At-Tawbah
আত-তাওবা: 106
9 আত-তাওবা At-Tawbah · 129 আয়াত التوبة
মূল আরবি
وَءَاخَرُونَ مُرْجَوْنَ لِأَمْرِ ٱللَّهِ إِمَّا يُعَذِّبُهُمْ وَإِمَّا يَتُوبُ عَلَيْهِمْ ۗ وَٱللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
English Translations
And [there are] others deferred until the command of Allāh - whether He will punish them or whether He will forgive them. And Allāh is Knowing and Wise.
And others await Allah's Decree, whether He will punish them or will forgive them. And Allah is All-Knowing, All-Wise.
And there are others whose matter is deferred till the command of Allah (comes): either He would punish them or relent towards them. Allah is All-Knowing, All-Wise.
[9:106] There are others in whose regard Allah's decree is awaited: whether He will chastise them or relent towards them. Allah is All-Knowing, All-Wise.
And (there are) others who await Allah's decree, whether He will punish them or will forgive them. Allah is Knower, Wise.
There are (yet) others, held in suspense for the command of Allah, whether He will punish them, or turn in mercy to them: and Allah is All-Knowing, Wise.
বাংলা অনুবাদ
আর কতক আল্লাহর ফায়সালার অপেক্ষায় থাকল, তিনি তাদেরকে শাস্তি দিবেন অথবা তাদের তাওবাহ কবূল করবেন; আল্লাহ সর্বজ্ঞ, বড়ই প্রজ্ঞাময়।
আর আল্লাহর আদেশের অপেক্ষায় অপর কিছু লোকের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেয়া হলো। তিনি তাদেরকে আযাব দেবেন নয়তো তাদের তাওবা কবূল করবেন। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
এবং আরও কতক লোক আছে যাদের ব্যাপার মুলতবী রয়েছে আল্লাহর আদেশ আসা পর্যন্ত, হয় তিনি তাদেরকে শাস্তি প্রদান করবেন, অথবা তাদের তাওবাহ কবূল করবেন, আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
আর আল্লাহর আদেশের প্রতীক্ষায় অপর কিছু সংখ্যক সম্পর্কে সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেয়া হল--- তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন, না ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
আবার অনেকে রয়েছে যাদের ব্যাপারে আল্লাহর নির্দেশের প্রতীক্ষায় সিদ্ধান্ত স্থগিত রইল- হয় তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন, না হয় ক্ষমা করবেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
১০৬. তাবুক যুদ্ধ থেকে পিছিয়ে পড়া আরেকটি গোষ্ঠী রয়েছে। তাদের কোন ওজর ছিলো না। এদের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে হবে আল্লাহর বিধান ও ফায়সালার জন্য। তিনি যা চান তাদের ব্যাপারে ফায়সালা করবেন। তারা তাওবা না করলে তিনি তাদেরকে শাস্তি দিবেন। আর তাওবা করলে তাদের তাওবা কবুল করবেন। আল্লাহ তা‘আলা নিশ্চয়ই জানেন, কে তাঁর শাস্তির উপযুক্ত আর কে তাঁর ক্ষমার উপযুক্ত। তিনি তাঁর শরীয়ত ও পরিচালনায় অত্যন্ত প্রজ্ঞাময়। আর তারা হলো, মুরারাহ ইবনুর-রাবী’, কা’ব ইবনু মালিক ও হিলাল ইবনু উমাইয়াহ।
তাফসীর
