At-Tawbah

আত-তাওবা: 64

9:64
9 আত-তাওবা At-Tawbah · 129 আয়াত التوبة

আরবি

يَحْذَرُ ٱلْمُنَـٰفِقُونَ أَن تُنَزَّلَ عَلَيْهِمْ سُورَةٌ تُنَبِّئُهُم بِمَا فِى قُلُوبِهِمْ ۚ قُلِ ٱسْتَهْزِءُوٓا۟ إِنَّ ٱللَّهَ مُخْرِجٌ مَّا تَحْذَرُونَ

English Translations

Sahih International

The hypocrites are apprehensive lest a sūrah be revealed about them, informing them of what is in their hearts. Say, "Mock [as you wish]; indeed, Allāh will expose that which you fear."

Muhsin Khan

The hypocrites fear lest a Surah (chapter of the Quran) should be revealed about them, showing them what is in their hearts. Say: "(Go ahead and) mock! But certainly Allah will bring to light all that you fear."

Taqi Usmani

The hypocrites are afraid that a Sūrah (a chapter of the Holy Qur’ān) may be sent down about them, which tells them what lies in their hearts. Say, “Go on mocking. Allah is surely to bring out what you are afraid of.”

Abul Ala Maududi

[9:64] The hypocrites are afraid lest a surah should be revealed concerning them intimating to the believers what lay hidden in their hearts. Tell them (O Prophet): "Continue your mockery if you will. Allah will surely bring to light all that whose disclosure you dread."

Pickthall

The hypocrites fear lest a surah should be revealed concerning them, proclaiming what is in their hearts. Say: Scoff (your fill)! Lo! Allah is disclosing what ye fear.

Yusuf Ali

The Hypocrites are afraid lest a Sura should be sent down about them, showing them what is (really passing) in their hearts. Say: "Mock ye! But verily Allah will bring to light all that ye fear (should be revealed).

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

মুনাফিকরা ভয় পায় তাদের মনের কথা প্রকাশ করে তাদের ব্যাপারে কোন সূরাহ নাযিল হয়ে যায় নাকি। বল, ‘ঠাট্টা করতে থাক, তোমরা যে ব্যাপারে ভয় পাও, আল্লাহ তা প্রকাশ করে দিবেন’।

রাওয়াই আল-বায়ান

মুনাফিকরা ভয় করে যে, তাদের বিষয়ে এমন একটি সূরা অবতীর্ণ হবে, যা তাদের অন্তরের বিষয়গুলি জানিয়ে দেবে। বল, ‘তোমরা উপহাস করতে থাক। নিশ্চয় আল্লাহ বের করবেন, তোমরা যা ভয় করছ’।

শাইখ মুজিবুর রহমান

মুনাফিকরা আশংকা করে যে, তাদের (মুসলিমদের) প্রতি না জানি এমন কোন সূরা নাযিল হয় যা তাদের (মুনাফিকদের) অন্তরের কথা অবহিত করে দেয়। তুমি বলে দাওঃ হ্যাঁ, তোমরা বিদ্রুপ করতে থাক, নিশ্চয়ই আল্লাহ সেই বিষয়কে প্রকাশ করেই দিবেন যে সম্বন্ধে তোমরা আশংকা করছিলে।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

মুনাফেকরা ভয় করে, তাদের সম্পর্কে এমন এক সূরা না নাযিল হয়, যা ওদের অন্তরের কথা ব্যক্ত করে দেবে! বলুন, ‘তোমরা বিদ্রূপ করতে থাক; তোমরা যা ভয় কর নিশ্চয় আল্লাহ্‌ তা বের করে দেবেন।‘

ফাতহুল মাজীদ

মুনাফিকেরা ভয় করে, তাদের সম্পর্কে এমন এক সূরা অবতীর্ণ হয়ে যেতে পারে, যা তাদের অন্তরের কথা প্রকাশ করে দেবে! বল:‎ ‘বিদ্রƒপ করতে থাক; তোমরা যা ভয় কর‎ নিশ্চয়ই‎ আল্লাহ তা প্রকাশ করে দেবেন।’

মুখতাসার

৬৪. মুনাফিকরা এ কথার ভয় করে যে, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূলের উপর কোন আয়াত নাযিল করে মু’মিনদেরকে তাদের গোপন কুফরি সম্পর্কে জানিয়ে দিবেন। হে রাসূল! আপনি বলে দিন: হে মুনাফিকরা! তোমরা চাইলে ধর্মের প্রতি আঘাত ও ঠাট্টা-বিদ্রূপ চালিয়ে যেতে পারো। তবে আল্লাহ তা‘আলা কোন সূরা নাযিল করে কিংবা তাঁর রাসূলকে এ ব্যাপারে জানিয়ে তোমাদের জন্য আশঙ্কাজনক ব্যাপারটি প্রকাশ করে দিবেন।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

