Al-Anfal

আল-আনফাল: 19

8:19
8 আল-আনফাল Al-Anfal · 75 আয়াত الأنفال

আরবি

إِن تَسْتَفْتِحُوا۟ فَقَدْ جَآءَكُمُ ٱلْفَتْحُ ۖ وَإِن تَنتَهُوا۟ فَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ ۖ وَإِن تَعُودُوا۟ نَعُدْ وَلَن تُغْنِىَ عَنكُمْ فِئَتُكُمْ شَيْـًٔا وَلَوْ كَثُرَتْ وَأَنَّ ٱللَّهَ مَعَ ٱلْمُؤْمِنِينَ

English Translations

Sahih International

If you [disbelievers] seek the decision [i.e., victory] - the decision [i.e., defeat] has come to you. And if you desist [from hostilities], it is best for you; but if you return [to war], We will return, and never will you be availed by your [large] company at all, even if it should increase; and [that is] because Allāh is with the believers.

Muhsin Khan

(O disbelievers) if you ask for a judgement, now has the judgement come unto you and if you cease (to do wrong), it will be better for you, and if you return (to the attack), so shall We return, and your forces will be of no avail to you, however numerous it be, and verily, Allah is with the believers.

Taqi Usmani

(O unbelievers,) if you were looking for a decision, the ‘decision’ has come upon you. And if you give up, it is better for you. And if you repeat, We shall repeat. And your people shall not suffice you at all, even though they are many in number; and Allah is with the believers.

Abul Ala Maududi

(Tell the unbelievers:) 'If you have sought a judgement, then surely a judgement has come to you. And if you desist from disobedience, it is all the better for you. But if you revert to your mischief, We will again chastise you; and your host, howsoever numerous, will never be of any avail to you. Know well, Allah is with the believers.'

Pickthall

(O Qureysh!) If ye sought a judgment, now hath the judgment come unto you. And if ye cease (from persecuting the believers) it will be better for you, but if ye return (to the attack) We also shall return. And your host will avail you naught, however numerous it be, and (know) that Allah is with the believers (in His Guidance).

Yusuf Ali

(O Unbelievers!) if ye prayed for victory and judgment, now hath the judgment come to you: if ye desist (from wrong), it will be best for you: if ye return (to the attack), so shall We. Not the least good will your forces be to you even if they were multiplied: for verily Allah is with those who believe!

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

(ওহে কাফিরগণ!) তোমরা মীমাংসা চাচ্ছিলে, মীমাংসা তো তোমাদের কাছে এসে গেছে; আর যদি তোমরা (অন্যায় থেকে) বিরত হও, তবে তা তোমাদের জন্যই কল্যাণকর, তোমরা যদি আবার (অন্যায়) কর, আমিও আবার শাস্তি দিব, তোমাদের দল-বাহিনী সংখ্যায় অধিক হলেও তোমাদের কোন উপকারে আসবে না এবং আল্লাহ তো মু’মিনদের সঙ্গে আছেন।

রাওয়াই আল-বায়ান

যদি তোমরা বিজয় কামনা করে থাক, তাহলে তো তোমাদের নিকট বিজয় এসে গিয়েছে। আর যদি তোমরা বিরত হও, তাহলে সেটি তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর যদি তোমরা পুনরায় কর, তাহলে আমিও পুনরায় করব এবং তোমাদের দল কখনো তোমাদের কোন উপকারে আসবে না যদিও তা অধিক হয়। আর নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের সাথে আছেন।

শাইখ মুজিবুর রহমান

(হে কাফিরেরা!) তোমরাতো ফাইসালা চাচ্ছ, ফাইসালাতো তোমাদের সামনেই এসে গেছে। তোমরা যদি এখনও (মুসলিমদের অনিষ্ট করা হতে) বিরত থাক তাহলে তা তোমাদের পক্ষেই কল্যাণকর, আর যদি পুনরায় তোমরা এ কাজ কর তাহলে আমিও তোমাদেরকে পুনরায় শাস্তি দিব, আর তোমাদের বিরাট বাহিনী তোমাদের কোনই উপকারে আসবেনা। নিঃসন্দেহে আল্লাহ মু’মিনদের সাথে রয়েছেন।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

