An-Naml
আন-নামল: 64
27 আন-নামল An-Naml · 93 আয়াত النمل
আরবি
أَمَّن يَبْدَؤُا۟ ٱلْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُۥ وَمَن يَرْزُقُكُم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ وَٱلْأَرْضِ ۗ أَءِلَـٰهٌ مَّعَ ٱللَّهِ ۚ قُلْ هَاتُوا۟ بُرْهَـٰنَكُمْ إِن كُنتُمْ صَـٰدِقِينَ
English Translations
Is He [not best] who begins creation and then repeats it and who provides for you from the heaven and earth? Is there a deity with Allāh? Say, "Produce your proof, if you should be truthful."
Is not He (better than your so-called gods) Who originates creation, and shall thereafter repeat it, and Who provides for you from heaven and earth? Is there any ilah (god) with Allah? Say, "Bring forth your proofs, if you are truthful."
Or the One who originated creation, then will reproduce it, and who gives you provision from the sky and the earth? Is there any god along with Allah? Say, “Bring your proof if you are true.”
Who is it Who creates in the first instance and then repeats it? Who is it Who provides you with sustenance from the heavens and the earth? Is there any god associated with Allah (in these tasks)? Say: "Bring forth your evidence, if you are truthful."
Is not He (best) Who produceth creation, then reproduceth it, and Who provideth for you from the heaven and the earth? Is there any Allah beside Allah? Say: Bring your proof, if ye are truthful!
Or, Who originates creation, then repeats it, and who gives you sustenance from heaven and earth? (Can there be another) god besides Allah? Say, "Bring forth your argument, if ye are telling the truth!"
বাংলা অনুবাদ
নাকি তিনিই (শ্রেষ্ঠ) যিনি সৃষ্টির সূচনা করেন, অতঃপর তার পুনরাবৃত্তি করেন এবং যিনি তোমাদেরকে আসমান ও যমীন থেকে রিযক দান করেন? আল্লাহর সাথে অন্য কোন ইলাহ্ আছে কি? বল, তোমরা সত্যবাদী হলে তোমাদের প্রমাণপঞ্জি পেশ কর।
বরং তিনি, যিনি সৃষ্টির সূচনা করেন, তারপর তার পুনরাবৃত্তি করবেন এবং যিনি তোমাদেরকে আসমান ও যমীন থেকে রিযিক দান করেন, আল্লাহর সাথে কি কোন ইলাহ আছে? বল, ‘তোমাদের প্রমাণ নিয়ে এসো যদি তোমরা সত্যবাদী হও।’
বলত, কে আদিতে সৃষ্টি করেন, অতঃপর ওর পুনরাবৃত্তি করবেন, এবং কে তোমাদেরকে আকাশ ও পৃথিবী হতে জীবনোপকরণ দান করেন? আল্লাহর সাথে অন্য কোন মা‘বূদ আছে কি? বলঃ তোমরা যদি সত্যবাদী হও তাহলে তোমাদের প্রমাণ পেশ কর।
