Az-Zumar
আয-যুমার: 13
মূল আরবি
قُلْ إِنِّىٓ أَخَافُ إِنْ عَصَيْتُ رَبِّى عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ
English Translations
Say, "Indeed I fear, if I should disobey my Lord, the punishment of a tremendous Day."
Say (O Muhammad SAW): "Verily, if I disobey my Lord, I am afraid of the torment of a great Day."
Say, “If I were to disobey my Lord, I fear the punishment of a great day.”
Say: “If I disobey my Lord, I fear the chastisement of an Awesome Day.”
Say: Lo! if I should disobey my Lord, I fear the doom of a tremendous Day.
Say: "I would, if I disobeyed my Lord, indeed have fear of the Penalty of a Mighty Day."
বাংলা অনুবাদ
বল- আমি যদি আমার প্রতিপালকের অবাধ্য হই, তবে আমি ভয়ঙ্কর দিনের শাস্তির ভয় করি।
বল, ‘আমি যদি আমার রবের অবাধ্য হই তবে আমি এক মহাদিবসের আযাবের আশঙ্কা করি।’
বলঃ আমি যদি আমার রবের অবাধ্য হই তাহলে আমি ভয় করি মহা দিনের শাস্তির।
বলুন, 'আমি যদি আমার রবের অবাধ্য হই, তবে আমি ভয় করি মহাদিনের শাস্তির।'
বল : আমি যদি আমার প্রতিপালকের অবাধ্য হই তবে আমি ভয় করি মহা দিবসের শাস্তির।
১৩. হে রাসূল! আপনি বলুন, আমি যদি আল্লাহর আনুগত্য না করে তাঁর অবাধ্য হই তবে আমার জন্য মহান দিনের শাস্তি তথা কিয়ামত দিবসের শাস্তির ভয় রয়েছে।
তাফসীর
১৩-১৬ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ হে মুহাম্মাদ (সঃ)! তুমি ঘোষণা করে দাও- যদিও আমি আল্লাহর রাসূল, তবুও আমি আল্লাহর আযাব হতে নির্ভয় নই। যদি আমি আমার প্রতিপালকের অবাধ্য হই তবে কিয়ামতের দিন আমিও আল্লাহর আযাব হতে বাঁচতে পারবো না। সুতরাং অন্য লোকদের আল্লাহর অবাধ্যতা হতে বহুগুণে বেশী বেঁচে থাকা উচিত। হে নবী (সঃ)! তুমি আরো ঘোষণা করে দাও- আমি ইবাদত করি আল্লাহরই তাঁর প্রতি আমার আনুগত্যকে একনিষ্ঠ করে। অতএব তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার ইচ্ছা তার ইবাদত কর। এতেও ভীতি প্রদর্শন ও ধমক রয়েছে, অনুমতি নয়। কিয়ামতের দিন পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত তারাই হবে যারা নিজেদের ও নিজেদের পরিজনবর্গের ক্ষতি সাধন করে।
কিয়ামতের দিন তাদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা এসে যাবে। তাদের পরিজনবর্গ জান্নাতে গেলে এরা জাহান্নামে যাচ্ছে। আর সবাই জাহান্নামে গেলে মন্দভাবে একে অপর হতে সরে থাকবে এবং হতবুদ্ধি ও চিন্তিত থাকবে। এটাই সুস্পষ্ট ক্ষতি। অতঃপর জাহান্নামে তাদের অবস্থার কথা ঘোষণা করা হচ্ছে যে, তাদের জন্যে থাকবে তাদের উধ্বদিকে অগ্নির আচ্ছাদন এবং নিম্নদিকেও আচ্ছাদন। যেমন। মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তাদের বিছানা হবে জাহান্নামের আগুনের এবং তাদের উপরেও হবে আগুনের চাদর, এবং এরূপেই আমি যালিমদেরকে প্রতিফল দিয়ে থাকি।”(৭:৪১) অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “সেই দিন শাস্তি তাদের উপরে ও পায়ের নীচে পর্যন্ত ঢেকে ফেলবে এবং তিনি (আল্লাহ) বলবেনঃ তোমরা যা আমল করতে তার স্বাদ গ্রহণ কর।” (২৯:৫৫) মহান আল্লাহ্ বলেনঃ এতদ্বারা আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদেরকে সতর্ক করেন তার প্রকৃত শাস্তি হতে যে, নিশ্চিত রূপে ঐ শাস্তি দেয়া হবে।
এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। সুতরাং তার বান্দাদের সতর্ক হয়ে যাওয়া উচিত এবং পাপকার্য ও আল্লাহর অবাধ্যাচরণ পরিত্যাগ করা তাদের একান্তভাবে কর্তব্য। তাই তিনি বলেনঃ হে আমার বান্দাগণ! তোমরা আমার পাকড়াও, আমার শাস্তি, আমার ক্রোধ এবং আমার প্রতিশোধ ও হিসাব গ্রহণকে ভয় কর।
বলুন, 'আমি যদি আমার রবের অবাধ্য হই, তবে আমি ভয় করি মহাদিনের শাস্তির।'
[সূরা আয-যুমার (৩৯): আয়াত ১১ হতে ১৬] পূর্ণ পৃষ্ঠা
"ধৈর্যশীলদেরই তাদের প্রতিদান পূর্ণরূপে প্রদান করা হবে কোনো হিসাব ছাড়াই।" আর 'সাবির' (ধৈর্যশীল) শব্দটি দ্বারা প্রশংসা করা হয় এবং তা মূলত তার জন্যই প্রযোজ্য যে পাপাচার থেকে বিরত থাকতে ধৈর্য ধারণ করে। আর যখন আপনি এটি বুঝাতে চাইবেন যে কেউ কোনো বিপদে ধৈর্য ধরেছেন, তখন আপনি বলবেন 'অমুক বিষয়ের ওপর ধৈর্যশীল', যেমনটি আল-নাহহাস বলেছেন। আর এর বিস্তারিত আলোচনা সূরা "আল-বাকারায়" অতিক্রান্ত হয়েছে।বিস্তারিতভাবে। [সূরা আয-যুমার (৩৯): আয়াত ১১ হতে ১৬]বলুন, "আমি আল্লাহর ইবাদত করতে আদিষ্ট হয়েছি তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে।" (১১) "এবং আমি আদিষ্ট হয়েছি যেন আমি মুসলিমদের মধ্যে প্রথম হই।" (১২) বলুন, "আমি যদি আমার রবের অবাধ্য হই, তবে আমি এক মহাদিবসের শাস্তির ভয় করি।" (১৩) বলুন, "আমি আল্লাহরই ইবাদত করি আমার আনুগত্যকে তাঁর জন্য একনিষ্ঠ করে।" (১৪) "সুতরাং তোমরা তাঁর পরিবর্তে যার ইচ্ছা ইবাদত করো।" বলুন, "নিশ্চয়ই ক্ষতিগ্রস্ত তারাই যারা কিয়ামতের দিন নিজেদের এবং নিজেদের পরিজনদের ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
জেনে রেখো, এটাই সুস্পষ্ট ক্ষতি।" (১৫)তাদের জন্য তাদের ওপর দিক থেকে আগুনের আচ্ছাদন থাকবে এবং তাদের নিচের দিক থেকেও আচ্ছাদন থাকবে। এর মাধ্যমেই আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ভয় দেখান। হে আমার বান্দারা! তোমরা আমাকে ভয় করো। (১৬)মহান আল্লাহর বাণী: "বলুন, আমি আল্লাহর ইবাদত করতে আদিষ্ট হয়েছি তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে" - এর আলোচনা সূরার প্রারম্ভেই অতিবাহিত হয়েছে। "এবং আমি আদিষ্ট হয়েছি যেন আমি মুসলিমদের মধ্যে প্রথম হই" - অর্থাৎ এই উম্মতের মধ্য থেকে। আর বিষয়টি তেমনই ছিল, কেননা তিনিই ছিলেন সর্বপ্রথম ব্যক্তি যিনি তাঁর পিতৃপুরুষদের ধর্মের বিরোধিতা করেছিলেন, মূর্তিদের বর্জন ও চূর্ণ করেছিলেন, আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন এবং তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন এবং তাঁর দিকে আহ্বান জানিয়েছিলেন (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।
আর তাঁর বাণী "যেন আমি হই" এর মধ্যে 'লাম' অক্ষরটি আল-জুরজানী এবং অন্যান্যদের মতে অতিরিক্ত সংযোগকারী অব্যয়। আবার কেউ কেউ বলেছেন এটি উদ্দেশ্যমূলক 'লাম'। আর বাক্যের কাঠামোতে কিছু ঊহ্য রয়েছে, অর্থাৎ: আমি ইবাদতের আদেশপ্রাপ্ত হয়েছি "যাতে আমি মুসলিমদের মধ্যে প্রথম হতে পারি"। এর দ্বারা কিয়ামত দিবসের আজাব উদ্দেশ্য। আর তিনি এটি তখন বলেছিলেন যখন তাঁর কওম তাঁকে তাঁদের পিতৃপুরুষদের ধর্মের দিকে আহ্বান করছিল। আবু হামযাহ আস-সুমালী এবং ইবনুল মুসায়্যিব বলেন: এই আয়াতটি মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা রহিত হয়েছে: "যাতে আল্লাহ আপনার অতীত ও ভবিষ্যতের ত্রুটিসমূহ ক্ষমা করে দেন" [সূরা আল-ফাতহ: ২]।
সুতরাং এই আয়াতটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ক্ষমা লাভের ঘোষণার পূর্ববর্তী সময়ের।(১). দ্বিতীয় সংস্করণের ২য় খণ্ড, ১৭৪ পৃষ্ঠা এবং পরবর্তী অংশ দ্রষ্টব্য।
