At-Tawbah
আত-তাওবা: 24
9 আত-তাওবা At-Tawbah · 129 আয়াত التوبة
মূল আরবি
قُلْ إِن كَانَ ءَابَآؤُكُمْ وَأَبْنَآؤُكُمْ وَإِخْوَٰنُكُمْ وَأَزْوَٰجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَٰلٌ ٱقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجَـٰرَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَـٰكِنُ تَرْضَوْنَهَآ أَحَبَّ إِلَيْكُم مِّنَ ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَجِهَادٍ فِى سَبِيلِهِۦ فَتَرَبَّصُوا۟ حَتَّىٰ يَأْتِىَ ٱللَّهُ بِأَمْرِهِۦ ۗ وَٱللَّهُ لَا يَهْدِى ٱلْقَوْمَ ٱلْفَـٰسِقِينَ
English Translations
Say, [O Muḥammad], "If your fathers, your sons, your brothers, your wives, your relatives, wealth which you have obtained, commerce wherein you fear decline, and dwellings with which you are pleased are more beloved to you than Allāh and His Messenger and jihād [i.e., striving] in His cause, then wait until Allāh executes His command. And Allāh does not guide the defiantly disobedient people."
Say: If your fathers, your sons, your brothers, your wives, your kindred, the wealth that you have gained, the commerce in which you fear a decline, and the dwellings in which you delight are dearer to you than Allah and His Messenger, and striving hard and fighting in His Cause, then wait until Allah brings about His Decision (torment). And Allah guides not the people who are Al-Fasiqun (the rebellious, disobedient to Allah).
Say, “If your fathers and your sons and your brothers and your spouses and your clan and the wealth you have earned and the trade you apprehend will recede and the homes you like are dearer to you than Allah and His Messenger and Jihād in His way, then, wait until Allah comes with His command. Allah does not lead the sinning people to the right path.”
[9:24] Tell them, (O Prophet): "If your fathers and your sons and your brothers and your wives and your tribe and the riches you have acquired and the commerce of which you fear a slackening, and the dwellings that you love, if they are dearer to you than Allah and His Messenger and striving in His cause, then wait until Allah brings about His decree. Allah does not guide the evil-doing folk."
Say: If your fathers, and your sons, and your brethren, and your wives, and your tribe, and the wealth ye have acquired, and merchandise for which ye fear that there will no sale, and dwellings ye desire are dearer to you than Allah and His messenger and striving in His way: then wait till Allah bringeth His command to pass. Allah guideth not wrongdoing folk.
Say: If it be that your fathers, your sons, your brothers, your mates, or your kindred; the wealth that ye have gained; the commerce in which ye fear a decline: or the dwellings in which ye delight - are dearer to you than Allah, or His Messenger, or the striving in His cause;- then wait until Allah brings about His decision: and Allah guides not the rebellious.
