Ghafir
গাফির: 23
মূল আরবি
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا مُوسَىٰ بِـَٔايَـٰتِنَا وَسُلْطَـٰنٍ مُّبِينٍ
English Translations
And We did certainly send Moses with Our signs and a clear authority
And indeed We sent Musa (Moses) with Our Ayat (proofs, evidences, verses, lessons, signs, revelations, etc.), and a manifest authority,
Indeed We sent Mūsā with Our signs and a manifest proof
Verily We sent Moses with Our Signs and a clear authority
And verily We sent Moses with Our revelations and a clear warrant
Of old We sent Moses, with Our Signs and an authority manifest,
বাংলা অনুবাদ
আমি মূসাকে আমার নিদর্শন ও সুস্পষ্ট ফরমান দিয়ে পাঠিয়েছিলাম
আর অবশ্যই আমি মূসাকে আমার নিদর্শনাবলী ও স্পষ্ট প্রমাণসহ প্রেরণ করেছিলাম।
আমি আমার নিদর্শন ও স্পষ্ট প্রমাণসহ মূসাকে প্রেরণ করেছিলাম –
আর অবশ্যই আমরা আমাদের নিদর্শন ও স্পষ্ট প্রমাণসহ মূসাকে প্রেরণ করেছিলাম
আমি আমার নিদর্শনাবলী ও স্পষ্ট প্রমাণসহ মূসা (আঃ)-কে প্রেরণ করেছিলাম।
২৩. আর আমি মূসা (আলাইহিস-সালাম) কে সুস্পষ্ট আয়াত ও পরিষ্কার প্রমাণাদিসহ প্রেরণ করেছি।
তাফসীর
২৩-২৭ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তাআলা হযরত মুহাম্মাদ (সঃ)-কে সান্ত্বনা দেয়ার জন্যে তাঁর পূর্ববর্তী রাসূলদের (আঃ) বর্ণনা দিচ্ছেন যে, পরিণামে যেমন তারাই জয়যুক্ত ও সফলকাম হয়েছিলেন, অনুরূপভাবে তিনিও তার সময়ের কাফিরদের উপর বিজয়ী হবেন। সুতরাং তাঁর চিন্তিত ও ভীত হওয়ার কোনই কারণ নেই। যেমন হযরত মূসা ইবনে ইমরান (আঃ)-এর ঘটনা তার সামনে রয়েছে। আল্লাহ তা'আলা তাঁকে দলীল প্রমাণাদিসহ কিবতীদের বাদশাহ ফিরাউনের নিকট, যে ছিল মিসরের সম্রাট, তার প্রধানমন্ত্রী হামানের নিকট এবং সেই যুগের সবচেয়ে ধনী এবং বণিকদের বাদশাহ নামে খ্যাত কারূনের নিকট প্রেরণ করেন।
এই হতভাগারা এই মহান রাসূল (সঃ)-কে অবিশ্বাস করে এবং তাকে ঘৃণার, চোখে দেখে। তারা পরিষ্কারভাবে বলেঃ “এ ব্যক্তি যাদুকর এবং চরম মিথ্যাবাদী।” এই উত্তরই তাঁর পূর্ববর্তী নবীগণও পেয়েছিলেন। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “এরূপই তাদের পূর্ববর্তী লোকদের নিকট কোন রাসূল (আঃ) আসলেই তারা বলতোঃ এ ব্যক্তি যাদুকর অথবা পাগল। তারা কি তার সম্পর্কে পরস্পরে এটাই স্থির করে নিয়েছে? না, বরং তারা হলো উদ্ধত সম্প্রদায়।”(৫১:৫২-৫৩)মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ আমার রাসূল মূসা (আঃ) যখন আমার নিকট হতে সত্য নিয়ে তাদের নিকট হাযির হলো তখন তারা তাকে দুঃখ-কষ্ট দিতে শুরু করলো।
