Al-Qamar
আল-কামার: 23
মূল আরবি
كَذَّبَتْ ثَمُودُ بِٱلنُّذُرِ
English Translations
Thamūd denied the warning.
Thamud (people also) belied the warnings.
(The people of) Thamūd rejected the warners.
Thamud gave the lie to the warnings,
(The tribe of) Thamud rejected warnings
The Thamud (also) rejected (their) Warners.
বাংলা অনুবাদ
সামূদ জাতিও ভয়প্রদর্শনকারীদেরকে অস্বীকার করেছিল,
সামূদ জাতিও সতর্ককারীদেরকে মিথ্যাবাদী বলেছিল।
সামূদ সম্প্রদায় সতর্ককারীদেরকে মিথ্যাবাদী বলেছিল।
সামূদ সম্প্রদায় সতর্ককারীদের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল,
সামূদ সম্প্রদায় সতর্কবাণীসমূহকে মিথ্যা মনে করেছিল,
২৩. সামূদ সম্প্রদায় তাদেরকে তাদের রাসূল সালেহ (আলাইহিস-সালাম) যে বিষয়ের প্রতি আহ্বান করেছিলো সেটিকে মিথ্যারোপ করে।
তাফসীর
২৩-৩২ নং আয়াতের তাফসীর: এখানে খবর দেয়া হচ্ছে যে, সামূদ সম্প্রদায় আল্লাহর রাসূল হযরত সালিহ (রাঃ)-কে মিথ্যাবাদী বলে এবং তার নবী হওয়াকে অসম্ভব মনে করে বিস্মিত হয়ে বলেঃ “এটা কি হতে পারে যে, আমরা আমাদেরই একটি লোকের অনুগত হয়ে যাবো? তার এতো বড় মর্যাদা লাভের কারণই বা কি?" এর চেয়ে আরো বেড়ে গিয়ে বলেঃ “আমরা এটা মেনে নিতে পারি না যে, আমাদের সবারই মধ্য হতে শুধুমাত্র এই লোকটিরই উপর আল্লাহর কালাম নাযিল হয়েছে।" তারপর এরও আগে পা বাড়িয়ে গিয়ে আল্লাহর নবী (আঃ)-কে প্রকাশ্যভাবে ও স্পষ্ট ভাষায় চরম মিথ্যাবাদী বলতেও কুণ্ঠাবোধ করেনি।
আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে ধমকের সুরে বলেন, এখন তোমরা যা চাও তাই বল, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মিথ্যাবাদী এবং মিথ্যায় সীমালংঘনকারী কে তা কালই প্রকাশিত হয়ে যাবে।মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ আমি তাদের পরীক্ষার জন্যে পাঠিয়েছি এক উষ্ট্ৰী। ঐ লোকদের চাহিদা অনুযায়ী পাথরের এক কঠিন পাহাড় হতে এক বিরাট গর্ভবতী উস্ত্রী বের হয় এবং আল্লাহ তা'আলা স্বীয় নবী (আঃ)-কে বলেনঃ তাদের পরিণাম কি হয় তা তুমি দেখে নিয়ে এবং তাদের কষ্টদায়ক কথার উপর ধৈর্য ধারণ করো। দুনিয়া ও আখিরাতে বিজয় তোমারই হবে। তুমি তাদেরকে বলে দাওঃ পানি এক দিন তোমাদের এবং এক দিন উষ্ট্ৰীর।
যেমন আল্লাহ তা'আলা অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “সালেহ বললোঃ এই যে উষ্ট্ৰী, এর জন্যে আছে পানি পানের পালা এবং তোমাদের জন্যে আছে পানি পানের পালা, নির্ধারিত এক এক দিনে।” (২৬:১৫৫)(আরবী)-এর তাফসীরে মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, যখন উষ্ট্ৰীটি অনুপস্থিত থার্কতো তখন তারা পানি পেতো, আর যখন উষ্ট্ৰীটি হাযির থাকতো তখন তারা ওর দুধ পেতো।এরপর আল্লাহ তাআলা বলেনঃ অতঃপর তারা তাদের এক সঙ্গীকে আহ্বান করলো, সে ওকে ধরে হত্যা করলো। তাফসীরকারগণ বলেন যে, হত্যকারী লোকটির নাম ছিল কিদার ইবনে সালিফ। সে ছিল তার কওমের মধ্যে সর্বাধিক হতভাগ্য। যেমন অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ তাদের মধ্যে যে সর্বাধিক হতভাগ্য, সে যখন তৎপর হয়ে উঠলো।” (৯১:১২)মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ বলেনঃ “কি কঠোর ছিল আমার শাস্তি ও সতর্কবাণী!
