At-Tawbah

আত-তাওবা: 22

9:22
টেক্সট কপি
9 আত-তাওবা At-Tawbah · 129 আয়াত التوبة

মূল আরবি

خَـٰلِدِينَ فِيهَآ أَبَدًا ۚ إِنَّ ٱللَّهَ عِندَهُۥٓ أَجْرٌ عَظِيمٌ

English Translations

Sahih International

[They will be] abiding therein forever. Indeed, Allāh has with Him a great reward.

Muhsin Khan

They will dwell therein forever. Verily, with Allah is a great reward.

Taqi Usmani

where they shall dwell forever. Surely, it is Allah with whom lies a great reward.

Abul Ala Maududi

[9:22] Therein they shall abide forever. Surely with Allah a mighty reward awaits them.

Pickthall

There they will abide for ever. Lo! with Allah there is immense reward.

Yusuf Ali

They will dwell therein for ever. Verily in Allah's presence is a reward, the greatest (of all).

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

যেখানে তারা চিরদিন থাকবে। আল্লাহর কাছেই তো রয়েছে মহাপুরস্কার।

রাওয়াই আল-বায়ান

তথায় তারা থাকবে চিরকাল। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে রয়েছে মহাপুরস্কার।

শাইখ মুজিবুর রহমান

ওর মধ্যে তারা অনন্তকাল থাকবে, নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট রয়েছে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। নিশ্চয় আল্লাহ্‌র কাছে আছে মহাপুরস্কার।

ফাতহুল মাজীদ

সেথায় তারা চিরস্থায়ী থাকবে। নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট আছে মহাপুরস্কার।

মুখতাসার

২২. তারা সে জান্নাতে অনন্ত কাল থাকবে। যা হবে দুনিয়াতে করা তাদের নেক আমলের প্রতিদান স্বরূপ। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলার নিকট নিষ্ঠার সাথে তাঁর আদেশ-নিষেধ মানা ব্যক্তির জন্য মহা প্রতিদান রয়েছে।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

9:19

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। নিশ্চয় আল্লাহ্‌র কাছে আছে মহাপুরস্কার [১]।

[১] আরাম-আয়েশের স্থায়িত্বের জন্য দুটি বিষয় আবশ্যক। এক. নেয়ামতের স্থায়িত্ব। দুই. নেয়ামত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে না পড়া। তাই আল্লাহর সৎ বান্দাদের জন্যে এ আয়াতে এবং পূর্বের আয়াতে এ দু'টি বিষয়ের নিশ্চয়তা দেয়া হয়। আয়াতে আল্লাহর সৎ বান্দাদের জন্য যে উচ্চ মর্যাদা রয়েছে তার বর্ণনা রয়েছে। তন্মধ্যে রয়েছে, তাদের অন্তরে খুশীর অনুপ্রবেশ ঘটানো, তাদের সফলতার নিশ্চয়তা, আল্লাহ্‌ তা'আলা যে তাদের উপর সন্তুষ্ট সেটা জানিয়ে দেয়া, তিনি যে তাদের প্রতি দয়াশীল সেটার বর্ণনা, তিনি যে তাদের জন্য স্থায়ী নে আমতের ব্যবস্থা করেছেন সেটার পরিচয় দেয়া। [আত-তাহরীর ওয়াত তানওয়ীর]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আত-তাওবাহ (৯): আয়াত ২১ হতে ২২] পূর্ণ পৃষ্ঠা

[সূরা আত-তাওবাহ (৯): আয়াত ২০]যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে নিজেদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে জিহাদ করেছে, তারা আল্লাহর নিকট মর্যাদায় অধিক শ্রেষ্ঠ; আর তারাই হলো সফলকাম। (২০)আল্লাহ তাআলার বাণী: "যারা ঈমান এনেছে" অংশটি বাক্যের শুরুতে আসার কারণে রফ (পেশ) অবস্থায় রয়েছে। আর এর খবর বা বিধেয় হলো "আল্লাহর নিকট মর্যাদায় অধিক শ্রেষ্ঠ"। "মর্যাদায়" শব্দটি এখানে ব্যাখ্যা হিসেবে নসব (যবর) প্রাপ্ত হয়েছে। অর্থাৎ, তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ যারা হাজীদের পানি পান করানো এবং মসজিদ আবাদ করা নিয়ে অহংকার করত। অথচ আল্লাহর নিকট কাফিরদের কোনো মর্যাদাই নেই যে বলা হবে মুমিনরা তাদের চেয়ে "অধিক মর্যাদাবান"।

