Al-Furqan

আল-ফুরকান: 63

25:63
টেক্সট কপি
25 আল-ফুরকান Al-Furqan · 77 আয়াত الفرقان

মূল আরবি

وَعِبَادُ ٱلرَّحْمَـٰنِ ٱلَّذِينَ يَمْشُونَ عَلَى ٱلْأَرْضِ هَوْنًا وَإِذَا خَاطَبَهُمُ ٱلْجَـٰهِلُونَ قَالُوا۟ سَلَـٰمًا

English Translations

Sahih International

And the servants of the Most Merciful are those who walk upon the earth easily, and when the ignorant address them [harshly], they say [words of] peace,

Muhsin Khan

And the slaves of the Most Beneficent (Allah) are those who walk on the earth in humility and sedateness, and when the foolish address them (with bad words) they reply back with mild words of gentleness.

Taqi Usmani

The servants of the RaHmān (the All-Merciful, Allah) are those who walk on the earth humbly, and when the ignorant people speak to them, they reply peacefully,

Abul Ala Maududi

The true servants of the Merciful One are those who walk on the earth gently and when the foolish ones address them, they simply say: "Peace to you";

Pickthall

The (faithful) slaves of the Beneficent are they who walk upon the earth modestly, and when the foolish ones address them answer: Peace;

Yusuf Ali

And the servants of (Allah) Most Gracious are those who walk on the earth in humility, and when the ignorant address them, they say, "Peace!";

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

আর রহমানের বান্দা তারাই যারা যমীনে নম্রভাবে চলাফেরা করে আর অজ্ঞ লোকেরা তাদেরকে সম্বোধন করলে তারা বলে- ‘শান্তি’, (আমরা বিতর্কে লিপ্ত হতে চাই না)।

রাওয়াই আল-বায়ান

আর রহমানের বান্দা তারাই যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং অজ্ঞ লোকেরা যখন তাদেরকে সম্বোধন করে তখন তারা বলে ‘সালাম’।

শাইখ মুজিবুর রহমান

‘রাহমান’ এর বান্দা তারাই যারা নম্রভাবে চলাফিরা করে পৃথিবীতে এবং তাদেরকে যখন অজ্ঞ লোকেরা সম্বোধন করে তখন তারা বলেঃ সালাম।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আর ‘রাহমান’ -এর বান্দা তারাই, যারা যমীনে অত্যন্ত বিনম্রভাবে চলাফেরা করে এবং যখন জাহেল ব্যক্তিরা তাদেরকে (অশালীন ভাষায়) সম্বোধন করে, তখন তারা বলে, ‘সালাম’;

ফাতহুল মাজীদ

রহ্মান’-এর বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং তাদেরকে যখন অজ্ঞ ব্যক্তিরা সম্বোধন করে তখন তারা বলে, ‘সালাম’

মুখতাসার

৬৩. দয়ালু প্রভুর মু’মিন বান্দা তারা যারা জমিনের বুকে বিনম্রভাবে ভদ্রতার সাথে চলে। যখন তাদেরকে মূর্খরা সম্বোধন করে তখন তারা সমপর্যায়ের মুকাবিলা করে না। বরং তারা ওদেরকে সুন্দর কথাই বলে। তারা এ ক্ষেত্রে ওদের সাথে মূর্খতার পরিচয় দেয় না।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

৬৩-৬৭ নং আয়াতের তাফসীরএখানে আল্লাহর মুমিন বান্দাদের গুণাবলীর বর্ণনা দেয়া হচ্ছে। তারা ভূ-পৃষ্ঠে বিনয় ও নম্রতার সাথে চলাফেরা করে। তারা গর্ব-অহংকার, ঝগড়া-ফাসাদ এবং যুলুম-অত্যাচার করে না। যেমন হযরত লোকমান (আঃ) তার পুত্রকে বলেছিলেঃ (আরবি)অর্থাৎ “তুমি ভূ-পৃষ্ঠে উদ্ধতভাবে বিচরণ করো না।” (৩১: ১৮) কৃত্রিমভাবে কোমর ঝুঁকিয়ে রুগ্ন ব্যক্তির মত পায়ে পায়ে চলা এখানে উদ্দেশ্য কখনই নয়। এটা তো রিয়াকারদের কাজ। তারা লোকদেরকে দেখানোর জন্যে এবং দুনিয়ার দৃষ্টি তাদের দিকে উঠিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যেই এরূপ করে থাকে। রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর অভ্যাস ছিল এর সম্পূর্ণ বিপরীত।

