An-Naba
আন-নাবা: 31
মূল আরবি
إِنَّ لِلْمُتَّقِينَ مَفَازًا
English Translations
Indeed, for the righteous is attainment -
Verily, for the Muttaqun, there will be a success (Paradise);
Of course, the God-fearing will have great achievement,
Surely the state of triumph awaits the God-fearing:
Lo! for the duteous is achievement -
Verily for the Righteous there will be a fulfilment of (the heart's) desires;
বাংলা অনুবাদ
(অন্য দিকে) মুত্তাকীদের জন্য আছে সাফল্য।
নিশ্চয় মুত্তাকীদের জন্য রয়েছে সফলতা।
এবং নিশ্চয়ই সংযমশীল লোকদের জন্যই সফলতা;
নিশ্চয় মুত্তাকীদের জন্য আছে সাফল্য,
নিশ্চয়ই মুত্তাক্বীদের জন্য রয়েছে সাফল্য
৩১. নিশ্চয়ই আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মান্যকারী মুত্তাকীদের জন্য রয়েছে সফলতার আবাসন। যেখানে তারা নিজেদের জীবনের লক্ষ্যলাভে ধন্য হবে। আর তা হলো জান্নাত।
তাফসীর
৩১-৩৬ নং আয়াতের তাফসীরপরহেযগার ও পুণ্যবানদের জন্যে আল্লাহর নিকট যেসব নিয়ামত ও রহমত রয়েছে সে সম্পর্কে আল্লাহ রাব্বল আলামীন বলছেন যে, এই লোকগুলো হলো সফলকাম। এদের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়েছে এবং এরা জাহান্নাম হতে পরিত্রাণ লাভ করে জান্নাতে পৌঁছে গেছে।(আরবি) বলা হয় খেজুর ইত্যাদির বাগানকে। এই পুণ্যবান ও পরহেযগার লোকগুলো উদ্ভিন্ন যৌবনা তরুণী অর্থাৎ হূর লাভ করবে, যারা হবে উঁচু ও স্ফীত বক্ষের অধিকারিণী এবং সমবয়স্কা। যেমনঃ সূরায়ে ওয়াকিআ'র তাফসীরে এর পূর্ণ বর্ণনা গত হয়েছে।হযরত আবু উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ নিশ্চয়ই জান্নাতীদের গায়ের) জামাগুলো আল্লাহর সন্তুষ্টিরূপে প্রকাশিত হবে।
তাদের উপর মেঘমালা ছেয়ে যাবে এবং তাদেরকে ডাক দিয়ে বলা হবে “হে জান্নাতবাসিগণ! তোমরা কি চাও যে, আমি তোমাদের উপর তা বর্ষণ করি?" (অতঃপর তারা যা কিছু চাইবে তা-ই তাদের উপর বর্ষিত হবে) এমন কি তাদের উপর সমবয়স্কা উদভিন্ন যৌবনা তরুণীও বর্ষিত হবে। (এ হাদীসটি ইমাম ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)তারা পবিত্র শরাবের উপচে পড়া পেয়ালা একটির পর একটি লাভ করবে। তাতে এমন কোন নেশা হবে না যে, অশ্লীল ও অর্থহীন কথা তাদের মুখ দিয়ে বের হবে যা অন্য কেউ শুনতে পাবে। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবি)অর্থাৎ “তথায় থাকবে না কোন অসার ও পাপের কথা ।” অর্থাৎ তাতে কোন অর্থহীন বাজে কথা এবং অশ্লীল ও পাপের কথা প্রকাশ পাবে না।
সেটা হলো দারুস সালাম বা শান্তির ঘর। যেখানে কোন দূষণীয় বা মন্দ কথাই প্রকাশ পাবে না। পুণ্যবানদেরকে এসব নিয়ামত তাদের সৎ কর্মের বিনিময় হিসেবে আল্লাহ তাআলা দান করবেন। এটা হলো মহান আল্লাহর অশেষ করুণা ও রহমত। আল্লাহ পাকের এই করুণা ও অনুগ্রহ সীমাহীন, ব্যাপক ও পরিপূর্ণ। আরবরা বলে থাকেঃ(আরবি) অর্থাৎ “তিনি আমাকে ইনআম দিয়েছেন এবং পরিপূর্ণরূপেই দিয়েছেন। অনুরূপভাবে বলা হয়ঃ (আরবি) অর্থাৎ “সর্বদিক দিয়ে আল্লাহই আমার জন্যে যথেষ্ট।”
নিশ্চয় মুত্তাকীদের জন্য আছে সাফল্য,
‘দ্বিতীয় রুকূ’
[সূরা আন-নাবা (৭৮): আয়াত ৩১ থেকে ৩৬] পূর্ণ পৃষ্ঠা
এটি তাঁর এই বাণীর সদৃশ: "তিনি তোমাদেরকে মৃত্তিকা হতে উদ্গত করেছেন" [নূহ: ১৭]। অর্থাৎ, "তারা আমাদের নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করেছে, সুতরাং তারা চরমভাবে মিথ্যাচার করেছে।" অথবা এটি 'কায্যাবূ' (তারা অস্বীকার করেছে) ক্রিয়া দ্বারা নসব (মানসূব) হয়েছে, কারণ এটি 'কাযাবূ' (তারা মিথ্যা বলেছে) অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে। কেননা সত্যকে অস্বীকারকারী প্রত্যেক ব্যক্তিই একজন মিথ্যাবাদী। কারণ তারা যখন মুসলিমদের নিকট মিথ্যাবাদী হিসেবে গণ্য হয় এবং মুসলিমরা তাদের নিকট মিথ্যাবাদী হিসেবে গণ্য হয়, তখন তাদের মধ্যে পারস্পরিক মিথ্যারোপ সাব্যস্ত হয়। ইবনে উমর পেশযুক্ত 'কাফ' এবং তাশদীদসহ 'কুযযাবান' পাঠ করেছেন, যা 'কাযিব' (মিথ্যাবাদী) শব্দের বহুবচন; আবু হাতিম একথাই বলেছেন।
