Al-Furqan

আল-ফুরকান: 75

25:75
টেক্সট কপি
25 আল-ফুরকান Al-Furqan · 77 আয়াত الفرقان

মূল আরবি

أُو۟لَـٰٓئِكَ يُجْزَوْنَ ٱلْغُرْفَةَ بِمَا صَبَرُوا۟ وَيُلَقَّوْنَ فِيهَا تَحِيَّةً وَسَلَـٰمًا

English Translations

Sahih International

Those will be awarded the Chamber for what they patiently endured, and they will be received therein with greetings and [words of] peace,

Muhsin Khan

Those will be rewarded with the highest place (in Paradise) because of their patience. Therein they shall be met with greetings and the word of peace and respect.

Taqi Usmani

Such people will be rewarded with the high place - because they observed patience - and will be received therein with prayers of their eternal life and peace,

Abul Ala Maududi

They are the ones who will be rewarded for their patience: lofty palaces will be granted to them, and they will be received with greeting and salutation.

Pickthall

They will be awarded the high place forasmuch as they were steadfast, and they will meet therein with welcome and the ward of peace,

Yusuf Ali

Those are the ones who will be rewarded with the highest place in heaven, because of their patient constancy: therein shall they be met with salutations and peace,

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

এদেরকেই তাদের ধৈর্যধারণের কারণে জান্নাতের সুউচ্চ স্থান দান ক’রে পুরস্কৃত করা হবে। সেখানে তাদেরকে অভ্যর্থনা জানানো হবে সংবর্ধনা ও সালাম জানিয়ে।

রাওয়াই আল-বায়ান

তারাই, যাদেরকে [জান্নাতে] সুউচ্চ কক্ষ প্রতিদান হিসাবে দেয়া হবে যেহেতু তারা সবর করেছিল সেজন্য। আর তাদের সেখানে অভ্যর্থনা করা হবে অভিবাদন ও সালাম দ্বারা।

শাইখ মুজিবুর রহমান

তাদেরকে প্রতিদান স্বরূপ দেয়া হবে জান্নাত, যেহেতু তারা ধৈর্যশীল। তাদেরকে সেখানে অভ্যর্থনা করা হবে অভিবাদন ও সালাম সহকারে।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

তারাই, যাদেরকে প্রতিদান হিসেবে দেয়া হবে জান্নাতের সুউচ্চ কক্ষ যেহেতু তারা ছিল ধৈর্যশীল। আর তারা প্রাপ্ত হবে সেখানে অভিবাদন ও সালাম।

ফাতহুল মাজীদ

তাদেরকে প্রতিদানস্বরূপ দেয়া হবে জান্নাতের সুউচ্চ বালাখানা যেহেতু তারা ছিল ধৈর্যশীল, তাদেরকে সেথায় অভ্যর্থনা করা হবে অভিবাদন ও সালাম সহকারে।

মুখতাসার

৭৫. এ সকল বৈশিষ্ট্যের অধিকারীদেরকে আল্লাহর আনুগত্যের ব্যাপারে ধৈর্যের দরুন সর্বোচ্চ জান্নাত তথা জান্নাতুল-ফিরদাউসের সুউচ্চ স্থান দিয়ে পুরস্কৃত করা হবে। সেখানে তাদেরকে ফিরিশতাদের পক্ষ থেকে সালাম ও সম্ভাষণের মাধ্যমে উষ্ণ অভ্যর্থনা দেয়া এবং তারা সেখানে সকল বিপদ থেকে মুক্ত থাকবে।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

৭৫-৭৭ নং আয়াতের তাফসীরমুমিনদের পবিত্র গুণাবলী, তাদের ভাল কথা ও কাজের বর্ণনা দেয়ার পর আল্লাহ তা'আলা তাদের প্রতিদানের বর্ণনা দিচ্ছেন যে, তারা জান্নাত লাভ করবে যা উচ্চতম স্থান। কারণ এই যে, তারা উপরোক্ত গুণে গুণান্বিত ছিল। তাই সেখানে তারা সম্মান ও মর্যাদা লাভ করবে।তাদের জন্যে রয়েছে সেখানে শান্তি আর শান্তি। জান্নাতের প্রতিটি দর দিয়ে ফেরেশতারা তাদের খিদমতে হাযির হবে এবং সালাম জানিয়ে বলবেঃ “তোমাদের পরিণাম ভাল হয়েছে। কেননা, তোমরা ধৈর্যশীল ছিলে।” তারা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে। তারা সেখান হতে বের হবে না এবং তাদের বের করাও হবে না।

