Al-Hajj

আল-হাজ্জ: 55

22:55
22 আল-হাজ্জ Al-Hajj · 78 আয়াত الحج

আরবি

وَلَا يَزَالُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ فِى مِرْيَةٍ مِّنْهُ حَتَّىٰ تَأْتِيَهُمُ ٱلسَّاعَةُ بَغْتَةً أَوْ يَأْتِيَهُمْ عَذَابُ يَوْمٍ عَقِيمٍ

English Translations

Sahih International

But those who disbelieve will not cease to be in doubt of it until the Hour comes upon them unexpectedly or there comes to them the punishment of a barren Day.

Muhsin Khan

And those who disbelieve will not cease to be in doubt about it (this Quran) until the Hour comes suddenly upon them, or there comes to them the torment of the Day after which there will be no night (i.e. the Day of Resurrection).

Taqi Usmani

Those who disbelieve will remain in doubt about it (the Qur’ān) forever, until the Hour (of Judgment) comes upon them suddenly, or there comes to them the punishment of a barren day.

Abul Ala Maududi

The unbelievers will not cease to be in doubt about it until the Hour suddenly comes upon them, or the chastisement of an ominous day overtakes them.

Pickthall

And those who disbelieve will not cease to be in doubt thereof until the Hour come upon them unawares, or there come unto them the doom of a disastrous day.

Yusuf Ali

Those who reject Faith will not cease to be in doubt concerning (Revelation) until the Hour (of Judgment) comes suddenly upon them, or there comes to them the Penalty of a Day of Disaster.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

অবিশ্বাসীরা তাতে (অর্থাৎ ওয়াহীতে) সন্দেহ পোষণ করা থেকে বিরত হবে না যতক্ষণ না কিয়ামাত আসবে হঠাৎ ক’রে অথবা তাদের উপর শাস্তি এসে যাবে এক বন্ধ্যা দিনে (যা কাফিরদেরকে কোন সুফল দিবে না)।

রাওয়াই আল-বায়ান

আর যারা কুফরী করে, তারা এতে সন্দেহ পোষণ করতে থাকবে যতক্ষণ না তাদের নিকট আকস্মিকভাবে কিয়ামত এসে পড়বে অথবা তাদের নিকট এসে পড়বে এক বন্ধ্যা দিনের আযাব।

শাইখ মুজিবুর রহমান

যারা কুফরী করেছে তারা ওতে সন্দেহ পোষণ করা হতে বিরত হবেনা, যতক্ষণ না তাদের নিকট কিয়ামাত এসে পড়বে আকস্মিকভাবে, অথবা এসে পড়বে ঐ দিনের শাস্তি যা থেকে রক্ষার উপায় নেই।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আর যারা কুফরী করেছে, তারা তাতে সন্দেহ পোষণ থেকে বিরত হবে না, যতক্ষণ না তাদের কাছে কেয়ামত এসে পরবে হঠাৎ করে অথবা এসে পরবে এক বন্ধ্যা দিনের শাস্তি।

ফাতহুল মাজীদ

যারা কুফরী করেছে তারা তাতে সন্দেহ পোষণ করা হতে বিরত হবে না, যতক্ষণ না তাদের নিকট ক্বিয়ামাত এসে পড়বে আকস্মিকভাবে, অথবা এসে পড়বে এক বন্ধ্যা দিনের শাস্তি‎।

মুখতাসার

৫৫. এদিকে যারা আল্লাহর সাথে কুফরি ও রাসূলকে অস্বীকার করেছে তারা সর্বদা আপনার প্রতি নাযিলকৃত কুর‘আনের ব্যাপারে সন্দিহান রয়েছে যতক্ষণ না কিয়ামত হঠাৎ তাদের উপর এসে পড়ে; অথচ তারা এর উপরই রয়েছে অথবা তাদের উপর আযাব নেমে আসে যেদিন তাদের জন্য কোন রহমত ও কল্যাণ থাকবে না। এটি মূলতঃ তাদের জন্য কিয়ামতের দিন।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

