At-Tawbah

আত-তাওবা: 48

9:48
9 আত-তাওবা At-Tawbah · 129 আয়াত التوبة

আরবি

لَقَدِ ٱبْتَغَوُا۟ ٱلْفِتْنَةَ مِن قَبْلُ وَقَلَّبُوا۟ لَكَ ٱلْأُمُورَ حَتَّىٰ جَآءَ ٱلْحَقُّ وَظَهَرَ أَمْرُ ٱللَّهِ وَهُمْ كَـٰرِهُونَ

English Translations

Sahih International

They had already desired dissension before and had upset matters for you until the truth came and the ordinance [i.e., victory] of Allāh appeared, while they were averse.

Muhsin Khan

Verily, they had plotted sedition before, and had upset matters for you, - until the truth (victory) came and the Decree of Allah (His Religion, Islam) became manifest though they hated it.

Taqi Usmani

They sought mischief even earlier and tried to upset matters for you, until the Truth arrived and the will of Allah prevailed, though they disliked it.

Abul Ala Maududi

[9:48] Surely they sought even earlier to stir up sedition, and turned things upside down to frustrate you until the Truth came and the decree of Allah appeared, however hateful this may have been to them.

Pickthall

Aforetime they sought to cause sedition and raised difficulties for thee till the Truth came and the decree of Allah was made manifest, though they were loth.

Yusuf Ali

Indeed they had plotted sedition before, and upset matters for thee, until,- the Truth arrived, and the Decree of Allah became manifest much to their disgust.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

আগেও তারা ফিতনা সৃষ্টি করতে চেয়েছে আর তোমার অনেক কাজ নষ্ট করেছে যতক্ষণ না প্রকৃত সত্য এসে হাজির হল আর আল্লাহর বিধান প্রকাশিত হয়ে গেল যদিও এতে তারা ছিল নাখোশ।

রাওয়াই আল-বায়ান

অবশ্য তারা ইতঃপূর্বে ফিতনা অনুসন্ধান করেছিল এবং তোমার কাজগুলো পালটে দিয়েছিল, অবশেষে হকের আগমন ঘটল এবং আল্লাহর দীন বিজয়ী হল, অথচ তারা ছিল অপছন্দকারী।

শাইখ মুজিবুর রহমান

পূর্বেও তারা ফিতনা ফাসাদ সৃষ্টি করেছিল এবং তোমার কার্যক্রম ব্যর্থ করার চেষ্টায় রত ছিল। শেষ পর্যন্ত হক ও আল্লাহর নির্দেশ প্রকাশমান হল, যদিও তা তাদের মনঃপুত ছিলনা।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

অবশ্য তারা আগেও ফিৎনা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল এবং তারা আপনার বহু কাজে ওলট-পালট করেছিল, অবশেষে সত্যের আগমন ঘটল এবং আল্লাহ্‌র হুকুম বিজয়ী হল, অথচ তারা ছিল অপছন্দকারী।

ফাতহুল মাজীদ

পূর্বেও তারা ফিত্না সৃষ্টি করতে চেয়েছিল এবং তারা তোমার বহু কর্মে উলট-পালট করেছিল যতক্ষণ না তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সত্য আসল এবং আল্লাহর আদেশ বিজয়ী হল। আর তারা ছিল অপছন্দকারী।