বাংলা অনুবাদ
বল, ‘যদি তোমাদের পিতারা, আর তোমাদের সন্তানেরা, আর তোমাদের ভাইয়েরা, আর তোমাদের স্ত্রীরা, আর তোমাদের গোষ্ঠীর লোকেরা আর ধন-সম্পদ যা তোমরা অর্জন করেছ, আর ব্যবসা তোমরা যার মন্দার ভয় কর, আর বাসস্থান যা তোমরা ভালবাস (এসব) যদি তোমাদের নিকট প্রিয়তর হয় আল্লাহ, তাঁর রসূল ও তাঁর পথে জিহাদ করা হতে, তাহলে অপেক্ষা কর যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর চূড়ান্ত ফয়সালা তোমাদের কাছে নিয়ে আসেন।’ আর আল্লাহ অবাধ্য আচরণকারীদেরকে সঠিক পথ প্রদর্শন করেন না।
বল, ‘তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের গোত্র, তোমাদের সে সম্পদ যা তোমরা অর্জন করেছ, আর সে ব্যবসা যার মন্দা হওয়ার আশঙ্কা তোমরা করছ এবং সে বাসস্থান, যা তোমরা পছন্দ করছ, যদি তোমাদের কাছে অধিক প্রিয় হয় আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও তাঁর পথে জিহাদ করার চেয়ে, তবে তোমরা অপেক্ষা কর আল্লাহ তাঁর নির্দেশ নিয়ে আসা পর্যন্ত’। আর আল্লাহ ফাসিক সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না।
(হে নাবী!) তুমি তাদেরকে বলে দাওঃ যদি তোমাদের পিতা, তোমাদের পুত্রগণ, তোমাদের ভাইগণ, তোমাদের স্ত্রীগণ, তোমাদের স্বগোত্র, আর ঐ সব ধন সম্পদ যা তোমরা অর্জন করেছ, আর ঐ ব্যবসায় যাতে তোমরা মন্দা পড়ার আশংকা করছ অথবা ঐ গৃহসমূহ যেখানে অতি আনন্দে বসবাস করছ, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের চেয়ে এবং তাঁর পথে জিহাদ করার চেয়ে যদি (এই সব) তোমাদের নিকট অধিক প্রিয় হয় তাহলে তোমরা প্রতীক্ষা করতে থাক যে পর্যন্ত আল্লাহ নিজের নির্দেশ পাঠিয়ে দেন। আর আল্লাহ আদেশ অমান্যকারীদেরকে পথ প্রদশর্ন করেন না।
বলুন, ‘তোমাদের নিকট যদি আল্লাহ্, তাঁর রাসূল এবং তাঁর (আল্লাহ্র) পথে জিহাদ করারা চেয়ে বেশি প্রিয় হয় তোমাদের পিতৃবর্গ, তোমাদের সন্তানেরা, তোমাদের ভ্রাতাগণ, তোমাদের স্ত্রীগণ, তোমাদের আপনগোষ্ঠী, তোমাদের অর্জিত সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য যার মন্দা পড়ার আশংকা কর এবং তোমাদের বাসস্থান যা তোমরf ভালবাস, তবে অপেক্ষা কর আল্লাহ্ তাঁর নির্দেশ নিয়ে আসা পর্যন্ত।’ আর আল্লাহ্ ফাসিক সম্প্রদায়কে হেদায়াত দেন না।
বল: ‘তোমাদের নিকট যদি আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করা অপেক্ষা অধিক প্রিয় হয় তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভ্রাতা, তোমাদের পত্মী, তোমাদের স্বগোষ্ঠী, তোমাদের অর্জিত সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য যার মন্দা পড়ার আশংকা কর এবং তোমাদের বাসস্থান যা তোমরা ভালবাস, তবে অপেক্ষা কর আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত’ আল্লাহ সত্যত্যাগী সম্প্রদায়কে সৎ পথ প্রদর্শন করেন না।
২৪. হে রাসূল! আপনি মু’মিনদেরকে বলে দিন: যদি তোমাদের বাপ-দাদা, সন্তানাদি, ভাই-বেরাদর, স্ত্রীগণ, আত্মীয়-স্বজন, তোমাদের কামাই করা সম্পদ, যে ব্যবসায়ের তোমরা কাটতির আশা ও মন্দার আশঙ্কা করছো, যে ঘরে তোমরা অবস্থান করা পছন্দ করছো সেগুলো যদি তোমাদের নিকট আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এবং তাঁর পথে জিহাদ করার চেয়ে বেশি পছন্দীয় হয় তাহলে তোমরা আল্লাহর প্রেরিতব্য শাস্তি ও আযাবের অপেক্ষা করো। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর আনুগত্য থেকে বের হয়ে যাওয়া লোকদেরকে তাঁর পছন্দসই আমল করার তাওফীক দেন না।
