Al-Anfal

আল-আনফাল: 27

8:27
টেক্সট কপি
8 আল-আনফাল Al-Anfal · 75 আয়াত الأنفال

মূল আরবি

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تَخُونُوا۟ ٱللَّهَ وَٱلرَّسُولَ وَتَخُونُوٓا۟ أَمَـٰنَـٰتِكُمْ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ

English Translations

Sahih International

O you who have believed, do not betray Allāh and the Messenger or betray your trusts while you know [the consequence].

Muhsin Khan

O you who believe! Betray not Allah and His Messenger, nor betray knowingly your Amanat (things entrusted to you, and all the duties which Allah has ordained for you).

Taqi Usmani

O you who believe, do not betray the trust of Allah and the Messenger-, and do not betray your mutual trusts, while you know.

Abul Ala Maududi

Believers! Do not be unfaithful to Allah and the Messenger, nor be knowingly unfaithful to your trusts.

Pickthall

O ye who believe! Betray not Allah and His messenger, nor knowingly betray your trusts.

Yusuf Ali

O ye that believe! betray not the trust of Allah and the Messenger, nor misappropriate knowingly things entrusted to you.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

হে মু’মিনগণ! তোমরা জেনে বুঝে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করো না, আর যে বিষয়ে তোমরা আমানাত প্রাপ্ত হয়েছ তাতেও বিশ্বাস ভঙ্গ করো না।

রাওয়াই আল-বায়ান

হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের খিয়ানত করো না। আর খিয়ানত করো না নিজদের আমানতসমূহের, অথচ তোমরা জান।

শাইখ মুজিবুর রহমান

হে মু’মিনগণ! তোমরা জেনে শুনে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করনা এবং তোমাদের পরস্পরের আমানত সম্পর্কেও বিশ্বাস ভঙ্গ করনা।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

হে ইমানদারগণ! জেনে –বুঝে আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের খেয়ানত করো না এবং তোমাদের পরস্পরের আমানতেরও খেয়ানত করো না;

ফাতহুল মাজীদ

হে মু’মিনগণ! জেনে শুনে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা কর না এবং তোমাদের পরস্পরের আমানত সম্পর্কেও বিশ্বাস ঘাতকতা করো না;

মুখতাসার

২৭. হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের অনুসারী মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূলের আদেশ-নিষেধ অমান্য করে তাঁদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করো না। তোমাদের নিকট যা কিছু আমানত রাখা হয়েছে তার খিয়ানত করো না। যদি তোমরা এসব কাজে লিপ্ত হও তাহলে বিশ্বাসঘাতকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

২৭-২৮ নং আয়াতের তাফসীর: এই আয়াতটি আবু লুবাবাহ ইবনে আবদিল মুনযির (রাঃ)-এর সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়, যখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁকে ইয়াহূদী বানু কুরাইযার নিকট প্রেরণ করেন যেন তারা রাসূল (সঃ)-এর হুকুমের শর্ত মেনে নিয়ে দুর্গ খালি করে দেয়। তারা তখন আবু লুবাবাহর কাছেই পরামর্শ চায়। তখন তিনি তাদেরকে এ ব্যাপারে পরামর্শ দেন এবং তিনি স্বীয় হাত দ্বারা স্বীয় গলার প্রতি ইশারা করেন অর্থাৎ ওটা হচ্ছে যবেহ্ বা হত্যা। এরপর আবু লুবাবাহ্ (রাঃ) বুঝতে পারেন যে, তিনি আল্লাহ ও রাসূল (সঃ)-এর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। অতঃপর তিনি শপথ করে বসেন যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর তাওবা কবুল না করা পর্যন্ত তিনি মরে যাবেন সেও ভাল কিন্তু খাদ্য খাবেন না।

এরপর তিনি মদীনার মসজিদে এসে থামের সাথে নিজেকে বেঁধে ফেলেন। নয় দিন এভাবেই কেটে যায়। ক্ষুধা ও পিপাসায় কাতর হয়ে তিনি অচৈতন্য হয়ে পড়ে যান। শেষ পর্যন্ত রাসূল (সঃ) -এর উপর আল্লাহ তা'আলা তার তাওবা কবুলের আয়াত নাযিল করেন। জনগণ তঁাকে এই সুসংবাদ দেয়ার জন্যে তার কাছে আসে এবং থামের বন্ধন খুলে দেয়ার ইচ্ছা করেন। আবু লুবাবাহ (রাঃ) বলেনঃ “আমার বন্ধন শুধুমাত্র রাসূলুল্লাহ (সঃ) খুলতে পারেন।” তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) নিজে তার বন্ধন খুলে। দেন। ঐ সময় তিনি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে সম্বোধন করে বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমি আমার সমস্ত ধন-সম্পদ সাদকা করে দিলাম।” তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “তোমার জন্যে এক তৃতীয়াংশ সাদকা করাই যথেষ্ট হবে।” (এটা আব্দুর রাযযাক ইবনে আবি কাতাদা (রঃ) ও যুহরী (রঃ) বর্ণনা করেছেন) হযরত মুগীরা ইবনে শু'বা (রাঃ) বলেন যে, এ আয়াতটি হযরত উসমান (রাঃ)-এর শাহাদাতের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়।

