Az-Zumar

আয-যুমার: 23

39:23
39 আয-যুমার Az-Zumar · 75 আয়াত الزمر

আরবি

ٱللَّهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ ٱلْحَدِيثِ كِتَـٰبًا مُّتَشَـٰبِهًا مَّثَانِىَ تَقْشَعِرُّ مِنْهُ جُلُودُ ٱلَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ ثُمَّ تَلِينُ جُلُودُهُمْ وَقُلُوبُهُمْ إِلَىٰ ذِكْرِ ٱللَّهِ ۚ ذَٰلِكَ هُدَى ٱللَّهِ يَهْدِى بِهِۦ مَن يَشَآءُ ۚ وَمَن يُضْلِلِ ٱللَّهُ فَمَا لَهُۥ مِنْ هَادٍ

English Translations

Sahih International

Allāh has sent down the best statement: a consistent Book wherein is reiteration. The skins shiver therefrom of those who fear their Lord; then their skins and their hearts relax at the remembrance [i.e., mention] of Allāh. That is the guidance of Allāh by which He guides whom He wills. And one whom Allāh sends astray - for him there is no guide.

Muhsin Khan

Allah has sent down the best statement, a Book (this Quran), its parts resembling each other in goodness and truth, oft-repeated. The skins of those who fear their Lord shiver from it (when they recite it or hear it). Then their skin and their heart soften to the remembrance of Allah. That is the guidance of Allah. He Guides therewith whom He pleases and whomever Allah sends astray, for him there is no guide.

Taqi Usmani

Allah has sent down the best discourse, a book containing subjects resembling each other, mentioned again and again, shivered from which are the skins of those who have awe of their Lord. Then, their skins and their hearts become soft enough to tend to the remembrance of Allah. This is the Guidance of Allah with which He brings to the right path whomsoever He wills. As for the one whom Allah lets go astray, for him there is no one to guide.

Abul Ala Maududi

Allah has revealed the best teaching, a self-consistent Book which repeats its contents in manifold forms whereat shiver the skins of those that hold their Lord in awe, and then their skins and their hearts soften for Allah's remembrance. That is Allah's Guidance wherewith He guides whosoever He pleases. And he whom Allah does not guide to the Right Path has none to guide him.

Pickthall

Allah hath (now) revealed the fairest of statements, a Scripture consistent, (wherein promises of reward are) paired (with threats of punishment), whereat doth creep the flesh of those who fear their Lord, so that their flesh and their hearts soften to Allah's reminder. Such is Allah's guidance, wherewith He guideth whom He will. And him whom Allah sendeth astray, for him there is no guide.

Yusuf Ali

Allah has revealed (from time to time) the most beautiful Message in the form of a Book, consistent with itself, (yet) repeating (its teaching in various aspects): the skins of those who fear their Lord tremble thereat; then their skins and their hearts do soften to the celebration of Allah's praises. Such is the guidance of Allah: He guides therewith whom He pleases, but such as Allah leaves to stray, can have none to guide.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

আল্লাহ সর্বোত্তম বাণী অবতীর্ণ করেছেন- এমন কিতাব যা সামঞ্জস্যপূর্ণ, যার বিষয়াবলী পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে তাদের গা এতে শিউরে উঠে। তখন তাদের দেহ-মন আল্লাহর স্মরণের প্রতি বিনম্র হয়ে যায়। এ হল আল্লাহর হিদায়াত, যাকে ইচ্ছে তদ্দ্বারা হিদায়াত করেন। আর আল্লাহ যাকে পথহারা করেন, তার কোন পথপ্রদর্শক নেই।

রাওয়াই আল-বায়ান

আল্লাহ নাযিল করেছেন উত্তম বাণী, সাদৃশ্যপূর্ণ একটি কিতাব (আল কুরআন), যা বারবার আবৃত্তি করা হয়। যারা তাদের রবকে ভয় করে, তাদের গা এতে শিহরিত হয়, তারপর তাদের দেহ ও মন আল্লাহর স্মরণে বিনম্র হয়ে যায়। এটা আল্লাহর হিদায়াত, তিনি যাকে চান তাকে এর দ্বারা হিদায়াত করেন। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কোন হিদায়াতকারী নেই।