তাফসীর
9:23
বলুন, ‘তোমাদের নিকট যদি আল্লাহ্, তাঁর রাসূল এবং তাঁর (আল্লাহ্র) পথে জিহাদ করারা চেয়ে বেশি প্রিয় হয় [১] তোমাদের পিতৃবর্গ, তোমাদের সন্তানেরা, তোমাদের ভ্রাতাগণ, তোমাদের স্ত্রীগণ, তোমাদের আপনগোষ্ঠী, তোমাদের অর্জিত সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য যার মন্দা পড়ার আশংকা কর এবং তোমাদের বাসস্থান যা তোমার ভালবাস [২], তবে অপেক্ষা কর আল্লাহ্ তাঁর নির্দেশ নিয়ে আসা পর্যন্ত। [৩]’ আর আল্লাহ্ ফাসিক সম্প্রদায়কে হেদায়াত দেনা না [৪]।
[১] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যদি তোমরা ঈনা পদ্ধতিতে বেচাকেনা কর, গাভীর লেজ ধরে থাক, ক্ষেত-খামার নিয়েই সন্তুষ্ট থাক, আর জিহাদ ছেড়ে দাও, তবে আল্লাহ তোমাদের উপর এমন অপমান চাপিয়ে দিবেন যে, যতক্ষণ তোমরা তোমাদের দ্বীনের দিকে ফিরে না আসবে, ততক্ষণ সে অপমান তোমাদের থেকে তিনি সরাবেন না। [আবু দাউদ: ৩৪৬২]
[২] এখানে সরাসরি সম্বোধন রয়েছে তাদের প্রতি, যারা হিজরত ফরয হওয়াকালে পার্থিব সম্পর্কের মোহে হিজরত করেনি। তবে আয়াতটির সংশ্লিষ্ট শব্দের ব্যাপক অর্থে সকল মুসলিমের প্রতি এ আদেশ রয়েছে যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ভালবাসাকে এমন উন্নত স্তরে রাখা ওয়াজিব, যে স্তর অন্য কারো ভালবাসা অতিক্রম করবে না। এ ব্যাপারে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ "কোন ব্যক্তি ততক্ষণ মুমিন হতে পারে না যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি ও অন্যান্য সকল লোক থেকে অধিক প্রিয় হই।
[বুখারীঃ ১৪, মুসলিমঃ ৪৪] আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত অন্য এক হাদীসে আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি কারো সাথে বন্ধুত্ব রেখেছে শুধু আল্লাহর জন্য, শক্রতা রেখেছে শুধু আল্লাহর জন্য, অর্থ ব্যয় করে আল্লাহর জন্য এবং অর্থ ব্যয় থেকে বিরত রয়েছে আল্লাহর জন্য, সে নিজের ঈমানকে পরিপূর্ণ করেছে। [আবু দাউদ: ৪৬৮১; অনুরূপ তিরমিযী ২৫২১] হাদীসের এ বর্ণনা থেকে বুঝা যায় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালবাসাকে অপরাপর ভালবাসার উর্ধ্বে স্থান দেয়া এবং শক্ৰতা ও মিত্রতায় আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের হুকুমের অনুগত থাকা পূর্ণতর ঈমান লাভের পূর্বশর্ত।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত ও শরীআতের হেফাযত এবং এতে ছিদ্র সৃষ্টিকারী লোকদের প্রতিরোধ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে ভালবাসার স্পষ্ট প্রমাণ।
[৩] সূরা আত-তাওবাহর এ আয়াতটি নাযিল হয় মূলতঃ তাদের ব্যাপারে যারা হিজরত ফরয হওয়াকালে মক্কা থেকে হিজরত করেনি। মাতা-পিতা, ভাই-বোন,সন্তান-সন্ততি, স্ত্রী-পরিবার ও অর্থ-সম্পদের মায়া হিজরতের ফরয আদায়ে এদের বিরত রাখে। এদের সম্পর্কে আল্লাহ্ তা'আলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নির্দেশ দেন যে, আপনি তাদেরকে বলে দিনঃ “যদি তোমাদের নিকট তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের পত্নী, তোমাদের গোত্র, তোমাদের অর্জিত ধন-সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা যা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় কর এবং তোমাদের বাসস্থান যাকে তোমরা পছন্দ কর, আল্লাহ ও তার রাসূল এবং তার রাহে জিহাদ করা থেকে তোমাদের নিকট অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা কর আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত, আল্লাহ নাফরমানদিগকে কৃতকার্য করেন না।”
