Al-Qiyamah
আল-কিয়ামাহ: 19
মূল আরবি
ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُۥ
English Translations
Then upon Us is its clarification [to you].
Then it is for Us (Allah) to make it clear to you,
Then, it is undertaken by Us to explain it.
then it will be for Us to explain it.
Then lo! upon Us (resteth) the explanation thereof.
Nay more, it is for Us to explain it (and make it clear):
বাংলা অনুবাদ
অতঃপর তা (ওয়াহীয়ে খফী বা প্রচ্ছন্ন ওয়াহীর মাধ্যমে) বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা আমারই দায়িত্ব।
তারপর তার বর্ণনার দায়িত্ব আমারই।
অতঃপর এর বিশদ ব্যাখ্যার দায়িত্ব আমারই।
তারপর তার বর্ণনার দায়িত্ব নিশ্চিতভাবে আমাদেরই।
অতঃপর এর বিশদ ব্যাখ্যার দায়িত্ব আমারই।
১৯. এরপর আপনার উদ্দেশ্যে এর ব্যাখ্যা দেয়ার দায়িত্বও আমার।
তাফসীর
75:16
তারপর তার বর্ণনার দায়িত্ব নিশ্চিতভাবে আমাদেরই [১]।
[১] এ আয়াতসমূহে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে একটি বিশেষ নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যা ওহী নাযিল হওয়ার সময় অবতীর্ণ আয়াতগুলো সম্পর্কিত। নির্দেশ এই যে, যখন জিবরাঈল আলাইহিস্ সালাম কুরআনের কিছু আয়াত নিয়ে আগমন করতেন, তখন তা পাঠ করার সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দ্বিবিধ চিন্তায় জড়িত হয়ে পড়তেন যেন কোথায়ও এর শ্রবণ ও তদনুযায়ী পাঠে কোন পার্থক্য না হয়ে যায় বা কোথাও এর কোন অংশ, কোন বাক্য স্মৃতি থেকে উধাও না হয়ে যায়। এই চিন্তার কারণে যখন জিবরাঈল আলাইহিস্ সালাম কোন আয়াত শোনাতেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাথে সাথে পাঠ করতেন এবং জিহবা নেড়ে দ্রুত আবৃত্তি করতেন, যাতে বার বার পড়ে তা মুখস্থ করে নেন।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এই পরিশ্রম ও কষ্ট দূর করার উদ্দেশ্যে এ আয়াতসমূহে আল্লাহ্ তা'আলা কুরআন পাঠ করানো, মুখস্থ করানো ও মুসলিমদের কাছে হুবহু পেশ করানোর দায়িত্ব নিজেই গ্ৰহণ করেছেন এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলে দিয়েছেন যে, আপনি এই উদ্দেশ্যে জিহবাকে দ্রুত নাড়া দেয়ার কষ্ট করবেন না। আয়াতসমুহকে আপনার অন্তরে সংরক্ষণ করা এবং হুবহু আপনার দ্বারা পাঠ করিয়ে দেয়া আমার দায়িত্ব। কাজেই আপনি এ চিন্তা পরিত্যাগ করুন। সুতরাং যখন আমি অর্থাৎ আমার পক্ষ থেকে জিবরাঈল আলাইহিস্ সালাম কুরআন পাঠ করে, তখন আপনি সাথে সাথে পাঠ করবেন না; বরং চুপ করে শুনবেন এবং আমার পাঠের পর পাঠ করবেন।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাই করতেন। তিনি জিবরাঈল থেকে শুনতেন তারপর জিবরাঈল চলে গেলে তা অনুরূপ পড়তেন যেমন জিবরাঈল পড়েছেন। [দেখুন, বুখারী: ৫, মুসলিম, ৪৪৮] এখানে কুরআন অনুসরণ করান মানে চুপ করে জিবরাঈলের পাঠ শ্রবণ করা। অবশেষে বলা হয়েছে আপনি এ চিন্তাও করবেন না যে, অবতীর্ণ আয়াতসমূহের সঠিক মর্ম ও উদ্দেশ্য কি? এটা বুঝিয়ে দেয়াও আমার দায়িত্ব। আমি কুরআনের প্রতিটি শব্দ ও তার উদ্দেশ্য আপনার কাছে ফুটিয়ে তুলব। [দেখুন, ইবন কাসীর]
[সূরা আল-কিয়ামাহ (৭৫): আয়াত ১৬ থেকে ২১] পূর্ণ পৃষ্ঠা
তিনি বললেন: "আমি চাই আপনি আমাকে পবিত্র করুন।" বর্ণনাকারী বলেন: তখন তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) তার ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন এবং তাকে পাথর নিক্ষেপ (রজম) করা হলো। ইমাম তিরমিযী এবং আবু দাউদ বলেন: "যখন সে পাথরের আঘাত অনুভব করল, তখন সে দ্রুত দৌড়ে পালাতে লাগল।" অতঃপর এক ব্যক্তি উটের চোয়ালের হাড় দিয়ে তাকে আঘাত করল এবং অন্যান্য মানুষও তাকে আঘাত করল যতক্ষণ না সে মারা গেল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তোমরা কেন তাকে ছেড়ে দিলে না?" আবু দাউদ এবং নাসায়ী বলেন: (ছেড়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল) যাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিষয়টি পুনরায় নিশ্চিত করতে পারেন; কিন্তু হদ (নির্ধারিত দণ্ড) ত্যাগ করার জন্য নয়।
