Al-Qamar

আল-কামার: 49

54:49
টেক্সট কপি
54 আল-কামার Al-Qamar · 55 আয়াত القمر

মূল আরবি

إِنَّا كُلَّ شَىْءٍ خَلَقْنَـٰهُ بِقَدَرٍ

English Translations

Sahih International

Indeed, all things We created with predestination.

Muhsin Khan

Verily, We have created all things with Qadar (Divine Preordainments of all things before their creation, as written in the Book of Decrees Al-Lauh Al-Mahfuz).

Taqi Usmani

Verily, We have created every thing according to (Our) predestination.

Abul Ala Maududi

We have created everything in a determined measure.

Pickthall

Lo! We have created every thing by measure.

Yusuf Ali

Verily, all things have We created in proportion and measure.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

আমি সব কিছু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাপে।

রাওয়াই আল-বায়ান

নিশ্চয় আমি সব কিছু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাণ অনুযায়ী।

শাইখ মুজিবুর রহমান

আমি সব কিছু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাপে।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

নিশ্চয় আমরা প্রত্যেক কিছু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাপে,

ফাতহুল মাজীদ

নিশ্চয়ই আমি সবকিছু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাপে।

মুখতাসার

৪৯. আমি সৃষ্টিকুলের প্রত্যেকটি বস্তু আমার পূর্ব নির্ধারণ, জ্ঞান, ইচ্ছা ও লাওহে মাহফূযে লিখিত ফায়সালা অনুযায়ী সৃষ্টি করেছি।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

54:47

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

নিশ্চয় আমরা প্রত্যেক কিছু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাপে [১],

[১] قدر বা ‘কদর’ শব্দের আভিধানিক অর্থ পরিমাপ করা, কোন বস্তু উপযোগিতা অনুসারে পরিমিতরূপে তৈরি করা। [ফাতহুল কাদীর] এছাড়া শরীআতের পরিভাষায় ‘কদার” শব্দটি মহান আল্লাহর তাকদীর তথা বিধিলিপির অর্থেও ব্যবহৃত হয়। অধিকাংশ তফসীরবিদ বিভিন্ন হাদীসের ভিত্তিতে আলোচ্য আয়াতে এই অর্থই নিয়েছেন। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, কুরাইশ কাফেররা একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে তাকদীর সম্পর্কে বিতর্ক শুরু করলে আলোচ্য আয়াত অবতীর্ণ হয়। [মুসলিম:২৬৫৬]

তাকদীর ইসলামের একটি অকাট্য আকীদা-বিশ্বাস। যে একে সরাসরি অস্বীকার করে, সে কাফের। উপরোক্ত আয়াত ও তার শানে নুযুল থেকে আমরা এর প্রমাণ পাই। তাছাড়া পবিত্র কুরআনের অন্যত্রও তাকদীরের কথা এসেছে, মহান আল্লাহ বলেনঃ “আর আল্লাহর নির্দেশ ছিল সুনির্ধারিত।”। [সূরা আল-আহযাবঃ ৩৮] অন্যত্র বলেন, “তিনি সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছেন তারপর নির্ধারণ করেছেন যথাযথ অনুপাতে”। [সূরা আল-ফুরকানঃ ২]

সহীহ মুসলিমে উমর ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে, যা 'হাদীসে জিবরীল’ নামে বিখ্যাত, তাতে রয়েছেঃ জিবরীল আলাইহিস সালাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে জানতে চেয়ে বলেন যে, আমাকে ঈমান সম্পর্কে অবহিত করুন, তিনি বললেনঃ “আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফিরিশতাগণের প্রতি, তাঁর গ্রন্থসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান আনা, আর তাকদীরের ভাল ও মন্দের প্রতি ঈমান আনা”। [মুসলিম: ১] অনুরূপভাবে আব্দুল্লাহ ইবনে “আমর ইবনুল ‘আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ “আল্লাহ আসমান ও যমীন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বে সৃষ্টি জগতের তাকদীর লিখে রেখেছেন”।

