An-Naml
আন-নামল: 9
27 আন-নামল An-Naml · 93 আয়াত النمل
মূল আরবি
يَـٰمُوسَىٰٓ إِنَّهُۥٓ أَنَا ٱللَّهُ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ
English Translations
O Moses, indeed it is I - Allāh, the Exalted in Might, the Wise."
"O Musa (Moses)! Verily! It is I, Allah, the All-Mighty, the All-Wise.
O Mūsā, the fact is that I AM ALLAH, the Mighty, the Wise.
O Moses, verily this is Me, Allah, the All-Mighty, the All-Wise!
O Moses! Lo! it is I, Allah, the Mighty, the Wise.
"O Moses! verily, I am Allah, the exalted in might, the wise!....
বাংলা অনুবাদ
হে মূসা! আমি মহা পরাক্রান্ত প্রজ্ঞাময় আল্লাহ।
হে মূসা, নিশ্চয় আমিই আল্লাহ, মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞাময়।
হে মূসা! আমিতো আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
‘হে মূসা! নিশ্চয় আমি আল্লাহ্! পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়,
‘হে মূসা! আমি তো আল্লাহ, পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়,
৯. আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে বললেন: হে মূসা! নিশ্চয়ই আমি সেই পরাক্রমশালী আল্লাহ যাঁকে কেউ পরাজিত করতে পারে না। আমি নিজ সৃষ্টি, পরিচালনা ও শরীয়ত নির্ধারণে অত্যন্ত প্রজ্ঞাময়।
তাফসীর
27:7
‘হে মূসা! নিশ্চয় আমি আল্লাহ্ [১]! পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়,
[১] মূসা আলাইহিসসালামের এ ঘটনা কুরআনের অন্যান্য স্থানেও বর্ণনা করা হয়েছে। সূরা ত্বা-হায় বলা হয়েছে,
إِنِّي أَنَا رَبُّكَ فَاخْلَعْ نَعْلَيْكَ ۖ إِنَّكَ بِالْوَادِ الْمُقَدَّسِ طُوًى * وَأَنَا اخْتَرْتُكَ فَاسْتَمِعْ لِمَا يُوحَىٰ * إِنَّنِي أَنَا اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدْنِي وَأَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي
“আমিই আপনার রব, অতএব আপনার পাদুকা খুলে ফেলুন, কারণ আপনি পবিত্ৰ ‘তুওয়া’ উপত্যকায় রয়েছেন। এবং আমি আপনাকে মনোনীত করেছি। অতএব যা ওহী পাঠানো হচ্ছে আপনি তা মনোযোগের সাথে শুনেন। ‘আমিই আল্লাহ্, আমি ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নেই। অতএব আমার ‘ইবাদাত করুন এবং আমার স্মরণার্থে সালাত কয়েম করুন।” [সূরা ত্বা-হাঃ ১২-১৪] অনুরূপভাবে সূরা আল-কাসাসে বলা হয়েছে,
فَلَمَّا أَتَاهَا نُودِيَ مِن شَاطِئِ الْوَادِ الْأَيْمَنِ فِي الْبُقْعَةِ الْمُبَارَكَةِ مِنَ الشَّجَرَةِ أَن يَا مُوسَىٰ إِنِّي أَنَا اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ
‘‘যখন মূসা আগুনের কাছে পৌঁছলেন তখন উপত্যকার দক্ষিণ পাশে পবিত্র ভূমির উপর অবস্থিত একটি গাছের দিক থেকে তাঁকে ডেকে বলা হল, ‘হে মূসা! আমিই আল্লাহ্, সৃষ্টিকুলের রব;’’ [সূরা আল-কাসাসঃ ৩০] এ সূরাত্রয়ের দৃষ্টিভঙ্গি বিভিন্নরূপ হলেও বিষয়বস্তু প্রায় একই। তা এই যে, সে রাত্রিতে আল্লাহ্ তা‘আলা তূর পাহাড়ের কাছে এক গাছে মূসা আলাইহিসসালামকে তাঁর আলো দেখালেন।
আয়াত থেকে এটাই জানা যাচ্ছে যে, আল্লাহ্ তাঁকে জানিয়ে দিলেন, যিনি তাকে সম্বোধন করছেন, তার সাথে আলাপ করছেন, তিনি তার একমাত্র প্রবল পরাক্রমশালী রব, যিনি সবকিছুকে তাঁর ক্ষমতা, প্রভাব, ও শক্তি দিয়ে অধীন করে রেখেছেন। তিনি তাঁর প্রতিটি কাজ ও কথা প্রজ্ঞার সাথে সম্পন্ন করেন। [ইবন কাসীর]
[সূরা আন-নামল (২৭): আয়াত ৭ থেকে ১৪] পূর্ণ পৃষ্ঠা
