An-Naml
আন-নামল: 1
27 আন-নামল An-Naml · 93 আয়াত النمل
মূল আরবি
طسٓ ۚ تِلْكَ ءَايَـٰتُ ٱلْقُرْءَانِ وَكِتَابٍ مُّبِينٍ
English Translations
Ṭā, Seen. These are the verses of the Qur’ān [i.e., recitation] and a clear Book
Ta-Sin. [These letters are one of the miracles of the Quran, and none but Allah (Alone) knows their meanings]. These are the Verses of the Quran, and (it is) a Book (that makes things) clear;
Tā Sīn . These are the verses of the Qur’ān and an enlightening book,
Ta'. Sin. These are the verses of the Qur'an and a Clear Book;
Ta. Sin. These are revelations of the Qur'an and a Scripture that maketh plain;
These are verses of the Qur'an,-a book that makes (things) clear;
বাংলা অনুবাদ
তা-সীন, এগুলো কুরআনের আয়াত ও সুস্পষ্ট কিতাবের;
ত্ব-সীন; এগুলো আল-কুরআন ও সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।
তা সীন; এগুলি আয়াত আল-কুরআনের এবং সুস্পষ্ট কিতাবের।
ত্বা-সীন; এগুলো আল-কুরআন এবং সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত;
ত্বা-সীন; এগুলো কুরআন এবং সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত;
১. ত্বা-সীন। সূরা বাকারাহর শুরুতে এ জাতীয় অক্ষর সমষ্টির ব্যাপারে কথা হয়ে গেছে। বস্তুতঃ আপনার উপর নাযিলকৃত এ আয়াতসমূহ কুর‘আনেরই আয়াত এবং এমন সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত যাতে কোন ধরনের সন্দেহ নেই। যে ব্যক্তি তা নিয়ে চিন্তা করে দেখেছে সে অবশ্যই এ কথা বুঝতে পেরেছে যে, নিশ্চয়ই এ কুর‘আন আল্লাহরই পক্ষ থেকে।
তাফসীর
১-৬ নং আয়াতের তাফসীরসূরাসমূহের শুরুতে যে হুরূফে মুকাত্তাআত বা বিছিন্ন অক্ষরগুলো এসে থাকে সেগুলোর পূর্ণ আলোচনা সূরায়ে বাকারার শুরুতে করা হয়েছে। সুতরাং এখানে ওগুলোর পুনরাবৃত্তি নিষ্প্রয়োজন। এগুলো হলো উজ্জ্বল ও সুস্পষ্ট কুরআনের আয়াত। এগুলো হলো মুমিনদের জন্যে পথ-নির্দেশ ও সুসংবাদ। কেননা তারাই এগুলোকে বিশ্বাস করতঃ এগুলোর অনুসরণ করে থাকে। তারা কুরআনকে সত্য বলে স্বীকার করে এবং ওর উপর আমল করে থাকে।এরা তারাই যারা সঠিকভাবে ফরয নামায আদায় করে এবং অনুরূপভাবে ফরয যাকাত প্রদানের ব্যাপারেও কোন ত্রুটি করে না। আর তারা পরকালের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রাখে।
মৃত্যুর পরে পুনরুত্থান এবং এরপরে পুরস্কার ও শাস্তিকেও তারা স্বীকার করে থাকে। জান্নাত ও জাহান্নামকে তারা সত্য বলে বিশ্বাস করে। যেমন অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবি)অর্থাৎ “তুমি বল- এই কুরআনি মুমিনদের জন্যে হিদায়াত ও শিফা (রোগমুক্তি), আর যারা মুমিন নয় তাদের কর্ণসমূহে বধিরতা রয়েছে।” (৪১:৪৪) আর এক জায়গায় রয়েছে (আরবি) অর্থাৎ “যেন তুমি এর দ্বারা আল্লাহ-ভীরুদেরকে সুসংবাদ দাও এবং অবাধ্য ও দুষ্ট লোকদেরকে ভয় প্রদর্শন কর।” (১৯:৯৭)এখানেও মহান আল্লাহ বলেনঃ যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাদের দৃষ্টিতে তাদের কর্মকে আমি শোভনীয় করেছি।
তাদের কাছে তাদের মন্দ কাজও ভাল মনে হয়। তাই তারা ঔদ্ধত্য ও বিভ্রান্তিতে ঘুরে বেড়ায়। তাদেরই জন্যে রয়েছে কঠিন শাস্তি এবং আখিরাতে তারাই হবে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত।মহামহিমান্বিত আল্লাহ স্বীয় নবী (সঃ)-কে সম্বোধন করে বলেনঃ হে নবী (সঃ)! নিশ্চয়ই তোমাকে আল-কুরআন দেয়া হয়েছে প্রজ্ঞাময় সর্বজ্ঞের নিকট হতে। তাঁর আদেশ ও নিষেধের মধ্যে কি নিপুণতা রয়েছে তা তিনিই ভাল জানেন। ছোট বড় সমস্ত কাজ সম্পর্কে তিনি পূর্ণ অবহিত। সুতরাং কুরআন কারীমের সবকিছুই নিঃসন্দেহে সত্য। এর মধ্যে যেসব আদেশ ও নিষেধ রয়েছে সবই ন্যায় ও ইনসাফপূর্ণ। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “তোমার প্রতিপালকের কথা সত্য ও ন্যায় রূপে পূর্ণ হয়ে গেছে।” (৬: ১১৬)
