Al-Anfal
আল-আনফাল: 19
মূল আরবি
إِن تَسْتَفْتِحُوا۟ فَقَدْ جَآءَكُمُ ٱلْفَتْحُ ۖ وَإِن تَنتَهُوا۟ فَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ ۖ وَإِن تَعُودُوا۟ نَعُدْ وَلَن تُغْنِىَ عَنكُمْ فِئَتُكُمْ شَيْـًٔا وَلَوْ كَثُرَتْ وَأَنَّ ٱللَّهَ مَعَ ٱلْمُؤْمِنِينَ
English Translations
If you [disbelievers] seek the decision [i.e., victory] - the decision [i.e., defeat] has come to you. And if you desist [from hostilities], it is best for you; but if you return [to war], We will return, and never will you be availed by your [large] company at all, even if it should increase; and [that is] because Allāh is with the believers.
(O disbelievers) if you ask for a judgement, now has the judgement come unto you and if you cease (to do wrong), it will be better for you, and if you return (to the attack), so shall We return, and your forces will be of no avail to you, however numerous it be, and verily, Allah is with the believers.
(O unbelievers,) if you were looking for a decision, the ‘decision’ has come upon you. And if you give up, it is better for you. And if you repeat, We shall repeat. And your people shall not suffice you at all, even though they are many in number; and Allah is with the believers.
(Tell the unbelievers:) 'If you have sought a judgement, then surely a judgement has come to you. And if you desist from disobedience, it is all the better for you. But if you revert to your mischief, We will again chastise you; and your host, howsoever numerous, will never be of any avail to you. Know well, Allah is with the believers.'
(O Qureysh!) If ye sought a judgment, now hath the judgment come unto you. And if ye cease (from persecuting the believers) it will be better for you, but if ye return (to the attack) We also shall return. And your host will avail you naught, however numerous it be, and (know) that Allah is with the believers (in His Guidance).
(O Unbelievers!) if ye prayed for victory and judgment, now hath the judgment come to you: if ye desist (from wrong), it will be best for you: if ye return (to the attack), so shall We. Not the least good will your forces be to you even if they were multiplied: for verily Allah is with those who believe!
বাংলা অনুবাদ
(ওহে কাফিরগণ!) তোমরা মীমাংসা চাচ্ছিলে, মীমাংসা তো তোমাদের কাছে এসে গেছে; আর যদি তোমরা (অন্যায় থেকে) বিরত হও, তবে তা তোমাদের জন্যই কল্যাণকর, তোমরা যদি আবার (অন্যায়) কর, আমিও আবার শাস্তি দিব, তোমাদের দল-বাহিনী সংখ্যায় অধিক হলেও তোমাদের কোন উপকারে আসবে না এবং আল্লাহ তো মু’মিনদের সঙ্গে আছেন।
যদি তোমরা বিজয় কামনা করে থাক, তাহলে তো তোমাদের নিকট বিজয় এসে গিয়েছে। আর যদি তোমরা বিরত হও, তাহলে সেটি তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর যদি তোমরা পুনরায় কর, তাহলে আমিও পুনরায় করব এবং তোমাদের দল কখনো তোমাদের কোন উপকারে আসবে না যদিও তা অধিক হয়। আর নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের সাথে আছেন।