তথাকার নিয়ামত কম হবে না এবং শান্তি ও আরামের সমাপ্তি আসবে না। তারা হবে বড়ই ভাগ্যবান। তাদের উঠা, বসা এবং বিশ্রামের জায়গা খুবই পাক, সাফ ও মনোরম। দেখতেও সুন্দর এবং বাসের পক্ষেও আরামদায়ক।আল্লাহ তা'আলা স্বীয় মাখলুককে তাঁর ইবাদত বন্দেগী এবং তাসবীহ ও তাহলীলের জন্যে সৃষ্টি করেছেন। মাখলুক যদি এগুলো পালন না করে তবে সে আল্লাহর নিকট অতি নিকৃষ্ট ও ঘৃণ্য। ঈমান ছাড়া মানুষ একেবারে অকেজো। আল্লাহ যদি চাইতেন তবে তিনি কাফিরদেরকে তাঁর ইবাদতের দিকে ঝুঁকিয়ে দিতেন। কিন্তু তারা তাঁর নিকট মোটেই গণ্য নয়।মহান আল্লাহ বলেনঃ হে নবী (সঃ)! তুমি এসব কাফিরকে বলে দাওতোমরা আমার প্রতিপালককে না ডাকলে তার কিছু আসে যায় না।

তোমরা অস্বীকার করেছে। এখন হে কাফিরের দল! তোমরা মনে করো না যে, তোমাদের মুআমালা শেষ হয়ে গেল। জেনে রেখো যে, তোমাদের উপর অচিরে নেমে আসবে অপরিহার্য শাস্তি। দুনিয়া ও আখিরাতে তোমরা ধ্বংস হয়ে যাবে। আল্লাহর শাস্তি তোমাদেরকে জরিয়ে রয়েছে। বদরের দিনে কাফিরদের শোচনীয় পরাজয় পার্থিব শাস্তির একটি বড় প্রমাণ। যেমন হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) প্রমুখ গুরুজন হতে এটা বর্ণিত আছে। কিয়ামতের দিনের শাস্তি এখনো বাকী রয়েছে।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

তারাই, যাদেরকে প্রতিদান হিসেবে দেয়া হবে জান্নাতের সুউচ্চ কক্ষ [১] যেহেতু তারা ছিল ধৈর্যশীল। আর তারা প্রাপ্ত হবে সেখানে অভিবাদন ও সালাম।

[১] غرفة শব্দের আভিধানিক অর্থ উঁচু কক্ষ, উপরতলার কক্ষ। বিশেষ নৈকট্যপ্রাপ্তগণ এমন উঁচু কক্ষ পাবে, যা সাধারণ জান্নাতীদের কাছে তেমনি দৃষ্টিগোচর হবে, যেমন পৃথিবীর লোকদের নিকট তারকা-নক্ষত্র দৃষ্টিগোচর হয়৷ [বুখারীঃ ৩০৮৩, মুসলিমঃ ২৮৩১, মুসনাদে আহমাদঃ ৮৪৫২] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেনঃ “জান্নাতে এমন কক্ষ থাকবে, যার ভেতরের অংশ বাইরে থেকে এবং বাইরের অংশ ভেতর থেকে দৃষ্টিগোচর হবে। লোকেরা জিজ্ঞেস করলঃ হে আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম), এসব কক্ষ কাদের জন্য? তিনি বললেনঃ যে ব্যাক্তি সৎ ও পবিত্ৰ কথাবার্তা বলে, প্রত্যেক মুসলিমকে সালাম করে, ক্ষুধার্তকে আহার করায় এবং রাত্রে যখন সবাই নিদ্রিত থাকে, তখন সে তাহাজ্জুতের সালাত আদায় করে।” [সিহীহ ইবনে হিব্বানঃ ৫০৯, সহীহ ইবনে খুযাইমাঃ ২১৩৭, মুস্তাদরাকে হাকেমঃ ১/১৫৩, তিরমিযীঃ ১৯৮৪, মুসনাদে আহমাদঃ ১৩৩৭]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-ফুরকান (২৫): আয়াত ৭৪ হতে ৭৭] পূর্ণ পৃষ্ঠা

[সূরা আল-ফুরকান (২৫): আয়াত ৭৪ হতে ৭৭]আর যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানদের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য নয়নপ্রীতি দান করুন এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্য ইমাম বানিয়ে দিন। (৭৪) এরাই তারা, যাদেরকে তাদের ধৈর্যের কারণে জান্নাতের সুউচ্চ কক্ষ প্রতিদান হিসেবে দেওয়া হবে এবং সেখানে তাদেরকে সম্ভাষণ ও সালামের সাথে গ্রহণ করা হবে। (৭৫) সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে; আবাসস্থল ও বাসস্থান হিসেবে তা কতই না চমৎকার! (৭৬) আপনি বলুন, তোমাদের প্রার্থনা না থাকলে আমার পালনকর্তা তোমাদের কোনো পরওয়াই করতেন না। তোমরা তো অস্বীকার করেছ, সুতরাং অচিরেই সেই অস্বীকার তোমাদের জন্য অনিবার্য শাস্তি হয়ে দাঁড়াবে।