কেননা ফিত্না-ফাসাদ সষ্টি করে হত্যা করে দেয়া হচ্ছে আল্লাহ ও রাসূল (সঃ)-এর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা।হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, আবু সুফিয়ান (রাঃ) মক্কা থেকে বের হন। হযরত জিবরাঈল (আঃ) এসে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে সংবাদ দেন যে, আবু সুফিয়ান (রাঃ) অমুক জায়গায় রয়েছেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) সাহাবীদেরকে বলেনঃ “আবু সুফিয়ান অমুক জায়গায় রয়েছে। তাকে গ্রেফতার করার জন্যে বেরিয়ে পড়। কিন্তু এ কথা সম্পূর্ণরূপে গোপন রাখতে হবে।” কিন্তু একজন মুনাফিক আবু সুফিয়ানকে লিখে পাঠায়ঃ, “মুহাম্মাদ (সঃ) ধরতে যাচ্ছেন, সুতরাং সাবধান হয়ে যাও।” তখন (আরবী) আয়াতটি অবতীর্ণ হয়।

এ হাদীসটি গারীব বা দুর্বল। আয়াতের ধরন হিসেবেও এটা প্রমাণিত হয় না। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে হাতিব ইবনে আবি বুলতাআ’র (রাঃ) ঘটনা নিম্নরূপ বর্ণিত আছেঃ তিনি কুরায়েশ কাফিরদেরকে নবী (সঃ)-এর পরিকল্পনা সম্পর্কে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে পত্র লিখেছিলেন। এটা ছিল মক্কা বিজয়ের সময়ের ঘটনা। আল্লাহ স্বীয় রাসূল (সঃ)-কে এ সংবাদ জানিয়ে দেন। সুতরাং তিনি পত্র বাহকের পিছনে লোক পাঠিয়ে দেন এবং ঐ পত্র ধরা পড়ে যায়। হাতিব (রাঃ)-কে ডাকা হয়। তিনি স্বীয় অপরাধ স্বীকার করেন। হযরত উমার ইবনে খাত্তাব (রাঃ) বলে উঠেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! এর গর্দান উড়িয়ে দিন।

কেননা, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ)-এর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।” তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ হে উমার (রাঃ)! যেতে দাও। কেননা, এ ব্যক্তি বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। তোমার কি জানা নেই যে, বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের সম্পর্কে আল্লাহ পাক বলেছেন- “তোমরা যা চাও তাই আমল কর, আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিলাম।” মোটকথা, সঠিক ব্যাপার এই যে, আয়াতটি সাধারণ। যদিও এটা সঠিক যে, আয়াতটির শানে নুকূল একটি বিশেষ কারণ। আর জমহুর আলেমের মতে শব্দের সাধারণত্বের দ্বারা উক্তি করা যেতে পারে, বিশেষ কারণ না থাকলে কোন আসে যায় না। খিয়ানতের সংজ্ঞার মধ্যে ছোট, বড়, সকর্মক ও অকর্মক সমস্ত পাপই মিলিত রয়েছে।

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, এখানে আমানত’ শব্দ দ্বারা ঐ সব আমলকে বুঝানো হয়েছে, যেগুলোকে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের উপর ফরয করে রেখেছেন। ভাবার্থ হচ্ছে- ফরয ভেঙ্গে দিয়ো না, সুন্নাত তরক করো না এবং পাপকার্য থেকে দূরে থাকো।উরওয়া ইবনে যুবাইর (রাঃ) বলেন যে, ভাবার্থ হচ্ছে- এমন কাজ করো না যে, সামনে তো কারো মর্জি মুতাবেক কথা বলবে, কিন্তু তার অনুপস্থিতিতে তার দুর্নাম করবে বা তার বিরোধিতা করবে। এটাই হচ্ছে প্রকৃত খিয়ানত। আমানত এর দ্বারাই শেষ হয়ে যায়। সুদ্দী বলেনঃ আল্লাহ ও রাসূল (সঃ)-এর খিয়ানত এটাই যে, মানুষ পরস্পরের সাথে খিয়ানত করে।