(হে কাফিরেরা!) তোমরাতো ফাইসালা চাচ্ছ, ফাইসালাতো তোমাদের সামনেই এসে গেছে। তোমরা যদি এখনও (মুসলিমদের অনিষ্ট করা হতে) বিরত থাক তাহলে তা তোমাদের পক্ষেই কল্যাণকর, আর যদি পুনরায় তোমরা এ কাজ কর তাহলে আমিও তোমাদেরকে পুনরায় শাস্তি দিব, আর তোমাদের বিরাট বাহিনী তোমাদের কোনই উপকারে আসবেনা। নিঃসন্দেহে আল্লাহ মু’মিনদের সাথে রয়েছেন।
যদি তোমরা মীমাংসা চেয়ে থাক, তাহলে তা তো তোমাদের কাছে এসেছে; আর যদি তোমরা বিরত হও তবে তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর, কিন্তু যদি তোমরা আবার যুদ্ধ করতে আস তবে আমরাও আবার শাস্তি নিয়ে আসব। আর তোমাদের দল সংখ্যায় বেশী হলেও তোমাদের কোনো কাজে আসবে না। আর নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের সাথে আছেন।
তোমরা মীমাংসা চাইছিলে, তা তো তোমাদের নিকট এসেছে, যদি তোমরা বিরত হও তবে তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা পুনরায় কর তবে আমিও পুনরায় শাস্তি দেব এবং তোমাদের দল সংখ্যায় অধিক হলেও তোমাদের কোন কাজে আসবে না, এবং নিশ্চয় আল্লাহ মু’মিনদের সাথে রয়েছেন।
১৯. হে মুশরিকরা! তোমরা যদি চাও আল্লাহ তা‘আলা তাঁর শাস্তি ও আযাব যালিম ও হঠকারীদের উপর নিপতিত করুক তাহলে তিনি তো তোমাদের উপর তা নিপতিত করেছেন যা তোমরা চেয়েছো। তোমাদের উপর তিনি যা নাযিল করেছেন তা তোমাদের জন্য শাস্তি এবং মুত্তাকীদের জন্য শিক্ষণীয়। যদি তোমরা উক্ত বাসনা থেকে বিরত থাকতে তাহলে তা তোমাদের জন্য অনেক উত্তম হতো। কারণ, তিনি অধিকাংশ সময় তোমাদেরকে অবকাশ দিয়ে থাকেন; তোমাদের থেকে দ্রুত প্রতিশোধ নেন না। তোমরা যদি তা আবার তলব করো অথবা মু’মিনদের সাথে যুদ্ধ করো আমি আবার তোমাদের উপর আযাব নাযিল করবো এবং মু’মিনদেরকে সাহায্য করবো। জেনে রাখো, যদিও তোমরা সংখ্যা ও সরঞ্জামে বেশি এবং মু’মিনরা কম তবুও তোমাদের দল ও সাহায্যকারীরা কখনো তোমাদের কোন উপকারে আসবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা সাহায্য ও সহযোগিতা নিয়ে মু’মিনদের সাথেই রয়েছেন। বস্তুতঃ যার সাথে আল্লাহ রয়েছেন তাকে কেউ পরাজিত করতে পারে না।
তাফসীর
এখানে আল্লাহ তাআলা কাফিরদেরকে সম্বোধন করে বলছেনঃ তোমরা তো এটাই চাচ্ছিলে যে, আল্লাহ তাআলা যেন তোমাদের মধ্যে ও মুসলমানদের মধ্যে ফায়সালা করে দেন। সুতরাং তোমরা যা প্রার্থনা করছিলে তাই হয়েছে। আবু জেহেল বলেছিলঃ “হে আল্লাহ! যারা আমাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে এবং আমাদের সামনে এমন কথা পেশ করেছে যা আমাদের জানা নেই, আগামীকাল সকালে আপনি তাদেরকে লাঞ্ছিত করুন!” তখন (আরবী)-এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। (এটা ইমাম আহমাদ (রঃ), ইমাম নাসাঈ (রঃ) এবং ইমাম হাকিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন। এবং বলেছেন যে, ইমাম বুখারী (রঃ) ও ইমাম মুসলিম (রঃ) -এর শর্তের উপর এটা সহীহ।
