An-Naml
আন-নামল: 71
27 আন-নামল An-Naml · 93 আয়াত النمل
মূল আরবি
وَيَقُولُونَ مَتَىٰ هَـٰذَا ٱلْوَعْدُ إِن كُنتُمْ صَـٰدِقِينَ
English Translations
And they say, "When is [the fulfillment of] this promise, if you should be truthful?"
And they (the disbelievers in the Oneness of Allah) say: "When (will) this promise (be fulfilled), if you are truthful?"
They say, “When shall this promise come to pass if you are true?”
They also say: "Tell us when this threat will come to pass, if you are truthful."
And they say: When (will) this promise (be fulfilled), if ye are truthful?
They also say: "When will this promise (come to pass)? (Say) if ye are truthful."
বাংলা অনুবাদ
তারা বলে- ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হয়ে থাক তাহলে, এ ‘ওয়াদা কখন বাস্তবায়িত হবে?
আর তারা বলে, ‘তোমরা সত্যবাদী হলে (বল) এই ওয়াদা কখন আসবে’?
তারা বলেঃ তোমরা যদি সত্যবাদী হও তাহলে বল, কখন এই প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হবে?
আর তারা বলে, ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে বল, কখন এ প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হবে?’
তারা বলে: ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে বল: কখন এ প্রতিশ্র“তি পূর্ণ হবে?’
৭১. আপনার সম্প্রদায়ের পুনরুত্থান অস্বীকারকারী কাফিররা বলে: কখন বাস্তবায়িত হবে আমাদেরকে তোমার ও মু’মিনদের মাধ্যমে দেয়া আযাবের ওয়াদা? যদি তোমরা নিজেদের দাবিতে সত্যবাদী হয়ে থাকো তাহলে এনে দেখাও।
তাফসীর
৭১-৭৫ নং আয়াতের তাফসীরআল্লাহ তাআলা মুশরিকদের সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন যে, তারা কিয়ামতকে। স্বীকারই করতো না বলে সাহসিকতা ও বাহাদুরীর সাথে সত্বর এর আগমন কামনা করতো এবং বলতো: “যদি তুমি সত্যবাদী হও তবে বল দেখি এটা আসবে কখন? আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে মুহাম্মাদ (সঃ)-এর মাধ্যমে জবাব দেয়া হচ্ছে যে, খুবই সম্ভব যে, ওটা সম্পূর্ণরূপে নিকটবর্তী হয়েই গেছে। যেমনঅন্য আয়াতে রয়েছে (আরবি) অর্থাৎ “সম্ভবতঃ ওটার সময় নিকটবর্তী হয়েছে।” (১৭:৫১) মহান আল্লাহ আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “তোমার কাছে তারা আযাবের ব্যাপারে তাড়াতাড়ি করছে (তাড়াতাড়ি আযাব চাচ্ছে, তাদের জেনে রাখা উচিত যে,) নিশ্চয়ই জাহান্নাম কাফিরদেরকে পরিবেষ্টন করে রয়েছে।” (২৯:৫৪) (আরবি)-এর (আরবি)অক্ষরটি (আরবি)শব্দের (আরবি) (তাড়াতাড়ি করা)-এর অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্যে অনা হয়েছে।
যেমন এটা হযরত মুজাহিদ (রঃ) হতে বর্ণিত আছে।এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ মানুষের উপর তো আল্লাহর বহু দয়া ও অনুগ্রহ রয়েছে এবং রয়েছে তাদের উপর তার অসংখ্য নিয়ামত। তথাপি তাদের অধিকাংশই অকৃতজ্ঞ। আল্লাহ তা'আলা বলেন ও তাদের অন্তর যা গোপন করে এবং যা তারা প্রকাশ করে তা তিনি অবশ্যই জানেন। যেমন অন্য জায়গায় তিনি বলেন (আরবি) অর্থাৎ “তোমাদের মধ্যে যে কথাকে গোপন করে এবং যে তা প্রকাশ করে উভয় (তার কাছে) সমান।” (১৩: ১০) আর এক জায়গায় আছে। অর্থাৎ “তিনি গোপনীয় ও লুক্কায়িত কথাও জানেন।” (২০৪৭)এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ আকাশে ও পৃথিবীতে এমন কোন গোপন রহস্য নেই, যা সুস্পষ্ট কিতাবে নেই।
তিনি অদৃশ্যের সব খবরই রাখেন। যেমন তিনি বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “তুমি কি জান না যে, আকাশে ও পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে তিনি সবই জানেন, নিশ্চয়ই তা কিতাবে রয়েছে এবং নিশ্চয়ই ওটা আল্লাহর কাছে সহজ।” (২২:৭০)
আর তারা বলে, ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে বল, কখন এ প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হবে?’
