An-Naml
আন-নামল: 43
27 আন-নামল An-Naml · 93 আয়াত النمل
মূল আরবি
وَصَدَّهَا مَا كَانَت تَّعْبُدُ مِن دُونِ ٱللَّهِ ۖ إِنَّهَا كَانَتْ مِن قَوْمٍ كَـٰفِرِينَ
English Translations
And that which she was worshipping other than Allāh had averted her [from submission to Him]. Indeed, she was from a disbelieving people."
And that which she used to worship besides Allah has prevented her (from Islam), for she was of a disbelieving people.
And she was prevented (from submitting before this) by that which she used to worship instead of Allah. Indeed she was from a disbelieving people.
What prevented her (from accepting the True Faith) was her worshipping deities other than Allah, for she belonged to an unbelieving people.
And (all) that she was wont to worship instead of Allah hindered her, for she came of disbelieving folk.
And he diverted her from the worship of others besides Allah: for she was (sprung) of a people that had no faith.
বাংলা অনুবাদ
আল্লাহর পরিবর্তে সে যার পূজা করত তাই তাকে সত্য পথে চলা থেকে বাধা দিয়ে রেখেছিল, সে নারী ছিল কাফির সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।
আর আল্লাহকে বাদ দিয়ে যার পূজা সে করত তা তাকে ঈমান থেকে নিবৃত্ত করেছিল। নিশ্চয় সে ছিল কাফির সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।
আল্লাহর পরিবর্তে সে যার পূজা করত তা’ই তাকে সত্য হতে নিবৃত করেছিল, সে ছিল কাফির সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।
আর আল্লাহ্র পরিবর্তে সে যার পূজা করত সেটাই তাকে নিবৃত্ত করেছিল, সে তো ছিল কাফের সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।
আল্লাহ তা‘আলার পরিবর্তে যে যার পূজো করত তাই তাকে সত্য হতে বিরত রেখেছে, সে ছিল কাফির সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।
৪৩. সে তার সম্প্রদায়ের অনুসারী ও অনুগত হয়ে আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর পূজা করতো। এটাই তাকে মূলতঃ আল্লাহর তাওহীদ থেকে সরিয়ে রেখেছিলো। বস্তুতঃ সে আল্লাহর সাথে কুফরিকারী সম্প্রদায়েরই অন্তর্ভুক্ত ছিলো। তাই সে তাদের মতোই কাফির ছিলো।
তাফসীর
27:41
আর আল্লাহ্র পরিবর্তে সে যার পূজা করত সেটাই তাকে নিবৃত্ত করেছিল [১], সে তো ছিল কাফের সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।
[১] বলা হয়েছেঃ ‘আল্লাহ্র পরিবর্তে সে যার পূজা করত সেটাই তাকে নিবৃত্ত করেছে’ এখানে যে অর্থ করা হয়েছে তার দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, আল্লাহ্র পরিবর্তে যে সমস্ত বস্তুর ইবাদত সে করত। যেমন চাঁদ-সূৰ্য সেগুলিই তাকে ঈমান আনতে বাধ সাধছিল। কারণ, মানুষের মনে একবার কোন কিছুর মহব্বত গেঁথে গেলে সেটা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে। সে জন্য সে হক জানার পরও ঈমান আনতে দেরী করছিল। এ অর্থানুসারে আলোচ্য বাক্যাংশটি আল্লাহ্র পক্ষ থেকে তার অবস্থান সুস্পষ্ট করার জন্য বলা হয়েছে। অর্থাৎ তার মধ্যে জিদ ও একগুয়েমী ছিল না। শুধুমাত্র কাফের জাতির মধ্যে জন্ম নেয়ার কারণেই তিনি তখনো পর্যন্ত কাফের ছিলেন।
সচেতন বুদ্ধিবৃত্তির অধিকারী হবার পর থেকেই যে জিনিসের সামনে সিজদাবনত হবার অভ্যাস তার মধ্যে গড়ে উঠেছিল সেটিই ছিল তার পথের প্রতিবন্ধক। সুলাইমান আলাইহিসসালামের মুখোমুখি হবার পর যখন তার চোখ খুলে তখন এ প্রতিবন্ধক দূর হতে এক মুহুৰ্তও দেরী হয় নি। আয়াতের আরেকটি অর্থ এও করা হয় যে, ‘আল্লাহ্ ছাড়া যাদের ইবাদত সে করত তা থেকে তাকে নিবৃত্ত করা হয়েছে’। তখন নিবৃত্তকারী স্বয়ং আল্লাহ্ হতে পারেন কারণ তিনি তা হারাম ঘোষণা করেছেন। অথবা সুলাইমান আলাইহিসসালামও হতে পারেন। কারণ, ঈমান আনতে বাধ্য করার মাধ্যমে সুলাইমান আলাইহিসসালাম তাকে অন্য কিছুর ইবাদত ত্যাগ করতে বাধ্য করলেন।