তারা দুজন এটাকে তাখরীজ করেননি) সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, মুশরিকরা বদর যুদ্ধের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার প্রাক্কালে কাবা ঘরের গেলাফ ধরে প্রার্থনা করে- “হে আল্লাহ! এই দুই দলের মধ্যে (মুসলিম দল ও কাফির দল) যে দলটি আপনার নিকট উত্তম এবং যে দলের কিবলা হচ্ছে উত্তম কিবলা, সেই দলকে আপনি সাহায্য করুন!” তাই, আল্লাহ পাক বলেনঃ “তোমরা যা বলেছিলে আমি তাই করেছি। আমি মুহাম্মাদ (সঃ)-এর দলকে সাহায্য করেছি। এটাই আমার কাছে উত্তম দল।” অতঃপর মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ যদি তোমরা (মুসলমানদের ক্ষতি করা হতে বিরত থাকো তবে তা তোমাদের পক্ষেই কল্যাণকর হবে।
আর যদি পুনরায় তোমরা এ হেন কাজ কর তবে আমিও তোমাদেরকে পুনরায় শাস্তি প্রদান করবো, আর জেনে রেখো যে, তোমাদের বিরাট বাহিনী তোমাদের কোনই উপকার করতে পারবে না। কেননা আল্লাহ যাকে সাহায্য করেন তার উপর কে জয়যুক্ত হতে পারে?(আরবী) নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের সাথেই রয়েছেন। আর এটাই হচ্ছে হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা (সঃ)-এর দল।
যদি তোমারা মিমাংসা চেয়ে থাক,তাহলে তা তো তোমাদের কাছে এসেছে ; আর যদি তোমারা বিরত হও তবে তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর, কিন্তু যদি তোমরা আবার যুদ্ধ করতে আস তবে আমরাও আবার শাস্তি নিয়ে আসব। আর তোমাদের দল সংখ্যায় বেশী হলেও তোমাদের কোন কাজে আসবে না। আর নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের সাথে আছেন [১]।
[১] এ আয়াতে পরাজিত কুরাইশ কাফেরদের সম্বোধন করে একটি ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে যা মুসলিমদের সাথে মোকাবেলা করার উদ্দেশ্যে কুরাইশ বাহিনীর মক্কা থেকে বের হওয়ার সময় ঘটেছিল। ঘটনাটি এই যে, কুরাইশ কাফেরদের বাহিনী মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে প্রস্তুতি নেয়ার পর মক্কা থেকে রওয়ানা হওয়ার প্রাক্কালে বাহিনী প্রধান আবু জাহল প্রমূখ বায়তুল্লাহর পর্দা ধরে প্রার্থনা করেছিল। আর আশ্চর্যের ব্যাপার এই যে, এই দো'আ করতে গিয়ে তারা নিজেদের বিজয়ের দো'আর পরিবর্তে সাধারণ বাক্যে এভাবে দোআ করেছিলঃ ইয়া আল্লাহ! উভয় বাহিনীর মধ্যে যেটি উত্তম ও উচ্চতর, উভয় বাহিনীর মধ্যে যেটি হেদায়াতের উপর রয়েছে এবং উভয় দলের যেটি বেশী ভদ্র ও শালীন এবং উভয়ের মধ্যে যে দ্বীন উত্তম তাকেই বিজয় দান কর। [মুসনাদে আহমাদঃ ৫/৪৩১]
এই নির্বোধেরা এ কথাই ভাবছিল যে, মুসলিমদের তুলনায় আমরাই উত্তম ও উচ্চতর এবং অধিক হেদায়াতের উপর রয়েছি, কাজেই এ দোআটি আমাদেরই অনুকূলে হচ্ছে। আর এই দো-আর মাধ্যমে তারা কামনা করছিল, আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে যেন হক ও বাতিল তথা সত্য ও মিথ্যার ফয়সালা হয়ে যায়। তাদের ধারণা ছিল, যখন আমরা বিজয় অর্জন করব, তখন এটাই হবে আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে আমাদের সত্যতার ফয়সালা। কিন্তু তারা একথা জানত না যে, এই দোআর মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে তারা নিজেদের জন্য বদদোআ ও মুসলিমদের জন্য নেকদোআ করে যাচ্ছে। যুদ্ধের ফলাফল সামনে আসার পর আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে বলে দিলেন (وَاَنَّ اللهَ مَعَ الْمُؤْمِنِيْنَ) অর্থাৎ আল্লাহ যখন মুসলিমদের সাথে রয়েছেন, তখন কোন দল তোমাদের কিইবা কাজে লাগতে পারে?