এ আয়াতে আল্লাহ তা'আলার বিধান আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করার যে কথা আছে, তৎসম্পর্কে তাফসীর শাস্ত্রের ইমাম মুজাহিদ রাহিমাহুল্লাহ বলেনঃ এখানে বিধান’ অর্থে যুদ্ধ-বিগ্রহ ও মক্কা জয়ের আদেশ [তাবারী] বাক্যের মর্ম হল, যারা দুনিয়াবী পরিণতির দিন সমাগত। মক্কা যখন বিজিত হবে আর এ সকল নাফরমানেরা লাঞ্ছিত ও অপদস্থ হবে, তখন দুনিয়াবী সম্পর্ক তাদের কোন কাজে আসবে না। হাসান বসরী রাহিমাহুল্লাহ বলেনঃ এখানে বিধান অর্থ আল্লাহর আযাবের বিধান। যা থেকে পরিত্রাণের কোন উপায় নেই। [কুরতুবী; সা’দী] অর্থাৎ আখেরাতের সম্পর্কের উপর যারা দুনিয়াবী সম্পর্ককে প্রাধান্য দিয়ে হিজরত থেকে বিরত রয়েছে, আল্লাহর আযাব অতি শীঘ্ৰ তাদের গ্রাস করবে।
দুনিয়ার মধ্যেই এ আযাব আসতে পারে। অন্যথায় আখেরাতের আযাব তো আছেই। হাদীসে এসেছে, শয়তান বনী আদমের তিন স্থানে বসে পড়ে তাকে এগোতে দেয় না। সে তার ইসলাম গ্রহণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, সে বলতে থাকে তুমি কি তোমার পিতা পিতৃপুরুষের ধর্ম ত্যাগ করবে? তারপর বনী আদম তার বিরোধিতা করে ইসলাম গ্রহণ করে, তখন সে তার হিজরতের পথে বাঁধ সাধে। সে বলতে থাকে, তুমি কি তোমার সম্পদ ও পরিবার-পরিজন ত্যাগ করবে? তারপর বনী আদম তার বিরোধিতা করে হিজরত করে, তখন সে তার জিহাদের পথে বাঁধ সাধে। সে বলতে থাকে, তুমি কি জিহাদ করবে এবং নিহত হবে? তখন তোমার স্ত্রীর অন্যত্র বিয়ে হয়ে যাবে, তোমার সম্পদ ভাগ-বাটোয়ারা হয়ে যাবে, তারপর বনী আদম তার বিরোধিতা করে জিহাদ করে।
এমতাবস্থায় তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো আল্লাহর হক হয়ে যায়।' [নাসায়ী: ৩১৩৪]
[৪] অর্থাৎ যারা হিজরতের আদেশ আসা সত্বেও আল্লাহর নির্দেশকে অমান্য করেছে, উপরোক্ত বস্তুগুলোকে বেশী ভালবেসেছে, দুনিয়াবী সম্পর্ককে প্রাধান্য দিয়ে আত্মীয়স্বজন এবং অর্থ-সম্পদকে বুকে জড়িয়ে বসে আছে, আত্মীয়-স্বজন পরিবেষ্টিত অবস্থায় স্বগৃহে আরাম-আয়েশ ও ভোগের আশা পোষণ করে আছে, জিহাদের আহবান আসার পরও সহায়-সম্পত্তির লোভ করে বসে আছে, তারা ফাসেক ও নাফরমান। আর আল্লাহর রীতি হল, তিনি নাফরমান লোকদের উদ্দেশ্য পূরণ করেন না। তাদেরকে হিদায়াত করেন না। তাদেরকে সফলতা ও সৌভাগ্যের পথে পরিচালিত করেন না। [সা’দী; আইসারুত তাফসীর]
[সূরা আত-তাওবাহ (৯): আয়াত ২৪] পূর্ণ পৃষ্ঠা
আরব ভূখণ্ড থেকে হিজরতের সময় তাঁদের প্রতি এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন তাঁরা নিজ পিতা ও ভাইদের প্রতি আনুগত্য বা বন্ধুত্ব প্রকাশ না করেন, যার ফলে কুফরির দেশে বসবাসের ক্ষেত্রে তাঁরা তাঁদের অনুসারী হয়ে পড়েন। "যদি তারা পছন্দ করে" অর্থাৎ যদি তারা ভালোবাসে; যেমন বলা হয়ে থাকে: 'ইস্তাজাবা' যা 'আজাবা' (সাড়া দেওয়া) অর্থে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ তোমরা তাঁদের আনুগত্য করো না এবং তাঁদের বিশেষ কোনো মর্যাদা দিও না। মহান আল্লাহ বিশেষভাবে পিতা ও ভাইদের কথা উল্লেখ করেছেন কারণ তাঁদের চেয়ে নিকটবর্তী আর কোনো আত্মীয়তা নেই। আল্লাহ তাঁদের মধ্যে পারস্পরিক মিত্রতা ও আনুগত্য নিষিদ্ধ করেছেন যেমনটি সাধারণভাবে মানুষের মধ্যে নিষিদ্ধ করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "হে মুমিনগণ!