৫৫-৫৭ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তাআলা কাফিরদের সম্পর্কে খবর দিচ্ছেন যে, আল্লাহর ওয়াহী অর্থাৎ কুরআনকারীমের ব্যাপারে তাদের যে সন্দেহ রয়েছে তা তাদের অন্তর থেকে কখনো দূর হবে না। শয়তান কিয়ামত পর্যন্ত তাদের এই সন্দেহ দূর হতে দেবে না। কিয়ামত এবং ওর শাস্তি তাদের উপর আকস্মিকভাবে চলে আসবে। তারা কিছু টেরই পাবে না। এখন যে মহান আল্লাহ তাদেরকে অবকাশ দিয়ে রেখেছেন এতে তারা গর্বিত হয়ে গেছে। যে কওমেরই উপর আল্লাহর শাস্তি এসেছে তা এই অবস্থাতেই এসেছে যে, তারা তা থেকে নির্ভয় ও বেপরোয়া হয়ে গিয়েছিল। আল্লাহর শাস্তি হতে উদাসীন শুধু তারাই থাকে যারা পুরোপুরিভাবে পাপাচার এবং প্রকাশ্যভাবে অপরাধী। তাদের উপর এমন দিনের শাস্তি আসবে যেই দিন তাদের জন্যে কোন মঙ্গল নেই। ঐ দিন তাদের জন্যে অকল্যাণকর সাব্যস্ত হবে। কারো কারো উক্তি এই যে, এই দিন দ্বারা বদরের দিনকে বুঝানো হয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন যে, এর দ্বারা কিয়ামতের দিন উদ্দেশ্য। এটাই সঠিক উক্তি, যদিও বদরের দিনটাও মুশরিকদের জন্যে শাস্তির দিনই ছিল।মহান আল্লাহ বলেনঃ সেই দিন হবে আল্লাহরই আধিপত্য। যেমন অন্য আয়াতে আছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “তিনি কর্মফল দিবসের মালিক।" আরেক জায়গায় রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “সেই দিন প্রকৃত কর্তৃত্ব হবে দয়াময়ের এবং কাফিরদের জন্যে সেইদিন হবে কঠিন।” (২৫:২৬)তিনিই তাদের বিচার করবেন। সুতরাং যাদের অন্তরে আল্লাহর প্রতি ঈমান ও রাসূলের (সঃ) প্রতি বিশ্বাস থাকবে এবং ঈমান্ত্রে মোতাবেক যাদের আমল হবে, যাদের অন্তর ও আমলের মধ্যে সাদৃশ্য থাকবে এবং যাদের মুখের কথার সাথে মনের মিল থাকবে তারা হবে সুখময় জান্নাতের অধিকারী। ঐ নিয়ামত কখনো শেষ হবার নয়, কম হবার নয় এবং নষ্ট হাবারও নয়।পক্ষান্তরে যারা কুফরী করে ও আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বী করে, যাদের মুখের কথার সাথে অন্তরের মিল নেই, যারা সত্যের অনুসরণে অহকার করে, তাদের জন্যে রয়েছে অপমানজনক শাস্তি। যেমন মহান মহিমান্বিত অল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যারা আমার ইবাদতে অহংকার করে তারা সত্বরই লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে।" (৪০:৬০)

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আর যারা কুফরী করেছে, তারা তাতে সন্দেহ পোষণ থেকে বিরত হবে না, যতক্ষণ না তাদের কাছে কেয়ামত এসে পরবে হঠাৎ করে, অথবা এসে পরবে এক বন্ধ্যা দিনের শাস্তি [১]।

[১] মূলে আছে عقيم শব্দ। এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে “বন্ধ্যা”। [ফাতহুল কাদীর] দিনকে বন্ধ্যা বলার দু’টি অর্থ হতে পারে। যদি দুনিয়ার দিন উদ্দেশ্য হয়, তখন অর্থ হবে, আযাব ও শাস্তি নাযিলের দিন। যা এমন ভাগ্য বিড়ম্বিত দিন তাতে কোনরকম কলাকৌশল কার্যকর হয় না। কোন কল্যাণ ও দয়া অবশিষ্ট থাকে না। প্ৰত্যেকটা প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। প্রত্যেকটা আশা নিরাশায় পরিণত হয়। যেমন, বদরের দিন। [ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর] এ দিনটি প্রতি উম্মতের জন্যই এসেছিল। যেদিন নূহের জাতির উপর তুফান এলো সেদিনটি তাদের জন্য ছিল ‘বন্ধ্যা’ দিন। এমনিভাবে আদ, সামুদ, লূতের জাতি, মাদইয়ানবাসী ও অন্যান্য সকল ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতির জন্য আল্লাহ্‌র আযাব নাযিলের দিনটি বন্ধ্যা দিনই প্রমাণিত হয়েছে। কারণ, “সেদিনের” পরে আর তার “পরের দিন” দেখা যায়নি এবং নিজেদের বিপর্যস্ত ভাগ্যকে সৌভাগ্যে রূপান্তরিত করার কোন পথই খুঁজে পাওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। রহমত ও দয়ার দেখা তারা আর পায় নি। সুতরাং দুনিয়াতে এ আযাব ও যুদ্ধের দিনগুলো হচ্ছে বন্ধ্যা দিন। অথবা এখানে বন্ধ্যা দিন বলে কিয়ামতের দিনকে বুঝানো হয়েছে। কারণ সেটা এমন দিন যার পরে আর কোন রাত নেই। [কুরতুবী; ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর; সা‘দী] সেদিন যখন আসবে তখন কাফেররা জানতে পারবে যে, তারা মিথ্যাবাদী ছিল। আর তারা অনুশোচনা করবে, কিন্তু তাদের সে অনুশোচনা কোন কাজে আসবে না। তারা যাবতীয় কল্যাণ হতেই নিরাশ ও হতাশ হয়ে যাবে। তখন আশা করবে, যদি তারা রাসুলের উপর ঈমান আনত এবং তার পথে চলত। সুতরাং এ আয়াতে তাদের মিথ্যা পথ ও বানোয়াট রাস্তায় স্থির থাকার ব্যাপারে সাবধান করা হয়েছে। [সা‘দী]