জনগণ নবী (সঃ)-এর কথা শুনতো এবং তা অন্যদেরকে বলে দিতো। এর ফলে ঐ সংবাদ মুশরিকদের কানেও পৌঁছে যেতো। এ জন্যেই নবী (সঃ) বলেছিলেন- “দু’জনের মধ্যকার কথা একটা আমানত। কথা যেখানে শুনবে সেখানেই রেখে দেয়া উচিত। কারো সামনে কারো কথার পুনরাবৃত্তি করা উচিত নয়, যদিও সে নিষেধ না করে থাকে।”(আরবী) ফিৎনার অর্থ হচ্ছে আযমায়েশ বা পরীক্ষা। আল্লাহ সন্তান দ্বারা পরীক্ষা করে থাকেন যে, সন্তান পেয়ে মানুষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে কি-না এবং সন্তানদের দায়িত্ব পূর্ণভাবে পালন করছে। কি-না। কিংবা হয়তো সন্তানের প্রতি ভালবাসার কারণে আল্লাহ থেকে গাফেল থাকছে।

যদি মানুষ এই পরীক্ষায় পূর্ণভাবে উত্তীর্ণ হতে পারে তবে আল্লাহর কাছে তাদের জন্যে বড় পুরস্কার রয়েছে। আল্লাহ পাক বলেনঃ “আমি তোমাদেরকে অকল্যাণ ও কল্যাণ দ্বারা পরীক্ষা করবো।” আর এক জায়গায় বলেনঃ “হে মুমিনগণ! তোমাদেরকে যেন তোমাদের মালধন ও সন্তান-সন্ততি আল্লাহর স্মরণ থেকে ভুলিয়ে না রাখে, আর যারা এরূপ করবে তারা হবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত।” আল্লাহ তা'আলা আর এক জায়গায় বলেনঃ “হে ঈমানদারগণ! নিশ্চয়ই তোমাদের স্ত্রীরা এবং তোমাদের সন্তানরা তোমাদের শত্রু, সুতরাং তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকবে।(আরবী) অর্থাৎ আল্লাহর নিকটে যে সাওয়াব ও জান্নাত রয়েছে তা এই ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি হতে বহুগুণে উত্তম।

এগুলো শক্রদের মত ক্ষতিকারক এবং এগুলোর অধিকাংশই মানুষের জন্যে কল্যাণকর নয়। আল্লাহ পাক দুনিয়া ও আখিরাতের মালিক। কিয়ামতের দিন তাঁর কাছে মহা পুরস্কার রয়েছে। হাদীসে রয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “হে আদম সন্তান! তুমি আমাকে খোঁজ কর, পেয়ে যাবে। তুমি যদি আমাকে পেয়ে যাও তবে জানবে যে, সবকিছুই পেয়ে গেছে । আর যদি আমাকে হারিয়ে দাও তবে সবকিছুই হারিয়ে দিয়েছো। তোমার কাছে আমিই সর্বাপেক্ষা বেশী প্রিয় হওয়া উচিত।”সহীহ হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তিনটি জিনিস যার মধ্যে রয়েছে সে ঈমানের আস্বাদ পেয়েছে। (১) যার কাছে সমস্ত জিনিস থেকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ) প্রিয়।

(২) যে ব্যক্তি কোন লোককে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যেই ভালবাসে। (৩) যে ব্যক্তির কাছে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াও অধিক পছন্দনীয় সেই কুফরীর দিকে ফিরে যাওয়া অপেক্ষা যা থেকে আল্লাহ তাকে রক্ষা করেছেন।” (এ হাদীসটি ইমাম বুখারী (রঃ) ও ইমাম মুসলিম (রঃ) তাখরীজ করেছেন) বরং সে রাসূল (সঃ)-এর মহব্বতকে ধনমাল ও সন্তান-সন্ততির উপরেও প্রাধান্য দিয়ে থাকে। যেমন সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে তাঁর শপথ! তোমাদের কেউই (পূর্ণ) মুমিন হতে পারে না যে পর্যন্ত না আমি তার কাছে তার নফস্ হতে, তার পরিবারবর্গ হতে, তার মাল হতে এবং সমস্ত লোক হতে বেশী প্রিয় হই।”

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

হে ইমানদারগণ ! জেনে –বুঝে আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের খেয়ানত করো না [১] এবং তোমাদের পরস্পরের আমানতেরও [২] খেয়ানত করো না [৩] ;

