প্রবিষ্ট করেন দিনের মধ্যে এবং দিনকে প্রবিষ্ট করেন রাতের মধ্যে এবং আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সম্যক দ্রষ্টা।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

এটা এ জন্যে যে, নিশ্চয় আল্লাহ্‌ রাতকে প্রবেশ করান দিনের মধ্যে এবং দিনকে প্রবেশ করান রাতের মধ্যে। আর নিশ্চয় আল্লাহ্‌ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা;

ফাতহুল মাজীদ

এটা এ জন্য যে, আল্লাহ রাত্রিকে প্রবিষ্ট করান দিবসের মধ্যে এবং দিবসকে প্রবিষ্ট করান রাত্রির মধ্যে এবং আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সম্যক দ্রষ্টা;

মুখতাসার

৬১. অত্যাচারিতকে উক্ত সাহায্য করা তাঁরই আয়ত্বাধীন। কেননা, আল্লাহ তা‘আলা যাই চান তাই করতে সক্ষম। আর তাঁর কুদরতের একটি নমুনা হলো রাতকে দিনে এবং দিনকে রাতে প্রবেশ করানো অর্থাৎ একটিকে বাড়ানো এবং অন্যটিকে কমানো। আর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের সকল কথা শুনেন এবং তাদের সকল কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানেন। তাঁর নিকট এগুলোর কোন কিছুই গোপন নয়। তাই তিনি অচিরেই তাদেরকে এগুলোর প্রতিদান দিবেন।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

৬১-৬২ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তাআলা বলছেন যে, তিনিই সৃষ্টিকর্তা এবং তিনিই ব্যবস্থাপক। তার সৃষ্টির মধ্যে তিনি যা চান তাই করেন। যেমন তিনি বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “বলঃ হে সার্বভৌমশক্তির মালিক আল্লাহ! আপনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা প্রদান করেন এবং যার নিকট হতে ইচ্ছা ক্ষমতা কেড়ে নেন; যাকে ইচ্ছা। পরাক্রমশালী করেন, আর যাকে ইচ্ছাহীন করেন; কল্যাণ আপনারই হাতেই। আপনি সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান। আপনিই রাত্রিকে দিবসে পরিণত করেন এবং দিবসকে রাত্রিতে পরিণত করেন; আপনিই মৃত হতে জীবন্তের আবির্ভাব ঘটান; আবার জীবন্ত হতে মৃতের আবির্ভাব ঘটান। আপনি যাকে ইচ্ছা অপরিমিত জীবনোপকরণ দান করে থাকেন।” (৩:২৬) কখনো দিন বড় ও রাত্রি ছোট হয়, আবার কখনো রাত্রি বড় হয় ও দিন ছোট হয়। যেমন গ্রীষ্মকালে ও শীতকালে হয়ে থাকে। আল্লাহ তা'আলা বান্দার সমস্ত কথা শুনে থাকেন। কোন অবস্থাই তাঁর কাছে গুপ্ত থাকে না তার উপর কোন শাসন কর্তা নেই। তাঁর সামনে কারো মুখ খোলার শক্তি নেই।তিনি প্রকৃত মাবুদ। ইবাদতের যোগ্য তিনিই। তিনিই তো সমুচ্চ, মহান। তিনি যা চান তাই হয় এবং যা চান না তা হওয়া সন্ত্র নয়। সমস্ত মানুষ তার সামনে তাঁর মুখাপেক্ষী। সবাই তাঁর সামনে অপারগ ও অক্ষম। তাকে ছাড়া মানুষ যাদের পূজা-পার্বন করে থাকে ওরা সম্পূর্ণ শক্তিহীন। লাভ ও ক্ষতি কিছু করারই ক্ষমতা ওদের নেই। সবাই মহান আল্লাহর অধীনস্থ। সবাই এঁর হুকুমের বাধ্য। তিনি ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই। তিনি ছাড়া কোন প্রতিপালকও নেই। তার চেয়ে বড় কেউই নেই। কেউ তার উপর বিজয়ী হতে পারে না। তিনি পবিত্রতা, মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। যালিমরা তার সম্পর্কে যা কিছু মন্তব্য করে তা থেকে তিনি সম্পূর্ণরূপে পবিত্র। তিনি সমস্ত সৎ গুণের অধিকারী এবং অসৎ ও অনিষ্ট হতে তিনি বহু দূরে রয়েছেন।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

এটা এ জন্যে যে, নিশ্চয় আল্লাহ্‌ রাতকে প্রবেশ করান দিনের মধ্যে এবং দিনকে প্রবেশ করান রাতের মধ্যে [১]। আর নিশ্চয় আল্লাহ্‌ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা [২];

[১] অর্থাৎ তিনিই সমগ্ৰ বিশ্ব ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক এবং দিন রাত্রির আবর্তন তাঁরই কর্তৃত্বাধীন। তিনি রাতের এক অংশে দিনের প্রবেশ ঘটান, আবার দিনের একাংশে রাত প্রবেশ করান। তাই কখনও দিন বড় হয়, আবার কখনও রাত বড় হয়। [ইবন কাসীর] এই বাহ্যিক অর্থের সাথে সাথে এ বাক্যের মধ্যে এদিকেও একটি সূক্ষ্ম ইংগিত রয়েছে যে, রাতের অন্ধকার থেকে যে আল্লাহ্‌ দিনের আলো বের করে আনেন এবং উজ্জ্বল দিনের উপর যিনি রাতের অন্ধকার জড়িয়ে দেন তাঁরই এমন ক্ষমতা আছে যার ফলে আজ যাদের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব রয়েছে তাদের দ্রুত দুনিয়াবাসী দেখতে পাবে এবং কুফর ও জাহেলিয়াতের অন্ধকার তাঁর হুকুমে সরে যাবে এবং এ সংগে সেদিনের উদয় হবে যেদিন সত্য, সততা ও জ্ঞানের আলোকে সারা দুনিয়া আলোকিত হয়ে উঠবে। মুমিনরা বিজয় লাভ করবে। [দেখুন, আত-তাহরীর ওয়াত তানওয়ীর]

[২] এ আয়াতে মহান আল্লাহ্‌র দু’টি মহান গুণ বর্ণিত হয়েছে। বলা হয়েছে তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্ৰষ্টা। অর্থাৎ তিনি অন্ধ ও বধির আল্লাহ্‌ নন বরং এমন আল্লাহ্‌ যিনি দেখতে ও শুনতে পান। বান্দাদের যাবতীয় অবস্থা, কার্যক্রম ও উঠাবসা তাঁর কাছে গোপন নেই। [ইবন কাসীর] সুতরাং কে তার কাছে সাহায্য চাচ্ছে এবং কার সাহায্য করা দরকার এটা তিনি সম্যক অবগত। আর তিনি তাকে সেভাবে সময়মত ঠিকই সাহায্য-সহযোগিতা করবেন।