আমি তাদেরকে আঘাত হেনেছিলাম এক মহানাদ দ্বারা; ফলে তারা হয়ে গেল খোয়াড় প্রস্তুতকারীর বিখণ্ডিত শুষ্ক শাখা-প্রশাখার ন্যায়।' অর্থাৎ যেভাবে জমির কর্তিত শুষ্ক পাতা উড়ে গিয়ে হারিয়ে যায় সেই ভাবে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকেও নিশ্চিহ্ন করে দেন। শুষ্ক চারা ভুষি যেমনভাবে জঙ্গলে উড়ে উড়ে ফিরে, ঠিক তেমনিভাবে তাদেরকেও ধ্বংস করে দেয়া হয়। অথবা ভাবার্থ হচ্ছেঃ আরবের প্রথা ছিল যে, উটগুলোকে শুষ্ক কাঁটাযুক্ত বেড়ার মধ্যে রেখে দেয়া হতো। যখন ঐ বেড়াকে পদদলিত করা হতো তখন উটগুলোর যে অবস্থা হতো ঐ অবস্থা তাদেরও হয়ে যায়। তাদের একজনও রক্ষা পায়নি।
দেয়াল হতে যেমন মাটি ঝরে পড়ে তেমনই তাদেরও মূলোৎপাটন ঘটে। এসব উক্তি হলো তাফসীরকারদের এই বাক্যটির তাফসীর। কিন্তু প্রথম উক্তিটিই প্রবলতম। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।
সামূদ সম্প্রদায় সতর্ককারীদের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল,
[সূরা আল-কামার (৫৪): আয়াত ২৩ থেকে ২৬] পূর্ণ পৃষ্ঠা
তাবারী বলেন: এখানে বাক্যে একটি অংশ উহ্য রয়েছে; এর অর্থ হলো—এটি মানুষকে সমূলে উপড়ে ফেলে এমন অবস্থায় ছেড়ে দেয় যেন তারা উপপাটিত খেজুর গাছের কাণ্ড। সুতরাং 'কাফ' (সদৃশ) বর্ণটি উহ্য ক্রিয়ার কারণে নসবের (কর্মকারকীয়) অবস্থানে রয়েছে। আয-যাজ্জাজ বলেন: 'কাফ' বর্ণটি 'হাল' বা অবস্থার প্রেক্ষিতে নসবের অবস্থানে রয়েছে। এর অর্থ হলো—এটি মানুষকে খেজুর গাছের কাণ্ডের সদৃশ অবস্থায় উপড়ে ফেলে। উপমাটি সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এটি সেই গর্তগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেখানে তারা অবস্থান করছিল। আর 'আ'জায' শব্দটি 'আজুয' এর বহুবচন, যার অর্থ কোনো বস্তুর পশ্চাৎভাগ বা শেষাংশ।
আদ জাতি দীর্ঘদেহী হিসেবে সুপরিচিত ছিল, তাই তাদেরকে এমন খেজুর গাছের সাথে তুলনা করা হয়েছে যা তাদের মুখের ওপর আছড়ে পড়েছে। আর মহান আল্লাহ যে 'মুনকাইর' (উপপাটিত - পুংলিঙ্গ) শব্দ ব্যবহার করেছেন তা 'নাখল' (খেজুর গাছ) শব্দের প্রেক্ষিতে, যা এমন একটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য যা পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ উভয় রূপেই ব্যবহৃত হয়। 'মুনকাইর' অর্থ যা তার মূল থেকে বিচ্যুত হয়েছে। আমি গাছটিকে 'কা'রা' করেছি মানে হলো আমি একে এর শিকড়সহ উপড়ে ফেলেছি, ফলে তা উপপাটিত হয়ে গেল। আল-কিসায়ী বলেন: 'কা'আর্তুল বি'রা' অর্থ আমি কূপে অবতরণ করেছি যতক্ষণ না তার তলদেশে পৌঁছেছি।
একইভাবে পাত্রের ক্ষেত্রেও বলা হয় যখন আমি এর পানীয় পান করে একদম তলদেশ পর্যন্ত পৌঁছে যাই। আর 'আক'আর্তুল বি'রা' মানে হলো আমি কূপের জন্য তলদেশ তৈরি করেছি। আবু বকর ইবনুল আম্বারী বলেন: ইসমাইল আল-কাদীর উপস্থিতিতে আল-মুবরারিদকে এক হাজার মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, এটিও ছিল তারই অন্তর্ভুক্ত। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল: মহান আল্লাহর বাণী 'সুলাইমানের জন্য প্রবল বাতাসকে' (স্ত্রীলিঙ্গ রূপে) এবং 'তার কাছে এক প্রবল বাতাস আসল' (পুংলিঙ্গ রূপে), এবং তাঁর বাণী 'যেন তারা শূন্যগর্ভ খেজুর গাছের কাণ্ড' (স্ত্রীলিঙ্গ রূপে) ও 'উপপাটিত খেজুর গাছের কাণ্ড' (পুংলিঙ্গ রূপে)—এগুলোর মধ্যে পার্থক্যের ভিত্তি কী?
