Al-Anfal

আল-আনফাল: 20

8:20
টেক্সট কপি
8 আল-আনফাল Al-Anfal · 75 আয়াত الأنفال

মূল আরবি

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَلَا تَوَلَّوْا۟ عَنْهُ وَأَنتُمْ تَسْمَعُونَ

English Translations

Sahih International

O you who have believed, obey Allāh and His Messenger and do not turn from him while you hear [his order].

Muhsin Khan

O you who believe! Obey Allah and His Messenger, and turn not away from him (i.e. Messenger Muhammad SAW) while you are hearing.

Taqi Usmani

O you who believe, obey Allah and His Messenger, and do not turn away from Him when you listen (to him).

Abul Ala Maududi

Believers! Obey Allah and His Messenger and do not turn away from him after you hear his command.

Pickthall

O ye who believe! Obey Allah and His messenger, and turn not away from him when ye hear (him speak).

Yusuf Ali

O ye who believe! Obey Allah and His Messenger, and turn not away from him when ye hear (him speak).

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

ওহে বিশ্বাসীগণ! আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য কর এবং আদেশ শোনার পর তা অমান্য কর না।

রাওয়াই আল-বায়ান

হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর এবং তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না, অথচ তোমরা শুনছ।

শাইখ মুজিবুর রহমান

হে মু’মিনগণ! আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর, তোমরা যখন তার কথা শুনছ তখন তোমরা তার আনুগত্য হতে মুখ ফিরিয়ে নিওনা।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর এবং তোমরা যখন তাঁর কথা শোন তখন তা হতে মুখ ফিরিয়ে নিও না।

ফাতহুল মাজীদ

হে মু’মিনগণ! আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর এবং তোমরা যখন তার কথা শ্রবণ করছ তখন তা হতে মুখ ফিরিয়ে নিও না;

মুখতাসার

২০. হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর অনুসারী মু’মিনরা! তোমরা শরীয়তের সকল আদেশ-নিষেধ মেনে চলার মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্য করো এবং তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো। তাঁর আদেশ-নিষেধ অমান্য করে কখনো তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না; অথচ আল্লাহর আয়াতগুলো তোমাদের সামনে পড়া হচ্ছে তা তোমরা শুনতে পাচ্ছো।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

২০-২৩ নং আয়াতের তাফসীর: এখানে মুমিনদেরকে আল্লাহ ও তার রাসূল (সঃ)-এর আনুগত্য করার এবং বিরোধিতা করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। আর তাদেরকে বলা হচ্ছে যে, তারা যেন কাফিরদের সাথে সাদৃশ্য স্থাপন না করে। এ জন্যেই মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ তোমরা তাঁর আনুগত্য হতে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না।(আরবী) অর্থাৎ অথচ তোমরা জানছো যে, নবী (সঃ) তোমাদেরকে কোন্ কথার দিকে আহ্বান করছেন। আর তোমরা ঐ লোকদের মত হয়ো না যারা বলে আমরা আপনার কথা শুনলাম, অথচ কার্যতঃ তারা কিছুই শোনে না। কেউ কেউ বলেন যে, এর দ্বারা মুনাফিকদেরকে বুঝানো হয়েছে। তাদের রীতিনীতি এই ছিল যে, তারা মুখে বলতো- আমরা শুনলাম ও কবুল করলাম ।

কিন্তু আসলে তারা কিছুই শুনতো না।এরপর জানিয়ে দেয়া হচ্ছে যে, এই প্রকারের আদম সন্তানরা হচ্ছে নিকৃষ্টতম জীব। চতুষ্পদ জন্তু ও প্রাণীদের মধ্যে ওরাই হচ্ছে নিকৃষ্টতম যারা সত্য কথা শোনার ব্যাপারে বধির ও সত্য কথা বলার ব্যাপারে মূক। তারা কোন জ্ঞানই রাখে না। কেননা, তারা সত্য কথা মোটেই বুঝে না। এরা নিকৃষ্টতম প্রাণী, এরাই কাফির। চতুষ্পদ জন্তু যে প্রকৃতিতে সৃষ্ট হয়েছে ওরা ঐ ভাবেই চলাফেরা করে, কাজেই তারা যেন আল্লাহর অনুগত। কিন্তু মানুষ তো প্রকৃতিগতভাবে ইবাদতের জন্যে সৃষ্ট হয়েছে, অথচ তারা কুফরী করতে রয়েছে। অতএব প্রকৃতির বিপরীতরূপে চলার কারণে তারা চতুষ্পদ জন্তুর চেয়েও নিকৃষ্ট।