[দেখুন, তাবারী; কুরতুবী; ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর]
[সূরা আন-নামল (২৭): আয়াত ৪১ থেকে ৪৩] পূর্ণ পৃষ্ঠা
[সূরা আন-নামল (২৭): আয়াত ৪১ থেকে ৪৩]তিনি বললেন, ‘তোমরা তার জন্য তার সিংহাসনটি অপরিচিত করে দাও, আমরা দেখব সে সঠিক দিশা পায় নাকি সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হয় যাদের সঠিক দিশা নেই।’ (৪১) অতঃপর যখন সে উপস্থিত হলো, তাকে বলা হলো, ‘তোমার সিংহাসন কি এরূপই?’ সে বলল, ‘মনে হয় এটিই।’ আর আমাদের এর পূর্বেই জ্ঞান দান করা হয়েছিল এবং আমরা অনুগত ছিলাম। (৪২) আর আল্লাহর পরিবর্তে সে যার ইবাদত করত, সেটিই তাকে (ঈমান থেকে) নিবৃত্ত রেখেছিল; নিশ্চয় সে ছিল এক কাফির সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। (৪৩)মহান আল্লাহর বাণী: (তিনি বললেন: তোমরা তার জন্য তার সিংহাসনটি অপরিচিত করে দাও) অর্থাৎ সেটিকে পরিবর্তন করে দাও।
বলা হয়েছে: সেটির উপরের অংশ নিচে এবং নিচের অংশ উপরে করে দেওয়া হয়েছিল। আরও বলা হয়েছে: তাতে কিছু বৃদ্ধি করে বা কমিয়ে পরিবর্তন করা হয়েছিল। আল-ফাররা এবং অন্যান্যরা বলেন: তিনি সেটিকে অপরিচিত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন কারণ শয়তানরা তাঁকে বলেছিল যে, তার বুদ্ধিতে কিছুটা ত্রুটি রয়েছে, তাই তিনি তাকে পরীক্ষা করতে চাইলেন। বলা হয়েছে: জিনরা ভয় পেয়েছিল যে সুলাইমান তাকে বিয়ে করবেন এবং তাঁর ঔরসে তার গর্ভে সন্তান জন্মাবে, ফলে তারা চিরকাল সুলাইমানের বংশধরদের অনুগত থাকতে বাধ্য হবে। তাই তারা সুলাইমানকে বলেছিল: সে স্বল্পবুদ্ধিসম্পন্ন এবং তার পা গাধার পায়ের মতো।
তখন তিনি বললেন: "তোমরা তার জন্য তার সিংহাসনটি অপরিচিত করে দাও" যাতে আমরা তার বুদ্ধি পরীক্ষা করতে পারি। সুলাইমানের একজন হিতাকাঙ্ক্ষী জিন ছিল, সে বলল: তাকে পা উন্মুক্ত করার কথা না বলে আমি কীভাবে তার পা দুটি দেখতে পারি? সে বলল: আমি এই প্রাসাদে পানি রাখব এবং পানির উপরে কাঁচ বসিয়ে দেব, সে মনে করবে এটি পানি এবং (তা পার হতে) নিজের কাপড় উপরে তুলবে, তখন আপনি তার পা দেখতে পাবেন। আর এটিই সেই স্বচ্ছ প্রাসাদ যার কথা মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন। মহান আল্লাহর বাণী: (অতঃপর যখন সে উপস্থিত হলো) এখানে বিলকিসকে বোঝানো হয়েছে। তাকে (বলা হলো), (তোমার সিংহাসন কি এরূপই?
সে বলল: মনে হয় এটিই) সে সেটির সাথে সাদৃশ্য প্রকাশ করল কারণ সে তো তা তালাবদ্ধ অবস্থায় রেখে এসেছিল। ফলে সে এটি পুরোপুরি স্বীকারও করেনি আবার অস্বীকারও করেনি। এতে সুলাইমান তার বুদ্ধির পূর্ণতা বুঝতে পারলেন। ইকরিমাহ বলেন: সে বুদ্ধিমতী ছিল, তাই বলেছিল: "মনে হয় এটিই"। মুকাতিল বলেন: সে সেটি চিনতে পেরেছিল কিন্তু তাদের জন্য বিষয়টি অস্পষ্ট করে রেখেছিল যেমন তারা তার জন্য অস্পষ্টতা তৈরি করেছিল। তাকে যদি জিজ্ঞাসা করা হতো "এটিই কি তোমার সিংহাসন?" তবে সে বলত "হ্যাঁ, এটিই"। হাসান ইবনুল ফাদলও অনুরূপ বলেছেন। আরও বলা হয়েছে: সুলাইমান তাকে দেখাতে চেয়েছিলেন যে জিন ও শয়তানরা তাঁর অনুগত, যাতে সে বুঝতে পারে যে এটি নবুওয়াত এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনে।
এও বলা হয়েছে যে, বিলকিস ইতিপূর্বে দাস ও দাসীদের বিষয়ে যে চাতুর্য দেখিয়েছিল, তার বিপরীতে এটি করা হয়েছে। (আর আমাদের এর পূর্বেই জ্ঞান দেওয়া হয়েছিল) বলা হয়েছে: এটি বিলকিসের উক্তি, অর্থাৎ সিংহাসনের এই নিদর্শনের পূর্বেই আমরা সুলাইমানের নবুওয়াতের সত্যতা সম্পর্কে জ্ঞানপ্রাপ্ত হয়েছিলাম। (এবং আমরা অনুগত ছিলাম) অর্থাৎ তাঁর নির্দেশের অনুগামী ছিলাম। আবার বলা হয়েছে: এটি সুলাইমানের উক্তি, অর্থাৎ আমাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে...