তিনি এমনভাবে চলতেন যে, মনে হতো যেন তিনি কোন উঁচু জায়গা হতে নীচে নামছেন এবং যেন যমীনকে তাঁর জন্যে জড়িয়ে নেয়া হচ্ছে। পূর্বযুগীয় মনীষীরা রুগ্ন লোকদের মত কষ্টকর চলনকে অপছন্দ করতেন। বর্ণিত আছে যে, হযরত উমার (রাঃ) একটি লোককে খুবই ধীরে ধীরে চলতে দেখে জিজ্ঞেস করেনঃ “তুমি কি অসুস্থ?” উত্তরে লোকটি বলেঃ “না।” তিনি প্রশ্ন করেনঃ “তাহলে এরূপভাবে চলছো কেন? সাবধান! এরপরে যদি এরূপভাবে চল তবে তোমাকে চাবুক মারা হবে। শক্তির সাথে তাড়াতাড়ি চলবে।”সুতরাং এখানে উদ্দেশ্য হলো শান্ত ও গাম্ভীর্যের সাথে ভদ্রভাবে চলা, দুর্বলতা ও অসুস্থতার ঢঙ্গে নয়।

যেমন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যখন তোমর নামাযের জন্যে আসে তখন দৌড়িয়ে এসো না, বরং শান্ত ও ধীরস্থিরভাবে এসো। জামাআতের সাথে যা পাবে তা আদায় করে নাও এবং যা ছুটে যাবে তা (পরে) পুরো করে নাও।” এই আয়াতের তফসীরে হযরত হাসান বসরী (রঃ) খুবই চমৎকার কথা বলেছেন। তা হলোঃ মুমিনদের চক্ষু, কর্ণ এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নত হয়ে থাকে, তাই অজ্ঞ ও নির্বোধ লোকেরা তাদেরকে অসুস্থ মনে করে। অথচ তারা অসুস্থ বা রুগ্ন নয়। বরং আল্লাহর ভয়ে তারা নত হয়ে থাকে। তারা পূর্ণভাবে সুস্থ-সবল রয়েছে, কিন্তু অন্তর আল্লাহর ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত রয়েছে। পরকালের জ্ঞান দুনিয়ার কামনা-বাসনা এবং ওর আঁকজমক থেকে তাদেরকে দূরে সরিয়ে রেখেছে।

কিয়ামতের দিন তারা বলবেঃ “ঐ আল্লাহর সমস্ত প্রশংসা যিনি আমাদের থেকে চিন্তা ও দুঃখ দূর করে দিয়েছেন। এতে কেউ যেন মনে করে যে, দুনিয়ার খাওয়া, পরা ইত্যাদির চিন্তা তাদের লেগেই থাকতো। না,। আল্লাহর শপথ! দুনিয়ার কোন দুঃখ ও চিন্তা তাদের কাছেও আসতো না। হ্যা, তবে আখিরাতের ভয় ও চিন্তা সদা তাদের লেগেই থাকতো। জান্নাতের কোন কাজকে তারা ভারী মনে করতো না, কিন্তু জাহান্নামের ভয় তাদেরকে কাঁদাতে থাকতো। যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয় দেখানোর পরেও ভয় পায় না তার নফস দুঃখ ও আফসোসের মালিক (অর্থাৎ পরে তাকে আফসোসই করতে হবে)। যে ব্যক্তি শুধু পানাহারকেই আল্লাহর নিয়ামত মনে করে তার জ্ঞান কম।

সে শাস্তির শিকার হয়ে আছে।এরপর আল্লাহ তা'আলা তাঁর সৎ বান্দাদের গুণাবলীর বর্ণনা দিচ্ছেন যে, মূর্খ লোকেরা যখন তাদের সাথে মূখতাপূর্ণ কথা বলে তখন তারা এই মূর্খদের সাথে মূখতাপূর্ণ আচরণ করে না। বরং তাদেরকে ক্ষমা করে দেয়। মন্দ কথার প্রতিউত্তরে তারা কখনো মুখে মন্দ কথা উচ্চারণ করে না। যেমন রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর অভ্যাস এই ছিল যে, কোন লোক যতই তাকে কড়া কথা বলতো ততই তিনি তাকে নরম কথা বলতেন। কুরআন কারীমের এই আয়াতে এই গুণেরই বর্ণনা দেয়া হয়েছে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “যখন তারা অসার ক্রিয়া-কলাপের কথা শুনে তখন তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।” (২৮:৫৫)।নুমান ইবনে মাকরান আল মুযানী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ একটি লোক অন্য একটি লোককে গালি দেয়।