ফিরাউন হুকুম জারী করলোঃ “এই রাসূল (আঃ)-এর উপর যারা ঈমান এনেছে তাদের পুত্র সন্তানদেরকে হত্যা করে ফেলো এবং কন্যা সন্তানদেরকে জীবিত রাখো।” এর পূর্বেও সে এই নির্দেশ জারী করে রেখেছিল। কেননা, তার আশংকা ছিল যে, না জানি হয়তো হযরত মূসা (আঃ)-এর জন্ম হবে, অথবা হয়তো এ জন্যে যে, যেন বানী ইসরাঈলের সংখ্যা কমে যায়। ফলে যেন তারা দুর্বল ও শক্তিহীন হয়ে পড়ে। অথবা সম্ভবতঃ এ দু’টি যুক্তিই তার সামনে ছিল। এখন দ্বিতীয়বার সে এই হুকুম জারী করে। এর কারণও ছিল এটাই যে, যেন বানী ইসরাঈল দলটি বিজিত থাকে এবং তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি না পায়। আর তারা যেন লাঞ্ছিত অবস্থায় কালাতিপাত করে।
আর বানী ইসরাঈলের মনে যেন এ ধারণা বদ্ধমূল হয় যে, তাদের এ বিপদের কারণ হলো হযরত মূসা (আঃ)। যেহেতু তারা হযরত মূসা (আঃ)-কে বলেও ছিলঃ “আপনি আসার পূর্বেও আমাদেরকে কষ্ট দেয়া হয়েছিল এবং আপনার আগমনের পরেও আমাদেরকে কষ্ট দেয়া হচ্ছে।” তিনি উত্তরে বলেছিলেনঃ “তাড়াতাড়ি করো না, খুব সম্ভব আল্লাহ তাআলা তোমাদের শত্রুদেরকে ধ্বংস করে দিবেন এবং তোমাদেরকে যমীনের প্রতিনিধি বানিয়ে দিবেন, অতঃপর তোমরা কেমন আমল কর তা তিনি দেখবেন।” কাতাদা (রঃ) বলেন যে, এটা ছিল ফিরাউনের দ্বিতীয়বারের হুকুম।মহান আল্লাহ বলেনঃ 'কাফিরদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবেই।' অর্থাৎ ফিরাউন যে চক্রান্ত করেছিল যে, বানী ইসরাঈল ধ্বংস হয়ে যাবে তা সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছিল।অতঃপর ফিরাউনের ঘৃণ্য ইচ্ছার বর্ণনা দেয়া হচ্ছে যে, সে হযরত মূসা (আঃ)-কে হত্যা করার ইচ্ছা করে এবং স্বীয় কওমকে বলেঃ “তোমরা আমাকে ছেড়ে দাও, আমি মূসা (আঃ)-কে হত্যা করে ফেলবো।
সে তার প্রতিপালকের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করুক, আমি এর কোন পরোয়া করি না। আমি আশংকা করছি যে, যদি তাকে জীবিত ছেড়ে দেয়া হয় তবে সে তোমাদের দ্বীনের পরিবর্তন ঘটাবে অথবা সে পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে ।" এ জন্যেই আরবে নিম্নের প্রবাদ প্রসিদ্ধ হয়ে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “ফিরাউনও উপদেশদাতা হয়ে গেল।” অনেকেই (আরবী)-এরূপ পড়েছেন। অন্যেরা (আরবী)-এরূপ পাঠ করেছেন। আর কেউ কেউ (আরবী) পড়েছেন। হযরত মূসা (আঃ) যখন ফিরাউনের ঘৃণ্য উদ্দেশ্যের বিষয় জানতে পারলেন তখন তিনি বললেনঃ “যারা বিচার দিবসে বিশ্বাস করে না, ঐ সব উদ্ধত ও হঠকারী ব্যক্তি হতে আমি আমার ও (হে সম্বোধনকৃত ব্যক্তিরা) তোমাদের প্রতিপালকের শরণাপন্ন হয়েছি।” এ জন্যেই হাদীসে এসেছেঃ হযরত আবু মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) যখন কোন কওম হতে ভীত হতেন তখন বলতেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে আল্লাহ!
