At-Tawbah

আত-তাওবা: 98

9:98
টেক্সট কপি
9 আত-তাওবা At-Tawbah · 129 আয়াত التوبة

মূল আরবি

وَمِنَ ٱلْأَعْرَابِ مَن يَتَّخِذُ مَا يُنفِقُ مَغْرَمًا وَيَتَرَبَّصُ بِكُمُ ٱلدَّوَآئِرَ ۚ عَلَيْهِمْ دَآئِرَةُ ٱلسَّوْءِ ۗ وَٱللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ

English Translations

Sahih International

And among the bedouins are some who consider what they spend as a loss and await for you turns of misfortune. Upon them will be a misfortune of evil. And Allāh is Hearing and Knowing.

Muhsin Khan

And of the bedouins there are some who look upon what they spend (in Allah's Cause) as a fine and watch for calamities for you, on them be the calamity of evil. And Allah is All-Hearer, All-Knower.

Taqi Usmani

And among the Bedouins there are those who take what they spend as a fine, and they look forward to the cycles of time to turn against you. Upon those is the evil cycle. And Allah is All-Hearing, All-Knowing.

Abul Ala Maududi

[9:98] And among the bedouin Arabs there are such as regard whatever they spend (in the Way of Allah) as a fine and wait for some misfortune to befall you. May ill fortune befall them! Allah is All-Hearing, All-Knowing.

Pickthall

And of the wandering Arabs there is he who taketh that which he expendeth (for the cause of Allah) as a loss, and awaiteth (evil) turns of fortune for you (that he may be rid of it). The evil turn of fortune will be theirs. Allah is Hearer, Knower.

Yusuf Ali

Some of the desert Arabs look upon their payments as a fine, and watch for disasters for you: on them be the disaster of evil: for Allah is He That heareth and knoweth (all things).

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

কতক বেদুঈন যা তারা আল্লাহর পথে ব্যয় করে তাকে জরিমানা বলে গণ্য করে আর তোমাদের দুঃখ মুসিবতের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে, মন্দের চক্র তাদেরকেই ঘিরে ধরুক। আর আল্লাহ তো সব কিছুই শুনেন, সব কিছু জানেন।

রাওয়াই আল-বায়ান

আর বেদুঈনদের কেউ কেউ যা (আল্লাহর পথে) ব্যয় করে, তা জরিমানা গণ্য করে এবং তোমাদের দুর্বিপাকের প্রতীক্ষায় থাকে। দুর্বিপাক তাদের উপরই এবং আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।

শাইখ মুজিবুর রহমান

আর এই গ্রামবাসীদের মধ্যে এমন লোক রয়েছে যে, তারা যা কিছু ব্যয় করে তা জরিমানা মনে করে এবং তোমাদের জন্য দুর্দিনের প্রতীক্ষায় থাকে; (বস্তুতঃ) অশুভ আবতর্ন তাদের উপরই পতিত প্রায়, আর আল্লাহ খুব শোনেন, খুব জানেন ।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আর মরুবাসীদের কেউ কেউ, যা তারা আল্লাহ্‌র পথে ব্যয় করে তা জরিমানা গণ্য করে এবং তোমাদের বিপর্যয়ের প্রতীক্ষা করে। তাদের উপরই হোক নিকৃষ্টতম বিপর্যয়। আর আল্লাহ্‌ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

ফাতহুল মাজীদ

মরুবাসীদের কেউ কেউ, যা তারা (আল্লাহর পথে) ব্যয় করে তা অর্থদণ্ড বলে গণ্য করে এবং তোমাদের ভাগ্য বিপর্যয়ের প্রতীক্ষা করে। মন্দ ভাগ্যচক্র তাদেরই ওপর। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