কিন্তু ঐ লোকটি উত্তরে বলে- “তোমার উপর শান্তি বর্ষিত হোক।” তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) লোকটিকে বলেনঃ তোমাদের দু'জনের মাঝে ফেরেশতা বিদ্যমান ছিলেন। তিনি তোমার পক্ষ হতে গালিদাতাকে উত্তর দিচ্ছিলেন। সে তোমাকে যে গালি দিচ্ছিল, ফেরেশতা বলছিলেনঃ “এ নয়, বরং তুমি।” আর তুমি যখন বলছিলেঃ “তোমার উপর সালাম বর্ষিত হোক” তখন ফেরেশতা বলছিলেনঃ “তার উপর নয়, বরং তোমারই উপর (শান্তি বর্ষিত হোক)। শান্তি ও নিরাপত্তার হকদার তুমিই।” (এ হাদীসটি মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে) তাই বলা হয়েছে যে, মুমিনরা তাদের মুখে অশ্লীল বাক্য উচ্চারণ করে না। অকথ্য ভাষা প্রয়োগকারীর প্রতি তারা অকথ্য ভাষা প্রয়োগ করে না।

ভাল কথা ছাড়া তাদের মুখ দিয়ে মন্দ কথা বের হয় না।হযরত হাসান বসরী (রঃ) বলেনঃ আল্লাহর বান্দাদের দিনগুলো এমনভাবে অতিবাহিত হয় যে, অজ্ঞ লোকেরা তাদেরকে কড়া কথা বলে এবং তারা তা সহ্য করে নেয়। তাদের রাত্রি যেভাবে অতিবাহিত হয় তার বর্ণনা পরবর্তী আয়াতে রয়েছে। মহান আল্লাহ বলেনঃ তারা রাত্রি অতিবাহিত করে তাদের প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হয়ে ও দণ্ডায়মান থেকে। তারা বিছানা হতে পৃথক হয়ে যায়। তাদের অন্তরে আল্লাহর ভয় বিদ্যমান থাকে। তারা আল্লাহর রহমতের আশা রাখে। তাই তারা তাঁর ইবাদতে রাত্রি কাটিয়ে দেয়।তারা বলেঃ হে আমাদের প্রতিপালক!

আমাদের হতে জাহান্নামের শাস্তি বিদূরিত করুন! ওর শাস্তি তো নিশ্চিত বিনাশ। যেমন কবি বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “যদি তিনি শাস্তি দেন তবে তার শাস্তি তো নিশ্চিত বিনাশ ও অত্যন্ত কঠিন এবং চিরস্থায়ী, আর যদি তিনি দান করেন তবে তা তো অসংখ্য এবং বে-হিসাব।” যে জিনিস আসে ও চলে যায় তা (আরবি) নয়। (আরবি) হলো ওটাই যা আসার পরে যাওয়ার নাম করে না বা সরে যায় না। আবার এ অর্থও করা হয়েছে যে, জাহান্নামের শাস্তি হচ্ছে ক্ষতিপূরণ যা নিয়ামতের অস্বীকারকারীদের নিকট হতে নেয়া হবে। তারা আল্লাহর দেয়া জিনিস তাঁর পথে ব্যয় করেনি। কাজেই আজ ওর ক্ষতিপূরণ এই হবে যে, তারা জাহান্নামকে পূর্ণ করে দেবে।

ওটা হলো নিকৃষ্ট জায়গা, কুদৃশ্য, কষ্টদায়ক এবং বিপদ সংকুল স্থান।মালিক ইবনে হারিস (রঃ) বর্ণনা করেছেন যে, যখন জাহান্নামবাসীকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে তখন সে কতকাল পর্যন্ত যে নীচে যেতেই থাকবে তা আল্লাহ পাকই জানেন। এরপর জাহান্নামের একটি দরজার উপর তাকে থামিয়ে দেয়া হবে এবং বলা হবেঃ এখন তুমি খুবই পিপাসার্ত হয়ে পড়েছে। সুতরাং এক পেয়ালা পানি পান করে নাও।' এ কথা বলে কালো সাপ ও বিষাক্ত বৃশ্চিকের বিষের এক পেয়ালা তাকে পান করানো হবে। ওটা পান করা মাত্রই তার দেহ হতে চামড়া খসে পড়বে, শিরাগুলো পৃথক হয়ে যাবে এবং অস্থিগুলো। পৃথক হয়ে পড়বে।