[১] আল্লাহর আমানত বলতে অধিকাংশের মতে যাবতীয় ফরয কাজ বুঝানো হয়েছে। আর রাসূলের আমানত বলতে তার সুন্নাত ও নির্দেশ বুঝানো হয়েছে। সে হিসাবে খেয়ানত হলো সেগুলো না মানা। [ফাতহুল কাদীর]

[২] নিজেদের আমানত বলতে সে সব দায়িত্ব বুঝানো হয়েছে, যা কারো প্রতি আস্থা স্থাপন করে তার উপর ন্যস্ত করা হয়। তা ওয়াদা পূরনের দায়িত্ব হতে পারে, সামগ্রিক সামাজিক চুক্তি হতে পারে, কোন সংস্থার আভ্যন্তরীণ গোপন তথ্য হতে পারে, ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগত ধন-সম্পদ হতে পারে। কারো প্রতি বিশ্বাস করে জনসমাজ যদি তাকে কোন দায়িত্বপূর্ণ পদে নিযুক্ত করে তবে তাও এর মধ্যে শামিল মনে করতে হবে। বিস্তারিত জানার জন্য সূরা আন- নিসার ৫৮ নং আয়াতের ব্যাখ্যা দেখুন।

[৩] আয়াতের দুটি অর্থ হতে পারে, প্রথম অর্থ যা উপরে করা হয়েছে। অর্থাৎ তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে খেয়ানত করো না এবং তোমাদের আমানতসমূহেরও খেয়ানত করো না। [তাবারী; ইবন কাসীর] দ্বিতীয় অর্থ, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে খেয়ানত করো না কারণ এতে করে তোমরা তোমাদের উপর অর্পিত আমানতেরই খেয়ানত করে বসবে। [তাবারী; বাগভী]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-আনফাল (৮): আয়াত ২৭] পূর্ণ পৃষ্ঠা

‌‌[সূরা আল-আনফাল (৮): আয়াত ২৬]আর স্মরণ করো, যখন তোমরা ছিলে সংখ্যায় অল্প, জমিনে দুর্বল ও নিপীড়িত; তোমরা ভয় করতে যে লোকেরা তোমাদের ছোঁ মেরে নিয়ে যাবে। অতঃপর তিনি তোমাদের আশ্রয় দিলেন, স্বীয় সাহায্য দ্বারা তোমাদের শক্তিশালী করলেন এবং তোমাদেরকে পবিত্র বস্তুসমূহ থেকে রিযিক দান করলেন, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। (২৬)আল্লাহ তাআলার বাণী: (আর স্মরণ করো, যখন তোমরা ছিলে সংখ্যায় অল্প) কালবী বলেন: এটি মুহাজিরদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে, অর্থাৎ হিজরতের পূর্বে এবং ইসলামের প্রাথমিক অবস্থায় তাঁদের অবস্থার বর্ণনা। (দুর্বল ও নিপীড়িত) এটি একটি বিশেষণ।

(জমিনে) অর্থাৎ মক্কার জমিনে। (তোমরা ভয় করতে) এটিও একটি বিশেষণ। (তোমাদের ছোঁ মেরে নিয়ে যাবে) এটি নসবের স্থলে রয়েছে। 'খাতফ' শব্দের অর্থ হলো দ্রুত কোনো কিছু ছিনিয়ে নেওয়া। (লোকেরা) এটি পেশযুক্ত হয়েছে 'ফায়েল' বা কর্তা হওয়ার কারণে। কাতাদাহ ও ইকরিমাহ বলেন: তারা হলো কুরাইশ মুশরিকরা। ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ বলেন: তারা হলো পারস্য ও রোমবাসী। (অতঃপর তিনি তোমাদের আশ্রয় দিলেন) ইবনে আব্বাস বলেন: আনসারদের নিকট। সুদ্দী বলেন: মদিনায়; তবে উভয়টির অর্থ একই। 'আওয়া' (দীর্ঘ টানে) অর্থ হলো কাউকে নিজের সাথে যুক্ত করে নেওয়া বা আশ্রয় দেওয়া। আর 'আওয়া' (হ্রস্ব টানে) অর্থ হলো নিজে আশ্রয় গ্রহণ করা।

(এবং তোমাদের শক্তিশালী করলেন) অর্থাৎ তোমাদের শক্তি প্রদান করলেন। (স্বীয় সাহায্য দ্বারা) অর্থাৎ তাঁর সাহায্যের মাধ্যমে। কেউ কেউ বলেছেন: আনসারদের মাধ্যমে। আবার কেউ বলেছেন: বদরের দিন ফেরেশতাদের মাধ্যমে। (এবং তোমাদেরকে পবিত্র বস্তুসমূহ থেকে রিযিক দান করলেন) অর্থাৎ যুদ্ধলব্ধ গনিমত। (যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো) এর অর্থ পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। ‌‌[সূরা আল-আনফাল (৮): আয়াত ২৭]হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে খিয়ানত করো না এবং তোমাদের আমানতসমূহেরও খিয়ানত করো না, অথচ তোমরা জানো। (২৭)বর্ণিত আছে যে, এটি আবু লুবাবাহ ইবনে আব্দুল মুনযির সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, যখন তিনি বনু কুরাইজাকে (হত্যার দিকে) ইশারা করেছিলেন।