শাইখ মুজিবুর রহমান

আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন উত্তম বাণী সম্বলিত কিতাব যা সুসামঞ্জস এবং যা পুনঃ পুনঃ আবৃত্তি করা হয়। এতে যারা তাদের রাব্বকে ভয় করে তাদের গাত্র রোমাঞ্চিত হয়, অতঃপর তাদের দেহ-মন প্রশান্ত হয়ে আল্লাহর স্মরণে ঝুঁকে পড়ে; এটাই আল্লাহর পথনির্দেশ, তিনি যাকে ইচ্ছা এটা দ্বারা পথ প্রদর্শন করেন। আল্লাহ যাকে বিভ্রান্ত করেন তার কোন পথ প্রদর্শক নেই।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আল্লাহ নাযিল করেছেন উত্তম বাণী সম্বলিত কিতাব যা সুসামঞ্জস্য এবং যা পুনঃ পুনঃ আবৃত্তি করা হয়। এতে যারা তাদের রবকে ভয় করে, তাদের শরীর শিউরে ওঠে, তারপর তাদের দেহমন বিনম্র হয়ে আল্লাহর স্মরণে ঝুঁকে পড়ে। এটাই আল্লাহর হিদায়াত, তিনি তা দ্বারা যাকে ইচ্ছে হিদায়াত করেন। আল্লাহ যাকে বিভ্রান্ত করেন তার কোনো হেদায়াতকারী নেই।

ফাতহুল মাজীদ

আল্লাহ অতি উত্তম বাণী নাযিল করেছেন, তা এমন কিতাব যা সুসামঞ্জস্য, বার বার তেলাওয়াত করা হয়। এতে তাদের দেহ রোমাঞ্চিত হয় যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে, অতঃপর তাদের দেহ ও তাদের অন্তর বিনম্র হয়ে আল্লাহর স্মরণে ঝুঁকে পড়ে। এটাই আল্লাহর হিদায়াত, এর দ্বারা তিনি যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন, আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার কোন পথপ্রদর্শক নেই।

মুখতাসার

২৩. আল্লাহ তদীয় রাসূল মুহাম্মাদের উপর সর্বোত্তম বাণী কুরআন অবতীর্ণ করেছেন। তিনি একে সত্য, সৌন্দর্য ও সঙ্গতি আর অসঙ্গতি থেকে মুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছেন। যা কাহিনী, বিধি-বিধান, সুসংবাদ, দুঃসংবাদ ও হকপন্থী আর বাতিলপন্থী ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের প্রসঙ্গ নিয়ে বক্তব্য পেশ করে। যদ¦ারা আল্লাহভীরুদের শরীর শিউরে ওঠে যখন তারা তাতে উল্লেখিত দুঃসংবাদ ও ধমকির কথা শ্রবণ করে। অতঃপর তাদের চামড়া ও অন্তর আল্লাহর স্মরণে বিনম্র হয় যখন তাতে বিদ্যমান আশাব্যঞ্জক ও সুসংবাদবাহী কথা শ্রবণ করে। উপরোল্লেখিত কুরআন ও তার প্রভাবের কথা এসব হলো আল্লাহ প্রদত্ত হেদায়েত। যদ্বারা তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যকার যাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করেন। পক্ষান্তরে যাকে আল্লাহ অপমান করেন এবং হেদায়েতের তাওফীক থেকে বঞ্চিত রাখেন তার পথ প্রদর্শনকারী কেউ নেই।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

