An-Naml
আন-নামল: 55
27 আন-নামল An-Naml · 93 আয়াত النمل
মূল আরবি
أَئِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ ٱلرِّجَالَ شَهْوَةً مِّن دُونِ ٱلنِّسَآءِ ۚ بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُونَ
English Translations
Do you indeed approach men with desire instead of women? Rather, you are a people behaving ignorantly."
"Do you approach men in your lusts rather than women? Nay, but you are a people who behave senselessly."
Is it that you really come to men lustfully instead of women? No, you are a people committing acts of ignorance.”
Do you lustfully approach men instead of women? Nay, you engage in acts of sheer ignorance."
Must ye needs lust after men instead of women? Nay, but ye are folk who act senselessly.
Would ye really approach men in your lusts rather than women? Nay, ye are a people (grossly) ignorant!
বাংলা অনুবাদ
তোমরা কি কাম আসক্তি মিটানোর জন্য নারীদের বাদ দিয়ে পুরুষদের নিকট গমন কর? তোমরা এমন এক জাতি যারা মূর্খের আচরণ করছ।
‘তোমরা কি নারীদের বাদ দিয়ে পুরুষদের উপর কামতৃপ্তির জন্য উপগত হবে? বরং তোমরা এমন এক কওম যারা জানে না’।
তোমরা কি কাম-তৃপ্তির জন্য নারীকে ছেড়ে পুরুষে উপগত হবে? তোমরাতো এক অজ্ঞ সম্প্রদায়।
‘তোমরা কি কামতৃপ্তির জন্য নারীকে ছেড়ে পুরুষে উপগত হবে? তোমরা তো এক অজ্ঞ সম্প্রদায়।’
তোমরা কি কামতৃপ্তির জন্য নারীকে ছেড়ে পুরুষদের নিকট গমন কর? তোমরা তো এক অজ্ঞ সম্প্রদায়।’
৫৫. তোমরা কি কামোত্তেজনা নিবারণের জন্য মহিলাদেরকে বাদ দিয়ে পুরুষের কাছে যাচ্ছো? তোমরা মূলতঃ সাধুতা রক্ষা ও সন্তান চাও না। বরং পশুর ন্যায় তোমাদের উত্তেজনা নিবারণই কেবল উদ্দেশ্য। মূলতঃ তোমরা এক মূর্খ ও অসভ্য জাতি। তোমরা নিজেদের কর্তব্য তথা ঈমান, পবিত্রতা ও গুনাহ থেকে দূরে থাকা সম্পর্কে কিছুই জানো না।
তাফসীর
27:54
‘তোমরা কি কামতৃপ্তির জন্য নারীকে ছেড়ে পুরুষে উপগত হবে? তোমরা তো এক অজ্ঞ [১] সম্প্রদায়।’
[১] تخهلون শব্দের মূল হলো جهالة। এর প্রসিদ্ধ অর্থ হচ্ছে নির্বুদ্ধিতা ও বোকামি। [আল-কাসেমী, মাহাসীনুত তাওয়ীলঃ ৩/৫০, ৪/৩৭৬; উসাইমীন, তাফসীরু সূরাতায়িল ফাতিহা ওয়াল বাকারাহঃ ২৩৫] গালি গালাজ ও বেহুদা কাজ কারবার করলেও তাকে জাহেলী কাজ বলা হয়। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছিলেন। [দেখুন, বুখারীঃ ৩০] আবার এ শব্দটি জ্ঞানহীনতা অর্থেও ব্যবহার করা হয়, [ইবন কাসীর] তখন এর অর্থ হবে, তোমরা নিজেদের এ খারাপ কাজটির পরিণাম জানো না। তোমরা পরিণাম সম্পর্কে অজ্ঞ হয়েই এ ধরণের জঘন্য কাজ করছ।