বললেনঃ “আর তাঁর আরশ ছিল পানির উপর”। [মুসলিম: ২৬৫৩] অনুরূপভাবে তাকদীরের উপর ঈমান আনা উম্মত তথা সাহাবা ও তাদের পরবর্তী সবার ইজমা’ বা ঐক্যমতের বিষয়। সহীহ মুসলিমে ত্বাউস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ “আমি অনেক সাহাবীকে পেয়েছি যারা বলতেনঃ সব কিছু তাকদীর অনুসারে হয়।’ আরো বলেনঃ আমি "আব্দুল্লাহ ইবনে উমরকে বলতে শুনেছিঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “সবকিছুই তাকদীর মোতাবেক হয়, এমনকি অপারগতা ও সক্ষমতা, অথবা বলেছেনঃ সক্ষমতা ও অপারগতা”। [মুসলিম:২৬৫৫]

তাকদীরের স্তর বা পর্যায়সমূহ চারটি; যার উপর কুরআন ও সুন্নায় অসংখ্য দলীল-প্রমাণাদি এসেছে আর আলেমগণও তার স্বীকৃতি দিয়েছেন।

প্রথম স্তরঃ অস্তিত্ব সম্পন্ন, অস্তিত্বহীন, সম্ভব এবং অসম্ভব সবকিছু সম্পর্কে আল্লাহর জ্ঞান থাকা এবং এ সবকিছু তাঁর জ্ঞানের আওতাভুক্ত থাকা। সুতরাং তিনি যা ছিল এবং যা হবে, আর যা হয় নি যদি হত তাহলে কি রকম হতো তাও জানেন। এর প্রমাণ আল্লাহর বাণীঃ “যাতে তোমরা বুঝতে পার যে, আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান এবং জ্ঞানে আল্লাহ সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছেন”।[সূরা আত্‌ তালাকঃ ১২] সহীহ বুখারী ও মুসলিমে ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমার হাদীসে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মুশরিকদের সন্তানদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ “তারা কি কাজ করত (জীবিত থাকলে) তা আল্লাহই ভাল জানেন”। [বুখারী: ১৩৮৪, মুসলিম: ২৬৫৯]

দ্বিতীয় স্তরঃ ক্ৰিয়ামত পর্যন্ত যত কিছু ঘটবে সে সব কিছু মহান আল্লাহ কর্তৃক লিখে রাখা। মহান আল্লাহ বলেনঃ “আপনি কি জানেন না যে, আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে আল্লাহ তা জানেন। এসবই এক কিতাবে আছে; নিশ্চয়ই তা আল্লাহর নিকট সহজ। [সূরা আল—হাজ্জঃ ৭০] আল্লাহ তা'আলা আরো বলেনঃ “আমরা তো প্রত্যেক জিনিস এক স্পষ্ট কিতাবে সংরক্ষিত করেছি”। সূরা ইয়াসীনঃ ১২] পূর্বে বর্ণিত ‘আব্দুল্লাহ ইবনে “আমর ইবনুল আসের হাদীসে এ কথাও বলা হয়েছে যে, আল্লাহ আসমান ও যমীন সৃষ্টি করার পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বে সৃষ্টি জগতের তাকদীর লিখে রেখেছেন। [মুসলিম: ২৬৫৩] তাছাড়া অন্য হাদীসে এসেছে, ওলীদ ইবনে উবাদাহ বলেন, আমি আমার পিতাকে অসিয়ত করতে বললে তিনি বললেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, আল্লাহ যখন প্রথমে কলম সৃষ্টি করলেন তখন তাকে বললেন, লিখ।