যদি তোমরা মীমাংসা চেয়ে থাক, তাহলে তা তো তোমাদের কাছে এসেছে; আর যদি তোমরা বিরত হও তবে তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর, কিন্তু যদি তোমরা আবার যুদ্ধ করতে আস তবে আমরাও আবার শাস্তি নিয়ে আসব। আর তোমাদের দল সংখ্যায় বেশী হলেও তোমাদের কোনো কাজে আসবে না। আর নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের সাথে আছেন।

ফাতহুল মাজীদ

তোমরা মীমাংসা চাইছিলে, তা তো তোমাদের নিকট এসেছে, যদি তোমরা বিরত হও তবে তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা পুনরায় কর তবে আমিও পুনরায় শাস্তি দেব এবং তোমাদের দল সংখ্যায় অধিক হলেও তোমাদের কোন কাজে আসবে না, এবং নিশ্চয় আল্লাহ মু’মিনদের সাথে রয়েছেন।

মুখতাসার

১৯. হে মুশরিকরা! তোমরা যদি চাও আল্লাহ তা‘আলা তাঁর শাস্তি ও আযাব যালিম ও হঠকারীদের উপর নিপতিত করুক তাহলে তিনি তো তোমাদের উপর তা নিপতিত করেছেন যা তোমরা চেয়েছো। তোমাদের উপর তিনি যা নাযিল করেছেন তা তোমাদের জন্য শাস্তি এবং মুত্তাকীদের জন্য শিক্ষণীয়। যদি তোমরা উক্ত বাসনা থেকে বিরত থাকতে তাহলে তা তোমাদের জন্য অনেক উত্তম হতো। কারণ, তিনি অধিকাংশ সময় তোমাদেরকে অবকাশ দিয়ে থাকেন; তোমাদের থেকে দ্রুত প্রতিশোধ নেন না। তোমরা যদি তা আবার তলব করো অথবা মু’মিনদের সাথে যুদ্ধ করো আমি আবার তোমাদের উপর আযাব নাযিল করবো এবং মু’মিনদেরকে সাহায্য করবো। জেনে রাখো, যদিও তোমরা সংখ্যা ও সরঞ্জামে বেশি এবং মু’মিনরা কম তবুও তোমাদের দল ও সাহায্যকারীরা কখনো তোমাদের কোন উপকারে আসবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা সাহায্য ও সহযোগিতা নিয়ে মু’মিনদের সাথেই রয়েছেন। বস্তুতঃ যার সাথে আল্লাহ রয়েছেন তাকে কেউ পরাজিত করতে পারে না।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

এখানে আল্লাহ তাআলা কাফিরদেরকে সম্বোধন করে বলছেনঃ তোমরা তো এটাই চাচ্ছিলে যে, আল্লাহ তাআলা যেন তোমাদের মধ্যে ও মুসলমানদের মধ্যে ফায়সালা করে দেন। সুতরাং তোমরা যা প্রার্থনা করছিলে তাই হয়েছে। আবু জেহেল বলেছিলঃ “হে আল্লাহ! যারা আমাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে এবং আমাদের সামনে এমন কথা পেশ করেছে যা আমাদের জানা নেই, আগামীকাল সকালে আপনি তাদেরকে লাঞ্ছিত করুন!” তখন (আরবী)-এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। (এটা ইমাম আহমাদ (রঃ), ইমাম নাসাঈ (রঃ) এবং ইমাম হাকিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন। এবং বলেছেন যে, ইমাম বুখারী (রঃ) ও ইমাম মুসলিম (রঃ) -এর শর্তের উপর এটা সহীহ। তারা দুজন এটাকে তাখরীজ করেননি) সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, মুশরিকরা বদর যুদ্ধের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার প্রাক্কালে কাবা ঘরের গেলাফ ধরে প্রার্থনা করে- “হে আল্লাহ! এই দুই দলের মধ্যে (মুসলিম দল ও কাফির দল) যে দলটি আপনার নিকট উত্তম এবং যে দলের কিবলা হচ্ছে উত্তম কিবলা, সেই দলকে আপনি সাহায্য করুন!” তাই, আল্লাহ পাক বলেনঃ “তোমরা যা বলেছিলে আমি তাই করেছি। আমি মুহাম্মাদ (সঃ)-এর দলকে সাহায্য করেছি। এটাই আমার কাছে উত্তম দল।” অতঃপর মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ যদি তোমরা (মুসলমানদের ক্ষতি করা হতে বিরত থাকো তবে তা তোমাদের পক্ষেই কল্যাণকর হবে। আর যদি পুনরায় তোমরা এ হেন কাজ কর তবে আমিও তোমাদেরকে পুনরায় শাস্তি প্রদান করবো, আর জেনে রেখো যে, তোমাদের বিরাট বাহিনী তোমাদের কোনই উপকার করতে পারবে না। কেননা আল্লাহ যাকে সাহায্য করেন তার উপর কে জয়যুক্ত হতে পারে?(আরবী) নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের সাথেই রয়েছেন। আর এটাই হচ্ছে হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা (সঃ)-এর দল।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