মুখতাসার

৪৮. এ মুনাফিকরা তাবুক যুদ্ধের আগে মু’মিনদের ঐক্যে ফাটল ধরিয়ে তাদের মাঝে ফাসাদ সৃষ্টি করতে চেয়েছিলো এবং তারা কৌশল করে আপনার সিদ্ধান্তসমূহকে উল্টে-পাল্টে দিতেছিলো। যাতে তাদের অপকৌশল আপনার জিহাদ করার প্রতিজ্ঞায় প্রভাব ফেলতে পারে। অথচ ইতিমধ্যে আপনার জন্য আল্লাহর সাহায্য ও সহযোগিতা এসে গেছে এবং আল্লাহ তা‘আলা তাঁর দীনকে বিজয়ী ও তাঁর শত্রুদেরকে পদানত করলেন। যদিও তা তাদের নিকট অপছন্দনীয় ছিলো। কারণ, তারা বস্তুতঃ সত্যের উপরই বাতিলের জয় চেয়েছিলো।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবী (সঃ)-এর অন্তরে মুনাফিকদের প্রতি ঘৃণার উদ্রেক করার জন্যে বলেন, হে নবী! তুমি কি ভুলে গেছ যে, এই মুনাফিকরা বহুদিন ধরে ফিত্না ও ফাসাদের অগ্নি প্রজ্বলিত করতে রয়েছে এবং তোমার কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করার সব রকমের তদবীর চালিয়েছে। মদীনায় তোমার প্রতিষ্ঠা লাভের পরই সমস্ত আরব এক হয়ে বিপদের বৃষ্টি তোমার উপর বর্ষণ করেছে। মদীনার ইয়াহূদী ও মুনাফিকরা মদীনায় বিদ্রোহ ঘোষণা করে দেয়। কিন্তু আল্লাহ তাআলা এক দিনেই তাদের সকলের কামান ভেঙ্গে চুরমান করে দেন। তিনি তাদের জোড় ঢিলা করে দেন এবং তাদের উত্তেজনা ঠাণ্ডা করে দেন। বদরের যুদ্ধ তাদেরকে হতবাক করে দেয় এবং তাদের মনের কামনা ও বাসনা মুছে ফেলেন অর্থাৎ তারা তাদের সফল হওয়ার ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিরাশ হয়ে যায়। মুনাফিকদের নেতা আবদুল্লাহ ইবনে উবাই তো পরিষ্কারভাবে বলে দেয়- “এ লোকগুলো এখন আমাদের ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এখন আমাদের এ ছাড়া কোন উপায় নেই যে, আমরা বাহ্যতঃ ইসলামের অনুকূলে থাকবো, কিন্তু অন্তরে যা আছে তা তো আছেই। সময় সুযোগ আসলে দেখা যাবে এবং দেখানো যাবে।” তারপর যতোই সত্যের উন্নতি হতে থাকে এবং তাওহীদ বিকাশ লাভ করতে থাকে, ততোই তারা হিংসার আগুনে দগ্ধীভূত হতে থাকে। অবশেষে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয় এবং আল্লাহর কালেমার বিজয় ডংকা বেজে ওঠে। আর এদিকে এই মুনাফিকদের পেট ফুলতে থাকে এবং এটা তাদের কাছে খুবই অপ্রীতিকর বোধ হয়।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

অবশ্য তারা আগেও [১] ফিৎনা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল এবং তারা আপনার বহু কাজে ওলট-পালট করেছিল, অবশেষে সত্যের আগমন ঘটল এবং আল্লাহ্‌র হুকুম বিজয়ী হল [২], অথচ তারা ছিল অপছন্দকারী।

[১] অর্থাৎ তারা চিন্তাশক্তি ও মতামতকে আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে খাটিয়েছিল। তারা প্রচেষ্টা চালিয়েছে আপনার দ্বীনকে অপমানিত করতে। যেমন প্রথম যখন আপনি মদীনায় আগমন করেছিলেন তখন আপনার বিরুদ্ধে ইয়াহুদী ও মুনাফিকরা যৌথ প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তারপর যখন বদরের যুদ্ধে মুসলিমরা জয়লাভ করল তখন আব্দুল্লাহ ইবন উবাই ও তার সার্থীরা বলল, এ কাজ তো দেখি পথে উঠে এসেছে। তারপর তারা প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণ করে। তারপর যখনই কোথাও মুসলিমদের বিজয় দেখে তখনই তা তাদেরকে পীড়া দেয়। [ইবন কাসীর]

[২] অর্থাৎ “আল্লাহর আদেশ বিজয় হল”, যাতে মুনাফিকরা মর্মপীড়া বোধ করছিল। এর দ্বারা ইঙ্গিত দেয়া হয় যে, জয় বিজয় সবই আল্লাহর আয়ত্তে। যেমন ইতিপূর্বের যুদ্ধসমূহে আপনাকে জয়ী করা হয়েছে, তেমনি এ যুদ্ধেও জয়ী হবেন এবং মুনাফিকদের সমস্ত ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়ে পড়বে।