হযরত উবায়েদ ইবনে উমায়ের (রঃ) বলেন যে, জাহান্নামের মধ্যে কূপের মত গর্ত রয়েছে যার মধ্যে উটের মত বড় বড় সাপ রয়েছে এবং খচ্চরের মত বিরাট বিরাট বিচ্ছু রয়েছে। কোন জাহান্নামীকে যখন জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়। তখন ওগুলো বেরিয়ে এসে তাকে জড়িয়ে ধরে এবং তার ওষ্ঠে, মাথায় এবং দেহের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে কামড় দেয়। ফলে তার সারা দেহে বিষ ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো মাথার চামড়া বিষের জ্বালায় দন্ধ হয়ে খসে পড়ে। তারপর ঐ সাপ ও বিচ্ছু চলে যায়।হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (সঃ) বলেছেন, জাহান্নামী এক হাজার বছর পর্যন্ত ‘ইয়া হান্নানু’, ‘ইয়া মান্নানু' বলে চীকার করতে থাকবে।

তখন আল্লাহ তাআলা হযরত জিবরাঈল (আঃ)-কে বলবেনঃ “যাও এবং দেখো, আমার এ বান্দা কি বলছে।” হযরত জিবরাঈল তখন আসবেন এবং দেখবেন যে, জাহান্নামবাসীরা সবাই খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছে এবং মাথা ঝাকিয়ে তারা কানাকাটি করছে। অতঃপর তিনি ফিরে গিয়ে মহামহিমান্বিত আল্লাহকে এই খবর দিবেন। তখন আল্লাহ তাআলা তাঁকে বলবেনঃ “তুমি আবার যাও এবং অমুক জায়গায় আমার এক বান্দা রয়েছে, তাকে নিয়ে এসো।” মহান আল্লাহর এই নির্দেশক্রমে হযরত জিবরাঈল (আঃ) যাবেন এবং লোকটিকে নিয়ে এসে আল্লাহর সামনে দাঁড় করিয়ে দিবেন। আল্লাহ তা'আলা তাকে জিজ্ঞেস করবেনঃ “হে আমার বান্দা!

তুমি তোমার জায়গা কেমন পেয়েছো?” সে উত্তরে বলবেঃ “হে আমার প্রতিপালক! আমার অবস্থানের জায়গাও নিকৃষ্ট এবং শয়নের জায়গাও মন্দ।” তখন আল্লাহ তা'আলা নির্দেশ দিবেনঃ “তাকে তার জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে যাও।” লোকটি তখন কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে আরয করবেঃ “হে আমার প্রতিপালক! আমাকে যখন আমার ঐ স্থান থেকে বের করেছেন তখন আপনার সত্তা এরূপ নয় যে, আমাকে পুনরায় তাতে প্রবিষ্ট করবেন। আপনার করুণার আমি পূর্ণ আশা রাখি। সুতরাং হে আমার প্রতিপালক! আমার প্রতি দয়া করুন! আপনি যখন আমাকে জাহান্নাম হতে বের করেছেন এবং আমি খুশী হয়েছি তখন আর আমাকে আপনি জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন না এ বিশ্বাস আমার আছে।” তার এ কথায় পরম দয়ালু দাতা আল্লাহর তার প্রতি দয়া হবে এবং তিনি নির্দেশ দিবেনঃ “আচ্ছা, ঠিক আছে, আমার এ বান্দাকে ছেড়ে দাও।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) স্বীয় মুসনাদে বর্ণনা করেছেন)এরপর আল্লাহ তা'আলা স্বীয় মুমিন বান্দাদের আর একটি গুণের বর্ণনা দিচ্ছেন যে, যখন তারা ব্যয় করে তখন তারা অপব্যয় করে না, কার্পণ্যও করে না, বরং তারা আছে এতদুভয়ের মাঝে মধ্যম পন্থায়।

