Al-Mutaffifin

আল-মুতাফফিফীন: 29

83:29
টেক্সট কপি
83 আল-মুতাফফিফীন Al-Mutaffifin · 36 আয়াত المطففين

মূল আরবি

إِنَّ ٱلَّذِينَ أَجْرَمُوا۟ كَانُوا۟ مِنَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ يَضْحَكُونَ

English Translations

Sahih International

Indeed, those who committed crimes used to laugh at those who believed.

Muhsin Khan

Verily! (During the worldly life) those who committed crimes used to laugh at those who believed.

Taqi Usmani

Indeed those who were guilty used to laugh at those who believed,

Abul Ala Maududi

Behold, the wicked were wont to laugh at the believers:

Pickthall

Lo! the guilty used to laugh at those who believed,

Yusuf Ali

Those in sin used to laugh at those who believed,

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

পাপাচারী লোকেরা (দুনিয়ায়) মু’মিনদেরকে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করত।

রাওয়াই আল-বায়ান

নিশ্চয় যারা অপরাধ করেছে তারা মুমিনদেরকে নিয়ে হাসত।

শাইখ মুজিবুর রহমান

অপরাধীরা মু’মিনদেরকে উপহাস করত,

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

নিশ্চয় যারা অপরাধ করেছে তারা মুমিনদেরকে উপহাস করত

ফাতহুল মাজীদ

নিশ্চয়ই যারা অপরাধী তারা মু’মিনদরকে উপহাস করত।

মুখতাসার

২৯. নিশ্চয়ই যারা কুফরির মাধ্যমে অপরাধ করেছে তারা ঠাট্টার ছলে মুমিনদেরকে নিয়ে হাসাহাসি করে।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

২৯-৩৬ নং আয়াতের তাফসীরআল্লাহ তা'আলা পাপীদের সম্পর্কে খবর দিচ্ছেন যে, পৃথিবীতে তো তারা খুব বাহাদুরী দেখায়, মুমিনদেরকে ঠাট্টা বিদ্রুপ করে, চলাফেরার সময় তিরস্কার ভৎসনা করে, ব্যাঙ্গাত্মক উক্তি করে এবং আরও নানা প্রকার অবমাননাকর উক্তি করে নিজেদের দলের লোকদের কাছে গিয়ে তারা আপত্তিজনক নানা কথা বানিয়ে বলে, যা খুশী তাই করে বেড়ায় কুফরীতে উদ্বুদ্ধ হয়ে মুসলমানদেরকে নানা রকম কষ্ট দেয়। মুসলমানরা তাদের কথায় কান না দেওয়ায় তারা মুসলমানদেরকে ভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ট বলে আখ্যায়িত করে।আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ তাদেরকে মুমিনদের জন্য দারোগা করে পাঠানো হয়নি।

কাজেই কাফিরদের এসব বলার কোনই প্রয়োজন নেই। কাফিরদের কি হয়েছে যে, তারা মুমিনদের পিছনে লেগে থাকে এবং ব্যাঙ্গাত্মক কথাবার্তা বলে বেড়ায়? যেমন অন্য জায়গায় আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “তোরা হীন অবস্থায় এখানেই থাক এবং আমার সাথে কোন কথা বলিস না। আমার বান্দাদের মধ্যে একদল ছিল যারা বলতোঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা ঈমান এনেছি, সুতরাং আপনি আমাদেরকে ক্ষমা করুন ও আমাদের প্রতি দয়া করুন, আপনি তো দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু। কিন্তু তাদেরকে নিয়ে তোমরা এতো ঠাট্টা বিদ্রুপ করতে যে, ওটা তোমাদেরকে আমার কথা ভুলিয়ে দিয়েছিল।

তোমরা তো তাদেরকে নিয়ে হাসি ঠাট্টাই করতে। আমি আজ তাদেরকে তাদের ধৈর্যের কারণে এমনভাবে পুরস্কৃত করলাম যে, তারাই হলো সফলকাম।” (২৩:১০৮-১১১) এ জন্যেই এখানে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ আজ কিয়ামতের দিন মুমিনগণ কাফিরদেরকে উপহাস করছে ও সুসজ্জিত আসন হতে তাদেরকে অবলোকন করছে। এটা স্পষ্টভাবে একথাই প্রমাণ করে যে, এ মুমিনরাই ছিল সুপথ প্রাপ্ত, এরা পথভ্রষ্ট ছিল না, বরং তোমরা নিজেরাই ছিলে পথভ্রষ্ট। অথচ তোমরা এদেরকে পথভ্রষ্ট বলতে। প্রকৃত পক্ষে এ মুমিনগণ ছিল আল্লাহর বন্ধু এবং তাঁর নৈকট্যপ্রাপ্ত। এ জন্যেই আজ আল্লাহর দীদার এদের চোখের সামনে রয়েছে, এরা আজ আল্লাহর মেহমান এবং তার দেয়া মর্যাদাসিক্ত উচ্চাসনে সমাসীন।এরপর মহাপ্রতাপান্বিত আল্লাহ বলেনঃ এসব কাফির দুনিয়ার এই মুসলমানদের সাথে যে সব দুর্ব্যবহার করেছে, আজ কি তারা তাদের সেই সব ব্যবহারের পুরোপুরি প্রতিফল পেয়েছে?