তোমরা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না" [আল-মায়িদাহ: ৫১]; যাতে এটি স্পষ্ট হয় যে, প্রকৃত নৈকট্য হলো আদর্শিক বা দ্বীনি নৈকট্য, দৈহিক নৈকট্য নয়। এ প্রসঙ্গে সুফিগণ আবৃত্তি করেন:তারা আমাকে বলে, প্রিয়জনের ঘর তো অতি নিকটে … অথচ তুমি বিষণ্ণ, এ বড়ই অদ্ভুত কথা!আমি বললাম, গৃহের এই নৈকট্যে কী লাভ হবে … যদি হৃদয়ে হৃদয়ে কোনো নৈকট্য না থাকে?কত দূরদেশের মানুষ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করে … আর ঘরের পাশের প্রতিবেশী বিষণ্ণ হয়ে মৃত্যুবরণ করে।এই আয়াতে সন্তানদের কথা উল্লেখ করা হয়নি কারণ মানবজাতির মধ্যে সাধারণত সন্তানরা পিতাদেরই অনুসারী হয়ে থাকে।
তবে সদাচরণ ও উপহার প্রদান এই নিষিদ্ধ বন্ধুত্বের (বিলায়াত) অন্তর্ভুক্ত নয়। আসমা (রা.) বর্ণনা করেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমার মা আমার নিকট এসেছেন, তিনি আমার প্রতি আগ্রহী কিন্তু তিনি মুশরিক; আমি কি তাঁর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখব? তিনি বললেন: "তোমার মায়ের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখো" (এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন)। মহান আল্লাহর বাণী: "তোমাদের মধ্যে যারা তাদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, তারাই জালিম।" ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: সে ব্যক্তি তাদের মতোই মুশরিক, কারণ যে শিরকের ওপর সন্তুষ্ট থাকে সেও মুশরিক হিসেবে গণ্য। [সূরা আত-তাওবাহ (৯): আয়াত ২৪]বলুন: যদি তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের আত্মীয়স্বজন, তোমাদের অর্জিত সম্পদ, এমন ব্যবসা যার মন্দা হওয়ার আশঙ্কা তোমরা করো এবং তোমাদের পছন্দনীয় বাসস্থান—তোমাদের কাছে আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও তাঁর পথে জিহাদ করার চেয়ে অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা করো আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত।
আর আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে পথ দেখান না। (২৪)যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের নির্দেশ দিলেন, তখন কোনো ব্যক্তি তার পিতাকে, পিতা তার পুত্রকে, ভাই তার ভাইকে এবং স্বামী তার স্ত্রীকে বলতে লাগলেন: আমাদের হিজরতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তখন তাদের মধ্যে কেউ কেউ দ্রুত হিজরত করলেন...(১). দ্রষ্টব্য: খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ২১৬।
আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন, তাঁদের মধ্যে একটি বিতর্ক দেখা দিল। আব্বাস (রা.) আলীকে (রা.) বললেন: "আমি নবীর চাচা আর তুমি তাঁর চাচাতো ভাই; তদুপরি হাজিদের পানীয় সরবরাহ এবং মসজিদে হারামের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আমার ওপর ন্যস্ত।" তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করেন: তোমরা কি হাজিদের পানীয় সরবরাহকে...
