Al-Anfal

আল-আনফাল: 53

8:53
8 আল-আনফাল Al-Anfal · 75 আয়াত الأنفال

আরবি

ذَٰلِكَ بِأَنَّ ٱللَّهَ لَمْ يَكُ مُغَيِّرًا نِّعْمَةً أَنْعَمَهَا عَلَىٰ قَوْمٍ حَتَّىٰ يُغَيِّرُوا۟ مَا بِأَنفُسِهِمْ ۙ وَأَنَّ ٱللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ

English Translations

Sahih International

That is because Allāh would not change a favor which He had bestowed upon a people until they change what is within themselves. And indeed, Allāh is Hearing and Knowing.

Muhsin Khan

That is so because Allah will never change a grace which He has bestowed on a people until they change what is in their ownselves. And verily, Allah is All-Hearer, All-Knower.

Taqi Usmani

All this is because Allah is not the one who may change a favour He has conferred on a people unless they change their own condition, and that Allah is All-Hearing, All-Knowing.

Abul Ala Maududi

This happened because Allah is not one to change the favour which He has bestowed upon a people until they have changed their attitude., Surely Allah is All-Hearing, All-Knowing.

Pickthall

That is because Allah never changeth the grace He hath bestowed on any people until they first change that which is in their hearts, and (that is) because Allah is Hearer, Knower.

Yusuf Ali

"Because Allah will never change the grace which He hath bestowed on a people until they change what is in their (own) souls: and verily Allah is He Who heareth and knoweth (all things)."

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

এটা এজন্য যে, আল্লাহ কোন সম্প্রদায়ের নিকট দেয়া তাঁর অবদানকে পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজেরাই (তাদের কর্মনীতির মাধ্যমে) তা পরিবর্তন করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

রাওয়াই আল-বায়ান

তা এ জন্য যে, আল্লাহ কোন নিআমতের পরিবর্তনকারী নন, যা তিনি কোন কওমকে দিয়েছেন, যতক্ষণ না তারা পরিবর্তন করে তাদের নিজদের মধ্যে যা আছে। আর নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

শাইখ মুজিবুর রহমান

এই শাস্তির কারণ এই যে, আল্লাহ যদি কোন জাতির উপর নি‘আমাত দান করেন সেই নি‘আমাত ততক্ষণ পর্যন্ত পরিবর্তন করেননা, যতক্ষণ পর্যন্ত সেই জাতি নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন না করে, নিঃসন্দেহে আল্লাহ মহাশ্রোতা ও মহাজ্ঞানী।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

এটা এজন্যে যে, যদি কোনো সম্প্রদায় নিজের অবস্থার পরিবর্তন না করে তবে আল্লাহ্‌ এমন নন যে, তিনি তাদেরকে যে নেয়ামত দান করেছেন, তাতে পরিবর্তন আনবেন এবং নিশ্চয় আল্লাহ্‌ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

ফাতহুল মাজীদ

এটা এজন্য যে, যদি কোন সম্প্রদায় নিজের অবস্থার পরিবর্তন না করে তবে আল্লাহ এমন নন যে, তিনি তাদেরকে যে নেয়ামত দান করেছেন, সেটা পরিবর্তন করবেন; এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

মুখতাসার

৫৩. এ কঠিন শাস্তি এ জন্য যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা কোন জাতিকে নিজ পক্ষ থেকে কোন নিয়ামত দিলে তিনি তা কখনো ছিনিয়ে নেন না যতক্ষণ না তারা নিজেদের ভালো অবস্থাকে তথা ঈমান, আমলে দৃঢ়তা ও নিয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতাকে আল্লাহর সাথে কুফরি, তাঁর বিরুদ্ধাচরণ ও তাঁর নিয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রদর্শন কর্তৃক পরিবর্তন করে দেয়। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের কথাগুলো শুনেন ও তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানেন। সেগুলোর কোনটিই তাঁর নিকট গোপন নয়।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