তখন থেকে কিয়ামত পর্যন্ত যা হবে সে মূহুর্ত থেকে কলম তা লিখতে শুরু করেছে।' হে প্রিয় বৎস! তুমি যদি এটার উপর ঈমান না এনে মারা যাও তবে তুমি জাহান্নামে যাবে। [মুসনাদে আহমাদ:৫/৩১৭] অন্য হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ঐ পর্যন্ত কেউ ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ চারটি বিষয়ের উপর ঈমান না আনবে, আল্লাহ ব্যতীত কোন হক্ক ইলাহ নেই এটার সাক্ষ্য দেয়া। আর আমি আল্লাহর রাসূল। আল্লাহ আমাকে হক সহ পাঠিয়েছে। অনুরূপভাবে সে মৃত্যুর উপর ঈমান আনবে। আরো ঈমান আনবে মৃত্যুর পরে পুনরুত্থানের। আরও ঈমান আনবে তাকদীরের ভাল-মন্দের উপর।

[তিরমিয়ী: ২১৪৪]

তৃতীয় স্তরঃ আল্লাহর ইচ্ছঃ তিনি যা চান তা হয়, আর যা চান না তা হয় না। মহান আল্লাহ বলেনঃ “তাঁর ব্যাপার শুধু এতটুকুই যে, তিনি যখন কোন কিছুর ইচ্ছা করেন, তিনি তখন তাকে বলেনঃ “হও”, ফলে তা হয়ে যায়”। সূরা ইয়াসীনঃ ৮২] মহান আল্লাহ আরো বলেনঃ “সমগ্র সৃষ্টি জগতের প্রতিপালক আল্লাহর ইচ্ছা! ব্যতীত তোমরা কোন ইচ্ছাই করতে পার না”। [সূরা আত-তাকওয়ীরঃ ২৯] হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “তোমাদের কেউ যেন একথা কখনো না বলে যে, হে আল্লাহ! যদি আপনি চান আমাকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ! যদি আপনি চান আমাকে দয়া করুন, বরং দোআ করার সময় দৃঢ়ভাবে কর; কেননা আল্লাহ যা ইচ্ছা তা-ই করেন, তাঁকে জোর করার কেউ নেই”। [বুখারী: ৬৩৩৯, মুসলিম: ২৬৭৯]

চতুর্থ স্তরঃ আল্লাহ কর্তৃক যাবতীয় বস্তু সৃষ্টি করা ও অস্তিত্বে আনা এবং এ ব্যাপারে তাঁর পূর্ণ ক্ষমতা থাকা। কেননা তিনিই সে পবিত্র সত্তা যিনি সমস্ত কর্মী ও তার কর্ম, প্রত্যেক নড়াচড়াকারী ও তার নড়াচড়া, এবং যাবতীয় স্থিরিকৃত বস্তু ও তার স্থিরতার সৃষ্টিকারক। মহান আল্লাহ বলেনঃ আল্লাহ সবকিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সবকিছুর কর্মবিধায়ক”। সূরা আয-যুমারঃ ৬২] আল্লাহ তা'আলা আরো বলেনঃ “প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তোমরা যা কর তাও”। [সূরা আস-সাফফাতঃ ৯৬] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “একমাত্র আল্লাহ্‌ ছিলেন, তিনি ব্যতীত আর কোন বস্তু ছিলনা, আর তাঁর আরশ ছিল পানির উপর এবং তিনি সবকিছু লাওহে মাহফুজে লিখে রেখেছেন, আর আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন”। [বুখারী: ৩১৯১]

তাই তাকদীরের উপর ঈমান বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য এ চারটি স্তরের উপর ঈমান আনা ওয়াজিব। যে কেউ তার সামান্যও অস্বীকার করে তাকদীরের উপর তার ঈমান পূর্ণ হবে না।

তাকদীরের উপর ঈমানের উপকারিতা: তাকদীরের উপর ঈমান যথার্থ হলে মুমিনের জীবনের উপর তার যে বিরাট প্রভাব ও হিতকর ফলাফল অর্জিত হয়, তন্মধ্যে অন্যতম হচ্ছেঃ