ইবনে আব্বাস (রাঃ), মুজাহিদ (রঃ), ইকরামা (রঃ), যহহাক (রঃ) প্রমুখ গুরুজন বলেন যে, তাঁরা ছিলেন তিন ব্যক্তি যাদের তাওবা ককূল হওয়ার ব্যাপারটা পিছিয়ে গিয়েছিল। তারা হচ্ছেন মারারা ইবনে রাবী (রাঃ), কাব ইবনে মালিক (রাঃ) এবং হিলাল ইবনে উমাইয়া (রাঃ)। তারা তাপূর্কের যুদ্ধে ঐ লোকদের সাথেই রয়ে গিয়েছিলেন যারা অলসতা ও আরামপ্রিয়তার কারণে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি। আর একটি কারণ ছিল এই যে, তাঁদের বাগানের ফল পেকে গিয়েছিল এবং সময়টা ছিল মনোমুগ্ধকর ও চিত্তাকর্ষক বসন্তকাল। তাদের যুদ্ধের প্রতি অবহেলা সন্দেহ ও নিফাকের কারণে ছিল না। তাঁদের মধ্যে কতক লোক এমনও ছিলেন যারা নিজেদেরকে স্তম্ভের সাথে বেঁধে ফেলেছিলেন।
যেমন আবু লুবাবাহ্ ও তাঁর সঙ্গীরা। অন্যান্য কতকগুলো লোক এরূপ করেননি। তাঁরা ছিলেন উপরোল্লিখিত তিন ব্যক্তি। আবু লুবাবাহ (রাঃ) ও তাঁর সঙ্গীদের তাওবা এঁদের পূর্বেই কবুল হয়েছিল। এই তিন ব্যক্তির তাওবা কবুল হওয়ার ব্যাপারে বিলম্ব হয়েছিল। অবশেষে আল্লাহ তাআলা আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আল্লাহ নবী (সঃ), মুহাজির এবং আনসারের তাওবা কবুল করে নিয়েছেন (আয়াতের শেষ পর্যন্ত) আর ঐ তিন ব্যক্তির তাওবাও আল্লাহ ককূল করে নিয়েছেন যারা যুদ্ধ থেকে পিছনে রয়ে গিয়েছিল, এমন কি এতো প্রশস্ত যমীনও তাদের কাছে সংকীর্ণ হয়ে পড়েছিল এবং কোন জায়গাতেই তারা আশ্রয় পাচ্ছিল না।” (৯:১১৭-১১৮) যেমন কাব ইবনে মালিক (রাঃ)-এর হাদীসের বর্ণনা আসছে।আল্লাহ তা'আলার উক্তিঃ (আরবী) অর্থাৎ এটা আল্লাহর ইচ্ছাধীন রয়েছে, তিনি ইচ্ছা করলে তাদেরকে শাস্তি প্রদান করবেন এবং ইচ্ছা করলে তাদের তাওবা কবূল করবেন (এবং ক্ষমা করে দিবেন)।
কিন্তু আল্লাহর রহমত তার গযবের উপর জয়যুক্ত। কে শাস্তি পাওয়ার যোগ্য এবং কে ক্ষমা পাওয়ার যোগ্য তা তিনি ভালরূপেই জানেন। তিনি তার কাজে ও কথায় বিজ্ঞানময় এবং তিনি ছাড়া অন্য কোন মা'বুদ ও প্রতিপালক নেই।
আর আল্লাহর আদেশের প্রতীক্ষায় অপর কিছু সংখ্যক সম্পর্কে সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেয়া হল--- তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন, না ক্ষমা করবেন [১]। আর আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
[১] এখানে পূর্বোল্লেখিত দশ জন সাহাবী যারা তাবুকের যুদ্ধে অংশ নেয়নি এবং মসজিদের স্তম্ভের সাথে নিজেদের বেঁধে নেয়নি এমন বাকী তিন জনের হুকুম রয়েছে। এ আয়াত নাযিল করে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেয়া হয়েছিল। এক বছর পর্যন্ত তাদের এ অবস্থা ছিল। তাদেরকে কি শাস্তি দেয়া হবে, নাকি তাদের তাওবা কবুল করা হবে তা তারা জানে না। [আত-তাফসীরুস সহীহ] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের সমাজচ্যুত করার, এমনকি তাঁদের সাথে সালাম-দোয়ার আদান প্রদান পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। এ ব্যবস্থা নেয়ার পর তাদের অবস্থা শোধরে যায় এবং তারা এখলাসের সাথে অপরাধ স্বীকার করে তাওবাহ করে নেন। ফলে তাদের জন্য ক্ষমার আদেশ দেয়া হয়। যার আলোচনা অচিরেই আসবে।
[সূরা আত-তাওবাহ (৯): আয়াত ১০৬] পূর্ণ পৃষ্ঠা