আবু লুবাবাহ বলেন: আল্লাহর কসম, আমার পা দুটি সরানোর আগেই আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে খিয়ানত করেছি; তখন এই আয়াতটি নাজিল হয়। যখন আয়াতটি নাজিল হলো, তখন তিনি নিজেকে মসজিদের একটি খুঁটির সাথে বেঁধে ফেললেন এবং বললেন: আল্লাহর কসম, আমি ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো খাদ্য বা পানীয় গ্রহণ করব না যতক্ষণ না আমি মারা যাই অথবা আল্লাহ আমার তওবা কবুল করেন। এই ঘটনাটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ। ইকরিমাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন বনু কুরাইজার বিষয়টি ঘটল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে তাঁর সাথে থাকা একদল লোকসহ পাঠালেন।

আলী যখন তাদের কাছে পৌঁছালেন, তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শানে কটূক্তি করতে লাগল। এমতাবস্থায় জিবরাঈল আলাইহিস সালাম একটি চিত্রবিচিত্র ঘোড়ায় চড়ে এলেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: আমি যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে তাকাচ্ছিলাম যখন তিনি তাঁর চেহারা মোবারক থেকে ধূলিকণা মুছছিলেন।(১). জ, কাফ, হা এবং ইয়া পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: তাঁর শক্তির মাধ্যমে।(২). দ্রষ্টব্য: ১ম খণ্ড, ৩৯৭ পৃষ্ঠা।(৩). দ্রষ্টব্য: ৮ম খণ্ড, ২৪২ পৃষ্ঠা।

তাফসীর আদ-দুররুল মানসূর

পূর্ণ পৃষ্ঠা

ইবনুল মুনযির ইকরিমা থেকে আল্লাহর বাণী এবং আরও কেউ কেউ আছে যাদের বিষয় আল্লাহর নির্দেশের অপেক্ষায় স্থগিত রাখা হয়েছে প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: তারা হলেন সেই তিনজন যাদের (সিদ্ধান্ত গ্রহণ) পেছনে রাখা হয়েছিল।ইবনুল মুনযির, ইবনে আবি হাতিম এবং আবুশ শাইখ মুজাহিদ থেকে আল্লাহর বাণী এবং আরও কেউ কেউ আছে যাদের বিষয় স্থগিত রাখা হয়েছে প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তারা হলেন আউস ও খাজরাজ গোত্রের হিলাল বিন উমাইয়াহ, মুরারা বিন রাবী এবং কাব বিন মালিক।আবুশ শাইখ মুহাম্মদ বিন কাব থেকে বর্ণনা করেছেননিশ্চয়ই আবু লুবাবাহ বনু কুরাইজা গোত্রের প্রতি আঙুল দিয়ে ইশারা করে বুঝিয়েছিলেন যে এটি হবে জবাই (মৃত্যুদণ্ড), অতঃপর তিনি বলেছিলেন: আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছি।তখন নাযিল হয়: (তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের সাথে খিয়ানত করো না) (সূরা আল-আনফাল, আয়াত ২৭) এবং নাযিল হয়: এবং আরও কেউ কেউ আছে যাদের বিষয় আল্লাহর নির্দেশের অপেক্ষায় স্থগিত রাখা হয়েছে

অতঃপর তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন যাদের তওবা আল্লাহ কবুল করেছেন।ইবনে আবি হাতিম এবং আবুশ শাইখ সুদ্দী থেকে হয়তো তিনি তাদের শাস্তি দেবেন এই আয়াতাংশ সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: অর্থাৎ তিনি তাদের পাপের ওপর মৃত্যু দান করবেন। আর হয়তো তিনি তাদের তওবা কবুল করবেন বলতে তাদের বিষয়টি স্থগিত রাখা হয়েছিল, অতঃপর আল্লাহ তা রহিত (স্পষ্ট) করে দেন এবং বলেন: (এবং সেই তিনজনেরও তওবা কবুল করেছেন যাদের পেছনে রাখা হয়েছিল) (সূরা আত-তওবা, আয়াত ১১৮)। আয়াত ১০৭