মুখতাসার

৯৮. কিছু কিছু বেদুঈন মুনাফিক এ কথা বিশ্বাস করে যে, সে যে সম্পদটুকু আল্লাহর পথে ব্যয় করে তা সবই বস্তুতঃ ক্ষতির কারণ ও জরিমানা স্বরূপ। কারণ, সে মনে করে, কিছু দান করলে তাকে সাওয়াব দেয়া হবে না এবং কৃপণতা দেখালেও আল্লাহ তা‘আলা তাকে শাস্তি দিবেন না। তবুও সে কখনো কখনো মানুষের কটূ কথার ভয়ে এবং লোক দেখানোর জন্য ব্যয় করে। হে মু’মিনরা! সে অপেক্ষা করে যে, তোমাদের উপর কোন অকল্যাণ নাযিল হোক তাহলে সে তোমাদের থেকে নিষ্কৃতি পাবে। বরং তারা যে মু’মিনদের উপর সময়ের অশুভ পরিবর্তন এবং অকল্যাণ পতিত হওয়ার আশা করছিলো আল্লাহ তা‘আলা তা মু’মিনদের উপর পতিত না করে তাদের উপরই পতিত করলেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাদের সব কথাই শুনেন এবং তাদের গোপন সকল ভাবনাই তিনি জানেন।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

9:97

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আর মরুবাসীদের কেউ কেউ, যা তারা আল্লাহ্‌র পথে ব্যয় করে তা জরিমানা গণ্য করে এবং তোমাদের বিপর্যয়ের প্রতীক্ষা করে। তাদের উপরই হোক নিকৃষ্টতম বিপর্যয় [১]। আর আল্লাহ্‌ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

[১] এ আয়াতেও এ সমস্ত বেদুঈনেরই একটি অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে যে, এরা যাকাত, জিহাদ প্রভৃতিতে যে অর্থ ব্যয় করে, তাকে এক প্রকার জরিমানা বলে মনে করে। তার কারণ, তাদের অন্তরে তো ঈমান নেই, শুধু নিজেদের কুফরীকে লুকাবার জন্য সালাতও পড়ে নেয় এবং ফরয যাকাতও দিয়ে দেয়। কিন্তু মনে এ কালিমা থেকেই যায় যে, এ অর্থ অনর্থক খরচ হয়ে গেল। আর সেজন্য অপেক্ষায় থাকে যে, কোন রকমে মুসলিমদের উপর কোন বিপদ নেমে আসুক এবং তারা পরাজিত হয়ে থাক; তাহলেই আমাদের এহেন অর্থদণ্ড থেকে মুক্তিলাভ হবে। আল্লাহ তা'আলা তাদের উত্তরে বলছেন, তাদেরই উপর মন্দ অবস্থা আসবে। আর এরা নিজেদের সেসব কাজ কর্ম ও কথাবার্তার কারণে অধিকতর অপমানিত। মুমিনদগ জন্য রয়েছে তাদের শক্রদের বিপরীতে উত্তম ফলাফল। [দেখুন, আইসারুত তাফাসীর; সা’দী]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আত-তাওবাহ (৯): আয়াত ৯৮] পূর্ণ পৃষ্ঠা

[সূরা আত-তাওবাহ (৯): আয়াত ৯৮]আর বেদুঈনদের মধ্যে কেউ কেউ এমন রয়েছে, যারা যা ব্যয় করে তাকে জরিমানা (বা দণ্ড) মনে করে এবং তোমাদের উপর বিপদের আবর্তনের অপেক্ষা করে। তাদের ওপরই আসুক অকল্যাণের আবর্তন। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। (৯৮)আল্লাহ তাআলার বাণী: (আর বেদুঈনদের মধ্যে কেউ কেউ এমন রয়েছে যারা মনে করে) - এখানে 'মিন' শব্দটি প্রারম্ভিক হওয়ার কারণে রফ-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। (যা ব্যয় করে তাকে জরিমানা মনে করে) - এখানে দুটি কর্মপদ রয়েছে, আর বাক্যটির মূল কাঠামো ছিল 'যা সে ব্যয় করে', কিন্তু বাক্যটি দীর্ঘ হওয়ার কারণে 'হা' সর্বনামটি বিলোপ করা হয়েছে।

