An-Naml
আন-নামল: 84
27 আন-নামল An-Naml · 93 আয়াত النمل
মূল আরবি
حَتَّىٰٓ إِذَا جَآءُو قَالَ أَكَذَّبْتُم بِـَٔايَـٰتِى وَلَمْ تُحِيطُوا۟ بِهَا عِلْمًا أَمَّاذَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
English Translations
Until, when they arrive [at the place of Judgement], He will say, "Did you deny My signs while you encompassed them not in knowledge, or what [was it that] you were doing?"
Till, when they come (before their Lord at the place of reckoning), He will say: "Did you deny My Ayat (proofs, evidences, verses, lessons, signs, revelations, etc.) when you comprehended them not in knowledge, or what (else) was it that you used to do?"
Until when they will come, He (Allah) will say, “Did you reject My verses while you did not comprehend them with knowledge, or what was it that you used to do?
until, when all of them have arrived, Allah will say: "Did you give the lie to My Signs even without encompassing them with your knowledge? If that is not so, what did you do?"
Till, when they come (before their Lord), He will say: Did ye deny My revelations when ye could not compass them in knowledge, or what was it that ye did?
Until, when they come (before the Judgment-seat), (Allah) will say: "Did ye reject My Signs, though ye comprehended them not in knowledge, or what was it ye did?"
বাংলা অনুবাদ
যখন তারা এসে যাবে তখন আল্লাহ বলবেন- তোমরা কি আমার নিদর্শনকে মিথ্যে বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলে যদিও তা তোমরা জ্ঞানায়ত্ত করতে পারনি; নাকি তোমরা অন্য কিছু করছিলে?
অবশেষে যখন তারা আসবে, তখন আল্লাহ বলবেন, ‘তোমরা কি আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছিলে, অথচ সে বিষয়ে তোমাদের কোন জ্ঞানই ছিল না? নাকি তোমরা আরো কী করেছিলে?’
যখন তারা সমবেত হবে তখন (আল্লাহ তাদেরকে) বলবেনঃ তোমরা আমার নিদর্শন প্রত্যাখ্যান করেছিলে, অথচ ওটা তোমরা জ্ঞানায়ত্ত করতে পারনি? না তোমরা অন্য কিছু করছিলে?
শেষ পর্যন্ত যখন তারা এসে যাবে তখন আল্লাহ্ তাদেরকে বলবেন, ‘তোমরা কি আমার নিদর্শন প্রত্যাখ্যান করেছিলে, অথচ তা তোমরা জ্ঞানে আয়ত্ত করতে পারনি? নাকি তোমরা আর কিছু করেছিলে?’
যখন তারা সমাগত হবে তখন আল্লাহ তাদেরকে বলবেন, ‘তোমরা কি আমার নিদর্শন প্রত্যাখ্যান করেছিলে, যদিও তা তোমরা জ্ঞানায়ত্ত করতে পারনি? নাকি তোমরা অন্য কিছু করছিলে?’
৮৪. তাদেরকে নিয়ে যাওয়ার কাজ অব্যাহত থাকবে। এভাবে যখন তারা হিসাবের জায়গায় উপস্থিত হবে তখন আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে ধমক দিয়ে বলবেন: তোমরা কি আমার সে আয়াতগুলোকে অস্বীকার করেছো যেগুলো আমার তাওহীদকে বুঝায় এবং আমার শরীয়তকে শামিল করে। অথচ তোমরা পুরোপুরি জানতে না যে, সেগুলো বাতিল। যার জন্য সেগুলোকে অস্বীকার করা তোমাদের জন্য সহজ হয়েছে। তোমরা এটাও জানতে না যে, সেগুলোর সাথে যে আচরণ করছো, তার দ্বারা কি সত্যায়ন করা হচ্ছে, নাকি মিথ্যারোপ করা হচ্ছে?!
তাফসীর
27:83
শেষ পর্যন্ত যখন তারা এসে যাবে তখন আল্লাহ্ তাদেরকে বলবেন, ‘তোমরা কি আমার নিদর্শন প্রত্যাখ্যান করেছিলে, অথচ তা তোমরা জ্ঞানে আয়ত্ত করতে পারনি [১]? নাকি তোমরা আর কিছু করেছিলে [২]?’