কাতাদা (রঃ) বলেন যে, তারা (মুনাফিকরা) পরস্পর আলাপ আলোচনা করতো, কিন্তু সাথে সাথে এ আশংকাও করতো যে, না জানি আল্লাহ তাআলা হয়তো অহীর মারফত মুসলিমদেরকে তাদের গুপ্ত কথা জানিয়ে দিবেন। যেমন আল্লাহ তা'আলা অন্য আয়াতে বলেনঃ “(হে নবী)! যখন তারা (মুনাফিকরা) তোমার কাছে আগমন করে তখন তোমাকে এমনভাবে সম্বোধন করে যেভাবে আল্লাহ তোমাকে সম্বোধন করেন না, অতঃপর তারা মনে মনে বলে- আমরা যা বলছি তার কারণে আল্লাহ আমাদেরকে শাস্তি দিচ্ছে না কেন? (এই মুনাফিকদের জেনে রাখা উচিত যে,) জাহান্নামই তাদের জন্যে যথেষ্ট, ওর মধ্যে তারা প্রবেশ করবে, আর ওটা খুবই নিকৃষ্ট স্থান। এই আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন, হে মুনাফিকরা! তোমরা মুসলিমদের অবস্থার উপর মন খুলে উপহাসমূলক কথা বলে নাও। কিন্তু জেনে রেখো যে, তোমাদের মনের সমস্ত গুপ্ত কথা আল্লাহ প্রকাশ করে দিবেন। আরো স্মরণ রেখো যে, একদিন তোমরা লাঞ্ছিত ও অপদস্থ হবেই। যেমন আল্লাহ পাক আর এক জায়গায় বলেনঃ “অন্তরে ব্যাধিযুক্ত এই লোকগুলো কি ধারণা করেছে যে, আল্লাহ তাদের অন্তরের শক্রতাকে কখনো প্রকাশ করবে না? আর হে নবী (সঃ)! আমি যদি ইচ্ছা করতাম তবে তোমাকে তাদের পূর্ণ পরিচয় বলে দিতাম, তখন তুমি তাদেরকে তাদের আকৃতি দ্বারাই চিনতে পারতে, তবে তুমি তাদেরকে তাদের কথার ধরনে অবশ্যই চিনতে পারবে; আর আল্লাহ তোমাদের সকলের কার্যাবলী অবগত আছেন। এ জন্যেই কাতাদা (রঃ) বলেন যে, এই সূরারই নাম হচ্ছে “সূরায়ে ফাযিহাহ্। কেননা, এই সূরায় মুনাফিকদের মুখোশ খুলে দেয়া হয়েছে।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

মুনাফেকরা ভয় করে, তাদের সম্পর্কে এমন এক সূরা না নাযিল হয়, যা ওদের অন্তরের কথা ব্যক্ত করে দেবে [১]! বলুন, ‘তোমরা বিদ্রূপ করতে থাক; তোমরা যা ভয় কর নিশ্চয় আল্লাহ্‌ তা বের করে দেবেন।‘

[১] আল্লাহ তা'আলা এ আয়াতে জানাচ্ছেন যে, মুনাফিকরা এ ভয়ে থাকে যে, কখন আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন সূরা নাযিল হয়ে তাদের অপমানিত করবে, তাদের মনের অব্যক্ত কথা ব্যক্ত করে দিবে। তারপর আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা দিলেন যে, তারা যতই গোপন করুক না কেন আল্লাহ তা অবশ্যই বের করে দেবেন। [আদওয়াউল বায়ান] মুজাহিদ বলেন, তারা নিজেদের মধ্যে কোন কথা বলে তারপর ভাবতে থাকে যে, এমনও তো হতে পারে যে, আল্লাহ আমাদের এ গোপন কথা তাদেরকে জানিয়ে দিবেন? কাতাদা বলেন, তাদের মনের গোপন কথাগুলো বলে দিয়ে আল্লাহ তাদেরকে অপমানিত করলেন। আর এ জন্যই এ সূরার অপর নাম আল-ফাদিহা বা অপদস্থকারী বা অপমানকারী [ইবন কাসীর] অন্য আয়াতেও তাদের এ আশঙ্কার কথা আল্লাহ জানিয়েছেন। যেমন, "যাদের অন্তরে রোগ আছে তারা কি মনে করে যে, আল্লাহ কখনো তাদের বিদ্বেষভাব প্রকাশ করে দেবেন না, আর আমরা ইচ্ছে করলে আপনাকে তাদের পরিচয় দিতাম; ফলে আপনি তাদের লক্ষণ দেখে তাদেরকে চিনতে পারতেন। তবে আপনি অবশ্যই কথার ভংগিতে জানেন " [সূরা মুহাম্মাদ: ২৯-৩০] অন্য আয়াতে তাদের ভীত-সন্ত্রস্ত ভাবের কথা অন্যভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। “তারা যে কোন আওয়াজকেই তাদের বিরুদ্ধে মনে করে " [সূরা আল-মুনাফিকুন:৪]