Al-Anfal
আল-আনফাল: 64
মূল আরবি
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِىُّ حَسْبُكَ ٱللَّهُ وَمَنِ ٱتَّبَعَكَ مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ
English Translations
O Prophet, sufficient for you is Allāh and for whoever follows you of the believers.
O Prophet (Muhammad SAW)! Allah is Sufficient for you and for the believers who follow you.
O Prophet, Allah is sufficient for you, and the believers who followed you.
O Prophet! Allah is sufficient for you and the believers who follow you.
O Prophet! Allah is Sufficient for thee and those who follow thee of the believers.
O Prophet! sufficient unto thee is Allah,- (unto thee) and unto those who follow thee among the Believers.
বাংলা অনুবাদ
হে নাবী! আল্লাহই তোমার আর তোমার অনুসারী ঈমানদারদের জন্য যথেষ্ট।
হে নবী, তোমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং যেসব মুমিন তোমার অনুসরণ করেছে তাদের জন্যও।
হে নাবী! তোমার জন্য ও তোমার অনুসারী মু’মিনদের জন্য (সর্বক্ষেত্রে) আল্লাহই যথেষ্ট।
হে নবী! আপনার জন্য ও আপনার অনুসারীদের জন্য আল্লাহ্ই যথেষ্ট।
হে নাবী! তোমার জন্য ও তোমার অনুসারী মু’মিনদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।
৬৪. হে নবী! নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা আপনার শত্রুদের অনিষ্টের ব্যাপারে আপনার জন্য ও মু’মিনদের জন্য যথেষ্ট। তাই আপনি তাঁর উপর ভরসা ও আস্থা রাখুন।
তাফসীর
৬৪-৬৬ নং আয়াতের তাফসীর: এখানে আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবী (সঃ) ও মুসলিমদেরকে জিহাদের প্রতি উৎসাহিত করছেন এবং তাদের অন্তরে প্রশান্তি দান করছেন যে, তিনি তাদেরকে শত্রুদের উপর জয়যুক্ত করবেন, যদিও তারা সংখ্যায় অধিক ও তাদের অস্ত্রশস্ত্র ও বেশী, আর মুসলিমরা সংখ্যায় কম এবং তাদের যুদ্ধাস্ত্রও নগণ্য। মহান আল্লাহ স্বীয় রাসূল (সঃ)-কে সম্বোধন করে বলছেনঃ “আল্লাহই তোমার জন্যে যথেষ্ট এবং যে স্বল্প সংখ্যক মুসলিম তোমার সাথে রয়েছে তাদের দ্বারাই তুমি সফলতা লাভ করবে। এরপর আল্লাহ পাক তাঁর নবী (সঃ)-কে নির্দেশ দিচ্ছেন- “তুমি মুমিনদেরকে জিহাদের প্রতি উৎসাহ দান করতে থাক।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) সৈন্যদের শ্রেণী বিন্যাস করার সময় এবং মুকাবিলার সময় সৈন্যবাহিনীর মনে উৎসাহ-উদ্দীপনা যোগাতে থেকেছেন।
বদর যুদ্ধের দিন তিনি তাদেরকে বলেনঃ “উঠো, ঐ জান্নাত লাভ কর যার প্রস্থ হচ্ছে আসমান ও যমীনের সমান।” এ কথা শুনে উমায়ের ইবনে হামাম (রাঃ) বলেনঃ “প্রস্থ এতো বেশী?” রাসূলুল্লাহ (সঃ) উত্তরে বলেনঃ “হ্যাঁ হ্যা, এতোটাই বটে।” তখন তিনি বলেনঃ “বাঃ! বাঃ!” রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁর এ কথা শুনে বলেনঃ “এ কথা তুমি কি উদ্দেশ্যে বললে?” তিনি উত্তরে বলেনঃ “আমি একথা এ আশায় বললাম যে, আল্লাহ তা'আলা আমাকেও জান্নাত দান করবেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “আমি ভবিষ্যদ্বাণী করছি যে, তুমি সত্যিই জান্নাত লাভ করবে।” তিনি তখন উঠে শত্রুদের দিকে অগ্রসর হলেন এবং তরবারীর কোষ ভেঙ্গে দিলেন।