আয়াতটি।আবদুর রাজ্জাক হাসান (র.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: এটি আলী, আব্বাস, উসমান ও শায়বার ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে, যখন তাঁরা এই বিষয়ে আলোচনা করছিলেন।ইবনে আবি শায়বা, আবুশ শাইখ এবং ইবনে মারদুওয়াইহ আবদুল্লাহ ইবনে উবাইদাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী (রা.) আব্বাসকে (রা.) বললেন: "আপনি যদি মদিনায় হিজরত করতেন!"তিনি (আব্বাস) বললেন: "আমি কি হিজরতের চেয়েও উত্তম কাজে নিয়োজিত নই?
আমি কি হাজিদের পানি পান করাই না এবং মসজিদে হারাম রক্ষণাবেক্ষণ করি না?" তখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়, অর্থাৎ আল্লাহর বাণী: আল্লাহর কাছে মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ...
। বর্ণনাকারী বলেন: এর মাধ্যমে আল্লাহ মদিনাকে মক্কার ওপর এক ধাপ শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।আল-ফিরইয়াবি ইবনে সিরিন (র.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) মক্কায় আগমন করলেন এবং আব্বাসকে (রা.) বললেন: "হে চাচা! আপনি কি হিজরত করবেন না? আপনি কি আল্লাহর রাসুলের (সা.) সাথে মিলিত হবেন না?" তিনি উত্তরে বললেন: "আমি মসজিদে হারাম রক্ষণাবেক্ষণ করি এবং কাবার হিফাজত করি।"তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করেন: তোমরা কি হাজিদের পানীয় সরবরাহ এবং মসজিদে হারামের রক্ষণাবেক্ষণকে...
আয়াতটি।এবং তিনি এমন একদল লোককে বললেন যাদের তিনি নাম উল্লেখ করেছিলেন: "তোমরা কি হিজরত করবে না?
তোমরা কি আল্লাহর রাসুলের (সা.) সাথে মিলিত হবে না?" তারা বলল: "আমরা আমাদের ভাই, আত্মীয়-স্বজন এবং ঘরবাড়ির সাথেই বসবাস করব।" তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেন: বলুন, তোমাদের পিতৃবর্গ যদি...
(সুরা আত-তাওবা, আয়াত ২৪) সম্পূর্ণ আয়াতটি।ইবনে জারির মুহাম্মদ ইবনে কাব আল-কুরাজি (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: তালহা ইবনে শায়বা, আব্বাস এবং আলী ইবনে আবি তালিব পারস্পরিক শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তখন তালহা বললেন: "আমি কাবার চাবিকাঠির অধিকারী, এর চাবি আমার কাছেই থাকে।"আব্বাস (রা.) বললেন: "আমি সিকায়া বা পানীয় সরবরাহের দায়িত্বে নিয়োজিত এবং এর তত্ত্বাবধায়ক।" আলী (রা.) বললেন: "আপনারা যা বলছেন তা আমি জানি না; তবে আমি অন্য মানুষের আগে কিবলার দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করেছি এবং আমি জিহাদকারী।" তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: তোমরা কি হাজিদের পানীয় সরবরাহকে...
সম্পূর্ণ আয়াতটি।ইবনে জারির এবং আবুশ শাইখ দাহহাক (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুসলমানরা আব্বাস ও তাঁর সেই সঙ্গীদের প্রতি মনোনিবেশ করলেন যারা বদরের দিন বন্দি হয়েছিলেন এবং তাঁদের শিরকের কারণে ভর্ৎসনা করতে লাগলেন।
তখন আব্বাস বললেন: "আল্লাহর কসম! আমরা তো মসজিদে হারাম আবাদ করতাম, বন্দিদের মুক্তি দিতাম, কাবার পর্দা রক্ষণাবেক্ষণ করতাম এবং হাজিদের পানি পান করাতাম।" তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করেন: তোমরা কি হাজিদের পানীয় সরবরাহকে...
আয়াতটি।আবু নুয়াইম 'ফাদায়িলুস সাহাবা' গ্রন্থে এবং ইবনে আসাকির আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