তোমরা জানো না যে, এর শাস্তি কত ভয়াবহ হতে পারে। তোমরা তো একথা জানো, তোমরা যা অর্জন করছো তা প্রবৃত্তিকে তৃপ্তি দান করে। কিন্তু তোমরা জানো না এ চরম অপরাধমূলক ও জঘন্য ভোগ লিপ্সার জন্য শীঘ্রই তোমাদের কেমন কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে। আবার এটাও অর্থ হতে পারে যে, এটা যে হারাম সেটা তোমরা জান না বা জানতে চেষ্টা করছ না। [কুরতুবী; ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর]
[সূরা আন-নামল (২৭): আয়াত ৫৪ থেকে ৬১] পূর্ণ পৃষ্ঠা
আল্লাহ তাআলার বাণী: (অতঃপর এই তো তাদের ঘরবাড়ি, তাদের অন্যায়ের কারণে তা জনশূন্য অবস্থায় পড়ে আছে)। আল-ফাররা এবং আন-নাহহাসের মতে, সাধারণ পাঠরীতিতে ‘খাউয়িয়াতান’ শব্দটি ‘হাল’ (অবস্থা) হিসেবে নসব বা জবরযুক্ত হয়ে পঠিত হয়েছে। অর্থাৎ, তাদের ঘরবাড়িগুলো অধিবাসীশূন্য ও ধ্বংসপ্রাপ্ত, সেখানে কোনো বাসিন্দা নেই। আল-কিসায়ি এবং আবু উবাইদাহ বলেন: ‘খাউয়িয়াতান’ শব্দটি ‘কাত’ (বিচ্ছিন্নতা) এর কারণে নসব হয়েছে; এর অন্তর্নিহিত রূপটি হলো: ‘অতঃপর এই হলো তাদের সেই জনশূন্য ঘরবাড়ি’। যখন শব্দটি থেকে ‘আলিফ-লাম’ (নির্দিষ্টকারক অব্যয়) বিলুপ্ত করা হলো, তখন তা ‘হাল’ হিসেবে নসবযুক্ত হলো, যেমনটি মহান আল্লাহর এই বাণীতে রয়েছে: ‘এবং একমাত্র তাঁরই জন্য শাশ্বত আনুগত্য’।
ঈসা ইবন উমর, নাসর ইবন আসিম এবং আল-জাহদারি শব্দটি রাফ‘ বা পেশযুক্ত পড়েছন এই ভিত্তিতে যে, এটি ‘তিলকা’ এর ‘খবর’ (বিধেয়) এবং ‘বুয়ুতুহুম’ শব্দটি ‘তিলকা’ থেকে ‘বাদাল’ (পরিবর্ত)। আবার এমনও হতে পারে যে, ‘বুয়ুতুহুম’ শব্দটি ‘আতফে বয়ান’ এবং ‘খাউয়িয়াতুন’ শব্দটি ‘তিলকা’ এর ‘খবর’। এও সম্ভব যে, ‘খাউয়িয়াতুন’ শব্দটি একটি উহ্য ‘মুবতাদা’ বা উদ্দেশ্যের ‘খবর’ হিসেবে রাফ‘ হয়েছে, অর্থাৎ ‘সেটি জনশূন্য’। অথবা এটি ‘বুয়ুতুহুম’ থেকে ‘বাদাল’ হয়েছে, কারণ অনির্দিষ্ট বিশেষ্য নির্দিষ্ট বিশেষ্য থেকে ‘বাদাল’ হতে পারে। (নিশ্চয়ই এতে জ্ঞানবান সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।