তারা এরূপ করে না যে, দান খয়রাত মোর্টেই করে না, সবই গচ্ছিত ও জমা রাখে। আবার এরূপও করে না যে, নিজের পরিবারবর্গকে বঞ্চিত রেখে সবই দান করে ফেলে। নিম্নের আয়াতে আল্লাহ এ হুকুমই দিয়েছেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “তোমার হাতটি তুমি তোমার ঘাড়ের সাথে বেঁধে রেখো না এবং সম্পূর্ণরূপে ছেড়েও দিয়ো না।” (১৭:২৯)হযরত আবু দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (সঃ) বলেছেনঃ “জীবন যাপনে মধ্যম পন্থা অবলম্বন মানুষের বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক। (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি (জীবন যাপনে) মধ্যম পন্থা অবলম্বন করে সে কখনো দরিদ্র হয় না।” (এ হাদীসটিও ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত হুযাইফা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “ঐশ্বর্য, দারিদ্র্য ও ইবাদতে মধ্যম পন্থা অবলম্বন কতই না উত্তম জিনিস!” (এটা হাফিয আবু বকর আল বাযযার (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত হাসান বসরী (রঃ) বলেনঃ “আল্লাহর পথে যত ইচ্ছা খরচ কর, ওটা ইসরাফ বা অপব্যয় নয়।”হযরত আইয়াস ইবনে মুআবিয়া (রাঃ) বলেনঃ “যেখানেই তুমি আল্লাহর হুকুমের আগে বেড়ে যাবে ওটাই ইসরাফ হবে।” আর বুযর্গদের উক্তি এই যে, আল্লাহর নাফরমানীতে খরচ করা হলো ইসরাফ।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আর ‘রাহমান’ -এর বান্দা তারাই, যারা যমীনে অত্যন্ত বিনম্রভাবে চলাফেরা করে [১] এবং যখন জাহেল ব্যাক্তিরা তাদেরকে (অশালীন ভাষায়) সম্বোধন করে, তখন তারা বলে, ‘সালাম’ [২];

[১] অর্থাৎ তারা পৃথিবীতে নম্রতা সহকারে চলাফেরা করে। هرن শব্দের অর্থ এখানে স্থিরতা, গাম্ভীর্য, বিনয় অর্থাৎ গর্বভরে না চলা, অহংকারীর ন্যায় পা না ফেলা। অহংকারের সাথে বুক ফুলিয়ে চলে না। গর্বিত স্বৈরাচারী ও বিপর্যয়কারীর মতো নিজের চলার মাধ্যমে নিজের শক্তি প্ৰকাশ করার চেষ্টা না করা। বরং তাদের চালচলন হয় একজন ভদ্র, মার্জিত ও সৎস্বভাব সম্পন্ন ব্যাক্তির মতো। খুব ধীরে চলা উদ্দেশ্য নয়। কেননা, বিনা প্রয়োজনে ধীরে চলা সুন্নাত বিরোধী। হাদীস থেকে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব ধীরে চলতেন না; বরং কিছুটা দ্রুত গতিতে চলতেন।

হাদীসের ভাষা এরূপ, كَأَنَّمَا الأَرْضُ تُطْوَى لَهُ অর্থাৎ “চলার সময় পথ যেন তার জন্য সংকুচিত হত’’। [ইবনে হিব্বানঃ ৬৩০৯] এ কারণেই পূর্ববর্তী মনীষীগণ ইচ্ছাকৃতভাবেই রোগীদের ন্যায় ধীরে চলাকে অহংকার ও কৃত্রিমতার আলামত হওয়ার কারণে মাকরূহ সাব্যস্ত করেছেন। উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু জনৈক যুবককে খুব ধীরে চলতে দেখে জিজ্ঞেস করেনঃ তুমি কি অসুস্থ? সে বললঃ না। তিনি তার প্রতি চাবুক উঠালেন এবং শক্তি সহকারে চলার আদেশ দিলেন। [দেখুন-ইবন কাসীর, কুরতুবী, বাদাইউত তাফসির]

হাসান বসরী রাহিমাহুল্লাহ مَيْشُوْنَ عَلَى الْاَرْضِ هَوْتًا আয়াতের তাফসীরে বলেনঃ খাঁটি মুমিনদের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, চক্ষু, কৰ্ণ, হাত, পা, আল্লাহ্‌র সামনে হীন ও অক্ষম হয়ে থাকে। অজ্ঞ লোকেরা তাদেরকে দেখে অপারগ ও পঙ্গু মনে করে, অথচ তারা রুগ্নও নয় এবং পঙ্গুও নয়; বরং সুস্থ ও সবল। তবে তাদের উপর আল্লাহ্‌ভীতি প্রবল, যা অন্যদের উপর নেই। তাদেরকে পার্থিব কাজকর্ম থেকে আখেরাতের চিন্তা নিবৃত্ত রাখে। পক্ষান্তরে যে ব্যাক্তি আল্লাহ্‌র উপর ভরসা করে না এবং তার সমস্ত চিন্তা দুনিয়ার কাজেই ব্যাপৃত, সে সর্বদা দুঃখই ভোগ করে। কারণ, সে তো দুনিয়া পুরোপুরি পায় না এবং আখেরাতের কাজেও অংশগ্রহণ করে না। যে ব্যাক্তি পানাহারের বস্তুর মধ্যেই আল্লাহ্‌র নেয়ামত সীমিত মনে করে এবং উত্তম চরিত্রের প্রতি লক্ষ্য করে না, তার জ্ঞান খুবই অল্প এবং তার জন্য শাস্তি তৈরী রয়েছে। [ইবন কাসীর]