[সূরা আন-নামল (২৭): আয়াত ৬৯ থেকে ৭১] পূর্ণ পৃষ্ঠা
তালহা এবং আল-আরাজ (এর কিরাআত) থেকে এমন কিছু আবশ্যক হয় না এবং তা এই আয়াতের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়। এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো, শর্ত এবং তার উত্তর (জাযা) একই বিষয়ের স্থলাভিষিক্ত। আর "আপনি মারা গেলে তারা কি চিরঞ্জীব হবে?" আয়াতের অর্থ হলো: আপনি মারা গেলে তারা কি চিরস্থায়ী হবে? এর দৃষ্টান্ত হলো: "যায়েদ কি প্রস্থানকারী?" তবে এমন বলা হয় না যে: "যায়েদ কি কি প্রস্থানকারী?" (অর্থাৎ একই বাক্যে দুবার প্রশ্নবোধক অব্যয় আনা হয় না), কারণ বাক্যটি একটি একক বিষয়ের মতো। কিন্তু আলোচ্য আয়াতটি তেমন নয়, কেননা দ্বিতীয় অংশটি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ বাক্য, তাই সেখানে প্রশ্নবোধক অব্যয় ব্যবহার করা শুদ্ধ।
আবার প্রথম অংশটিও এমন একটি বাক্য যেখানে প্রশ্নবোধক অব্যয় ব্যবহার করা শুদ্ধ। তবে যারা দ্বিতীয় অংশ থেকে প্রশ্নবোধক অব্যয় বিলুপ্ত করেছেন এবং প্রথম অংশে তা বহাল রেখেছেন, তারা পড়েছেন: "আমরা এবং আমাদের পিতৃপুরুষরা যখন মাটি হয়ে যাব, তখন কি আমরা..." অর্থাৎ তারা দ্বিতীয় অংশ থেকে এটি বিলুপ্ত করেছেন, কারণ বাক্যের মধ্যে অস্বীকৃতিমূলক অর্থ প্রকাশকারী প্রমাণ বিদ্যমান। মহান আল্লাহর বাণী: (আমাদের এবং আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে ইতিপূর্বে এই প্রতিশ্রুতিই দেওয়া হয়েছে; এগুলো তো কেবল পূর্ববর্তীদের কল্পকাহিনী বৈ নয়) - এর আলোচনা সূরা আল-মুমিনুন-এ অতিক্রান্ত হয়েছে।
আর নবীগণ পুনরুত্থানের বিষয়টিকে সতর্কীকরণের অতিরঞ্জন হিসেবে নিকটবর্তী সাব্যস্ত করতেন; আর যা কিছু নিশ্চিতভাবে আগমনকারী, তা-ই নিকটবর্তী। [সূরা আন-নামল (২৭): আয়াত ৬৯ থেকে ৭১]বলুন: তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ করো এবং দেখো অপরাধীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল (৬৯)। আর আপনি তাদের জন্য দুঃখ করবেন না এবং তারা যে ষড়যন্ত্র করে তাতে সংকুচিত হবেন না (৭০)। তারা বলে: তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে এই প্রতিশ্রুতি কখন পূর্ণ হবে? (৭১)মহান আল্লাহর বাণী: (বলুন: তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ করো) অর্থাৎ এই কাফেরদের বলুন, তোমরা সিরিয়া, হিজাজ ও ইয়েমেন দেশে "ভ্রমণ করো"।
(অতঃপর দেখো) অর্থাৎ তোমাদের অন্তর ও দূরদৃষ্টি দিয়ে দেখো (অপরাধীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল) যারা তাদের রাসুলদের অস্বীকার করেছিল। (আর আপনি তাদের জন্য দুঃখ করবেন না) অর্থাৎ মক্কার কাফেরদের জন্য, যদি তারা ঈমান না আনে। (আর আপনি সংকুচিত হবেন না) অর্থাৎ সংকীর্ণতায় পড়বেন না (তারা যে ষড়যন্ত্র করে তার কারণে)। এটি সেই বিদ্রূপকারীদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে যারা মক্কার বিভিন্ন পথে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল এবং যাদের আলোচনা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর এটি "ফি দিকিন" (যের যোগে) কিরাআতেও পড়া হয়েছে, যা সূরা আন-নাহল-এর শেষে আলোচিত হয়েছে। (তারা বলে: এই প্রতিশ্রুতি কখন পূর্ণ হবে?) অর্থাৎ আমাদের অস্বীকার করার কারণে আমাদের ওপর আজাব কখন আসবে (যদি তোমরা সত্যবাদী হও)।(১).
দ্রষ্টব্য: ১২তম খণ্ড, ১৪৫ পৃষ্ঠা, প্রথম বা দ্বিতীয় মুদ্রণ।(২). দ্রষ্টব্য: ১০ম খণ্ড, ৫৮ পৃষ্ঠা, প্রথম বা দ্বিতীয় মুদ্রণ।(৩). দ্রষ্টব্য: ১০ম খণ্ড, ২০৩ পৃষ্ঠা, প্রথম বা দ্বিতীয় মুদ্রণ।