ত্বা-সীন; এগুলো আল-কুরআন এবং সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত [১];
[১] “সুস্পষ্ট কিতাবের” একটি অর্থ হচ্ছে, এ কিতাবটি নিজের শিক্ষা, বিধান ও নিদের্শগুলো একেবারে দ্ব্যর্থহীন পদ্ধতিতে বর্ণনা করে দেয়। এর দ্বিতীয় অর্থ হচ্ছে, এটি যে আল্লাহ্র কিতাব সে ব্যাপারটি সুস্পষ্ট। [ফাতহুল কাদীর]
[সূরা আন-নামল (২৭): আয়াত ১ থেকে ৬] পূর্ণ পৃষ্ঠা
জাহান্নাম, আর তা নিকৃষ্টতম গন্তব্য; এবং তাদের প্রত্যাবর্তন হবে শাস্তির দিকে, যা নিকৃষ্টতম প্রত্যাবর্তনস্থল। 'মুনকালাব' (প্রত্যাবর্তনস্থল) এবং 'মারজি' (প্রত্যাবর্তনস্থল)-এর মধ্যে পার্থক্য হলো, 'মুনকালাব' অর্থ হলো বর্তমানে যা আছে তার বিপরীত অবস্থার দিকে স্থানান্তরিত হওয়া; আর 'মারজি' হলো বর্তমান অবস্থা থেকে পূর্বের কোনো অবস্থায় ফিরে যাওয়া। সুতরাং প্রত্যেক 'মারজি' ই 'মুনকালাব', কিন্তু প্রত্যেক 'মুনকালাব' 'মারজি' নয়। আল্লাহই ভালো জানেন। ইমাম আল-মাওয়ার্দী এটি উল্লেখ করেছেন। এবং "আইয়্যা" শব্দটি "ইয়ানকালিবুন" দ্বারা মানসূব (নসবপ্রাপ্ত) হয়েছে এবং তা মাসদার বা ক্রিয়ামূলের অর্থে ব্যবহৃত।
এটি "সাইয়া'লামু" দ্বারা মানসূব হওয়া বৈধ নয়, কারণ ব্যাকরণবিদদের মতে "আইয়্যু" এবং অন্যান্য প্রশ্নবোধক বিশেষ্যগুলোর ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী কোনো শব্দ আমল বা প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। আল-নাহহাস বলেন: এ বিষয়ে প্রকৃত বক্তব্য হলো, প্রশ্নবোধক ভাবটি একটি স্বতন্ত্র অর্থ এবং তার পূর্ববর্তী অংশটি অন্য একটি অর্থ বহন করে; যদি পূর্ববর্তী শব্দ এতে আমল করত, তবে এক অর্থ অন্য অর্থের সাথে সংমিশ্রিত হয়ে যেত। সূরা আন-নামলপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সর্বসম্মত মতানুসারে এটি সম্পূর্ণ মাক্কী সূরা এবং এর আয়াত সংখ্যা বিরানব্বই। কারো কারো মতে চুরানব্বই আয়াত।
[সূরা আন-নামল (২৭): আয়াত ১ থেকে ৬]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।ত্ব-সীন, এগুলো কুরআনের আয়াত এবং সুস্পষ্ট কিতাবের (১)। মুমিনদের জন্য পথনির্দেশ ও সুসংবাদ (২)। যারা সালাত কায়েম করে ও যাকাত প্রদান করে এবং তারাই পরকালের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখে (৩)। নিশ্চয় যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, আমি তাদের কাজগুলোকে তাদের নিকট সুশোভিত করে দিয়েছি, ফলে তারা বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায় (৪)।এরাই তারা যাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি এবং পরকালে তারাই সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত (৫)। আর নিশ্চয়ই আপনাকে প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞের পক্ষ থেকে কুরআন দান করা হচ্ছে (৬)।মহান আল্লাহর বাণী: (ত্ব-সীন, এগুলো কুরআনের আয়াত এবং সুস্পষ্ট কিতাবের)।
বিচ্ছিন্ন অক্ষরসমূহ সম্পর্কে আলোচনা সূরা আল-বাকারা এবং অন্যান্য স্থানে অতিবাহিত হয়েছে। "তিলকা" এখানে "এই" অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ এই সূরাটি কুরআনের আয়াত এবং সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াতসমূহ। কুরআন শব্দটিকে নির্দিষ্ট (মারেফাহ) হিসেবে এবং "কিতাবিন মুবীন" শব্দটিকে অনির্দিষ্ট (নাকিরাহ) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও উভয়ই নির্দিষ্ট অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে; যেমনটি আপনি বলে থাকেন: অমুক ব্যক্তি একজন বুদ্ধিমান লোক এবং অমুক সেই বুদ্ধিমান ব্যক্তি। "কিতাব" অর্থই কুরআন; এখানে উভয় গুণই একত্রিত করা হয়েছে, কারণ তা লিখনের মাধ্যমে প্রকাশ পায় এবং পাঠের মাধ্যমেও প্রকাশ পায়।
এটি ইতিপূর্বেও আলোচিত হয়েছে।