[২] অর্থাৎ যখন জাহেল ব্যাক্তিরা তাদের সাথে কথা বলে, তখন তারা বলে- ‘সালাম’। এখানে جاهلون শব্দের অর্থ বিদ্যাহীন ব্যাক্তি নয়; বরং যারা মূর্খতার কাজ ও মূর্খতাপ্রসূত কথাবার্তা বলে, যদিও বাস্তবে বিদ্বানও বটে। মূর্খ মানে অশিক্ষিত বা লেখাপড়া না জানা লোক নয় বরং এমন লোক যারা জাহেলী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হবার উদ্যোগ নিয়েছে এবং কোন ভদ্রলোকের সাথে অশালীন ব্যবহার করতে শুরু করেছে। রহমানের বান্দাদের পদ্ধতি হচ্ছে, তারা গালির জবাবে গালি এবং দোষারোপের জবাবে দোষারোপ করে না। [দেখুন-ফাতহুল কাদীর, কুরতুবী, বাদাইউত তাফসির] যেমন কুরআনের অন্য জায়গায় বলা হয়েছেঃ “আর যখন তারা কোন বেহুদা কথা শোনে, তা উপেক্ষা করে যায়। বলে, আমাদের কাজের ফল আমরা পাবো এবং তোমাদের কাজের ফল তোমরা পাবে। সালাম তোমাদের, আমরা জাহেলদের সাথে কথা বলি না।’’ [সূরা আল-কাসাসঃ ৫৫]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-ফুরকান (২৫): আয়াত ৬৩] পূর্ণ পৃষ্ঠা

তৃতীয় আলোচনা— বস্তুসমূহ নিজস্ব সত্তার নিরিখে একে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে না; কারণ অস্তিত্বের দিক থেকে জওহর (মৌলিক উপাদান) ও আ’রাজ (আকস্মিক গুণাবলি) সমপর্যায়ভুক্ত। মূলত গুণাবলির মাধ্যমেই পারস্পরিক শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারিত হয়। রাত ও দিনের মধ্যে কোনটি অধিক শ্রেষ্ঠ, এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। সাওমের (রোজার) বিধানে এ বিষয়ে যথেষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে। আল্লাহই সম্যক অবগত—ইবনুল আরাবি এটি উল্লেখ করেছেন। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: রাত্রির মর্যাদা অপরিসীম। মহান আল্লাহ তাঁর নবীকে (তাঁর ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক) রাতে ইবাদতের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: “এবং রাত্রির কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করুন, যা আপনার জন্য এক অতিরিক্ত কর্তব্য।” তিনি আরও বলেছেন: “রাত্রিতে দণ্ডায়মান হোন,” যার বিস্তারিত বর্ণনা সামনে আসবে।

রাতে ইবাদত করার জন্য তিনি মুমিনদের প্রশংসা করে বলেছেন: “শয্যা হতে তাদের পার্শ্বদেশ পৃথক থাকে।” রাসুলুল্লাহ (তাঁর ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক) ইরশাদ করেছেন: “সদকা গুনাহকে এমনভাবে মিটিয়ে দেয় যেমন পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়; আর গভীর রাতে কোনো ব্যক্তির সালাত আদায় করাও তদ্রূপ। এতে (রাত্রিতে) এমন এক মুহূর্ত রয়েছে যখন দোয়া কবুল করা হয় এবং এতে বরকতময় ও সুউচ্চ প্রতিপালক (দুনিয়ার আকাশে) অবতরণ করেন”—আল্লাহ চাহেন তো সামনে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা আসবে। চতুর্থ আলোচনা— একমাত্র হামজাহ ‘যাক্কুরু’ পাঠ করেছেন যাল বর্ণে সুকুন এবং কাফ বর্ণে পেশসহ।