কার্যোদ্ধারের জন্য কোন উপায় বা কৌশল অবলম্বন করলেও কেবলমাত্ৰ আল্লাহর উপরই ভরসা করবে; কেননা তিনিই যাবতীয় কৌশল ও কৌশল্যকারীর নিয়ন্তা। যখন বান্দা এ কথা সত্যিকার ভাবে উপলব্ধি করতে পারবে যে, সবকিছুই আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদীর অনুসারেই হয় তখন তার আত্মিক প্রশান্তি ও মানসিক প্ৰসন্নতা অর্জিত হয়।

উদ্দেশ্য সাধিত হলে নিজের মন থেকে আত্মম্ভরিতা দূর করা সম্ভব হয়। কেননা আল্লাহ তার জন্য উক্ত কল্যাণ ও সফলতার উপকরণ নির্ধারণ করে দেয়ার কারণেই তার পক্ষে এ নেয়ামত অর্জন করা সম্ভব হয়েছে, তাই সে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ হবে এবং আতম্ভরিতা পরিত্যাগ করবে।

উদ্দেশ্য সাধিত না হলে বা অপছন্দনীয় কিছু ঘটে গেলে মন থেকে অশান্তি ও পেরেশানীভাব দূর করা (তাকদীরে ঈমানের কারণে) সম্ভব হয়; কেননা এটা আল্লাহর ফয়সালা আর তাঁরই তাকদীরের ভিত্তিতে হয়েছে। সুতরাং সে ধৈর্য ধারণ করবে এবং সওয়াবের আশা করবে। [উসুলুল ঈমান ফি দাওয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-কামার (৫৪): আয়াত ৪৭ থেকে ৪৯] পূর্ণ পৃষ্ঠা

‌[সূরা আল-কামার (৫৪): আয়াত ৪৭ থেকে ৪৯]নিশ্চয়ই অপরাধীরা বিভ্রান্তি ও উন্মাদনায় লিপ্ত। (৪৭) যেদিন তাদের উপুড় করে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে আগুনের দিকে (এবং বলা হবে), সাক্বারের পরশ আস্বাদন করো। (৪৮) নিশ্চয়ই আমি প্রতিটি বস্তু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাপে। (৪৯)আল্লাহ তাআলার বাণী: (নিশ্চয়ই অপরাধীরা বিভ্রান্তি ও উন্মাদনায় লিপ্ত) এতে চারটি মাসআলা রয়েছে: প্রথমটি— আল্লাহ তাআলার বাণী: (নিশ্চয়ই অপরাধীরা বিভ্রান্তি ও উন্মাদনায় লিপ্ত) অর্থাৎ সত্য থেকে বিচ্যুতিতে রয়েছে, আর ‘সু’উর’ অর্থ দহন। আবার কেউ কেউ বলেছেন এর অর্থ উন্মাদনা, যেমনটি এই সূরার পূর্বেই অতিক্রান্ত হয়েছে।

(যেদিন তাদের উপুড় করে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে আগুনের দিকে, সাক্বারের পরশ আস্বাদন করো) সহীহ মুসলিমে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: কুরাইশ মুশরিকরা তাকদীর (ভাগ্য) বিষয়ে বিতর্ক করার জন্য রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এল। তখন নাযিল হলো: ‘যেদিন তাদের উপুড় করে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে আগুনের দিকে (এবং বলা হবে), সাক্বারের পরশ আস্বাদন করো। নিশ্চয়ই আমি প্রতিটি বস্তু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাপে।’ তিরমিযীও এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: হাদীসটি হাসান সহীহ। ইমাম মুসলিম তাউস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর একদল সাহাবীকে পেয়েছি যারা বলতেন: সবকিছুই নির্ধারিত পরিমাপে (তাকদীর অনুযায়ী) হয়।

তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনে উমরকে বলতে শুনেছি, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ‘সবকিছুই তাকদীর অনুযায়ী হয়, এমনকি অক্ষমতা ও বুদ্ধিমত্তা—বা বুদ্ধিমত্তা ও অক্ষমতাও।’ আর এটি ক্বাদারিয়া সম্প্রদায়ের মতবাদকে বাতিল ঘোষণা করে। (আস্বাদন করো) অর্থাৎ তাদের বলা হবে আস্বাদন করো। আর ‘পরশ’ বলতে আগুনের ভেতর নিক্ষিপ্ত হওয়ার সময় তারা যে যন্ত্রণা অনুভব করবে তাকে বোঝানো হয়েছে। ‘সাক্বার’ জাহান্নামের নামগুলোর মধ্যে একটি নাম, যা অপপরিবর্তনীয়, কারণ এটি একটি সুনির্দিষ্ট নারীবাচক বিশেষ্য; ঠিক তেমনিভাবে ‘লাযা’ এবং ‘জাহান্নাম’ শব্দ দুটিও।

আতা (রহ.) বলেছেন: ‘সাক্বার’ হলো জাহান্নামের ষষ্ঠ স্তর। কুতরুব বলেন: ‘সাক্বার’ শব্দটি ‘সাক্বরাতহুশ শামস’ (সূর্য তাকে দগ্ধ করেছে) থেকে এসেছে, যার অর্থ ঝলসে দেওয়া। আর অত্যধিক গরমের দিনকে ‘ইয়াওমুম মুসামক্বির’ বা ‘মুসামকির’ বলা হয়। দ্বিতীয় মাসআলা— আল্লাহ তাআলার বাণী: (নিশ্চয়ই আমি প্রতিটি বস্তু) জনসাধারণের ক্বিরাআত অনুযায়ী ‘কুল্লা’ (সব কিছু) শব্দটি নসব (জবর) যুক্ত। তবে আবু সাম্মাল একে রাফা (পেশ) দিয়ে ‘কুল্লু’ পড়েছেন মুবতাদা (উদ্দেশ্য) হিসেবে। যারা নসব দিয়ে পড়েছেন, তা একটি উহ্য ক্রিয়ার কারণে হয়েছে, যা কুফাবাসী বৈয়াকরণদের পছন্দনীয় মত; কারণ ‘ইন্না’ ক্রিয়া দাবি করে, তাই এটিই অধিকতর সঙ্গত।

আর নসব আল্লাহ তাআলার সৃষ্টির ক্ষেত্রে ব্যাপকতার ওপর অধিকতর প্রমাণ বহন করে। কারণ আপনি যদি ব্যাখ্যাদানকারী ‘খালাক্বনাহু’ (আমি তা সৃষ্টি করেছি) শব্দটি বাদ দিয়ে প্রথম ক্রিয়াটিকে প্রকাশ করেন, তবে বাক্যটি হতো— ‘নিশ্চয়ই আমরা প্রতিটি বস্তু সৃষ্টি করেছি পরিমাপ অনুযায়ী’। আর ‘খালাক্বনাহু’ শব্দটি ‘শাইয়িন’ (বস্তু)-এর বিশেষণ হওয়া সঠিক নয়; কারণ বিশেষণ তার বিশেষিত শব্দের পূর্ববর্তী অংশে প্রভাব বিস্তার করতে পারে না, এবং তা এমন কোনো আমলকারীর (ক্রিয়ার) ব্যাখ্যা হতে পারে না যা তার পূর্ববর্তী অংশে কাজ করে।