তিনি উত্তরে বললেন: এই জাতীয় যা কিছু তোমার সামনে আসবে, তুমি চাইলে শব্দের বাহ্যিক রূপ অনুযায়ী তাকে পুংলিঙ্গ হিসেবে গণ্য করতে পারো, অথবা তার অর্থের দিকে লক্ষ্য রেখে তাকে স্ত্রীলিঙ্গ হিসেবেও গণ্য করতে পারো। আরও বলা হয়েছে যে, 'নাখল' এবং 'নাখিল' উভয় শব্দই একই অর্থে পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয় যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি। (অতএব কেমন ছিল আমার শাস্তি ও সতর্কবাণী। আর অবশ্যই আমি কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য, অতএব কোনো উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি?) [ইতিপূর্বে আলোচিত]। [সূরা আল-কামার (৫৪): আয়াত ২৩ থেকে ২৬]সামূদ জাতি সতর্কবার্তাকে অস্বীকার করেছিল।
(২৩) তারা বলেছিল, "আমাদেরই মধ্য থেকে একজন মানুষ, আমরা কি তারই অনুসরণ করব? তবে তো আমরা নিশ্চিতভাবে পথভ্রষ্টতা ও উন্মত্ততায় পতিত হব। (২৪) আমাদের মধ্য থেকে কি তারই ওপর উপদেশ (ওহী) অবতীর্ণ করা হয়েছে? বরং সে একজন চরম মিথ্যাবাদী ও উদ্ধত।" (২৫) তারা আগামীকালই জানতে পারবে কে চরম মিথ্যাবাদী ও উদ্ধত। (২৬)মহান আল্লাহর বাণী: (সামূদ জাতি সতর্কবার্তাকে অস্বীকার করেছিল) তারা হলো সালেহ (আ.)-এর কওম, তারা রাসূলগণকে এবং তাদের নবীকে অস্বীকার করেছিল, অথবা তারা সেই নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করেছিল যা ছিল সতর্কবার্তা। (তারা বলেছিল, আমাদেরই মধ্য থেকে একজন মানুষ, আমরা কি তারই অনুসরণ করব?) অর্থাৎ আমরা কি একটি বৃহৎ দলকে ছেড়ে মাত্র একজন মানুষের অনুসরণ করব?
আবু আল-আশহাব, ইবনে সামাইকা এবং আবু সাম্মাল আল-আদাউয়ী 'বাশারুন' ও 'ওয়াহিদুন' শব্দ দুটিকে রফা (পেশ) যোগে পড়েছেন। এমতাবস্থায় শব্দটি মুবতাদা (উদ্দেশ্য) হিসেবে মারফু হবে এবং 'নাত্তাবিউহু' অংশটি হবে তার খবর (বিধেয়)। অবশিষ্ট কিরাত পাঠকারীগণ নসব (যবর) যোগে পড়েছেন এই অর্থে যে—আমরা কি আমাদেরই মধ্য থেকে এমন একজন মানুষের অনুসরণ করব যার আমরা অনুসারী হব। আর আবু সাম্মাল পড়েছেন:(১) দ্রষ্টব্য: খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ৩২১।(২) দ্রষ্টব্য: খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ৩২৫।(৩) দ্রষ্টব্য: খণ্ড ১৮, পৃষ্ঠা ২৬১।(৪) পাণ্ডুলিপি 'বা' এবং 'ইয়া' থেকে গৃহীত।(৫) এটি আবু সাম্মাল থেকে বর্ণিত আরেকটি বর্ণনা, যেমনটি (রুহুল মাআনি) ও অন্যান্য গ্রন্থে রয়েছে।
পাণ্ডুলিপি বা, যা, এবং লাম-এ (আবু সাম্মাক) 'কাফ' দিয়ে রয়েছে যা সঠিক নয়।