[১] অর্থাৎ কোন তথ্যভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে তোমরা এ আয়াতগুলোর মিথ্যা হবার কথা জানতে পেরেছিলে, এ আয়াতগুলো অস্বীকার করার পেছনে তোমাদের এ কারণ কখনোই ছিল না। তোমরা কোন প্রকার চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণা-অনুসন্ধান ছাড়াই আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছিলে। [দেখুন, কুরতুবী; ফাতহুল কাদীর] এতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, আল্লাহ্র আয়াতসমূহে মিথ্যা বলা একটি গুরুতর অপরাধ ও গোনাহ; বিশেষতঃ যখন কেউ চিন্তা-ভাবনাও বোঝা-শোনার চেষ্টা না করেই মিথ্যা বলতে থাকে। এমতাবস্থায় এটা দ্বিগুণ অপরাধ হয়ে যায়। এতে আরও প্রমাণিত হয় যে, যারা ইসলামী শরী‘আতের কোন ইলম যথা আরবী ভাষা বা উসুলে ফিকহ বা এ জাতীয় কিছুর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে তারা নিঃসন্দেহে মূর্খ। মূর্খতাই তাদেরকে এ ধরনের কার্যকলাপে নিপতিত করে। [ফাতহুল কাদীর]
[২] অর্থাৎ যদি এমন না হয়, তাহলে কি তোমরা একথা প্রমাণ করতে পারবে যে, গবেষণা-অনুসন্ধানের পর তোমরা এ আয়াতগুলোকে মিথ্যা পেয়েছিলে এবং সত্যিই কি তোমরা এ আয়াতগুলোয় যা বর্ণনা করা হয়েছে তা প্রকৃত সত্য নয়, এ ধরনের কোন জ্ঞান লাভ করেছিলে? মূলতঃ তোমরা এগুলোতে কোন শ্রম দাওনি। তোমরা তোমাদের কোন কাজে এত ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলে যে, আল্লাহ্র আয়াতসমূহের প্রতি নজর দিতে, আর সেগুলোর অর্থের প্রতি চিন্তা গবেষণা করা থেকে তোমাদেরকে বিরত রেখেছিল? [ফাতহুল কাদীর]
[সূরা আন-নামল (২৭): আয়াত ৮২ থেকে ৮৬] পূর্ণ পৃষ্ঠা
আরও। ইমাম বুখারী রহ. বলেন: আমাদের নিকট উসমান হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবদাহ হিশাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের কূয়ার পাশে দাঁড়িয়ে বললেন: "তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা কি তোমরা সত্য পেয়েছ?" এরপর তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তারা এখন জানতে পারছে যে, আমি তাদের যা বলতাম তা-ই সত্য ছিল।" এরপর তিনি «১» পাঠ করলেন: "নিশ্চয়ই আপনি মৃতদের শোনাতে পারবেন না" আয়াতটির শেষ পর্যন্ত। আর এই আয়াতটির বিপরীতে বদরের ঘটনা, কবরবাসীদের প্রতি সালাম প্রদান এবং এ সংক্রান্ত বর্ণিত রেওয়ায়েতসমূহ উপস্থাপন করা হয়েছে, যা থেকে জানা যায় যে আত্মাসমূহ মাঝে মাঝে কবরের কিনারে অবস্থান করে এবং মৃত ব্যক্তি তাদের কাছ থেকে ফিরে যাওয়ার সময় জুতার শব্দ শুনতে পায়—ইত্যাদি।
কেননা মৃত ব্যক্তি যদি শুনতে না-ই পেত, তবে তাকে সালাম দেওয়া হতো না। আর এটি সুস্পষ্ট এবং আমরা আমাদের 'আত-তাযকিরাহ' গ্রন্থে এটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছি। মহান আল্লাহর বাণী: (আর আপনি অন্ধদের তাদের পথভ্রষ্টতা থেকে সুপথে আনতে পারবেন না) অর্থাৎ তাদের কুফরি থেকে; এর অর্থ হলো তাদের অন্তরে ঈমান সৃষ্টি করা আপনার সাধ্যের বাইরে। ইমাম হামযা পাঠ করেছেন: "আর আপনি অন্ধদের তাদের পথভ্রষ্টতা থেকে পথ প্রদর্শন করতে পারবেন না", যেমনটি তাঁর বাণী: "তবে কি আপনি অন্ধদের পথ দেখাবেন?"। অন্যান্য ক্বারীগণ "অন্ধদের পথপ্রদর্শক" (ইযাফতসহ) পাঠ করেছেন, যা আবু উবায়দ ও আবু হাতিমের পছন্দনীয় কিরাআত এবং সূরা আর-রূমেও অনুরূপ রয়েছে।
আর তাঁরা সকলেই এই সূরায় 'বিহাদী' শব্দের শেষে 'ইয়া'সহ ওয়াকফ করেছেন এবং সূরা আর-রূমে মুসহাফের অনুসরণ করে 'ইয়া' ব্যতিরেকে ওয়াকফ করেছেন; তবে ইয়াকুব উভয় স্থানেই 'ইয়া'সহ ওয়াকফ করেছেন। ফাররা ও আবু হাতিম "ওয়া মা আনতা বি-হাদিল উমই" (ইয়া বিহীন) পাঠ করা বৈধ বলেছেন এবং এটাই মূলত মূল রূপ। আর আব্দুল্লাহর (ইবনে মাসউদ) কিরাআতে রয়েছে: "ওয়া মা আন তাহদিয়াল উমইয়া"। (আপনি শোনাতে পারবেন না)—এখানে 'ইন' অর্থ হলো 'না'। (কেবল তাদের ছাড়া যারা আমাদের নিদর্শনে বিশ্বাস করে) ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: অর্থাৎ যাদেরকে আমি সৌভাগ্যবান হিসেবে সৃষ্টি করেছি, তারা তাওহীদের ক্ষেত্রে একনিষ্ঠ।
[সূরা আন-নামল (২৭): আয়াত ৮২ থেকে ৮৬]আর যখন তাদের ওপর শাস্তির ঘোষণা কার্যকর হবে, তখন আমি তাদের জন্য মাটি থেকে এক জন্তু বের করব যা তাদের সাথে কথা বলবে যে, মানুষ আমার নিদর্শনাবলীতে বিশ্বাস করত না। (৮২) আর যেদিন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে এক একটি দলকে সমবেত করব যারা আমার নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করত, অতঃপর তাদেরকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো হবে। (৮৩) এমনকি তারা যখন উপস্থিত হবে তখন আল্লাহ বলবেন, 'তোমরা কি আমার নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করেছিলে অথচ তোমরা তা জ্ঞানের পরিধিতে আনতে পারোনি? নাকি তোমরা অন্য কিছু করছিলে?' (৮৪) আর তাদের যুলুমের কারণে তাদের ওপর শাস্তির বাণী অবধারিত হয়ে যাবে, ফলে তারা কোনো কথা বলতে পারবে না।
(৮৫) তারা কি লক্ষ্য করে না যে, আমি রাত সৃষ্টি করেছি তাদের বিশ্রামের জন্য এবং দিনকে করেছি আলোকময়? নিশ্চয়ই এতে মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে। (৮৬)(১). অর্থাৎ আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা।
