An-Naml
আন-নামল: 3
27 আন-নামল An-Naml · 93 আয়াত النمل
মূল আরবি
ٱلَّذِينَ يُقِيمُونَ ٱلصَّلَوٰةَ وَيُؤْتُونَ ٱلزَّكَوٰةَ وَهُم بِٱلْـَٔاخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ
English Translations
Who establish prayer and give zakāh, and of the Hereafter they are certain [in faith].
Those who perform As-Salat (Iqamat-as-Salat) and give Zakat and they believe with certainty in the Hereafter (resurrection, recompense of their good and bad deeds, Paradise and Hell, etc.).
who establish Salāh and pay Zakāh and who have faith in the Hereafter.
who establish Prayer and give Zakah, and have firm faith in the Hereafter.
Who establish worship and pay the poor-due and are sure of the Hereafter.
Those who establish regular prayers and give in regular charity, and also have (full) assurance of the hereafter.
বাংলা অনুবাদ
যারা নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে আর তারা আখিরাতে বিশ্বাসী।
যারা সালাত কায়েম করে এবং যাকাত দেয়। আর তারাই আখিরাতের প্রতি নিশ্চিত বিশ্বাস রাখে।
যারা সালাত কায়েম করে ও যাকাত প্রদান করে এবং যারা আখিরাতে নিশ্চিত বিশ্বাসী।
যারা সালাত কায়েম করে ও যাকাত দেয় আর তারাই আখেরাতে নিশ্চিত বিশ্বাস রাখে।
যারা সালাত কায়েম করে ও যাকাত দেয় আর তারাই আখিরাতে নিশ্চিত বিশ্বাসী।
৩. যারা পরিপূর্ণরূপে সালাত আদায় করে এবং সঠিক পন্থায় নিজেদের সম্পদসমূহের যাকাত দান করে উপরন্তু আখিরাতের সাওয়াব ও শাস্তিতে বিশ্বাস করে।
তাফসীর
27:1
যারা সালাত কায়েম করে ও যাকাত দেয় আর তারাই আখেরাতে নিশ্চিত বিশ্বাস রাখে [১]।
[১] অর্থাৎ কুরআন মজীদের এ আয়াতগুলো কেবলমাত্র এমনসব লোকদেরই পথ নির্দেশনা দেয় এবং শুভ পরিণামের সুসংবাদও একমাত্র এমনসব লোকদের দান করে যাদের মধ্যে দু’টি বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী পাওয়া যায়। একটি হচ্ছে, তারা ঈমান আনে এবং সে ঈমান অনুসারে আমল করে। ঈমান আনার অর্থ হচ্ছে তারা কুরআন ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাওয়াত গ্ৰহণ করে। এক আল্লাহ্কে নিজেদের একমাত্র উপাস্য ও রব বলে মেনে নেয়। কুরআনকে আল্লাহ্র কিতাব হিসেবে স্বীকার করে নেয়। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সত্য নবী বলে গ্ৰহণ করে। আর আমল করার অর্থ হচ্ছে, তারা এ বিষয়গুলো কেবলমাত্র মেনে নিয়েই বসে থাকে না বরং কার্যত এগুলোর অনুসরণ ও আনুগত্য করতে উদবুদ্ধ হয়।
তাই তারা সালাত কায়েম করে এবং যাকাত দেয়। দ্বিতীয় গুণটি হচ্ছে, তারা ঈমান রাখে যে, এ জীবনের পর দ্বিতীয় আর একটি জীবন আছে, সেখানে আমাদের নিজেদের কাজের হিসেব দিতে এবং প্রত্যেকটি কাজের প্রতিদান লাভ করতে হবে। এ দু’টি শর্ত যারা পূর্ণ করবে কুরআন মজীদের আয়াত তাদেরকেই দুনিয়ায় সত্য সরল পথের সন্ধান দেবে। [ইবন কাসীর] এ পথের প্রতিটি পর্যায়ে তাদেরকে শুদ্ধ ও অশুদ্ধ এবং ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য বুঝিয়ে দেবে। তাদেরকে ভুল পথের দিকে অগ্রসর হবার হাত থেকে রক্ষা করবে। তাদেরকে এ নিশ্চয়তা দান করবে যে, সত্য-সঠিক পথ অবলম্বন করার ফল দুনিয়ায় যাই হোক না কেন শেষ পর্যন্ত তারই বদৌলতে চিরন্তন সফলতা তারাই অর্জন করবে এবং তারা মহান আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভের সৌভাগ্য লাভে সক্ষম হবে।