আমরা তাদের (শত্রুদের) অনিষ্ট হতে আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি এবং আপনাকে তাদের মুকাবিলায় (দাঁড়) করছি।”
আর অবশ্যই আমরা আমাদের নিদর্শন ও স্পষ্ট প্রমাণসহ মূসাকে প্রেরণ করেছিলাম,
[সূরা গাফির (৪০): আয়াত ২৩ থেকে ২৭] পূর্ণ পৃষ্ঠা
মহান আল্লাহর বাণী: "তবে কি তারা জমিনে পরিভ্রমণ করেনি এবং দেখেনি" - এখানে 'দেখেনি' শব্দটি জজম (নিষেধাত্মক) অবস্থায় রয়েছে কারণ এটি 'পরিভ্রমণ করেনি' শব্দের সাথে সংযুক্ত। আবার এটি নসব (নাসাব) অবস্থায় হওয়াও সম্ভব যদি একে জওয়াব (উত্তর) হিসেবে গণ্য করা হয়। দ্বিবচন ও বহুবচনের ক্ষেত্রে জজম ও নসবের রূপ অভিন্ন হয়। "কেমন হয়েছিল পরিণতি" - এখানে 'কেমন' শব্দটি 'কানা' ক্রিয়ার খবর (বিধেয়) এবং 'পরিণতি' হলো তার ইসম (উদ্দেশ্য)। "পরিত্রাণকারী" শব্দটি শাব্দিক বিচারে জর (নিম্নস্বর) অবস্থায় রয়েছে যা পূর্ববর্তী শব্দের সাথে সংযুক্ত। তবে অবস্থানগত দিক থেকে এটি রফ (উচ্চস্বর) হওয়াও সম্ভব, যার ফলে এর রফ ও জর এর রূপ অভিন্ন হয়; কারণ এর শেষের 'ইয়া' বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং অবশিষ্ট কাসরা (জের) তার ইঙ্গিত বহন করে।
এই আয়াতের অর্থের আলোচনা ইতিপূর্বে বিভিন্ন স্থানে অতিক্রান্ত হয়েছে, তাই এখানে তার পুনরাবৃত্তি নিষ্প্রয়োজন। [সূরা গাফির (৪০): আয়াত ২৩ থেকে ২৭]২৩. নিশ্চয়ই আমি মূসাকে আমার নিদর্শনাবলী ও সুস্পষ্ট প্রমাণসহ পাঠিয়েছি। ২৪. ফিরআউন, হামান ও কারূনের কাছে; কিন্তু তারা বলেছিল: সে এক চরম মিথ্যাবাদী জাদুকর। ২৫. অতঃপর যখন সে আমার পক্ষ থেকে তাদের কাছে সত্য নিয়ে আসলো, তখন তারা বলল: তার সাথে যারা ঈমান এনেছে তাদের পুত্রদের হত্যা করো এবং তাদের নারীদের জীবিত রাখো। আর কাফিরদের ষড়যন্ত্র কেবল ব্যর্থই হয়। ২৬. ফিরআউন বলল: তোমরা আমাকে ছেড়ে দাও, আমি মূসাকে হত্যা করি এবং সে তার রবকে ডাকুক।
আমি আশঙ্কা করি যে, সে তোমাদের দ্বীন পরিবর্তন করে দেবে অথবা জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। ২৭. মূসা বলল: আমি আমার প্রতিপালক ও তোমাদের প্রতিপালকের আশ্রয় গ্রহণ করছি এমন প্রত্যেক অহঙ্কারী থেকে, যে বিচার দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখে না।মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই আমি মূসাকে আমার নিদর্শনাবলীসহ পাঠিয়েছি" - এখানে ঐ নয়টি নিদর্শনের কথা বোঝানো হয়েছে যা মহান আল্লাহর এই বাণীতে উল্লেখ করা হয়েছে: "আমি মূসাকে নয়টি স্পষ্ট নিদর্শন দান করেছিলাম" [বনী ইসরাঈল: ১০১]; এবং এর পরিচয় ইতিপূর্বে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে। "সুস্পষ্ট প্রমাণ" অর্থাৎ এমন এক পরিষ্কার দলিল যা অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন।
এই শব্দটি পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। কেউ কেউ বলেছেন: এখানে 'সুলতান' বা প্রমাণ দ্বারা 'তাওরাত' কিতাবকে বোঝানো হয়েছে। "ফিরআউন, হামান ও কারূনের কাছে" - বিশেষভাবে তাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে কারণ মূসার সাথে শত্রুতা ও ষড়যন্ত্রের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল তারা। ফিরআউন ছিল রাজা, হামান ছিল মন্ত্রী এবং কারূন ছিল বিপুল সম্পদ ও গুপ্তধনের মালিক। আল্লাহ তাআলা কারূনকে তাদের দুজনের সাথে যুক্ত করেছেন, কারণ কুফরি ও মিথ্যারোপের ক্ষেত্রে তার কর্মকাণ্ড ছিল তাদেরই অনুরূপ। "তারা বলল: চরম মিথ্যাবাদী জাদুকর" - যখন তারা মূসার অলৌকিক নিদর্শনের মোকাবিলা করতে অক্ষম হলো, তখন তারা সেই মুজিযাসমূহকে জাদু বলে আখ্যায়িত করল।(১).
দেখুন: প্রথম বা দ্বিতীয় সংস্করণ, ৯ম খণ্ড, ৩২৪ পৃষ্ঠা।(২). দেখুন: প্রথম বা দ্বিতীয় সংস্করণ, ১০ম খণ্ড, ৩৩৫ পৃষ্ঠা এবং পরবর্তী অংশ।
