At-Tawbah

আত-তাওবা: 62

9:62
টেক্সট কপি
9 আত-তাওবা At-Tawbah · 129 আয়াত التوبة

মূল আরবি

يَحْلِفُونَ بِٱللَّهِ لَكُمْ لِيُرْضُوكُمْ وَٱللَّهُ وَرَسُولُهُۥٓ أَحَقُّ أَن يُرْضُوهُ إِن كَانُوا۟ مُؤْمِنِينَ

English Translations

Sahih International

They swear by Allāh to you [Muslims] to satisfy you. But Allāh and His Messenger are more worthy for them to satisfy, if they were to be believers.

Muhsin Khan

They swear by Allah to you (Muslims) in order to please you, but it is more fitting that they should please Allah and His Messenger (Muhammad SAW), if they are believers.

Taqi Usmani

(O believers,) they swear by Allah before you, so that they may please you, whereas Allah, as well as His Messenger, has greater right that they should please Him, if they are (true) believers.

Abul Ala Maududi

[9:62] They swear by Allah to please you, while it is Allah and His Messenger whose pleasure they should seek if they truly believe.

Pickthall

They swear by Allah to you (Muslims) to please you, but Allah, with His messenger, hath more right that they should please Him if they are believers.

Yusuf Ali

To you they swear by Allah. In order to please you: But it is more fitting that they should please Allah and His Messenger, if they are Believers.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

তোমাদেরকে খুশি করার জন্য তারা তোমাদের সামনে আল্লাহর নামে কসম করে। তারা যদি মু’মিন হয়ে থাকে তবে কাউকে খুশি করতে চাইলে আল্লাহ ও তাঁর রসূলই এর সবচেয়ে বেশি হকদার।

রাওয়াই আল-বায়ান

তারা তোমাদের কাছে আল্লাহর কসম করে, যাতে তোমাদেরকে সন্তুষ্ট করতে পারে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অধিক হকদার যে, তারা তাকে সন্তুষ্ট করবে, যদি তারা ঈমানদার হয়ে থাকে।

শাইখ মুজিবুর রহমান

তারা তোমাদের কাছে আল্লাহর নামে শপথ করে যেন তারা তোমাদেরকে সন্তুষ্ট করতে পারে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সন্তুষ্ট করা তাদের জন্য বেশি যরুরী, যদি তারা সত্যিকারের মু’মিন হয়ে থাকে।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

তারা তোমাদেরকে সন্তুষ্ট করার জন্য তোমাদের কাছে আল্লাহ্‌র শপথ করে। অথচ আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলই এর বেশি হকদার যে, তারা তাঁদেরকেই সন্তুষ্ট করবে, যদি তারা মুমিন হয়।

ফাতহুল মাজীদ

তারা তোমাদেরকে সন্তুষ্ট করার জন্য তোমাদের নিকট আল্লাহর নামে শপথ করে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অধিক হকদার যে, তারা তাদেরকেই সন্তুষ্ট করবে যদি তারা মু’মিন হয়।

মুখতাসার

৬২. হে মু’মিনগণ! মুনাফিকরা আল্লাহর উপর কসম খেয়ে তোমাদেরকে বলবে: নিশ্চয়ই তারা ইতিপূর্বে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে কষ্ট দেয় এমন কিছু বলেনি। মূলতঃ তারা তোমাদেরকে খুশি করার জন্য এমনটি করছে। অথচ আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূলই বেশি উপযুক্ত যাঁদেরকে ঈমান ও আমলের মাধ্যমে খুশি করানো দরকার। যদি এরা সত্যিকার মু’মিন হতো তাহলে তারা তাই করতো।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

৬২-৬৩ নং আয়াতের তাফসীর: কাতাদা (রঃ) এ আয়াতের শানে নুযূল সম্পর্কে বলেন, বর্ণিত আছে যে, মুনাফিকদের একটি লোক বলে- “আল্লাহর শপথ! আমাদের এসব সর্দার ও নেতা খুবই জ্ঞানী ও অভিজ্ঞ লোক। যদি মুহাম্মাদ (সঃ)-এর কথা সত্যই হতো তবে কি এরা এতই বোকা যে, তা মানতে না?” তার এ কথা আঁটি মুসলিম সাহাবী শুনতে পান। তিনি তৎক্ষণাৎ বলে ওঠেনঃ “আল্লাহ কসম! রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সব কথাই সত্য। আর যারা তাকে মেনে নিচ্ছে না তারা যে নির্বোধ এতে কোন সন্দেহ নেই।” ঐ সাহাবী নবী (সঃ)-এর দরবারে হাযির হয়ে ঘটনাটি বর্ণনা করেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) ঐ লোকটিকে (মুনাফিক) ডেকে পাঠান।