[সূরা আল-আনফাল (৮): আয়াত ১৯] পূর্ণ পৃষ্ঠা
‘কিতাবুল মাজাজ’-এ উল্লেখিত হয়েছে। মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ বলেছেন: তুমি যখন নিক্ষেপ করেছিলে, তখন তুমি তোমার নিজ শক্তিতে নিক্ষেপ করোনি; বরং আল্লাহর শক্তিতেই তুমি নিক্ষেপ করেছিলে। (আর যাতে মুমিনদেরকে তাঁর পক্ষ থেকে সুন্দর পুরস্কার দান করেন) এখানে পরীক্ষা (বালা) বলতে নেয়ামত বা অনুগ্রহকে বোঝানো হয়েছে। আর ‘লাম’ বর্ণটি একটি উহ্য বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট; অর্থাৎ মুমিনদের পুরস্কৃত করার জন্যই তিনি এটি করেছেন। (এটাই হলো প্রকৃত বিষয় এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদের ষড়যন্ত্রকে দুর্বল করে দেন) এটি হারামাইনবাসী (মক্কা ও মদীনা) এবং আবু আমরের কিরাআত।
আর কুফাবাসীদের কিরাআত হলো (আল্লাহ কাফিরদের ষড়যন্ত্রকে হীনবলকারী)। এখানে তাশদীদ (দ্বিত্ব উচ্চারণ) ব্যবহারের মাধ্যমে আধিক্যের অর্থ প্রকাশ করা হয়েছে। হাসান (বসরী) থেকে হালকা উচ্চারণে ইজাফতসহ ‘মুহিনু’ পড়ার কথাও বর্ণিত হয়েছে। এর অর্থ হলো: আল্লাহ তাআলা তাদের অন্তরে ভীতি সঞ্চার করবেন যাতে তারা ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় এবং তাদের ঐক্য ভেঙে পড়ে, ফলে তারা দুর্বল হয়ে যায়। ‘কাইদ’ অর্থ হলো কৌশল বা ষড়যন্ত্র। এটি ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে। [সূরা আল-আনফাল (৮): আয়াত ১৯]যদি তোমরা বিজয় প্রার্থনা করো, তবে তোমাদের কাছে বিজয় এসে গেছে; আর যদি তোমরা বিরত থাকো, তবে তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর।
আর যদি তোমরা পুনরায় ফিরে আসো, তবে আমিও পুনরায় আসব এবং তোমাদের দল তোমাদের কোনো কাজে আসবে না যদিও তা সংখ্যায় অনেক হয়। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের সাথে আছেন। (১৯)আল্লাহ তাআলার বাণী: (যদি তোমরা বিজয় প্রার্থনা করো, তবে তোমাদের কাছে বিজয় এসে গেছে) এটি শর্ত ও তার জওয়াব। এ বিষয়ে তিনটি অভিমত রয়েছে: প্রথমত, এটি কাফিরদের প্রতি সম্বোধন; কারণ তারা বিজয় প্রার্থনা করে বলেছিল: হে আল্লাহ! আমাদের মধ্যে যারা আত্মীয়তার বন্ধন অধিক ছিন্নকারী এবং সত্যের বেশি বিরোধী, আপনি তাদের বিরুদ্ধে অপর পক্ষকে সাহায্য করুন। হাসান, মুজাহিদ ও অন্যান্যরা এটি বলেছেন।