হাদিসসমূহ এবং এই জাতীয় বর্ণনাগুলো: সেগুলোকে কোনো রূপপ্রকৃতি নির্ধারণ ছাড়াই চলতে দাও—ইমাম তিরমিজি ও অন্যান্যরা এমনটিই বলেছেন। আর আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আলেমগণের বক্তব্যও অনুরূপ। [সূরা আত-তাওবাহ (৯): আয়াত ১০৫]এবং আপনি বলুন, 'তোমরা আমল করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের আমল দেখবেন এবং তাঁর রাসুল ও মুমিনগণও (দেখবেন)। অচিরেই তোমাদেরকে অদৃশ্য ও দৃশ্যমান জগতের পরিজ্ঞাত সত্তার নিকট ফিরিয়ে নেয়া হবে, অতঃপর তিনি তোমরা যা করতে সে সম্পর্কে তোমাদেরকে অবহিত করবেন।' (১০৫)মহান আল্লাহর বাণী: (এবং আপনি বলুন, 'তোমরা আমল করো') এটি সকলের প্রতি সম্বোধন।
(অচিরেই আল্লাহ তোমাদের আমল দেখবেন এবং তাঁর রাসুল ও মুমিনগণও) অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে তোমাদের আমল সম্পর্কে অবহিত করার মাধ্যমে তা দেখাবেন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: (যদি কোনো ব্যক্তি এমন কোনো পাথরের অভ্যন্তরে আমল করে যার কোনো দরজা বা ছিদ্র নেই, তবুও তার আমল মানুষের নিকট প্রকাশ হয়ে পড়বে, তা যেমনই হোক না কেন)। [সূরা আত-তাওবাহ (৯): আয়াত ১০৬]এবং অন্য কিছু লোক রয়েছে যাদের বিষয় আল্লাহর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় স্থগিত রাখা হয়েছে; তিনি হয় তাদেরকে শাস্তি দেবেন, না হয় তাদের তাওবা কবুল করবেন। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। (১০৬)এটি সেই তিন ব্যক্তির ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে যাদের তাওবা পরবর্তীতে কবুল করা হয়েছিল: তারা হলেন কাব ইবনে মালিক, বনী ওয়াতিফ গোত্রের হিলাল ইবনে উমাইয়া এবং মুরারা ইবনুর রাবী; কারো মতে ইবনে রিবয়ী আল-উমারি—এটি মাহদাবী উল্লেখ করেছেন।
তারা তাবুকের যুদ্ধ থেকে পেছনে রয়ে গিয়েছিলেন এবং তারা সচ্ছল ছিলেন, যেমনটি সামনে তাদের বর্ণনায় আসবে। আয়াতের গঠনগত অর্থ হলো: 'এবং তাদের মধ্যে অন্য কিছু লোক রয়েছে যাদেরকে স্থগিত রাখা হয়েছে'; এটি 'আরজাতুহু' (আমি তাকে বিলম্বিত বা স্থগিত করেছি) থেকে উদ্ভূত। এ থেকেই 'মুরজিয়া' শব্দটি এসেছে, কারণ তারা আমলকে পিছিয়ে দিয়েছে। হামজাহ ও কিসায়ি 'মুরজাওনা' শব্দটি হামজাহ ছাড়া পাঠ করেছেন, তখন বলা হয় এটি 'আরজাইতুহু' থেকে এসেছে যার অর্থও আমি তাকে বিলম্বিত করেছি। তবে মুবাররাদ বলেন: 'আরজাইতুহু' শব্দটি বিলম্বিত করা অর্থে ব্যবহৃত হয় না, বরং এটি 'রাজা' বা আশা করা থেকে হতে পারে।
('তিনি হয় তাদেরকে শাস্তি দেবেন, না হয় তাদের তাওবা কবুল করবেন') আরবি ভাষায় 'ইম্মা' শব্দটি দুটি বিষয়ের মধ্যে একটির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। মহান আল্লাহ সকল বিষয়ের শেষ পরিণাম সম্পর্কে সম্যক অবগত, কিন্তু বান্দাদের প্রতি সম্বোধনটি তাদের পরিচিত রীতি অনুযায়ী করা হয়েছে। অর্থাৎ তাদের বিষয়টি তোমাদের নিকট আশার ওপর ছেড়ে দেওয়া হোক, কেননা বান্দাদের পক্ষে এর চেয়ে বেশি কিছু করার নেই। [সূরা আত-তাওবাহ (৯): আয়াত ১০৭]আর যারা একটি মসজিদ নির্মাণ করেছে ক্ষতিসাধন, কুফরি ও মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং এর আগে যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে তাদের গোপন আস্তানা হিসেবে ব্যবহারের জন্য; তারা অবশ্যই শপথ করে বলবে যে, 'আমরা কেবল কল্যাণই চেয়েছি।' কিন্তু আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।
(১০৭)
