Al-Furqan
আল-ফুরকান: 27
মূল আরবি
وَيَوْمَ يَعَضُّ ٱلظَّالِمُ عَلَىٰ يَدَيْهِ يَقُولُ يَـٰلَيْتَنِى ٱتَّخَذْتُ مَعَ ٱلرَّسُولِ سَبِيلًا
English Translations
And the Day the wrongdoer will bite on his hands [in regret] he will say, "Oh, I wish I had taken with the Messenger a way.
And (remember) the Day when the Zalim (wrong-doer, oppressor, polytheist, etc.) will bite at his hands, he will say: "Oh! Would that I had taken a path with the Messenger (Muhammad SAW).
And (Be mindful of) the Day the wrongdoer will bite his hands saying, “Would that I had taken a path along with the messenger!
a Day when the wrong-doer will bite his hands, saying: "Would that I had stood by the Messenger!
On the day when the wrong-doer gnaweth his hands, he will say: Ah, would that I had chosen a way together with the messenger (of Allah)!
The Day that the wrong-doer will bite at his hands, he will say, "Oh! would that I had taken a (straight) path with the Messenger!
বাংলা অনুবাদ
অপরাধী সেদিন স্বীয় হস্তদ্বয় দংশন করতে করতে বলবে, ‘হায় আফসোস! আমি যদি রসূলের সাথে পথ অবলম্বন করতাম।
আর সেদিন যালিম নিজের হাত দু’টো কামড়িয়ে বলবে, ‘হায়, আমি যদি রাসূলের সাথে কোন পথ অবলম্বন করতাম’!
যালিম ব্যক্তি সেদিন নিজ হস্তদ্বয় দংশন করতে করতে বলবেঃ হায়! আমি যদি রাসূলের সাথে সৎ পথ অবলম্বন করতাম!
যালিম ব্যক্তি সেদিন নিজের দু‘হাত দংশন করতে করতে বলবে, ‘হায়, আমি যদি রাসূলের সাথে কোনো পথ অবলম্বন করতাম!
জালিম ব্যক্তি সেদিন নিজ দু’হাত দংশন করতে করতে বলবে, ‘হায়, আমি যদি রাসূলের সাথে সৎপথ অবলম্বন করতাম!
২৭. হে রাসূল! স্মরণ করুন সে দিনের কথা যেদিন যালিম ব্যক্তি রাসূলের অনুসরণ পরিত্যাগ করার দরুন অত্যধিক আপসোস করে নিজের হস্তদ্বয় কামড়াতে কামড়াতে বলবে: হায় আফসোস! আমি যদি নিজ প্রতিপালকের পক্ষ থেকে রাসূল কর্তৃক আনীত আদর্শের অনুসরণ করতাম! আমি যদি তাঁর সাথে নাজাতের পথ অবলম্বন করতাম!
তাফসীর
25:25
যালিম [১] ব্যাক্তি সেদিন নিজের দু‘হাত দংশন করতে করতে বলবে, ‘হায়, আমি যদি রাসূলের সাথে কোন পথ অবলম্বন করতাম [২]!
[১] এখানে যালিম ব্যাক্তি বলতেঃ মুশরিক, কাফের, মুনাফিক ও সীমালঙ্ঘনকারী অবাধ্যদের বুঝানো হয়েছে। [দেখুন-সা‘দী]
[২] অর্থাৎ যারাই রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রদর্শিত পথে না চলে অন্য কারো পথে চলবে, তারাই হাশরের মাঠে আফসোস করতে থাকবে এবং নিজের আঙ্গুল কামড়াতে থাকবে। কিন্তু তখন তাদের সে আফসোস করা তাদের কোন উপকারে আসবে না। আল্লাহ্ তা‘আলা পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে এ সত্যকে তুলে ধরেছেন। [যেমন, সূরা আল-আহযাবঃ ৬৬-৬৮, সূরা আয-যুখরুফঃ ৬৭] এই আয়াতের ভাষা যেমন ব্যাপক, তার বিধানও তেমনি ব্যাপক। এই ব্যাপকতার দিকে ইঙ্গিত করার জন্য সম্ভবতঃ আয়াতে বন্ধুর নামের পরিবর্তে فلانا বা “অমুক" শব্দ অবলম্বন করা হয়েছে। আয়াতে বিধৃত হয়েছে যে, যে দুই বন্ধু পাপ কাজে সম্মিলিত হয় এবং শরীয়ত বিরোধী কার্যাবলীতে একে অপরের সাহায্য করে, তাদের সবারই বিধান এই যে, কেয়ামতের দিন তারা এই বন্ধুত্বের কারণে কান্নাকাটি করবে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “কোন অমুসলিমকে সঙ্গী করো না এবং তোমার ধনসম্পদ (সঙ্গীদের দিক দিয়ে) যেন মুক্তাকী ব্যাক্তিই খায়।” [মুসনাদে আহমাদ ৩/৩৮, সহীহ ইবনে হিব্বানঃ ২/৩১৫, হাদীস নং ৫৫৫, তিরমিযীঃ ২৩৯৫, আবু দাউদঃ ৪৮৩২] অর্থাৎ মুত্তাকী বা পরহেযগার নয় এমন কোন ব্যাক্তির সাথে বন্ধুত্ব করো না। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “প্রত্যেক মানুষ (অভ্যাসগতভাবে) বন্ধুর ধর্ম ও চালচলন অবলম্বন করে। তাই কিরূপ লোককে বন্ধুরূপে গ্ৰহণ করা হচ্ছে, তা পূর্বেই ভেবে দেখা উচিত।” [আবু দাউদঃ ৪৮৩৩, তিরমিযীঃ ২৩৭৮, মুসনাদে আহমাদঃ ২/৩৩৪]