এখানে মহামহিমান্বিত আল্লাহ স্বীয় কুরআন আযীমের প্রশংসা করছেন যা তিনি স্বীয় রাসূলের উপর অবতীর্ণ করেছেন। তিনি বলেনঃ আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন উত্তম বাণী সম্বলিত কিতাব যা পরস্পর সুসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং যা পুনঃ পুনঃ আবৃত্তি করা হয়। এর আয়াতগুলো একে অপরের সাথে মিল রাখে। এই সূরার আয়াতগুলো ঐ সূরার সাথে এবং ঐ সূরার আয়াতগুলো এই সূরার সাথে সুসামঞ্জস্যপূর্ণ। একই কথা ও একই আলোচনা কয়েক জায়গায় রয়েছে। আবার অনৈক্যভাবে কতকগুলো আয়াত একই বর্ণনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে। এর সাথে সাথে ওর বিপরীতটির বর্ণনাও দেয়া হয়েছে। যেমন মুমিনদের বর্ণনার সাথে সাথেই কাফিরদের বর্ণনা, জান্নাতের বর্ণনার সাথে সাথেই জাহান্নামের বর্ণনা ইত্যাদি। দেখা যায় যে, পুণ্যবানদের বর্ণনা দেয়ার পরেই পাপীদের বর্ণনা দেয়া হয়েছে, ইল্লীনের বর্ণনার সাথেই সিজ্জীনের বর্ণনা আছে, আল্লাহভীরুদের বর্ণনার সাথেই রয়েছে খোদাদ্রোহীদের বর্ণনা এবং জান্নাতের বর্ণনা দেয়ার সাথে সাথেই জাহান্নামের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। (আরবী) এর অর্থ এটাই। আর (আরবী) ঐ আয়াতগুলোকে বলা হয় যেগুলো একই প্রকারের বর্ণনায় মিলিতভাবে চলে আসে। এখানে এই শব্দের অর্থ তো এটাই। আর যেখানে (আরবী) (৩:৭) রয়েছে সেখানে অন্য অর্থ। মহান আল্লাহ বলেনঃ যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে, তাদের গাত্র রোমাঞ্চিত হয়। শাস্তি ও ধমকের কথা শুনে তাদের অন্তর কেঁপে উঠে এবং তাদের শরীরের লোম খাড়া হয়ে যায়। তখন তারা অত্যন্ত বিনয়ের সাথে মহান আল্লাহর দিকে ঝুঁকে পড়ে। তার করুণা ও স্নেহের প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করে তারা আশান্বিত হয়। সুতরাং তাদের অন্তর অসৎ লোকদের কালো অন্তর হতে সম্পূর্ণ পৃথক। এরা আল্লাহর কালাম মনোযোগের সাথে শুনে আর ওরা গান-বাজনায় লিপ্ত থাকে। এই মহান লোকগুলো কুরআনের আয়াতের মাধ্যমে নিজেদের ঈমানকে আরো মযবৃত করে, আর যাদের অন্তরে রোগ রয়েছে তারা কুরআনের আয়াত শুনে আরো বেশী কুফরী করতে শুরু করে। এর সিজদায় পড়ে কাঁদতে থাকে, আর ওরা হাসি-তামাশায় লিপ্ত থাকে। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “মুমিন তো তারাই যাদের হৃদয় কম্পিত হয় যখন আল্লাহকে স্মরণ করা হয় এবং যখন তাঁর আয়াত তাদের নিকট পাঠ করা হয়, তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে এবং তাদের প্রতিপালকের উপরই তারা নির্ভর করে। যারা নামায প্রতিষ্ঠিত করে এবং আমি যা দিয়েছি তা হতে ব্যয় করে তারাই প্রকৃত মুমিন। তাদের প্রতিপালকের নিকট তাদেরই জন্যে রয়েছে মর্যাদা, ক্ষমা এবং সম্মানজনক জীবিকা।”(৮:২-৪) মহান আল্লাহ আরো বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যারা তাদের প্রতিপালকের আয়াত স্মরণ করিয়ে দিলে ওর প্রতি অন্ধ এবং বধির সদৃশ আচরণ করে না।”