৫৩-৫৪ নং আয়াতের তাফসীর: এখানে আল্লাহ তা'আলার আদল ও ইনসাফের বর্ণনা দেয়া হচ্ছে যে, তিনি তার দেয়া নিয়ামতরাশি পাপকার্যের পূর্বে তাঁর বান্দাদের নিকট থেকে ছিনিয়ে নেন না। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছে- “আল্লাহ কোন কওমের অবস্থা পরিবর্তন করেন না যে পর্যন্ত না তারা নিজেরাই নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে। আল্লাহ যখন কোন কওমের প্রতি (তাদের পাপের কারণে) অমঙ্গল পৌছানোর ইচ্ছা করেন তখন কেউই তাঁর সেই ইচ্ছাকে রদ করতে পারে না এবং তিনি ছাড়া তাদের কোন সাহায্যকারী নেই।”আল্লাহ তা'আলা ফিরআউনের বংশধর এবং তাদের মত স্বভাব বিশিষ্ট তাদের পূর্ববর্তীদের সাথে এরূপ ব্যবহারই করেছিলেন। মহান আল্লাহ তাদেরকে নিয়ামতরাজি দান করেছিলেন। কিন্তু তারা দুঙ্কার্যে লিপ্ত হয়ে পড়েছিল। ফলে তিনি তাদেরকে প্রদত্ত বাগান, প্রস্রবণ, ক্ষেত-খামার, কোষাগার, অট্টালিকা এবং অন্যান্য নিয়ামত যা তারা উপভোগ করছিল সবই তাদের নিকট থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। এ ব্যাপারে তারা নিজেদের ক্ষতি নিজেরাই করেছিল। আল্লাহ তা'আলা তাদের প্রতি মোটেই অত্যাচার করেননি।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

এটা এজন্যে যে, যদি কোন সম্প্রদায় নিজের অবস্থার পরিবর্তন না করে তবে আল্লাহ্‌ এমন নন যে, তিনি তাদেরকে যে নেয়ামত দান করেছেন, তাতে পরিবর্তন আনবেন; এবং নিশ্চয় আল্লাহ্‌ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ [১]।

[১] এখানে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার নেয়ামতের স্থায়িত্বের জন্য এবং তা অব্যাহত রাখার জন্য একটি মূলনীতি বর্ণনা করেছেন। "আল্লাহ্ তা'আলা কোন জাতিকে যে নেয়ামত দান করেন, তিনি তা ততক্ষণ পর্যন্ত বদলান না, যে পর্যন্ত না সে জাতি নিজেই নিজের অবস্থা ও কার্যকলাপ বদলে দেয়”। সুতরাং যে জাতিকে আল্লাহ তা'আলা কোন নেয়ামত দান করেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি তা তাদের কাছ থেকে ফিরিয়ে নেন না, যে পর্যন্ত না তারা নিজেরাই নিজেদের অবস্থা ও কার্যকলাপকে পরিবর্তিত করে আল্লাহ তা'আলার আযাবকে আমন্ত্রণ জানায়। এ আয়াতটির ভাষ্য অন্যত্রও বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয় আল্লাহ কোন সম্প্রদায়ের অবস্থা পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তন করে। আর কোন সম্প্রদায়ের জন্য যদি আল্লাহ অশুভ কিছু ইচ্ছে করেন তবে তা রদ হওয়ার নয় এবং তিনি ছাড়া তাদের কোন অভিভাবক নেই।" [সূরা আর-রা’দ: ১১]

অবস্থা পরিবর্তনের অর্থ হচ্ছে সৎ ও ভাল অবস্থা ও কর্মের পরিবর্তে মন্দ অবস্থা ও কার্যকলাপ অবলম্বন করে নেয়া কিংবা আল্লাহ্ তা'আলার নেয়ামত আগমনের সময় যে সমস্ত মন্দ ও পাপ কাজে লিপ্ত ছিল নেয়ামত প্রাপ্তির পর তার চেয়ে অধিক মন্দ কাজে লিপ্ত হয়ে পড়া। [সা’দী]