কিন্তু সে শক্ত কসম করে বলে- “আমি তো এ কথা বলিনি। এ লোকটি আমার উপর অপবাদ দিচ্ছে। তখন ঐ সাহাবী দুআ করেনঃ “হে আল্লাহ! আপনি সত্যবাদীকে সত্যবাদীরূপে এবং মিথ্যাবাদীকে মিথ্যাবাদীরূপে দেখিয়ে দিন!” তখন আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন। আল্লাহ পাক বলেন, তাদের কি এ কথা জানা নেই যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ)-এর বিরুদ্ধাচরণকারী চিরকাল জাহান্নামে অবস্থান করবে? সেখানে তারা অপমানজনক শাস্তি ভোগ করবে। এর চেয়ে বড় লাঞ্ছনা ও দুর্ভাগ্য আর কি হবে?

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

তারা তোমাদেরকে সন্তষ্ট করার জন্য তোমাদের কাছে আল্লাহ্‌র শপথ করে [১]। অথচ আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলই এর বেশি হকদার যে, তারা তাঁদেরকেই সন্তুষ্ট করবে [২], যদি তারা মুমিন হয়।

[১] কাতাদা বলেন, মুনাফিকদের এক লোক বলেছিল যে, যদি মুহাম্মদ যা বলে তা সত্য হয় তবে তারা গাধার চেয়েও অধম ৷ একথা শুনে মুসলিমদের এক ব্যক্তি বলল যে, আল্লাহর শপথ, মুহাম্মাদ যা বলে তা সত্য, আর তুমি গাধার চেয়েও অধম। মুসলিম লোকটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে ঘটনাটি জানাল। তিনি মুনাফিকটিকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন যে, এ কথাটি তুমি কেন বলেছ? সে লা'নত দিতে লাগল এবং আল্লাহর নামে শপথ করে বলল যে, সে তা বলেনি। তখন মুসলিম লোকটি বলল, হে আল্লাহ! আপনি সত্যবাদীকে সত্যায়ন করুন আর মিথ্যাবাদীকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করুন। তখন এ আয়াত নাযিল হয়। [ইবন কাসীর]

[২] অর্থাৎ তারা তোমাদেরকে আল্লাহর নামে শপথ করে সন্তুষ্ট করতে চায়। অথচ তাদের উচিত ঈমান এনে আল্লাহ ও তার রাসূলকে সন্তুষ্ট করবে। [মুয়াসসার] কারণ একজন মুমিনের একমাত্র উদ্দেশ্য থাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সন্তুষ্ট করা। মুমিন এর উপর অন্য কিছুকে প্রাধান্য দেয় না। তারা যেহেতু সেটা করছে না সেহেতু প্রমাণিত হলো যে, তারা ঈমানদার নয়। [সা'দী]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আত-তাওবা (৯): আয়াত ৬২] পূর্ণ পৃষ্ঠা

অর্থাৎ তিনি কল্যাণের শ্রবণকারী, অকল্যাণের শ্রবণকারী নন; অর্থাৎ তিনি তা-ই শোনেন যা শোনা তিনি পছন্দ করেন এবং তিনি এক রহমত (করুণা)। আর যারা একে (রহিমান/রহমত শব্দটিকে) মাজরুর (জেরবিশিষ্ট) পড়েছেন, তারা একে 'খাইরিন' শব্দের সাথে আতফ (সংযুক্ত) করেছেন। আন-নাহহাস বলেন: আরবি ব্যাকরণবিদদের মতে এটি দূরবর্তী সম্ভাবনা, কেননা বিশেষ্য দুটির মাঝে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, আর মাজরুর শব্দের ক্ষেত্রে এটি অনুচিত বলে গণ্য হয়। আল-মাহদাবী বলেন: যারা 'রহমত' শব্দটিকে মাজরুর পড়েছেন, তারা একে 'খাইরিন' শব্দের সাথে আতফ করেছেন; এর অর্থ হলো তিনি কল্যাণের শ্রবণকারী এবং রহমতের শ্রবণকারী, কেননা রহমত কল্যাণেরই অন্তর্ভুক্ত।