বাণিজ্য কাফেলা উদ্ধারের জন্য বের হওয়ার সময় তারা এ কথা বলেছিল। কারো মতে আবু জাহল যুদ্ধের সময় এটি বলেছিল। নজর ইবনে হারিস বলেছিল: হে আল্লাহ! যদি এটি আপনার পক্ষ থেকে সত্য হয় তবে আমাদের ওপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষণ করুন অথবা আমাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দিন। সে বদরের যুদ্ধে নিহতদের একজন ছিল। বিজয় প্রার্থনা (ইসতিফতাহ) মানে হলো সাহায্য চাওয়া। অর্থাৎ তোমাদের নিকট বিজয় এসেছে কিন্তু তা তোমাদের বিপক্ষে এবং মুসলমানদের পক্ষে গেছে। এর অর্থ হলো যা ঘটার ছিল তা প্রকাশিত হয়েছে এবং সত্য তোমাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে। (আর যদি তোমরা বিরত থাকো) অর্থাৎ কুফরি থেকে (তবে তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর)।
(আর যদি তোমরা পুনরায় ফিরে আসো) অর্থাৎ পুনরায় এমন কথা বলো এবং মুহাম্মদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো (তবে আমিও পুনরায় ফিরে আসব) অর্থাৎ মুমিনদের সাহায্য করার দিকে ফিরে আসব। (আর তোমাদের দল তোমাদের কোনো উপকারে আসবে না) অর্থাৎ তোমাদের দল বা জামাত (কোনো কাজে আসবে না) (যদিও তা সংখ্যায় অনেক হয়)। দ্বিতীয় অভিমত হলো: এটি মুমিনদের প্রতি সম্বোধন। অর্থাৎ তোমরা যদি সাহায্য প্রার্থনা করো তবে তোমাদের কাছে সাহায্য এসেছে। (আর যদি তোমরা বিরত থাকো) অর্থাৎ অনুমতি পাওয়ার পূর্বে গনিমত ও যুদ্ধবন্দী গ্রহণ করার মতো কাজ থেকে (তবে তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর)।
(আর যদি তোমরা পুনরায় অনুরূপ কাজ করো) তবে আমিও তোমাদের ভর্ৎসনা করার দিকে ফিরে আসব। যেমন বলা হয়েছে: “আল্লাহর পক্ষ থেকে পূর্ববিধান না থাকলে...” (আয়াত)।(১). এটি হাফসের বর্ণনায় আসিমের কিরাআত। ‘আল-বাহর’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: সাতজন ক্বারীর বাকিগণ এবং হাসান, আবু রাজা, আমাশ ও ইবনে মুহাইসিন ‘আওহানা’ থেকে পড়েছেন এবং হাফস একে ইজাফতসহ পাঠ করেছেন।(২). দেখুন ৫ম খণ্ড, ২৮০ পৃষ্ঠা।(৩). হ, জ এবং ব পাণ্ডুলিপি থেকে।(৪). জ পাণ্ডুলিপি থেকে।(৫). দেখুন ৮ম খণ্ড, ৫০ পৃষ্ঠা।
তাঁর হাতেই বিজয়; আল্লাহ অবশ্যই আপনাকে সাহায্য করবেন এবং আপনার মুখমণ্ডল উজ্জ্বল করবেন। অতঃপর আল্লাহ শত্রুদের পার্শ্ববর্তী এলাকায় এক সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করলেন। তখন আল্লাহর রাসূল বললেন: আল্লাহ তাঁর সাহায্য প্রেরণ করেছেন। ফেরেশতাগণ (তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) অবতীর্ণ হলেন। তিনি বললেন, হে আবু বকর! সুসংবাদ গ্রহণ করো, আমি জিবরাঈলকে দেখেছি পাগড়ি পরিহিত অবস্থায় আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানে ঘোড়া ছুটিয়ে আসছেন। যখন তিনি জমিনে অবতরণ করে থিতু হলেন, তখন এক মুহূর্তের জন্য আমার দৃষ্টি থেকে ওঝল হয়ে গেলেন, অতঃপর আমি তাঁর ওষ্ঠে ধূলিকণা দেখতে পেলাম।আবু জাহল বলেছিল: হে আল্লাহ!