এর প্রকৃত অর্থ হলো, তারা (কাফিররা) মসজিদ আবাদ ও পানি পানের মাধ্যমে নিজেদের জন্য একটি উচ্চ মর্যাদা কল্পনা করে নিয়েছিল, তাই তারা নিজেদের সম্পর্কে যা ধারণা করত সেই নিরিখেই আল্লাহ তাদের সম্বোধন করেছেন; যদিও তাদের সেই ধারণাটি ছিল ভুল। এটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মতো: "সেদিন জান্নাতবাসীদের আবাসস্থল হবে উৎকৃষ্টতর" [সূরা আল-ফুরকান: ২৪]। আবার কেউ কেউ বলেন: "মর্যাদায় অধিক শ্রেষ্ঠ" অর্থ হলো সকল মর্যাদা অধিকারীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, অর্থাৎ তাদের জন্য রয়েছে বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব ও সুউচ্চ মাকাম। "আর তারাই হলো সফলকাম" এর দ্বারা তারা সফল হবে।

[সূরা আত-তাওবাহ (৯): আয়াত ২১ হতে ২২]তাদের প্রতিপালক তাদেরকে স্বীয় রহমত, সন্তুষ্টি এবং জান্নাতের সুসংবাদ দান করছেন যেখানে তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী নেয়ামত। (২১) সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট রয়েছে মহাপুরস্কার। (২২)আল্লাহ তাআলার বাণী: "তাদের প্রতিপালক তাদেরকে সুসংবাদ দান করছেন" অর্থাৎ তিনি তাদেরকে দুনিয়াতেই আখেরাতে প্রাপ্য বিশাল সওয়াব ও চিরস্থায়ী নেয়ামত সম্পর্কে অবগত করছেন। আর 'নেয়ামত' হলো স্বাচ্ছন্দ্য ও সচ্ছল জীবন। "চিরকাল অবস্থানকারী" শব্দটি হাল (অবস্থা) হিসেবে নসব হয়েছে। আর 'খুলুদ' অর্থ হলো স্থায়ী অবস্থান।

"নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট রয়েছে মহাপুরস্কার" অর্থাৎ তিনি তাঁর সম্মানজনক আবাসে তাদের জন্য এই প্রতিদান প্রস্তুত করে রেখেছেন। [সূরা আত-তাওবাহ (৯): আয়াত ২৩]হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের পিতা ও ভাইদের অভিভাবকরূপে গ্রহণ করো না যদি তারা ঈমানের তুলনায় কুফরকে বেশি ভালোবাসে। তোমাদের মধ্য হতে যারা তাদেরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করবে, তারাই জালিম। (২৩)এই আয়াতের বাহ্যিক দিক নির্দেশ করে যে এটি সকল মুমিনের প্রতি একটি সাধারণ সম্বোধন এবং মুমিন ও কাফিরদের মধ্যে অভিভাবকত্বের সম্পর্ক ছিন্ন করার এই বিধান কিয়ামত পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। একদল মুফাসসির বর্ণনা করেছেন যে, এই আয়াতটি হিজরতের প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং কুফরি দেশ ত্যাগের নির্দেশ হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে।

এই মতানুসারে এই সম্বোধনটি মূলত মক্কা ও অন্যান্য স্থানে অবস্থানরত মুমিনদের প্রতি করা হয়েছিল।(১) দ্রষ্টব্য: ১৩ খণ্ড, ২১ পৃষ্ঠা ও পরবর্তী অংশ।