[সূরা আল-ফুরকান (২৫): আয়াত ২৭ হতে ২৯] পূর্ণ পৃষ্ঠা
[সূরা আল-ফুরকান (২৫): আয়াত ২৭ হতে ২৯]আর সেদিন যালিম নিজের হাত দুটোর ওপর কামড় দেবে এবং বলবে, "হায়, আমি যদি রাসূলের সাথে পথ ধরতাম! (২৭) হায় দুর্ভোগ আমার! আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম! (২৮) আমার কাছে উপদেশ আসার পর সে আমাকে তা থেকে বিভ্রান্ত করেছিল। আর শয়তান তো মানুষের জন্য চরম বিশ্বাসঘাতক।" (২৯)আল্লাহ তাআলার বাণী: (আর সেদিন যালিম নিজের হাত দুটোর ওপর কামড় দেবে)। 'আদিদতু' (عضضت) হলো এর অতীতকালীন রূপ। আল-কিসায়ী প্রথম 'দাদ' বর্ণে ফাতহা দিয়ে 'আদাদতু' পাঠ করার কথাও বর্ণনা করেছেন। তাফসীরবিদগণের পক্ষ থেকে এটি সুনির্দিষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে, যাদের মধ্যে ইবনে আব্বাস ও সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব রয়েছেন যে, এখানে 'যালিম' দ্বারা উকবা ইবনে আবি মুআইত-কে বোঝানো হয়েছে এবং তার 'বন্ধু' ছিল উমাইয়্যাহ ইবনে খালাফ।
উকবাকে আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হত্যা করেছিলেন; কারণ সে বদরের যুদ্ধে বন্দীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে হত্যার নির্দেশ দেন। সে বলেছিল: "আমাকে কি তাদের আগে হত্যা করা হবে?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, তোমার কুফরি ও অবাধ্যতার কারণে।" সে প্রশ্ন করল: "শিশুদের জন্য কে রইল?" তিনি বললেন: "জাহান্নামের আগুন।" অতঃপর আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) উঠে দাঁড়িয়ে তাকে হত্যা করেন। আর উমাইয়্যাহকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হত্যা করেছিলেন। এটি ছিল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুওয়াতের অন্যতম নিদর্শন, কারণ তিনি তাদের সম্পর্কে এই সংবাদ দিয়েছিলেন এবং তারা কুফরির ওপর থাকা অবস্থায়ই নিহত হয়েছিল।
আয়াতে তাদের নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি কারণ এর শিক্ষা যেন অধিকতর কার্যকর ও ব্যাপক হয়; যাতে এটি জানা যায় যে, আল্লাহর নাফরমানিতে অন্যের কথা মেনে নেওয়া প্রত্যেক যালিমের পরিণতি এটাই। ইবনে আব্বাস, কাতাদাহ ও অন্যরা বলেন: উকবা ইসলাম গ্রহণের সংকল্প করেছিল, কিন্তু উবাই ইবনে খালাফ তাকে তা থেকে বিরত রাখে। তারা ছিল ঘনিষ্ঠ বন্ধু। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের উভয়কেই হত্যা করেন: উকবাকে বদরের দিন বন্দী অবস্থায় এবং উবাই ইবনে খালাফকে উহুদের দিন দ্বৈরথ যুদ্ধে; এটি কুশায়রী ও সালাবী উল্লেখ করেছেন এবং প্রথমটি আন-নাহহাস উল্লেখ করেছেন।
আস-সুহাইলি বলেন: "আর সেদিন যালিম নিজের হাত দুটোর ওপর কামড় দেবে" বলতে উকবা ইবনে আবি মুআইত-কে বোঝানো হয়েছে। সে উমাইয়্যাহ ইবনে খালাফ আল-জুমাহির বন্ধু ছিল। আবার বর্ণিত আছে যে, সে ছিল উমাইয়্যাহর ভাই উবাই ইবনে খালাফ। সে একবার ভোজের আয়োজন করে কুরাইশদের দাওয়াত দেয় এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কেও দাওয়াত দেয়। কিন্তু তিনি ইসলাম গ্রহণ না করা পর্যন্ত তার দাওয়াত গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। উকবা অপছন্দ করল যে কুরাইশদের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের কেউ তার খাবার খাওয়া থেকে বাদ পড়ুক, তাই সে ইসলাম গ্রহণ করে এবং শাহাদাতাইন পাঠ করে।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার নিকট এসে তার খাবার গ্রহণ করেন। তখন তার বন্ধু উমাইয়্যাহ ইবনে খালাফ (বা উবাই ইবনে খালাফ), যে অনুপস্থিত ছিল, তাকে তিরস্কার করল। উকবা বলল: "কুরাইশদের কোনো অভিজাত ব্যক্তি আমার খাবারে উপস্থিত হবে না, এটি আমি অত্যন্ত গুরুতর বিষয় মনে করেছি।" তার বন্ধু তাকে বলল: "আমি ততক্ষণ তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হব না যতক্ষণ না তুমি ফিরে গিয়ে তার চেহারায় থুথু নিক্ষেপ করবে এবং তার ঘাড় পদদলিত করবে আর এই এই কথা বলবে।" ফলে সে তাই করল।