[সূরা আন-নামল (২৭): আয়াত ৭ থেকে ১৪](স্মরণ করো) যখন মুসা তাঁর পরিবারকে বললেন, "নিশ্চয়ই আমি আগুন দেখেছি। আমি শীঘ্রই তোমাদের কাছে সেখান থেকে কোনো খবর নিয়ে আসব অথবা তোমাদের জন্য কোনো জ্বলন্ত অঙ্গার নিয়ে আসব যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পারো।" (৭) অতঃপর যখন তিনি আগুনের কাছে আসলেন, তখন ঘোষিত হলো: "ধন্য যারা আগুনের মধ্যে আছে এবং যারা এর চারদিকে আছে। আর বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহ পবিত্র ও মহিমান্বিত।" (৮) "হে মুসা! নিশ্চয়ই আমিই আল্লাহ, পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" (৯) "আর তুমি তোমার লাঠিটি নিক্ষেপ করো।" অতঃপর যখন তিনি ওটাকে সাপের মতো ছুটাছুটি করতে দেখলেন, তখন তিনি পেছন ফিরে পালাতে লাগলেন এবং ফিরে তাকালেন না।
(আল্লাহ বললেন), "হে মুসা! ভয় করো না, নিশ্চয়ই আমার দরবারে রাসূলগণ ভয় পান না।" (১০) "তবে যে জুলুম করে, তারপর মন্দ কাজের পরিবর্তে ভালো কাজ করে (তার জন্য আমি ক্ষমাশীল), কেননা আমি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" (১১)"আর তোমার হাত বগলে ঢোকাও, তা কোনো রোগ ছাড়াই নির্মল উজ্জ্বল হয়ে বেরিয়ে আসবে। (এগুলো) ফিরআউন ও তার সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরিত নয়টি নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত। নিশ্চয়ই তারা ছিল এক পাপাচারী সম্প্রদায়।" (১২) অতঃপর যখন তাদের কাছে আমার চাক্ষুষ নিদর্শনসমূহ আসল, তখন তারা বলল, "এটা তো সুস্পষ্ট জাদু।" (১৩) তারা অন্যায় ও অহংকারবশত নিদর্শনগুলোকে অস্বীকার করল, যদিও তাদের অন্তর সেগুলো সত্য বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেছিল।
সুতরাং দেখো, বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল! (১৪)মহান আল্লাহর বাণী: (যখন মুসা তাঁর পরিবারকে বললেন) - এখানে "ইয" (স্মরণ করো) শব্দটি একটি ঊহ্য ক্রিয়াপদ দ্বারা মানসুব (নাসবপ্রাপ্ত) হয়েছে, আর তা হলো "স্মরণ করো"। যেন মহান আল্লাহ তাঁর এই বাণীর পর—"নিশ্চয়ই আপনি প্রজ্ঞাময় ও মহাজ্ঞানীর পক্ষ থেকে কুরআন প্রাপ্ত হচ্ছেন"—বলছেন: হে মুহাম্মদ, তাঁর প্রজ্ঞা ও জ্ঞানের নিদর্শনস্বরূপ মুসার কাহিনী গ্রহণ করুন, যখন তিনি তাঁর পরিবারকে বলেছিলেন। (নিশ্চয়ই আমি আগুন দেখেছি) অর্থাৎ আমি দূর থেকে তা প্রত্যক্ষ করেছি। হারিস ইবনে হিল্লিজা বলেছেন:তিনি একটি সূক্ষ্ম শব্দ অনুভব করলেন এবং শিকারিরা তাঁকে আতঙ্কিত করে তুলল...
বিকেলে যখন সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছিল। «১»(আমি তোমাদের কাছে সেখান থেকে কোনো খবর নিয়ে আসব অথবা তোমাদের জন্য কোনো জ্বলন্ত অঙ্গার নিয়ে আসব যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পারো)। আসিম, হামজা এবং কিসায়ী "বি-শিহাদিন কাবাসিন" পাঠ করেছেন ‘শিহাব’ শব্দে তানউইন সহযোগে। অবশিষ্ট ক্বারীগণ তানউইন ছাড়া ইযাফত (সম্বন্ধ) সহযোগে পড়েছেন, অর্থাৎ আগুনের শিখা; আবু উবাইদ এবং আবু হাতিম এই পাঠটিই পছন্দ করেছেন। আল-ফাররা তানউইন বর্জনের ব্যাখ্যায় ধারণা করেছেন যে, এটি আরবদের নিম্নোক্ত উক্তিগুলোর মতো: "পরকালের আবাস", "জামে মসজিদ", "প্রথম নামায"; অর্থাৎ যখন কোনো বিষয়ের নাম ভিন্ন ভিন্ন হয়, তখন সেই বিষয়কে তার নিজের দিকেই সম্বন্ধ করা হয়।
আন-নাহহাস বলেন: বসরাবাসীদের মতে কোনো বস্তুকে তার নিজের দিকে সম্বন্ধ করা অসম্ভব, কারণ ভাষাবিজ্ঞানে 'ইযাফত' বা সম্বন্ধের অর্থ হলো এক বস্তুকে অন্য বস্তুর সাথে সংযুক্ত করা।(১). আনাসাত: অনুভব করেছে বা প্রত্যক্ষ করেছে। আন-নাবাহ: সূক্ষ্ম শব্দ।