নাকি তিনি, যিনি প্রথম সৃষ্টি করেন, তারপর সেটার পুনরাবৃত্তি করবেন এবং যিনি তোমাদেরকে আসমান ও যমীন হতে জীবনোপকরণ দান করেন। আল্লাহ্র সাথে অন্য কোনো ইলাহ আছে কি? বলুন, ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে তোমাদের প্রমাণ পেশ কর।’
নাকি তিনি, যিনি আদিতে সৃষ্টির সূচনা করবেন, অতঃপর তার পুনরাবৃত্তি করবেন এবং যিনি তোমাদেরকে আকাশ ও পৃথিবী হতে জীবনোপকরণ দান করেন। আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোন মা‘বূদ আছে কি? বল: ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে তোমাদের প্রমাণ পেশ কর।’
৬৪. নাকি তিনিই যিনি পর্যায়ক্রমিকভাবে মায়ের জরায়ুতে বাচ্চা সৃষ্টির কার্যক্রম শুরু করেন। অতঃপর তিনি মৃত্যুর পর তাকে আবারো জীবিত করবেন। যিনি আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ এবং জমিনে উদ্ভিদ জন্মানোর মাধ্যমে তোমাদেরকে রিযিক দিয়ে থাকেন! আল্লাহর পাশাপাশি কোন মা’বূদ কি তা করতে পারে?! হে রাসূল! আপনি এ মুশরিকদেরকে বলুন: তোমরা শিরকের ব্যাপারে নিজেদের প্রামাণাদি পেশ করো যদি তোমরা নিজেদের এ দাবিতে সত্যবাদী হও যে, নিশ্চয়ই তোমরা সঠিক পথের উপর রয়েছো।
তাফসীর
ঘোষণা করা হয়েছে যে, আল্লাহ তিনিই যিনি স্বীয় পূর্ণ ক্ষমতাবলে সৃষ্টজীবকে বিনা নমুনায় সৃষ্টি করেছেন ও করতে রয়েছেন। অতঃপর এগুলো ধ্বংস করে দিয়ে তিনি দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করবেন। সুতরাং হে কাফিরের দল! যিনি প্রথমবার সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি যে দ্বিতীয়বারও সৃষ্টি করতে সক্ষম এটা তোমরা মানছো না কেন? কেননা, দ্বিতীয়বারের সৃষ্টি তো প্রথমবারের সৃষ্টি অপেক্ষা বহুগুণে সহজ। আকাশ হতে বৃষ্টি বর্ষণ করা, জমি হতে ফসল উৎপাদন করা এবং আকাশ ও পৃথিবী হতে তোমাদেরকে জীবনোপকরণ দান করা তাঁরই কাজ। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “শপথ আসমানের, যা ধারণ করে বৃষ্টি, এবং শপথ যমীনের, যা বিদীর্ণ হয়।” (৮৬:১১-১২) আর এক জায়গায় রয়েছে (আরবি)অর্থাৎ “তিনি প্রত্যেক ঐ জিনিসকে জানেন যা যমীনের মধ্যে প্রবেশ করে এবং যা ওর থেকে বের হয়, আর যা আকাশ হতে অবতীর্ণ হয় এবং যা ওর উপর উঠে যায়।” (৩৪: ২) সুতরাং মহিমান্বিত আল্লাহই আকাশ হতে বৃষ্টি বর্ষণকারী, ওটাকে যমীনে এদিক হতে ওদিকে প্রেরণকারী এবং এর মাধ্যমে নানা প্রকারের ফল, ফুল, শস্য এবং ঘাসপাতা উদ্গতকারী, যা মানুষের নিজেদের ও তাদের জন্তুগুলোর জীবিকা। নিশ্চয়ই জ্ঞানবানদের জন্যে এগুলো আল্লাহ তা'আলার বড় বড় নিদর্শনাবলী বটে।আল্লাহ তাআলা নিজের এসব শক্তি এবং এসব মূল্যবান অনুগ্রহের বর্ণনা দেয়ার পর প্রশ্নের সুরে বলেনঃ “এসব কাজে আল্লাহর সাথে অন্য কেউ শরীক আছে কি? যার ইবাদত করা যেতে পারে? যদি তোমরা আল্লাহ ছাড়া অন্যদেরকে মা'বূদ রূপে মেনে নেয়ার দাবীকে দলীল দ্বারা প্রমাণ করতে পার তবে দলীল পেশ কর।” কিন্তু তাদের নিকট কোনই দলীল নেই বলে আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে ডাকে অন্য মাবুদকে, ঐ বিষয়ে তার নিকট কোন সনদ নেই; তার হিসাব তার প্রতিপালকের নিকট আছে; নিশ্চয়ই কাফিররা সফলকাম হবে না।” (২৩: ১১৭)