অবশ্যই পেয়েছে। তাদের পরিহাসের পরিবর্তে আজ তারা পরিহাস লাভ করেছে। এ কাফিররা যে সব মুসলমানকে মর্যাদাহীন বলতো, আল্লাহ আজ তাদেরকে সম্মানিত করেছেন। মোটকথা সমস্ত মানুষই আজ কিয়ামতের দিন নিজেদের কৃতকর্মের পুরোপুরি প্রতিফল প্রাপ্ত হয়েছে। তাদের কাজের বিনিময় তারা পেয়ে গেছে।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

নিশ্চয় যারা অপরাধ করেছে তারা মুমিনদেরকে উপহাস করত, [১]

[১] অর্থাৎ একথা ভাবতে ভাবতে ঘরের দিকে ফিরতো: আজ তো বড়ই মজা। ওমুক মুসলিমকে বিদ্রুপ করে, তাকে চোখা চোখা বাক্যবাণে বিদ্ধ করে বড়ই মজা পাওয়া গেছে এবং সাধারণ মানুষের সামনে তাকে চরমভাবে অপদস্থ করা গেছে। মোটকথাঃ তারা মু‘মিনদের নিয়ে অপমানজনক কথা-বার্তা, আচার আচরণ, ইশারা-ইঙ্গিত করত। আর মজা লাভ করত। [ফাতহুল কাদীর]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩): আয়াত ২৯ থেকে ৩৬] পূর্ণ পৃষ্ঠা

[সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩): আয়াত ২৯ থেকে ৩৬]নিশ্চয়ই যারা অপরাধী ছিল, তারা মুমিনদের দেখে উপহাস করত। (২৯) আর যখন তারা তাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করত, তখন তারা চোখ টিপে ইশারা করত। (৩০) এবং যখন তারা তাদের পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে যেত, তখন তারা অত্যন্ত প্রফুল্ল হয়ে ফিরত। (৩১) আর যখন তারা মুমিনদের দেখত, তখন বলত: "নিশ্চয়ই এরা পথভ্রষ্ট।" (৩২) অথচ তাদেরকে মুমিনদের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে পাঠানো হয়নি। (৩৩)সুতরাং আজ মুমিনরা কাফেরদের দেখে উপহাস করছে। (৩৪) সুসজ্জিত আসনে বসে তারা পর্যবেক্ষণ করছে। (৩৫) কাফেররা যা করত, তার প্রতিদান কি তারা পেয়েছে?

(৩৬)আল্লাহ তাআলার বাণী: (নিশ্চয়ই যারা অপরাধী ছিল) এখানে দুনিয়াতে মুমিনদের সাথে কাফেরদের আচরণের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে যে, তারা তাদের বিদ্রূপ করত। আর এর দ্বারা কুরাইশদের মুশরিক নেতাদের বোঝানো হয়েছে। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে একদল বর্ণনা করেছেন যে, তারা হলো: ওলীদ ইবনে মুগীরা, উকবা ইবনে আবি মুআইত, আস ইবনে ওয়াইল, আসওয়াদ ইবনে আবদ ইয়াগুস, আস ইবনে হিশাম, আবু জাহল এবং নযর ইবনে হারিস। আর তারা (মুমিনদের থেকে) অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের থেকে, যেমন: আম্মার, খাব্বাব, সুহাইব এবং বিলাল (রা.)। (উপহাস করত) অর্থাৎ বিদ্রূপাত্মক হাসি হাসত।

(আর যখন তারা তাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করত)যখন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসত (তখন তারা চোখ টিপে ইশারা করত): অর্থাৎ তারা একে অপরের দিকে চোখ টিপে ইশারা করত এবং চোখের ইশারায় বিদ্রূপ করত। কেউ কেউ বলেছেন: এর অর্থ হলো তারা মুমিনদের ইসলাম গ্রহণের কারণে লজ্জিত করত এবং তাদের খুঁত ধরত। বলা হয়: আমি আমার হাত দিয়ে জিনিসটি টিপে ধরলাম। কবি বলেন:আমি যখন কোনো গোত্রের বল্লমের অগ্রভাগ টিপে পরীক্ষা করতাম … তখন হয় তার গ্রন্থিগুলো ভেঙে ফেলতাম নতুবা তা সোজা করে দিতাম।আয়েশা (রা.) বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিজদাহ করতেন তখন আমাকে আলতোভাবে স্পর্শ (চিমটি কাটার মতো) করতেন, তখন আমি আমার পা সংকুচিত করে নিতাম।

এই হাদীসটি ইতিপূর্বে 'নিসা' অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে। আবার চোখের ইশারা করাকেও 'গাময' বলা হয়। কেউ কেউ বলেন: 'গাময' শব্দের অর্থ দোষারোপ করা; বলা হয় তাকে দোষারোপ করা হয়েছে। আর অমুকের মধ্যে কোনো দোষ নেই। মুকাতিল বলেন: এই আয়াত আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)-এর ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে; তিনি একদল মুসলিমসহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসছিলেন, তখন মুনাফিকরা তাদের প্রতি বিদ্রূপ করল, হাসাহাসি করল এবং একে অপরকে চোখ টিপে ইশারা করল। (এবং যখন তারা ফিরে যেত) অর্থাৎ যখন তারা তাদের পরিবার, সঙ্গী ও আত্মীয়স্বজনদের কাছে ফিরে যেত (তখন তারা প্রফুল্ল হয়ে ফিরত) অর্থাৎ তাদের বিদ্রূপ করে আনন্দিত হয়ে।

কেউ কেউ বলেন: তারা তাদের কুফরির ওপর গর্বিত হয়ে এবং মুমিনদের নিয়ে উপহাস করতে করতে ফিরত। ইবনুল কাকা, হাফস, আরায এবং সুলামী আলিফ ব্যতিরেকে 'ফাকিহীন' পাঠ করেছেন। অবশিষ্টগণ আলিফসহ পাঠ করেছেন। আল-ফাররা বলেন: এ দুটি একই শব্দের দুটি ভিন্ন রূপ যেমন...(১). দেখুন ৫খণ্ড, ২২৬ পৃষ্ঠা।