যদি তোমারা মিমাংসা চেয়ে থাক,তাহলে তা তো তোমাদের কাছে এসেছে ; আর যদি তোমারা বিরত হও তবে তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর, কিন্তু যদি তোমরা আবার যুদ্ধ করতে আস তবে আমরাও আবার শাস্তি নিয়ে আসব। আর তোমাদের দল সংখ্যায় বেশী হলেও তোমাদের কোন কাজে আসবে না। আর নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের সাথে আছেন [১]।

[১] এ আয়াতে পরাজিত কুরাইশ কাফেরদের সম্বোধন করে একটি ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে যা মুসলিমদের সাথে মোকাবেলা করার উদ্দেশ্যে কুরাইশ বাহিনীর মক্কা থেকে বের হওয়ার সময় ঘটেছিল। ঘটনাটি এই যে, কুরাইশ কাফেরদের বাহিনী মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে প্রস্তুতি নেয়ার পর মক্কা থেকে রওয়ানা হওয়ার প্রাক্কালে বাহিনী প্রধান আবু জাহল প্রমূখ বায়তুল্লাহর পর্দা ধরে প্রার্থনা করেছিল। আর আশ্চর্যের ব্যাপার এই যে, এই দো'আ করতে গিয়ে তারা নিজেদের বিজয়ের দো'আর পরিবর্তে সাধারণ বাক্যে এভাবে দোআ করেছিলঃ ইয়া আল্লাহ! উভয় বাহিনীর মধ্যে যেটি উত্তম ও উচ্চতর, উভয় বাহিনীর মধ্যে যেটি হেদায়াতের উপর রয়েছে এবং উভয় দলের যেটি বেশী ভদ্র ও শালীন এবং উভয়ের মধ্যে যে দ্বীন উত্তম তাকেই বিজয় দান কর। [মুসনাদে আহমাদঃ ৫/৪৩১]

এই নির্বোধেরা এ কথাই ভাবছিল যে, মুসলিমদের তুলনায় আমরাই উত্তম ও উচ্চতর এবং অধিক হেদায়াতের উপর রয়েছি, কাজেই এ দোআটি আমাদেরই অনুকূলে হচ্ছে। আর এই দো-আর মাধ্যমে তারা কামনা করছিল, আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে যেন হক ও বাতিল তথা সত্য ও মিথ্যার ফয়সালা হয়ে যায়। তাদের ধারণা ছিল, যখন আমরা বিজয় অর্জন করব, তখন এটাই হবে আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে আমাদের সত্যতার ফয়সালা। কিন্তু তারা একথা জানত না যে, এই দোআর মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে তারা নিজেদের জন্য বদদোআ ও মুসলিমদের জন্য নেকদোআ করে যাচ্ছে। যুদ্ধের ফলাফল সামনে আসার পর আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে বলে দিলেন (وَاَنَّ اللهَ مَعَ الْمُؤْمِنِيْنَ) অর্থাৎ আল্লাহ যখন মুসলিমদের সাথে রয়েছেন, তখন কোন দল তোমাদের কিইবা কাজে লাগতে পারে?