আয-যামাখশারী একে 'হাল' হিসেবে নসব প্রদান করেছেন। আবার 'কুযযাব' অর্থ হতে পারে মিথ্যায় চরম পারদর্শী একক ব্যক্তি। যেমন বলা হয়: 'রজুলুন কুযযাব' (চরম মিথ্যাবাদী লোক), ঠিক যেমন বলা হয় 'হুসসান' (অত্যন্ত সুদর্শন) এবং 'বুখ্খাল' (চরম কৃপণ)। অতঃপর একে 'কায্যাবূ' ক্রিয়ার মাসদার (মূলরূপ)-এর বিশেষণ হিসেবে গণ্য করা হয়; অর্থাৎ তারা চরম মিথ্যাচারমূলকভাবে মিথ্যারোপ করেছিল। 'আস-সিহাহ' গ্রন্থে রয়েছে: মহান আল্লাহর বাণী "এবং তারা আমাদের নিদর্শনসমূহকে চরমভাবে অস্বীকার করেছে", এটি তাশদীদযুক্ত ক্রিয়ার অন্যতম মাসদার। কারণ এর মাসদার কখনও 'তাফঈল' ওজনে আসে যেমন 'তাকলীম', আবার কখনও 'ফি'আল' ওজনে আসে যেমন 'কিযযাব', আবার কখনও 'তাফ'ইলাহ' ওজনে আসে যেমন 'তাওসিয়াহ', এবং কখনও 'মুফা'আল' ওজনে আসে যেমন "আমি তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে ছিন্নভিন্ন করেছি"।
"এবং আমি প্রত্যেকটি বিষয় কিতাবে গণনা করে রেখেছি।" এখানে 'কুল্লা' (প্রত্যেক) শব্দটি একটি উহ্য ক্রিয়ার কারণে নসব হয়েছে যা 'আহসায়নাহু' (আমি তা গণনা করেছি) দ্বারা নির্দেশিত হয়; অর্থাৎ আমি প্রত্যেকটি বিষয় গণনা করেছি যা আমি গণনা করেছি। আবু আস-সাম্মাল 'কুল্লু' শব্দটিকে মুক্তাদা হিসেবে রফ (পেশ) দিয়ে পাঠ করেছেন। 'কিতাবান' শব্দটি মাসদার হিসেবে নসব হয়েছে, কারণ 'আহসায়নাহু'-এর অর্থ হলো 'কাতাবনাহু' (আমি তা লিপিবদ্ধ করেছি); অর্থাৎ আমি তা লিখিতভাবে সংরক্ষণ করেছি। এরপর বলা হয়েছে: এর দ্বারা 'জ্ঞান' উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে, কারণ যা লিপিবদ্ধ থাকে তা বিস্মৃতি থেকে দূরে থাকে।
আরও বলা হয়েছে: অর্থাৎ আমরা তা লাওহে মাহফূযে লিখে রেখেছি যাতে ফেরেশতারা তা জানতে পারে। আবার বলা হয়েছে: এর দ্বারা বান্দাদের আমলসমূহ যা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে তা উদ্দেশ্য। এটি এমন এক লিখন যা আল্লাহর আদেশে বান্দাদের ওপর নিয়োজিত ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে সম্পাদিত হয়েছে; এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই তোমাদের ওপর সংরক্ষকগণ রয়েছে, যারা সম্মানিত লেখক।" [আল-ইনফিতার: ১০-১১]। "অতএব তোমরা আস্বাদন করো, আমি কেবল তোমাদের শাস্তিই বৃদ্ধি করব।" আবু বারযাহ বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কুরআনের সবচেয়ে কঠিন আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম।
তিনি বললেন: মহান আল্লাহর বাণী— "অতএব তোমরা আস্বাদন করো, আমি কেবল তোমাদের শাস্তিই বৃদ্ধি করব।" অর্থাৎ যখনই তাদের চামড়া দগ্ধ হয়ে যাবে, আমি তার বদলে অন্য চামড়া দেব [আন-নিসা: ৫৬] এবং যখনই তা নিস্তেজ হয়ে যাবে, আমি তাদের জন্য অগ্নিশিখা বৃদ্ধি করে দেব [আল-ইসরা: ৯৭]। [সূরা আন-নাবা (৭৮): আয়াত ৩১ থেকে ৩৬]নিশ্চয়ই মুত্তাকীদের জন্য রয়েছে সাফল্যের স্থান (৩১)। উদ্যানসমূহ ও আঙ্গুরসমূহ (৩২)। এবং সমবয়স্কা উদীয়মান যৌবনা তরুণীগণ (৩৩)। এবং উপচে পড়া পানপাত্র (৩৪)। তারা সেখানে কোনো অসার বাক্য ও কোনো মিথ্যারোপ শুনবে না (৩৫)।আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে পুরস্কারস্বরূপ এটি যথাযথ দান (৩৬)।