'মাগরাম' শব্দের অর্থ হলো দণ্ড ও লোকসান। এর মূল অর্থ হলো কোনো কিছুর আবশ্যিকতা বা লেগে থাকা; যেখান থেকে এসেছে: "নিশ্চয় তার আযাব ছিল অপরিহার্য" [আল-ফুরকান: ৬৫] (১), অর্থাৎ যা লেগে থাকে। এর তাৎপর্য হলো—তারা জিহাদ ও সদকা হিসেবে যা ব্যয় করে সেটিকে জরিমানা হিসেবে গণ্য করে এবং এর জন্য কোনো সওয়াবের আশা করে না। (এবং তোমাদের উপর বিপদের আবর্তনের অপেক্ষা করে) - 'তারাব্বুস' অর্থ হলো অপেক্ষা করা, যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে (২)। আর 'দাওয়া-ইর' হলো 'দা-ইরাহ'-এর বহুবচন; আর তা হলো সেই অবস্থা যা নেয়ামত থেকে বিপদে পরিবর্তিত হয়। অর্থাৎ তারা ব্যয়ের ক্ষেত্রে অজ্ঞতার পাশাপাশি অন্তরের কলুষতা ও কুটিলতাকে একত্র করেছে।

(তাদের ওপরই আসুক অকল্যাণের আবর্তন) - ইবনে কাসীর ও আবু আমর এখানে এবং সূরা আল-ফাতহ-এ 'সীন' বর্ণটি পেশ (যম্মাহ) দিয়ে পড়েছেন, আর অবশিষ্ট ক্বারীগণ যবর (ফাতহাহ) দিয়ে পাঠ করেছেন। তবে সূরা মারইয়ামের "তোমার পিতা কোনো মন্দ লোক ছিলেন না" (৩) [মারইয়াম: ২৮] আয়াতের ক্ষেত্রে সকলে 'সীন' বর্ণে যবর দিয়ে পড়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। এই দুটির মধ্যে পার্থক্য হলো—পেশ বিশিষ্ট 'সু' অর্থ হলো অপছন্দনীয় বিষয়। আল-আখফাশ বলেন: অর্থাৎ তাদের উপর পরাজয় ও অমঙ্গলের আবর্তন হোক। আল-ফাররা বলেন: অর্থাৎ তাদের উপর আযাব ও বালা-মুসিবতের আবর্তন হোক। তারা উভয়েই বলেন: 'ইমরাআ সু' (পেশ দিয়ে) বলা বৈধ নয়, যেমন বলা হয় না: 'সে আযাবের লোক' বা 'মন্দের লোক'।

মুহাম্মদ ইবনে ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, যবর বিশিষ্ট 'সাও' অর্থ হলো মন্দ হওয়া বা নিকৃষ্টতা। সিবওয়াইহ বলেন: 'আমি একজন সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম'—এর অর্থ হলো একজন সৎ ব্যক্তি; এটি কথার সত্যতা থেকে আসেনি। যদি এটি কথার সত্যতা থেকে আসত, তবে 'একটি সত্যনিষ্ঠ পোশাক' বলা যেত না। একইভাবে 'মন্দ ব্যক্তি' বলাটা তার পক্ষ থেকে কাউকে কষ্ট দেওয়া থেকে আসেনি, বরং এর অর্থ হলো 'আমি একজন ফাসাদ সৃষ্টিকারী বা মন্দ স্বভাবের ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম'। আল-ফাররা বলেন: যবর বিশিষ্ট 'সাও' শব্দটি 'সু'তুহু' ক্রিয়ার মাসদার বা ক্রিয়ামূল।

অন্যরা বলেন: এর ক্রিয়া হলো 'সা-আ ইয়াসূ-উ'। আর পেশ বিশিষ্ট 'সু' শব্দটি হলো বিশেষ্য (ইসম), ক্রিয়ামূল নয়; আর এটি তোমার এ কথার মতো—তাদের উপর বালা-মুসিবত ও অপছন্দনীয় বিষয়ের আবর্তন হোক। [সূরা আত-তাওবাহ (৯): আয়াত ৯৯]আর বেদুঈনদের মধ্যে কেউ এমনও রয়েছে, যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে এবং যা ব্যয় করে তাকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের ও রাসূলের দোয়া লাভের উপায় হিসেবে গণ্য করে। জেনে রেখো, তা অবশ্যই তাদের জন্য নৈকট্য লাভের মাধ্যম। আল্লাহ অচিরেই তাদেরকে তাঁর রহমতে দাখিল করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। (৯৯)(১). দ্রষ্টব্য: খণ্ড ১৩, পৃষ্ঠা ৬৬।(২).

দ্রষ্টব্য: খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১০৮।(৩). দ্রষ্টব্য: খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ৯৯।