অতঃপর তাঁর কাছে যা কিছু খেজুর ছিল তা খেতে শুরু করলেন। তারপর তিনি বললেনঃ “এগুলো খাওয়া পর্যন্ত আমি বিলম্ব করতে পারি না। সুতরাং তিনি ওগুলো হাত থেকে ফেলে দিলেন এবং আক্রমণে উদ্যত হয়ে সিংহের ন্যায় শত্রুদের মধ্যে ঝাপিয়ে পড়লেন, আর সুতীক্ষ তরবারী দ্বারা কাফিরদেরকে হত্যা করতে করতে নিজেও শহীদ হয়ে গেলেন। আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকেও সন্তুষ্ট করুন!ইবনুল মুসাইয়া (রাঃ) এবং সাঈদ ইবনে জুবাইর (রাঃ) বলেন যে, এ আয়াত উমার (রাঃ)-এর ইসলাম গ্রহণের সময় অবতীর্ণ হয়। ঐ সময় মুসলিমদের সংখ্যা মোট চল্লিশজন হয়েছিল। কিন্তু এ কথায় চিন্তা ভাবনার অবকাশ রয়েছে।
কেননা, এটা মাদানী আয়াত । অথচ উমার (রাঃ)-এর ইসলাম গ্রহণ হচ্ছে মক্কার ঘটনা। এটা হচ্ছে আবিসিনিয়ার হিজরতের পরের এবং মদীনায় হিজরতের পূর্বের ঘটনা। এসব বিষয় আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।এরপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা মুমিনদেরকে সুসংবাদ প্রদান পূর্বক নির্দেশ দিচ্ছেন- “তোমাদের বিশজন কাফিরদের দু’শজনের উপর বিজয়ী হবে এবং একশজন এক হাজারের উপর জয়যুক্ত হবে। মোটকথা একজন মুসলিম দশজন কাফিরের উপর বিজয় লাভ করবে। অতঃপর এ হুকুম মানসূখ বা রহিত হয়ে যায়। কিন্তু সুসংবাদ বাকী রয়েছে। যখন মুসলিমদের এটা কঠিন ঠেকলো তখন আল্লাহ তাআলা তাদের উপর হুকুম হালকা করে দিলেন এবং বললেন যে, আল্লাহ তা'আলা বোঝা হালকা করে দিলেন।
কিন্তু সংখ্যা যতটা কম হয়ে গেল সেই পরিমাণ ধৈর্যও কম হলো। পূর্বে হুকুম ছিল যে, বিশজন মুসলিম যেন দু’শজন কাফির থেকে পিছে না সরে। এখন এই হুকুম হলো যে, তাদের দ্বিগুণ সংখ্যা অর্থাৎ একশজন মুসলিম যেন দু’শজন কাফির থেকে পলায়ন না করে । সুতরাং পূর্বের হুকুম মুমিনদের কাছে কঠিন হওয়ার কারণে তাদের দুর্বলতা ককূল করতঃ আল্লাহ তা'আলা তাদের উপর হুকুম হালকা করে দেন। অতএব যুদ্ধের ময়দানে কাফিরদের সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়া অবস্থায় মুসলিমদের পিছনে সরে যাওয়া উচিত নয়। হ্যা, তবে তাদের সংখ্যা মুসলিমদের দ্বিগুণের বেশী হলে তাদের সাথে যুদ্ধ করা মুসলিমদের উপর ওয়াজিব নয় এবং ঐ অবস্থায় তাদের পিছনে সরে যাওয়া জায়েয।
(মুজাহিদ (রঃ), ইকরামা (রঃ), হাসান (রঃ), যায়েদ ইবনে আসলাম (রঃ) যহহাক (রঃ) প্রমুখ গুরুজন হতে এরূপই বর্ণিত হয়েছে) ইবনে উমার (রাঃ) বলেন যে, এ আয়াতটি মুহাম্মাদ (সঃ)-এর সাহাবীদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়। রাসূলুল্লাহ (সঃ) (আরবী)-এ আয়াতটি পাঠ করে বলেনঃ “পূর্বের হুকুমটি উঠে গেছে।”
হে নবী ! আপনার জন্য ও আপনার অনুসারীদের জন্য আল্লাহ্ই যথেষ্ট।
[সূরা আল-আনফাল (৮): আয়াত ৬৪] পূর্ণ পৃষ্ঠা
[সূরা আল-আনফাল (৮): আয়াত ৬২ থেকে ৬৩]আর যদি তারা আপনাকে প্রতারিত করতে চায়, তবে আল্লাহ-ই আপনার জন্য যথেষ্ট। তিনিই আপনাকে স্বীয় সাহায্য ও মুমিনদের দ্বারা শক্তিশালী করেছেন। (৬২) আর তিনি তাদের অন্তরে প্রীতি স্থাপন করেছেন; পৃথিবীর সবকিছু ব্যয় করলেও আপনি তাদের অন্তরে প্রীতি স্থাপন করতে পারতেন না, কিন্তু আল্লাহ তাদের মধ্যে প্রীতি স্থাপন করেছেন। নিশ্চয়ই তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (৬৩)মহান আল্লাহর বাণী: (আর যদি তারা আপনাকে প্রতারিত করতে চায়) অর্থাৎ তারা আপনার নিকট সন্ধি প্রকাশ করে এবং ভেতরে বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণা গোপন রাখে, তবে আপনি তাতে সম্মত হোন; তাদের এই অসৎ উদ্দেশ্যের দায় আপনার ওপর নেই।