এ জন্যেই তাদেরকে চতুষ্পদ জন্তুর সাথে তুলনা করা হয়েছে। আল্লাহ পাক বলেনঃ “কাফিরদের দৃষ্টান্ত ঐ জানোয়ারগুলোর মত যারা আহ্বানকারীদের উদ্দেশ্য কিছুই বুঝে না, শুধু শব্দ শুনে থাকে।” আর এক জায়গায় বলেছেনঃ “বরং এই কাফিররা চতুষ্পদ জন্তুর চেয়েও নিকৃষ্ট, এরাই হচ্ছে সীমাহীন গাফেল।” বলা হয়েছে যে, এর দ্বারা কুরায়েশের বানু আবদিদ দারের লোকদেরকে বুঝানো হয়েছে। কারো কারো ধারণায় এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে মুনাফিকরা। কিন্তু মুশরিক ও মুনাফিকদের পার্থক্য কিছুই নেই। কেননা, এই দু'দলই হচ্ছে জ্ঞানবিবেকহীন লোক। ভাল কাজ করার মত কোন যোগ্যতাই তাদের মধ্যে নেই।

এরপর ইরশাদ হচ্ছে- “আল্লাহ যদি জানতেন যে, তাদের মধ্যে কল্যাণকর কিছু নিহিত রয়েছে তবে অবশ্যই তিনি তাদেরকে শুনবার (ও বুঝবার) তাওফীক দিতেন।” অন্তর্নিহিত কথা এই যে, যেহেতু তাদের মধ্যে কোন মঙ্গলই নিহিত নেই সেহেতু তারা কিছুই বুঝে না। আর যদি মহান আল্লাহ তাদেরকে শুনানও তবুও এই হতভাগারা সরল সোজা পথ অবলম্বন করবে না বরং তখনো তারা উপেক্ষা করতঃ মুখ ফিরিয়ে নিবে।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর এবং তোমরা যখন তাঁর কথা শোন তখন তা হতে মুখ ফিরিয়ে নিও না [১]।

তৃতীয় রুকূ’

[১] মুসলিমগণ (তাদের সংখ্যাল্পতা ও নিঃসম্বলতা সত্বেও) শুধুমাত্র আল্লাহ তা'আলার সাহায্যের মাধ্যমেই এহেন বিপুল বিজয় অর্জন করতে সমর্থ হয়েছেন। আর এ সাহায্য আল্লাহর প্রতি তাদের আনুগত্যের ফল। এই আনুগত্যের উপর দৃঢ়তার সাথে স্থির থাকার জন্য মুসলিমদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে “হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য কর"। এবং তাতে স্থির থাক। কারণ, তোমরা আল্লাহর কিতাবের নির্দেশ, অসীয়ত, নসীহত সবই শুনতে পাচ্ছ। সুতরাং কুরআন ও সত্যবাণী শুনে নেবার পরেও তোমরা আনুগত্য-বিমুখ হয়ো না। বিমুখ হলে বর্তমান অবস্থা থেকে তোমাদেরকে নিকৃষ্ট অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হবে। [সা’দী]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-আনফাল (৮): আয়াত ২০] পূর্ণ পৃষ্ঠা

