Az-Zumar
আয-যুমার: 56
মূল আরবি
أَن تَقُولَ نَفْسٌ يَـٰحَسْرَتَىٰ عَلَىٰ مَا فَرَّطتُ فِى جَنۢبِ ٱللَّهِ وَإِن كُنتُ لَمِنَ ٱلسَّـٰخِرِينَ
English Translations
Lest a soul should say, "Oh, [how great is] my regret over what I neglected in regard to Allāh and that I was among the mockers."
Lest a person should say: "Alas, my grief that I was undutiful to Allah (i.e. I have not done what Allah has ordered me to do), and I was indeed among those who mocked [at the truth! i.e. La ilaha ill-Allah (none has the right to be worshipped but Allah), the Quran, and Muhammad SAW and at the faithful believers, etc.]
lest someone should say, “Pity on me, because I fell short in respect of (observing the rights of) Allah and in fact, I was one of those who mocked”,
Lest a person should say: “Alas for me for neglecting my duty towards Allah and for being among those that scoffed”;
Lest any soul should say: Alas, my grief that I was unmindful of Allah, and I was indeed among the scoffers!
"Lest the soul should (then) say: 'Ah! Woe is me!- In that I neglected (my duty) towards Allah, and was but among those who mocked!'-
বাংলা অনুবাদ
যাতে কাউকে বলতে না হয়- হায় আফসোস! আমি আল্লাহর প্রতি (আমার কর্তব্যে) অবহেলা করেছিলাম, আর আমি তো ঠাট্টা বিদ্রূপকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।
যাতে কাউকেও বলতে না হয়, ‘হায় আফসোস! আল্লাহর হক আদায়ে আমি যে শৈথিল্য করেছিলাম তার জন্য। আর আমি কেবল ঠাট্টা-বিদ্রূপকারীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলাম’।
যাতে কেহকেও বলতে না হয়ঃ হায়! আল্লাহর প্রতি আমার কর্তব্যে আমি যে শৈথিল্য করেছি তার জন্য আফসোস! আমিতো ঠাট্টাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।
যাতে কাউকেও বলতে না হয়, ‘হায় আফসোস! আল্লাহর প্রতি আমার কর্তব্যে আমি যে শৈথিল্য করেছি তার জন্য! আর আমি তো ঠাট্টাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।'
এমন যেন না হয় যে, কোন ব্যক্তি বলে- হায়! আল্লাহর প্রতি আমার কতর্ব্যে আমি যে শৈথিল্য করেছি তার জন্য আফসোস! আমি তো ঠাট্টাকারীদের অন্তর্ভুক্ত থাকতাম।
৫৬. তোমরা এ সব কাজ করো ওই কথা থেকে বেঁচে থাকার জন্য যা কিয়ামত দিবসে কঠিন অপমান নিয়ে ওই ব্যক্তি বলবে যে কুফরী ও পাপাচারে লিপ্ত হয়ে ঈমান ও আনুগত্যের পথ অবলম্বনকারীদেরকে নিয়ে ঠাট্টা করতো। সে বলবে: হে আমার আক্ষেপ! হায় আমার আফসোস!!