(২৫:৭৩) বরং তারা কান লাগিয়ে শুনে এবং অন্তর দিয়ে অনুধাবন করে। চিন্তা-গবেষণা করে তারা সঠিক অর্থ জেনে নেয়। সঠিক অর্থ জেনে নিয়ে তারা সিজদায় পড়ে যায় এবং আমলের জন্যে উঠে পড়ে লাগে। তারা নিজেদের জ্ঞানের দ্বারা কাজ করে, অন্যদের দেখাদেখি তারা অজ্ঞতার পিছনে পড়ে না।অন্যদের বিপরীত তাদের মধ্যে তৃতীয় গুণ এই আছে যে, তারা কুরআন শ্রবণের সময় অত্যন্ত আদবের সাথে বসে থাকে। রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর তিলাওয়াত শুনে সাহাবায়ে কিরামের দেহ ও আত্মা আল্লাহর যিকরের দিকে ঝুঁকে পড়তো। তাঁদের মধ্যে বিনয় ও নম্রতা সৃষ্টি হতো। কিন্তু এটা নয় যে, তাঁরা চিল্লিয়ে-চেঁচিয়ে উঠতেন এবং নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করতেন। বরং তারা অত্যন্ত শান্ত-শিষ্টভাবে, আদব-কায়দা রক্ষা করে ও বিনয়ের সাথে আল্লাহর কালাম শুনতেন। এভাবে তারা দেহ মনে প্রশান্তি লাভ করতেন এবং এ কারণেই তারা প্রশংসার পাত্র হয়েছেন। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকুন! হযরত কাতাদা (রঃ) বলেনঃ আল্লাহর অলীদের বিশেষণ এই যে, কুরআন শুনে তাঁদের অন্তর মোমের মত গলে যায় এবং তারা আল্লাহর যিকরের দিকে ঝুঁকে পড়েন। তাঁদের অন্তর আল্লাহর ভয়ে প্রকম্পিত হয়। আর তাঁদের চক্ষুগুলো হয় অশ্রুসিক্ত এবং দেহ-মন হয় প্রশান্ত। এটা নয় যে, তাদের জ্ঞান লোপ পায়, বিস্ময়কর অবস্থা সৃষ্টি হয় এবং ভাল ও মন্দের জ্ঞান থাকে না। এগুলো তো বিদআতের কাজ যে, মানুষ হা-হুতাশ করবে, লম্ফ-ঝম্ফ করবে এবং কাপড় ছিড়বে। এগুলো হলো শয়তানী কাজ।এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ এটাই আল্লাহর পথ-নির্দেশ, তিনি যাকে ইচ্ছা এটা দ্বারা পথ-প্রদর্শন করেন। আল্লাহ যাকে বিভ্রান্ত করেন তার কোন পথ-প্রদর্শক নেই।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আল্লাহ নাযিল করেছেন উত্তম বাণী সম্বলিত কিতাব যা সুসামঞ্জস্য [১] এবং যা পুনঃ পুনঃ আবৃত্তি করা হয়। এতে, যারা তাদের রবকে ভয় করে, তাদের শরীর শিউরে ওঠে, তারপর তাদের দেহমন বিনম্র হয়ে আল্লাহর স্মরণে ঝুঁকে পড়ে। এটাই আল্লাহর হিদায়াত, তিনি তা দ্বারা যাকে ইচ্ছে হিদায়াত করেন। আল্লাহ যাকে বিভ্রান্ত করেন তার কোন হেদায়াতকারী নেই।

[১] মুজাহিদ বলেন, পুরো কুরআনই সামঞ্জস্যপূর্ণ পুনঃ পুনঃ পঠিত। কাতাদাহ বলেন, এক আয়াত অন্য আয়াতের মত। দাহহাক বলেন, কুরআনে কোন কথাকে বারবার বলা হয়েছে যাতে করে তাদের রবের কথা বুঝা সহজ হয়। হাসান বসরী বলেন, কোন সুরায় একটি আয়াত আসলে অন্য সুরায় অনুরূপ আয়াত পাওয়া যায়। আব্দুর রহমান ইবন যায়েদ ইবন আসলাম বলেন, বারবার নিয়ে আসা হয়েছে যেমন মূসাকে কুরআনে বারবার উল্লেখ করা হয়েছে, অনুরূপ সালেহ, হূদ ও অন্যান্য নবীদেরকেও ৷ [ইবন কাসীর] কাতাদা বলেন, এখানে ফরয বিষয়াদি, বিচারিক বিষয়াদি ও শরীআত নির্ধারিত সীমারেখার কথা বারবার এসেছে। [তাবারী।]