(নিশ্চয়ই আল্লাহ-ই আপনার জন্য যথেষ্ট) অর্থাৎ আল্লাহ-ই আপনার জন্য পর্যাপ্ত; তিনিই আপনার প্রয়োজন পূরণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। কবি বলেছেন:যখন যুদ্ধ শুরু হয় এবং ঐক্য বিনষ্ট হয় … তখন আপনার ও দাহহাকের জন্য একটি ধারালো ভারতীয় তরবারিই যথেষ্ট।অর্থাৎ আপনার জন্য এবং দাহহাকের জন্য একটি তরবারিই যথেষ্ট। মহান আল্লাহর বাণী: (তিনিই আপনাকে স্বীয় সাহায্য দ্বারা শক্তিশালী করেছেন) অর্থাৎ স্বীয় সাহায্যের মাধ্যমে আপনাকে শক্তি প্রদান করেছেন। এখানে বদর যুদ্ধের দিনটিকে বুঝানো হয়েছে। (এবং মুমিনদের দ্বারা) নুমান ইবনে বশীর বলেন: এটি আনসারদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে।
(আর তিনি তাদের অন্তরে প্রীতি স্থাপন করেছেন) অর্থাৎ আওস ও খাজরাজ গোত্রের লোকদের অন্তরের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতি দান করেছেন। আরবদের মাঝে চরম বংশীয় গোঁড়ামি বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও তাদের অন্তরের এই মিলন ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্যতম নিদর্শন ও মুজিজা। কারণ তাদের অবস্থা এমন ছিল যে, কাউকে সামান্য চড় মারা হলেও সে তার প্রতিশোধ না নেওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেত। তারা ছিল আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে বেশি গোত্রীয় অহংকারী; অতঃপর আল্লাহ ঈমানের মাধ্যমে তাদের মাঝে প্রীতি স্থাপন করে দিলেন, যার ফলে দ্বীনের খাতিরে মানুষ তার নিজ পিতা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধেও লড়াই করেছে।
আর বলা হয়েছে যে: এখানে মুহাজির ও আনসারদের মাঝে সম্প্রীতি স্থাপনের কথা বুঝানো হয়েছে। তবে উভয় অর্থই কাছাকাছি। [সূরা আল-আনফাল (৮): আয়াত ৬৪]হে নবী! আপনার জন্য এবং আপনার অনুসরণকারী মুমিনদের জন্য আল্লাহ-ই যথেষ্ট। (৬৪)এটি কোনো পুনরাবৃত্তি নয়; কারণ পূর্বে আল্লাহ বলেছেন: (আর যদি তারা আপনাকে প্রতারিত করতে চায়, তবে আল্লাহ-ই আপনার জন্য যথেষ্ট), যা ছিল একটি বিশেষ ক্ষেত্রে পর্যাপ্ততা। আর আল্লাহর এই বাণীতে: (হে নবী! আপনার জন্য আল্লাহ-ই যথেষ্ট) ব্যাপক অর্থ উদ্দেশ্য করা হয়েছে; অর্থাৎ সকল অবস্থায় আল্লাহ আপনার জন্য যথেষ্ট। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: এটি উমর (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণের সময় অবতীর্ণ হয়।
কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তখন তেত্রিশ জন পুরুষ ও ছয় জন নারী ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, এরপর উমর (রা.) ইসলাম গ্রহণ করলে তারা মোট চল্লিশ জন হন। আয়াতটি মক্কি, কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশে এটি একটি মাদানি সূরায় লিপিবদ্ধ করা হয়েছে; এটি কুশাইরি উল্লেখ করেছেন।