তাফসীর
39:53
যাতে কাউকেও বলতে না হয়, ‘হায় আফসোস! আল্লাহর প্রতি আমার কর্তব্যে আমি যে শৈথিল্য করেছি তার জন্য [১]! আর আমি তো ঠাট্টাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।'
[১] হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘প্রত্যেক জাহান্নামবাসীকেই জান্নাতে তার যে স্থানটি ছিল তা দেখানো হবে, তখন সে বলবে, হায় যদি আল্লাহ আমাকে হিদায়াত করত! ফলে তা তার জন্য আফসোসের কারণ হবে। আর প্রত্যেক জান্নাতবাসীকেই জাহান্নামে তার যে স্থানটি ছিল তা দেখানো হবে; তখন সে বলবে, হায় যদি আল্লাহ আমাকে হিদায়াত না করত তবে আমার কি হতো! ফলে সেটা তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ হিসেবে দেখা দিবে। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ আয়াতটি তেলাওয়াত করলেন।’ [মুস্তাদরাকে হাকিম: ২/৪৩৫]
[সূরা আয-যুমার (৩৯): আয়াত ৫৩ হতে ৫৯] পূর্ণ পৃষ্ঠা
অর্থাৎ তাদের ধন-সম্পদ তাদের কী উপকারে এলো? এখানে 'ইন্নামা' (প্রশ্নবোধক মা) প্রশ্নবোধক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 'অতঃপর তারা যা অর্জন করেছিল, তার মন্দ ফল তাদের ওপর আপতিত হলো' অর্থাৎ তাদের মন্দ কর্মসমূহের প্রতিফল। আর অনেক সময় মন্দের প্রতিফলকেও 'মন্দ' বলা হয়। 'এবং যারা জুলুম করেছে' অর্থাৎ যারা শিরক করেছে 'এদের মধ্য থেকে'—এই উম্মতের (সবার) জন্য নয়— 'তারা যা অর্জন করেছে তার মন্দ ফল শীঘ্রই তাদের ওপর আপতিত হবে' অর্থাৎ ক্ষুধা ও তরবারির মাধ্যমে। 'এবং তারা অক্ষমকারী হতে পারবে না' অর্থাৎ তারা আল্লাহকে এড়িয়ে যেতে পারবে না এবং তাঁকে অতিক্রমও করতে পারবে না।
আর এর আলোচনা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। মহান আল্লাহর বাণী: "তারা কি জানে না যে, আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা রিযিক প্রশস্ত করে দেন এবং সংকুচিত করেন? নিশ্চয় এতে মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে।" এখানে মুমিনদের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ মুমিনই নিদর্শনাবলি নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে এবং তা থেকে উপকৃত হয়। আর সে জানে যে, রিযিকের প্রশস্ততা কখনও পরীক্ষা বা অবকাশ (ইস্তিদরাজ) হতে পারে, আবার এর সংকীর্ণতা মর্যাদা বৃদ্ধি ও মহত্ত্বের কারণ হতে পারে। [সূরা আয-যুমার (৩৯): আয়াত ৫৩ হতে ৫৯]বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের ওপর অনাচার করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না।
নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু (৫৩)। আর তোমাদের ওপর আজাব আসার পূর্বেই তোমরা তোমাদের রবের অভিমুখী হও এবং তাঁর অনুগত হও, এরপর তোমাদের সাহায্য করা হবে না (৫৪)। আর তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা কিছু উত্তম অবতীর্ণ করা হয়েছে তার অনুসরণ করো তোমাদের ওপর আকস্মিকভাবে আজাব আসার পূর্বেই, যখন তোমরা উপলব্ধিও করতে পারবে না (৫৫)। যেন কোনো ব্যক্তিকে বলতে না হয়, 'হায় আক্ষেপ! আল্লাহর প্রতি আমার কর্তব্যে আমি যে অবহেলা করেছি তার জন্য; আর আমি তো বিদ্রূপকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম' (৫৬)।
অথবা না বলে, 'আল্লাহ যদি আমাকে পথনির্দেশ দিতেন, তবে আমি অবশ্যই মুত্তাকীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম' (৫৭)।অথবা আজাব প্রত্যক্ষ করার সময় যেন না বলে, 'যদি আমার জন্য আর একবার ফিরে যাওয়ার সুযোগ হতো, তবে আমি সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম' (৫৮)। হ্যাঁ, অবশ্যই তোমার নিকট আমার নিদর্শনাবলি এসেছিল, কিন্তু তুমি সেগুলোকে অস্বীকার করেছিলে এবং অহংকার করেছিলে আর তুমি কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে (৫৯)।মহান আল্লাহর বাণী: "বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের ওপর অনাচার করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না।" আপনি চাইলে (আরবি ব্যাকরণ অনুযায়ী) 'ইয়া' অক্ষরটি বিলুপ্ত করতে পারেন, কারণ সম্বোধনের স্থানটি বিলুপ্তির উপযোগী।
নাহহাস বলেন: এ বিষয়ে বর্ণিত মহান বর্ণনাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো যা মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে এবং তিনি উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন আমরা হিজরতের ব্যাপারে একমত হলাম, তখন আমরা সময় নির্ধারণ করলাম...(১). দেখুন ৭ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮৮, প্রথম বা দ্বিতীয় মুদ্রণ। এবং ৮ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৫১, প্রথম বা দ্বিতীয় মুদ্রণ।