আর এ সব কিছুই (স্বীকৃতি থেকে) ফিরে আসার একটি পথ এবং তা গ্রহণের সুস্পষ্ট ঘোষণা। এবং রাসূলুল্লাহ (আলাইহিস সালাম)-এর বাণী: "সম্ভবত তুমি শুধু চুম্বন করেছ অথবা ইশারা করেছ" এর মধ্যে ইমাম মালিকের মতের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে যে, যদি সে (পিছু হটার) কোনো কারণ উল্লেখ করে, তবে তার প্রত্যাবর্তন গ্রহণ করা হবে। পঞ্চম মাসয়ালা—এটি স্বাধীন ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে নিজের বিষয়ের মালিক। কিন্তু দাসের ক্ষেত্রে, তার স্বীকৃতির বিষয়টি দুই অবস্থার বাইরে নয়: হয় সে তার দেহের ব্যাপারে স্বীকৃতি দেবে, অথবা তার হাতে থাকা সম্পদ ও জিম্মার ব্যাপারে স্বীকৃতি দেবে।
যদি সে তার দেহের ব্যাপারে এমন কোনো বিষয়ের স্বীকৃতি দেয় যাতে হত্যা বা তার চেয়ে কম দণ্ড প্রযোজ্য হয়, তবে তা তার ওপর কার্যকর হবে। মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান বলেন: তার পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করা হবে না, কারণ তার দেহ তার মুনিবের হকের অন্তর্ভুক্ত। আর তার স্বীকৃতির ফলে তার দেহের ওপর মুনিবের হকের বিনাশ ঘটে। আমাদের দলিল হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "যে ব্যক্তি এই নোংরা কাজের (গুনাহের) কোনো কিছুতে লিপ্ত হয়, সে যেন আল্লাহর পর্দায় তা ঢেকে রাখে। তবে যে ব্যক্তি আমাদের কাছে তার বিষয়টি প্রকাশ করে দেবে, আমরা তার ওপর হদ কায়েম করব।" এর অর্থ হলো: শাস্তির স্থল হলো মূল সৃষ্টিগত সত্তা, যা মানুষের শারীরিক অবয়ব, এবং এতে মুনিবের কোনো অধিকার নেই।
মুনিবের অধিকার কেবল দাসের গুণ এবং আনুষঙ্গিক বিষয়ের ওপর, যা হলো তার ওপর আরোপিত আর্থিক মূল্যমান। আপনি কি দেখেন না যে, যদি সে কোনো সম্পদের স্বীকৃতি দেয় তবে তা গ্রহণ করা হয় না? এমনকি ইমাম আবু হানিফা বলেছেন: সে যদি বলে "আমি এই পণ্যটি চুরি করেছি", তবে তার হাত কাটা হবে না এবং যার অনুকূলে স্বীকৃতি দিয়েছে সেও তা পাবে না। এবং আমাদের আলেমগণ বলেন: পণ্যটি মুনিবেরই থাকবে এবং দাস যখন মুক্ত হবে তখন তার থেকে এর মূল্য আদায় করা হবে। কারণ ঐকমত্য (ইজমা) অনুযায়ী দাসের সম্পদ মুনিবের। তাই এ বিষয়ে দাসের কথা বা তার স্বীকৃতি গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে ইমাম আবু হানিফা তো বলেনই যে, দাসের কোনো মালিকানা নেই এবং সে কোনো কিছুর মালিক হতে পারে না এবং কাউকে মালিক বানাতেও পারে না।
যদিও আমরা (মালেকী মাযহাব) বলি যে তার মালিকানা লাভ করা বৈধ, কিন্তু উভয় মতানুসারেই ইজমা অনুযায়ী তার হাতে যা আছে তা তার মুনিবের। আর আল্লাহই ভালো জানেন। [সূরা আল-কিয়ামাহ (৭৫): আয়াত ১৬ থেকে ২১]তাড়াহুড়ো করে ওটা (ওহী) আয়ত্ত করার জন্য আপনি আপনার জিহ্বা নাড়াচাড়া করবেন না। (১৬) নিশ্চয়ই এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমাদেরই। (১৭) সুতরাং আমরা যখন তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠ অনুসরণ করুন। (১৮) অতঃপর তা বিশদ ব্যাখ্যা করার দায়িত্বও আমাদেরই। (১৯) কখনো নয়, বরং তোমরা পার্থিব জীবনকে ভালোবাসো। (২০)এবং পরকালকে অবজ্ঞা করো। (২১)(১). ইয়াশতাদদু: সে দ্রুত দৌড়াতে লাগল।(২).
ইবনুল আরাবী থেকে সংশোধিত। মূল পাণ্ডুলিপিতে ছিল (আয-যিম্মাহ)।