তাফসীর আদ-দুররুল মানসূর

পূর্ণ পৃষ্ঠা

আমার গৃহ সম্পর্কেই এই আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে: অতএব যে দান করে ও তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যা উত্তম তা সত্য বলে বিশ্বাস করে, আমি তার জন্য সুগম করে দেব সহজ পথ।আবদ বিন হুমাইদ, ইবনে মারদুওয়াইহ এবং ইবনে আসাকির আল-কালবীর সূত্রে আবু সালিহ হতে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেন: অতএব যে দান করে ও তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যা উত্তম তা সত্য বলে বিশ্বাস করে, আমি তার জন্য সুগম করে দেব সহজ পথ। তিনি বলেন: এখানে আবু বকর সিদ্দীক (রাযি.)-এর কথা বলা হয়েছে। আর কিন্তু যে কার্পণ্য করে ও নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করে এবং যা উত্তম তা অস্বীকার করে প্রসঙ্গে তিনি বলেন: এটি আবু সুফিয়ান বিন হারব-এর ক্ষেত্রে বলা হয়েছে।ইমাম আহমদ, আবদ বিন হুমাইদ, বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, ইবনে মারদুওয়াইহ এবং ইবনে জারীর আলী ইবনে আবী তালিব (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে একটি জানাজায় উপস্থিত ছিলাম।

তখন তিনি বললেন: “তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার জান্নাত বা জাহান্নামের ঠিকানা লিখে দেওয়া হয়নি।” সাহাবীগণ বললেন: “হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে কি আমরা আমাদের লিখিত ভাগ্যের ওপর ভরসা করে আমল ত্যাগ করব না?” তিনি বললেন: “তোমরা আমল করতে থাকো, কারণ প্রত্যেককে সেই কাজের জন্যই সহজতা দান করা হবে যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। যারা সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত, তাদের সৌভাগ্যের আমল করা সহজ করে দেওয়া হবে; আর যারা দুর্ভাগাদের অন্তর্ভুক্ত, তাদের দুর্ভাগ্যের আমলই সহজ করে দেওয়া হবে।” এরপর তিনি পাঠ করলেন: অতএব যে দান করে ও তাকওয়া অবলম্বন করে... থেকে কষ্টদায়ক পথের জন্য পর্যন্ত।ইবনে জারীর আবু আবদুর রহমান আস-সুলামী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হলো—(নিশ্চয় আমি প্রত্যেক বস্তু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাপে) (সূরা আল-কামার, আয়াত: ৪৯)—তখন এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন: “হে আল্লাহর রাসূল!

তবে আমল কিসের ভিত্তিতে হবে? আমরা কি নতুন কোনো আমল শুরু করব নাকি এমন কিছুর ওপর যা আগেই নির্ধারিত ও সমাপ্ত হয়ে গেছে?” তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: “তোমরা আমল করে যাও, কারণ প্রত্যেককেই সহজ করে দেওয়া হবে; আমি তাকে সহজ পথের জন্য সহজ করে দেব এবং কঠিন পথের জন্য সহজ করে দেব।”আত-তসতী তাঁর সংকলিত মাসায়িল-এ ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নাফে বিন আল-আযরাক তাঁকে আল্লাহর বাণী: যখন সে ধ্বংস হবে (তরাদ্দা) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি উত্তর দিলেন: “যখন সে ধ্বংস হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।

এটি আবু জেহেলের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে।”তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন: “আরবরা কি এই শব্দের অর্থ সেভাবে চেনে?” তিনি বললেন: “হ্যাঁ, তুমি কি আদী বিন যায়িদের এই পঙ্ক্তিটি শোনোনি: ‘মৃত্যু তাকে ছিনিয়ে নিল আর সে ধ্বংস হয়ে (নিক্ষিপ্ত হয়ে) পড়ল, অথচ সে তখন তার রাজত্বের দীর্ঘায়ু কামনা করছিল’।” আবদুর রাজ্জাক এবং আবদ বিন হুমাইদ কাতাদাহ (রহ.) থেকে যখন সে ধ্বংস হবে প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন যে, এর অর্থ হলো—জাহান্নামে।ইবনে আবী শাইবা বর্ণনা করেন: আর তার ধন-সম্পদ তার কোনো কাজে আসবে না যখন সে ধ্বংস হবে অর্থাৎ—জাহান্নামে (নিক্ষিপ্ত হবে)।আল-ফুরয়াবী, আবদ বিন হুমাইদ, ইবনে জারীর, ইবনে আল-মুনযির এবং ইবনে আবী হাতিম বর্ণনা করেন...