এটি ইবনে ওয়াসসাব, তালহা এবং নাখয়ি-এরও কিরাত। উবাই (রা.)-এর মাসহাফে ‘তা’ অক্ষর সংযোগে ‘ইয়াতাযাক্কারু’ বর্ণিত হয়েছে। অবশিষ্ট কিরাত বিশেষজ্ঞগণ কাফ বর্ণে তাশদীদসহ ‘ইয়াযযাক্কারা’ পাঠ করেছেন। ‘যাক্কুরু’ এবং ‘ইয়াযযাক্কারু’ একই অর্থবোধক। বলা হয়েছে: লঘু উচ্চারণে ‘যাক্কুরু’ শব্দের অর্থ হলো—দুই সময়ের কোনো একটিতে যা সে ভুলে গিয়েছে, দ্বিতীয় সময়ে তা স্মরণ করা; অথবা এর অর্থ হলো—উক্ত সময়ে আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করা। (অথবা কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ইচ্ছা করে)। আরবী ভাষায় বলা হয়: ‘শাকার-ইয়াশ কুরু-শুকরান ও শুকুরান’; যেমন ‘কাফারা-ইয়াকফুরু-কুফরান ও কুফুরান’।

এখানে কৃতজ্ঞতার বিষয়টি এ কারণে যে, আল্লাহ দিন ও রাতকে তাদের জীবনোপকরণের আধার বা স্থিতিশীলতা বিধানকারী বানিয়েছেন। আর যখন তারা প্রশ্ন করেছিল: “করুণাময় আবার কে?”, তখন যেন উত্তরে বলা হয়েছে: তিনি তিনিই, যিনি এই বিষয়গুলো সৃষ্টিতে সক্ষম। ‌‌[সূরা আল-ফুরকান (২৫): আয়াত ৬৩]আর দয়াময় আল্লাহর বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং যখন অজ্ঞ ব্যক্তিরা তাদের সম্বোধন করে, তখন তারা বলে, ‘সালাম’ (৬৩)মহান আল্লাহর বাণী: (আর দয়াময় আল্লাহর বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে) মহান আল্লাহ যখন মুশরিকদের মূর্খতা এবং কুরআন ও নবুওয়াতের প্রতি তাদের বিদ্রূপের কথা উল্লেখ করলেন, তখন তিনি তাঁর মুমিন বান্দাদের কথাও উল্লেখ করলেন এবং তাদের গুণাবলি বর্ণনা করলেন।

তাদের সম্মানার্থে তিনি তাদের নিজের বন্দেগির সাথে সম্পৃক্ত করেছেন; যেমন তিনি অন্যত্র বলেছেন: “পবিত্র সেই সত্তা যিনি তাঁর বান্দাকে নৈশভ্রমণ করিয়েছেন”, যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্য করে, তাঁর ইবাদত করে এবং নিজের শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি, জিহ্বা ও অন্তরকে তাঁর নির্দেশিত কাজে নিয়োজিত রাখে, সেই ব্যক্তিই প্রকৃত অর্থে এই পদের যোগ্য...(১). দেখুন: খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ২০৫, প্রথম বা দ্বিতীয় সংস্করণ।

তাফসীর আদ-দুররুল মানসূর

পূর্ণ পৃষ্ঠা

যখন আবু বকর (রা.) লোকজনের মধ্যে তাঁর সবচেয়ে কাছে ছিলেন, তখন আমি তা তাঁর সামনে রাখলাম। তিনি বললেন: এটি কী? আমি বললাম: এটি একটি উপহার।তিনি বললেন: বিসমিল্লাহ। অতঃপর তিনি খেলেন এবং লোকজনও খেল। আমি মনে মনে বললাম: এটি তাঁর নিদর্শনসমূহের একটি। আমার সঙ্গী ছিলেন একজন অনারব লোক, যিনি 'তিহামাহ' শব্দটি শুদ্ধভাবে বলতে পারতেন না, বরং বলতেন 'তুহমাহ'। আহমাদ বর্ণনা করেন, আমি তাঁর পিছন দিকে ঘুরলাম, তখন তিনি আমার উদ্দেশ্য বুঝতে পারলেন এবং তাঁর চাদরটি আলগা করে দিলেন। ফলে আমি তাঁর বাম কাঁধের এক পাশে মোহরে নবুওয়াত দেখতে পেলাম। আমি তা নিশ্চিতভাবে প্রত্যক্ষ করলাম, অতঃপর ঘুরে এসে তাঁর সামনে বসলাম এবং বললাম: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহর রাসূল।তিনি বললেন: তুমি কে?