(৭৭)আল্লাহ তাআলার বাণী: (আর যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানদের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য নয়নপ্রীতি দান করুন) যাহহাক রহ. বলেন: অর্থাৎ তারা আপনার অনুগত হবে। এতে সন্তানের জন্য দুআ করার বৈধতা পাওয়া যায় যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। 'সন্তান' বা 'বংশধর' শব্দটি একবচন ও বহুবচন উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। একবচন হওয়ার উদাহরণ হলো আল্লাহর বাণী: "হে আমার রব! আপনার নিকট থেকে আমাকে পবিত্র সন্তান দান করুন", "সুতরাং আপনার পক্ষ থেকে আমাকে একজন উত্তরাধিকারী দান করুন"। আর বহুবচন হওয়ার উদাহরণ: "দুর্বল সন্তানাদি"।

সূরা বাকারায় এর ব্যুৎপত্তিগত আলোচনা বিস্তারিতভাবে অতিক্রান্ত হয়েছে। নাফি, ইবনে কাসীর, ইবনে আমির এবং হাসান রহ. একে বহুবচন হিসেবে পাঠ করেছেন। আর আবু আমর, হামজা, কিসায়ী, তালহা এবং ঈসা রহ. একে একবচন হিসেবে পাঠ করেছেন। 'নয়নপ্রীতি' শব্দটি কর্মপদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ আমাদের জন্য নয়নপ্রীতি। এটি আনাস রা.-এর প্রতি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সেই বাণীর মতো: "হে আল্লাহ! আপনি তার সম্পদ ও সন্তান বৃদ্ধি করে দিন এবং তাতে বরকত দান করুন"। এর ব্যাখ্যা ইতিপূর্বে সূরা আলে ইমরান এবং মারইয়ামে অতিবাহিত হয়েছে। আর বিষয়টি হলো, যখন কোনো ব্যক্তির সম্পদ ও সন্তানে বরকত দেওয়া হয়, তখন তার পরিবার-পরিজনদের মাধ্যমে তার চোখ জুড়িয়ে যায়; এমনকি যদি তার এমন স্ত্রী থাকে যার মধ্যে সৌন্দর্য, সতীত্ব, বিনম্র চাহনি এবং হেফাযতের মতো তার সকল আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়, অথবা তার এমন সন্তান থাকে যারা আল্লাহর আনুগত্যে যত্নশীল এবং দ্বীন ও দুনিয়ার কাজে তার সহযোগী হয়, তবে সে অন্য কারো স্ত্রী বা সন্তানের দিকে ভ্রুক্ষেপ করে না।

ফলে তার চোখ অন্যের দিকে তাকানো থেকে বিরত ও স্থির হয়ে যায় এবং যা কিছু দেখা যায় তার দিকে তার দৃষ্টি প্রসারিত হয় না। সেটাই হলো চোখ জুড়ানো এবং আত্মার প্রশান্তির সময়। এখানে 'নয়নপ্রীতি' শব্দটি একবচন আনা হয়েছে কারণ এটি একটি ক্রিয়ামূল। যেমন বলা হয়: তোমার চোখ পূর্ণরূপে জুড়িয়ে গেল। 'নয়নপ্রীতি'র মূল শব্দটি 'স্থিরতা' থেকেও হতে পারে আবার 'শীতলতা' থেকেও হতে পারে, যা অধিক প্রসিদ্ধ। শীতলতা অর্থেই এটি বেশি ব্যবহৃত, কারণ আরবরা গরমে কষ্ট পায় এবং শীতলতায় আরাম বোধ করে। এছাড়া আনন্দের অশ্রু হয় শীতল এবং দুঃখের অশ্রু হয় তপ্ত। এ কারণেই বলা হয়: 'আল্লাহ তোমার চোখ শীতল করুন', আর 'আল্লাহ শত্রুর চোখ উত্তপ্ত করুন'।

কবি বলেছেন: গতকাল যে চোখ ছিল আনন্দিত ও শীতল, আজ তা কতই না তপ্ত হয়েছে; আর আজ সেই সব চোখ শীতল হয়েছে যাদের অশ্রু আজ প্রবাহিত হচ্ছে।(১). প্রথম বা দ্বিতীয় মুদ্রণের চতুর্থ খণ্ডের ৭২ পৃষ্ঠা ও পরবর্তী অংশ দ্রষ্টব্য।(২). দ্বিতীয় মুদ্রণের দ্বিতীয় খণ্ডের ১০৭ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।(৩). প্রথম বা দ্বিতীয় মুদ্রণের চতুর্থ খণ্ডের ৭৩ পৃষ্ঠা এবং একাদশ খণ্ডের ৮০ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।