তৃতীয় মত হলো— "যদি তোমরা ফয়সালা চাও, তবে ফয়সালা তোমাদের নিকট এসে গেছে" এটি মুমিনদের প্রতি সম্বোধন, আর এর পরবর্তী অংশ কাফিরদের জন্য। অর্থাৎ, তোমরা যদি পুনরায় যুদ্ধে লিপ্ত হও, তবে আমি বদরের যুদ্ধের ন্যায় ঘটনার পুনরাবৃত্তি করব। কুশাইরী বলেন: সঠিক মত হলো এটি কাফিরদের প্রতি সম্বোধন। কেননা তারা যখন উটের কাফেলা রক্ষার্থে বেরিয়েছিল, তখন কাবার পর্দা ধরে বলেছিল: হে আল্লাহ! দুই দলের মধ্যে যারা অধিকতর হেদায়েতপ্রাপ্ত এবং দুই দ্বীনের মধ্যে যেটি শ্রেষ্ঠ, তাকে সাহায্য করুন। মাহদাবী বলেন: বর্ণিত আছে যে, মুশরিকরা তাদের সাথে কাবার পর্দা নিয়ে বের হয়েছিল এবং তা দ্বারা বিজয় প্রার্থনা (অর্থাৎ সাহায্য প্রার্থনা) করছিল।

আমি (গ্রন্থকার) বলি: এই বর্ণনার মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই, কারণ সম্ভাবনা রয়েছে যে তারা উভয় কাজই করেছিল। "আর নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের সাথে আছেন" বাক্যটিতে আলিফের কাসরা (ইন্না) যোগে প্রারম্ভিক বাক্য হিসেবে পড়া যায়। আবার ফাতহা (আন্না) যোগে তাঁর পূর্ববর্তী বাণী "আর নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদের ষড়যন্ত্র দুর্বলকারী" অথবা "নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সাথে আছি"-এর ওপর সংযোজন হতে পারে। এর অর্থ হলো: এবং যেহেতু আল্লাহ...। আর এর গূঢ়ার্থ হলো এর আধিক্যের কারণে— আর নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের সাথে আছেন। অর্থাৎ, আল্লাহ যার সাহায্যে থাকেন, কোনো দলই তাকে পরাজিত করতে পারবে না, যদিও তা সংখ্যায় অনেক বেশি হয়।

‌‌[সূরা আল-আনফাল (৮): আয়াত ২০]হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো এবং শোনার পর তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না (২০)আল্লাহ তাআলার বাণী: (হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো) ২০। এই সম্বোধন বিশ্বাস স্থাপনকারী মুমিনদের প্রতি। তাদের সম্মানে মুনাফিকদের বাদ দিয়ে কেবল মুমিনদের পৃথকভাবে সম্বোধন করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্যের আদেশ নবায়ন করেছেন এবং আনুগত্য থেকে বিমুখ হতে নিষেধ করেছেন। এটি অধিকাংশ আলেমের অভিমত। একদল বলেছেন: এই আয়াতের সম্বোধন মূলত মুনাফিকদের প্রতি। তখন অর্থ হবে: হে তারা যারা কেবল মুখে ঈমান এনেছো।

ইবনে আতিয়্যাহ বলেন: এই মতটি দূরবর্তী সম্ভাবনা হিসেবে থাকলেও অত্যন্ত দুর্বল। কারণ আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে যাদের সম্বোধন করেছেন তাদের 'ঈমান' গুণে গুণান্বিত করেছেন। আর ঈমান হলো অন্তরের সত্যয়ন বা বিশ্বাস, অথচ মুনাফিকদের মধ্যে বিশ্বাসের লেশমাত্র নেই। এর চেয়েও অবান্তর মত হলো যারা বলেছেন সম্বোধনটি বনী ইসরাঈলের প্রতি, কারণ এটি আয়াতের প্রসঙ্গের সাথে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ। (আর তা থেকে বিমুখ হয়ো না) ২০। 'তাওয়াল্লি' অর্থ হলো বিমুখ হওয়া বা মুখ ফিরিয়ে নেওয়া। এখানে 'আনহু' (তার থেকে - একবচন) বলা হয়েছে, 'আনহুমা' (তাদের থেকে - দ্বিবচন) বলা হয়নি; কারণ রাসূলের আনুগত্যই মূলত আল্লাহর আনুগত্য।

এটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মতো: "অথচ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল, তাঁকে সন্তুষ্ট করাই তাদের জন্য অধিকতর আবশ্যক"।(১). 'বা', 'জিম' এবং 'হা' পাণ্ডুলিপিতে: 'কারণে'।(২). 'ইয়া' পাণ্ডুলিপিতে: 'আয়াতের মধ্যে'।(৩). খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ১৯৩ ও পরবর্তী অংশ দ্রষ্টব্য।