'রহমত' শব্দটিকে 'মুমিনীন' (মুমিনগণ) শব্দের ওপর আতফ করা সঠিক হবে না। কারণ অর্থ হলো, তিনি আল্লাহকে বিশ্বাস করেন এবং মুমিনদের কথা বিশ্বাস করেন। কুফাবাসীদের মতে এখানে 'লাম' বর্ণটি অতিরিক্ত। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: "তারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে" [সূরা আল-আরাফ: ১৫৪] অর্থাৎ তারা তাদের রব্বকে ভয় করে। আবু আলী বলেন: এটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মতো: "তোমাদের পিছু নিয়েছে" [সূরা আন-নামল: ৭২]। আল-মুবররাদের মতে, এটি একটি মাসদার (ক্রিয়ামূল)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট যা ক্রিয়াটি দ্বারা নির্দেশিত হয়েছে। এর মূল গঠন হলো: "মুমিনদের প্রতি তাঁর ঈমান", অর্থাৎ তিনি মুমিনদের সত্য বলে গণ্য করেন, কাফিরদের নয়।

অথবা এটি অর্থের ওপর ভিত্তি করে হতে পারে, কেননা 'ইউমিনু' শব্দের অর্থ হলো 'ইউসাদ্দিকু' (সত্য বলে স্বীকার করা); ফলে একে 'লাম' বর্ণের মাধ্যমে পরবর্তী শব্দের সাথে যুক্ত করা হয়েছে, যেমনটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে করা হয়েছে: "তার সম্মুখে যা বিদ্যমান তার সত্যয়নকারী হিসেবে" [সূরা আল-মায়িদা: ৪৬]। ‌‌[সূরা আত-তাওবা (৯): আয়াত ৬২]তারা তোমাদের নিকট আল্লাহর শপথ করে যাতে তোমাদের সন্তুষ্ট করতে পারে; অথচ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই এর বেশি হকদার যে, তারা তাঁদের সন্তুষ্ট করবে, যদি তারা মুমিন হয়ে থাকে। (৬২)এতে তিনটি মাসআলা রয়েছে: প্রথম—বর্ণিত আছে যে, মুনাফিকদের একদল একত্রিত হয়েছিল, যাদের মধ্যে আল-জুলাস বিন সুওয়াইদ ও ওয়াদিয়া ইবনে সাবিত অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সেখানে আনসারদের আমের ইবনে কায়েস নামক এক বালকও ছিল। তারা তাকে তুচ্ছজ্ঞান করে কথা বলতে লাগল এবং বলল: মুহাম্মদ যা বলে তা যদি সত্য হয়, তবে আমরা গাধার চেয়েও অধম। বালকটি ক্রুদ্ধ হয়ে বলল: আল্লাহর শপথ! তিনি যা বলেন তা সত্য এবং তোমরাই গাধার চেয়েও অধম। অতঃপর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাদের কথা জানানো হলো। তখন তারা শপথ করে বলল যে আমের মিথ্যা বলছে। আমের বললেন: তারাই মিথ্যাবাদী। তিনি এ বিষয়ে শপথ করলেন এবং বললেন: হে আল্লাহ! সত্যবাদীর সত্যতা এবং মিথ্যাবাদীর মিথ্যা পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাবেন না।

তখন আল্লাহ এই আয়াতটি নাজিল করলেন যাতে রয়েছে: "তারা তোমাদের নিকট আল্লাহর শপথ করে যাতে তোমাদের সন্তুষ্ট করতে পারে।" দ্বিতীয়—আল্লাহ তাআলার বাণী: (অথচ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই এর বেশি হকদার যে, তারা তাঁদের সন্তুষ্ট করবে) এটি মুবতাদা ও খবর। সিবওয়াইহ-এর মত হলো, এর প্রচ্ছন্ন রূপটি হলো: আল্লাহ এর বেশি হকদার যে তারা তাঁকে সন্তুষ্ট করবে এবং তাঁর রাসূলও এর বেশি হকদার যে তারা তাঁকে সন্তুষ্ট করবে; এরপর একটি অংশ উহ্য রাখা হয়েছে, যেমন জনৈক কবি বলেছেন:আমাদের কাছে যা আছে তা নিয়ে আমরা এবং তোমার কাছে যা আছে তা নিয়ে তুমি সন্তুষ্ট, অথচ দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন।(১).

'বা' এবং 'হা' পাণ্ডুলিপিতে: যা শোনা ওয়াজিব বা পছন্দনীয়।(২). দ্রষ্টব্য: ৭ম খণ্ড, ২৯২ পৃষ্ঠা।(৩). দ্রষ্টব্য: ১৩তম খণ্ড, ২৩০ পৃষ্ঠা।(৪). দ্রষ্টব্য: ২য় খণ্ড, ৩৬ পৃষ্ঠা।(৫). 'জিম' পাণ্ডুলিপি থেকে।