নাকি তিনি, যিনি প্রথম সৃষ্টি করেন, তারপর সেটার পুনরাবৃত্তি করবেন [১] এবং যিনি তোমাদেরকে আসমান ও যমীন হতে জীবনোপকরণ দান করেন [২]। আল্লাহ্র সাথে অন্য কোন ইলাহ আছে কি? বলুন, ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে তোমাদের প্রমাণ পেশ কর [৩]।’
[১] অর্থাৎ যিনি মাতৃগর্ভে শুক্রের মাধ্যমে সৃষ্টির সূচনা করেন, [জালালাইন] তারপর তাদের মৃত্যুর পর পুনরায় তাদেরকে উত্থিত করবেন, তাঁর সাথে কি আর কোন শরীক আছে? এ কাজ কি তিনি ব্যতীত আর কেউ করতে পারে? তাহলে তিনি ব্যতীত অন্যরা কিভাবে ইবাদাত পেতে পারে? যেমন অন্য আয়াতে বলেছেন, “নিশ্চয় তিনি প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন, আর তিনিই তার পুনরাবৃত্তি ঘটাবেন।’’ [সূরা আল-বুরূজঃ ১৩]
[২] এ পৃথিবীতে পশু প্রাণীর বহু শ্রেণী পাওয়া যায়। তাদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা খাদ্যের প্রয়োজন। স্রষ্টা তাদের প্রত্যেক শ্রেণীর খাদ্যবস্তু এত বিপুল পরিমাণে এবং প্ৰত্যেকের আহরণ ক্ষমতার এত কাছাকাছি রেখে দিয়েছেন যার ফলে কোন শ্রেণীর কোন একজনও খাদ্য থেকে বঞ্চিত থাকে না। তিনি আকাশ থেকে বৃষ্টি নাযিল করেন, এর দ্বারা যমীন থেকে উদ্ভিদ উদ্গত করেন, যা যমীনের বরকত হিসেবে গণ্য। তিনি আকাশ থেকে যে পানি নাযিল করেন তা তিনি যমীনের অভ্যন্তরে সুচারুরূপে পরিচালিত করেন, তারপর তা থেকে বের করেন হরেক রকম ক্ষেত-খামার, ফল-ফলাদি ও ফুল ইত্যাদি। এসব তো আল্লাহ্র কাজ। তিনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ কি এগুলো করতে পারেন? যদি আর কেউ করতে না পারে তবে তাকে কিভাবে ইবাদাত করা হবে? [ইবন কাসীর]
[৩] অর্থাৎ এসব কাজে সত্যিই অন্য কেউ শরীক আছে, এর সপক্ষে কোন প্রমাণ পেশ করো অথবা যদি তা না পারো তাহলে কোন যুক্তিসংগত প্রমাণের সাহায্যে একথা বুঝিতে দাও যে, এ সমস্ত কাজ তো একমাত্র আল্লাহ্রই কিন্তু বন্দেগী ও ইবাদাত লাভের অধিকার লাভ করবে তিনি ছাড়া অন্য কেউ অথবা তাঁর সাথে অন্যজনও। যা আল্লাহ্ করেন তারা কি তা করতে পারে? যদি তোমাদের কোন দলীল-প্রমাণাদি না থাকে তবে এ সমস্ত বাতিল ইলাহ ছেড়ে এক আল্লাহ্র ইবাদাতই শুধু কর। তা না করলে তোমরা কখনো সফলকাম হতে পারবে না। অন্য আয়াতে আল্লাহ্ বলেন, ‘‘আর যে ব্যাক্তি আল্লাহ্র সাথে অন্য ইলাহকে ডাকে, এ বিষয়ে তার নিকট কোন প্রমাণ নেই; তার হিসাব তো তার রব-এর নিকটই আছে; নিশ্চয় কাফেররা সফলকাম হবে না।” [সূরা আল-মুমিনুনঃ ১১৭] [দেখুন, ইবন কাসীর]