যেমন অন্য আয়াতে আল্লাহ্ বলেন, “বলুন, ‘এটি মুমিনদের জন্য হেদায়াত ও আরোগ্য।’ আর যারা ঈমান আনে না তাদের কানে রয়েছে বধিরতা এবং কুরআন এদের (অন্তরের) উপর অন্ধত্ব তৈরী করবে।” [সূরা ফুসসিলাতঃ ৪৪]
[সূরা আন-নামল (২৭): আয়াত ১ থেকে ৬] পূর্ণ পৃষ্ঠা
জাহান্নাম, আর তা নিকৃষ্টতম গন্তব্য; এবং তাদের প্রত্যাবর্তন হবে শাস্তির দিকে, যা নিকৃষ্টতম প্রত্যাবর্তনস্থল। 'মুনকালাব' (প্রত্যাবর্তনস্থল) এবং 'মারজি' (প্রত্যাবর্তনস্থল)-এর মধ্যে পার্থক্য হলো, 'মুনকালাব' অর্থ হলো বর্তমানে যা আছে তার বিপরীত অবস্থার দিকে স্থানান্তরিত হওয়া; আর 'মারজি' হলো বর্তমান অবস্থা থেকে পূর্বের কোনো অবস্থায় ফিরে যাওয়া। সুতরাং প্রত্যেক 'মারজি' ই 'মুনকালাব', কিন্তু প্রত্যেক 'মুনকালাব' 'মারজি' নয়। আল্লাহই ভালো জানেন। ইমাম আল-মাওয়ার্দী এটি উল্লেখ করেছেন। এবং "আইয়্যা" শব্দটি "ইয়ানকালিবুন" দ্বারা মানসূব (নসবপ্রাপ্ত) হয়েছে এবং তা মাসদার বা ক্রিয়ামূলের অর্থে ব্যবহৃত।
এটি "সাইয়া'লামু" দ্বারা মানসূব হওয়া বৈধ নয়, কারণ ব্যাকরণবিদদের মতে "আইয়্যু" এবং অন্যান্য প্রশ্নবোধক বিশেষ্যগুলোর ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী কোনো শব্দ আমল বা প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। আল-নাহহাস বলেন: এ বিষয়ে প্রকৃত বক্তব্য হলো, প্রশ্নবোধক ভাবটি একটি স্বতন্ত্র অর্থ এবং তার পূর্ববর্তী অংশটি অন্য একটি অর্থ বহন করে; যদি পূর্ববর্তী শব্দ এতে আমল করত, তবে এক অর্থ অন্য অর্থের সাথে সংমিশ্রিত হয়ে যেত। সূরা আন-নামলপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সর্বসম্মত মতানুসারে এটি সম্পূর্ণ মাক্কী সূরা এবং এর আয়াত সংখ্যা বিরানব্বই। কারো কারো মতে চুরানব্বই আয়াত।
[সূরা আন-নামল (২৭): আয়াত ১ থেকে ৬]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।ত্ব-সীন, এগুলো কুরআনের আয়াত এবং সুস্পষ্ট কিতাবের (১)। মুমিনদের জন্য পথনির্দেশ ও সুসংবাদ (২)। যারা সালাত কায়েম করে ও যাকাত প্রদান করে এবং তারাই পরকালের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখে (৩)। নিশ্চয় যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, আমি তাদের কাজগুলোকে তাদের নিকট সুশোভিত করে দিয়েছি, ফলে তারা বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায় (৪)।এরাই তারা যাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি এবং পরকালে তারাই সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত (৫)। আর নিশ্চয়ই আপনাকে প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞের পক্ষ থেকে কুরআন দান করা হচ্ছে (৬)।মহান আল্লাহর বাণী: (ত্ব-সীন, এগুলো কুরআনের আয়াত এবং সুস্পষ্ট কিতাবের)।
বিচ্ছিন্ন অক্ষরসমূহ সম্পর্কে আলোচনা সূরা আল-বাকারা এবং অন্যান্য স্থানে অতিবাহিত হয়েছে। "তিলকা" এখানে "এই" অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ এই সূরাটি কুরআনের আয়াত এবং সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াতসমূহ। কুরআন শব্দটিকে নির্দিষ্ট (মারেফাহ) হিসেবে এবং "কিতাবিন মুবীন" শব্দটিকে অনির্দিষ্ট (নাকিরাহ) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও উভয়ই নির্দিষ্ট অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে; যেমনটি আপনি বলে থাকেন: অমুক ব্যক্তি একজন বুদ্ধিমান লোক এবং অমুক সেই বুদ্ধিমান ব্যক্তি। "কিতাব" অর্থই কুরআন; এখানে উভয় গুণই একত্রিত করা হয়েছে, কারণ তা লিখনের মাধ্যমে প্রকাশ পায় এবং পাঠের মাধ্যমেও প্রকাশ পায়।
এটি ইতিপূর্বেও আলোচিত হয়েছে।