আর আমি তাদের উদ্ধার করেছি যারা ঈমান এনেছিল) অর্থাৎ সালেহ আলাইহিস সালামের প্রতি (এবং যারা তাকওয়া অবলম্বন করত) আল্লাহকে ভয় করত এবং তাঁর আজাবকে ভয় পেত। বলা হয়েছে: সালেহ আলাইহিস সালামের ওপর প্রায় চার হাজার ব্যক্তি ঈমান এনেছিলেন। আর অবশিষ্টদের দেহে—মুকাতিল ও অন্যান্যদের বর্ণনা মতে—চণাবোটের মতো ফোড়া বা ক্ষত বের হলো। প্রথম দিন তা ছিল লাল বর্ণের, পরদিন তা হলুদ হয়ে গেল এবং তৃতীয় দিন কালো বর্ণ ধারণ করল। উটনীকে হত্যা করা হয়েছিল বুধবার, আর তাদের ধ্বংস হয়েছিল রবিবার। মুকাতিল বলেন: সেই ফোড়াগুলো ফেটে গেল এবং এর মাঝেই জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাদের ওপর এক মহান গর্জন করলেন, ফলে তারা নিথর হয়ে গেল।
আর তা ছিল পূর্বাহ্নের সময়। সালেহ আলাইহিস সালাম মুমিনদের নিয়ে হাজরামাউতের দিকে বেরিয়ে গেলেন। সেখানে প্রবেশের পর সালেহ আলাইহিস সালাম ইন্তেকাল করেন, তাই এর নাম রাখা হয় ‘হাজরামাউত’ (মৃত্যুর উপস্থিতি)। যাহহাক বলেন: এরপর সেই চার হাজার মুমিন ‘হাদূরা’ নামক একটি শহর নির্মাণ করেন, যা ইতিপূর্বে আসহাবুর রাস-এর কাহিনীতে বর্ণিত হয়েছে। [সূরা আন-নামল (২৭): আয়াত ৫৪ থেকে ৬১]আর লূতের কথা স্মরণ করুন, যখন তিনি তাঁর কওমকে বলেছিলেন, “তোমরা কি দেখে-শুনেও অশ্লীল কাজ করছ? (৫৪) তোমরা কি কামবশত নারীদের ছেড়ে পুরুষদের কাছে গমন করছ? বরং তোমরা এক অজ্ঞ জাতি।” (৫৫) উত্তরে তাঁর কওম কেবল এই বলল, “লূতের পরিবারকে তোমাদের জনপদ থেকে বের করে দাও, এরা তো এমন লোক যারা খুব পবিত্র সাজতে চায়।” (৫৬) অতঃপর আমি তাকে ও তার পরিবারকে উদ্ধার করলাম, তবে তার স্ত্রী ছাড়া; তার জন্য আমি অবশিষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া নির্ধারিত করেছিলাম।
(৫৭) আর আমি তাদের ওপর এক প্রলয়ংকরী বৃষ্টি বর্ষণ করলাম। সুতরাং সতর্ককৃতদের ওপর সেই বৃষ্টির বর্ষণ ছিল কতই না ভয়াবহ! (৫৮) বলুন, “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর এবং শান্তি তাঁর মনোনীত বান্দাদের প্রতি।” আল্লাহ শ্রেষ্ঠ, নাকি তারা যাদের শরিক সাব্যস্ত করে তারা? (৫৯) বরং কে তিনি, যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন? অতঃপর আমি তা দিয়ে মনোরম উদ্যানসমূহ সৃষ্টি করি, যার বৃক্ষরাজি উৎপাদন করা তোমাদের সাধ্যাতীত। আল্লাহর সাথে অন্য কোনো উপাস্য আছে কি? বরং তারা এমন এক কওম যারা সত্য বিচ্যুত হয়। (৬০) বরং কে তিনি, যিনি জমিনকে স্থিতিদান করেছেন এবং তার মাঝে নদীনালা প্রবাহিত করেছেন, আর তাতে স্থাপন করেছেন সুদৃঢ় পর্বতমালা এবং দুই সমুদ্রের মাঝে এক অন্তরায় সৃষ্টি করেছেন?
আল্লাহর সাথে অন্য কোনো উপাস্য আছে কি? বরং তাদের অধিকাংশই জানে না। (৬১)