এই দুই ধর্মের মধ্যে যা শ্রেষ্ঠ, তাকেই সাহায্য করুন; আমাদের এই প্রাচীন ধর্ম অথবা মুহাম্মাদের এই নব-আবিষ্কৃত ধর্ম। কিন্তু শয়তান যখন ফেরেশতাগণকে (তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) দেখতে পেল, তখন সে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করল এবং তার সঙ্গীদের সাহায্য করা থেকে নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করল। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক মুষ্টি কঙ্কর নিয়ে মুশরিকদের মুখপানে নিক্ষেপ করলেন। আল্লাহ সেই কঙ্করগুলোর মধ্যে এমন প্রভাব দান করলেন যে, মুশরিকদের এমন কোনো ব্যক্তি বাকি রইল না যার চক্ষু তা দিয়ে পূর্ণ হয়নি। ফেরেশতাগণ (তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) তাদের হত্যা ও বন্দী করছিলেন।
তারা দেখছিলেন যে, শত্রুপক্ষের প্রত্যেকেই অধোমুখে পড়ে আছে এবং তারা কোন দিকে যাবে তা বুঝতে না পেরে দিশেহারা হয়ে চোখ থেকে ধূলিবালি সরাবার চেষ্টা করছে।কুরাইশরা পরাজিত ও পর্যুদস্ত অবস্থায় মক্কায় প্রত্যাবর্তন করল। বদরের যুদ্ধের মাধ্যমে আল্লাহ মুশরিক ও মুনাফিকদের দর্প চূর্ণ করলেন। মদিনায় এমন কোনো মুনাফিক বা ইহুদি অবশিষ্ট ছিল না যার গর্দান বদরের এই ঘটনার সামনে নত হয়নি। সেদিনটি ছিল সত্য-মিথ্যার পার্থক্যের দিন, যেদিন আল্লাহ শিরক ও ঈমানের মধ্যে বিভেদরেখা টেনে দিয়েছিলেন। ইহুদিরা নিশ্চিতভাবে স্বীকার করল যে: ইনিই সেই নবী যাঁর বিবরণ আমরা তাওরাতে পাই।
আল্লাহর কসম, আজকের পর তিনি যে পতাকাই সমুন্নত করবেন, তা অবশ্যই বিজয়ী হবে।আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনায় ফিরে আসলেন এবং সানিয়্যাতুল বিদা দিয়ে প্রবেশ করলেন। এমতাবস্থায় কুরআন নাযিল হলো যেখানে আল্লাহ তাঁদের সেই অনুগ্রহের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন যা তাঁরা অপছন্দ করেছিলেন—অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বদরে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার বিষয়টি। আল্লাহ বললেন: যেমন আপনার পালনকর্তা আপনাকে আপনার ঘর থেকে ন্যায়ের সাথে বের করেছিলেন, অথচ মুমিনদের একটি দল তা অপছন্দ করছিল
। এই আয়াত ও এর সাথে আরও তিনটি আয়াত নাযিল হলো।
রাসূল ও মুমিনদের আহ্বানে সাড়া দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বললেন: (যখন তোমরা তোমাদের পালনকর্তার নিকট ফরিয়াদ করছিলে, তখন তিনি তোমাদের ডাকে সাড়া দিলেন) (সূরা আনফাল, আয়াত ৯)।এর সাথে আরও একটি আয়াত এবং তাঁদের ওপর যে তন্দ্রাচ্ছন্নতা আচ্ছন্ন হয়েছিল সে বিষয়ে তিনি নাযিল করলেন: (যখন তিনি তোমাদের তন্দ্রা দ্বারা আচ্ছন্ন করলেন) (সূরা আনফাল, আয়াত ১১)।অতঃপর তাঁদের সাহায্যের জন্য ফেরেশতাদের প্রতি তিনি যে ওহী প্রেরণ করেছিলেন সে সম্পর্কে তাঁদের অবহিত করে বললেন: (যখন আপনার পালনকর্তা ফেরেশতাদের প্রতি ওহী প্রেরণ করলেন যে, আমি তোমাদের সাথে আছি) (সূরা আনফাল, আয়াত ১২) এবং এর পরবর্তী আয়াতটি।মুশরিকদের হত্যা এবং আল্লাহর রাসূলের সেই মুষ্টিবদ্ধ কঙ্কর নিক্ষেপ সম্পর্কে তিনি নাযিল করলেন: (তোমরা তাদের হত্যা করোনি, বরং আল্লাহই তাদের হত্যা করেছেন) (সূরা আনফাল, আয়াত ১৭) এবং এর পরবর্তী আয়াতটি।তাদের ফয়সালা চাওয়ার প্রেক্ষিতে তিনি নাযিল করলেন: (যদি তোমরা ফয়সালা চাও, তবে ফয়সালা তো তোমাদের কাছে এসে গেছে) (সূরা আনফাল, আয়াত ১৯)।
অতঃপর নাযিল করলেন: "হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো" এ সংক্রান্ত সাতটি আয়াত। আর তাঁদের অবস্থানের বর্ণনায় নাযিল করলেন: (যখন তোমরা ছিলে নিকটবর্তী প্রান্তে) (সূরা আনফাল, আয়াত ৪২) এবং এর পরবর্তী আয়াতটি।