আমি বললাম: আমি একজন ক্রীতদাস। অতঃপর আমি তাঁকে আমার বৃত্তান্ত এবং যে লোকটির সাথে আমি ছিলাম তাঁর কাহিনী ও তিনি আমাকে যা আদেশ করেছিলেন তা বর্ণনা করলাম। তিনি বললেন: তুমি কার অধীনে? আমি বললাম: আনসারদের এক মহিলার অধীনে, যিনি আমাকে তাঁর একটি বাগানের দায়িত্বে রেখেছেন।তিনি বললেন: হে আবু বকর! তিনি বললেন: আমি উপস্থিত। তিনি বললেন: ওকে ক্রয় করে নাও।তিনি বলেন: অতঃপর আবু বকর আমাকে ক্রয় করে মুক্ত করে দিলেন। এরপর আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী আমি কিছুকাল অবস্থান করলাম। অতঃপর আমি তাঁর কাছে আসলাম, তাঁকে সালাম দিলাম এবং তাঁর সামনে বসলাম। আমি আরজ করলাম: হে আল্লাহর রাসূল!

খ্রিস্টানদের ধর্ম সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন: তাদের মধ্যে এবং তাদের ধর্মে কোনো কল্যাণ নেই। এতে আমি ভীষণ মর্মাহত হলাম এবং মনে মনে বললাম: আমি যাঁর সান্নিধ্যে ছিলাম এবং তাঁর যে সব গুণাবলি প্রত্যক্ষ করেছি—যিনি পঙ্গুর হাত ধরেছিলেন এবং আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে তাকে সুস্থতা দান করেছিলেন—তাদের মধ্যে এবং তাদের ধর্মে কি কোনো কল্যাণ নেই? আমি সেখান থেকে প্রস্থান করলাম এবং আমার মনে নানাবিধ চিন্তার উদ্রেক হলো। অতঃপর আল্লাহ তাআলা নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওপর নাযিল করলেন: "এটি এজন্য যে, তাদের মধ্যে অনেক আলেম ও দরবেশ রয়েছে এবং তারা অহংকার করে না..." আয়াতের শেষ পর্যন্ত।অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: সালমানকে আমার কাছে নিয়ে এসো।

তখন এক দূত এসে আমাকে ডাকলেন, এমতাবস্থায় আমি ভীত ছিলাম। আমি উপস্থিত হয়ে তাঁর সামনে বসলাম। তিনি পাঠ করলেন: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম, "এটি এজন্য যে, তাদের মধ্যে অনেক আলেম ও দরবেশ রয়েছে এবং তারা অহংকার করে না..." আয়াতের শেষ পর্যন্ত।তিনি বললেন: হে সালমান! তুমি যাদের সাথে ছিলে এবং তোমার সেই সঙ্গী, তারা খ্রিস্টান ছিল না, বরং তারা মুসলিম ছিল। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! সেই সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, তিনি আমাকে আপনার অনুসরণেরই নির্দেশ দিয়েছিলেন।আমি তাঁকে বললাম: তিনি যদি আমাকে আপনার ধর্ম এবং আপনি যে মতাদর্শের ওপর আছেন তা ত্যাগ করার আদেশ দিতেন, তবে কি আমি তা ত্যাগ করতাম?

তিনি বললেন: হ্যাঁ, তবে তা ত্যাগ করতে; কারণ সত্য এবং আল্লাহ যা ভালোবাসেন তা-ই তিনি তোমাকে আদেশ করেছেন।ইবনে আবি হাতিম হাসান (রহ.) থেকে 'কিসসীসীন' শব্দের ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: তারা হলো তাদের আলেম সমাজ।ইবনে জারীর ইবনে যায়িদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, 'কিসসীসীন' হলো:তাদের ইবাদতকারীগণ।ইবনে জারীর ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি ইমাম যুহরীকে এই আয়াত—"এটি এজন্য যে, তাদের মধ্যে অনেক আলেম ও দরবেশ রয়েছে এবং তারা অহংকার করে না"—এবং এই আয়াত—"আর যখন মূর্খরা তাদের সম্বোধন করে, তখন তারা বলে, সালাম" (সূরা আল-ফুরকান: আয়াত ৬৩)—সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: আমি সর্বদা আমাদের আলেমদের বলতে শুনেছি যে, এ আয়াতগুলো নাজাশী ও তাঁর সাথীদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে।