At-Tawbah
আত-তাওবা: 126
9 আত-তাওবা At-Tawbah · 129 আয়াত التوبة
আরবি
أَوَلَا يَرَوْنَ أَنَّهُمْ يُفْتَنُونَ فِى كُلِّ عَامٍ مَّرَّةً أَوْ مَرَّتَيْنِ ثُمَّ لَا يَتُوبُونَ وَلَا هُمْ يَذَّكَّرُونَ
English Translations
Do they not see that they are tried every year once or twice but then they do not repent nor do they remember?
See they not that they are tried once or twice every year (with different kinds of calamities, disease, famine, etc.)? Yet, they turn not in repentance, nor do they learn a lesson (from it).
Do they not see that they are put to trial every year once or twice; still they neither repent, nor do they take lesson?
[9:126] Do they not see that they are tried every year once or twice? Yet they neither repent nor take heed.
See they not that they are tested once or twice in every year? Still they turn not in repentance, neither pay they heed.
See they not that they are tried every year once or twice? Yet they turn not in repentance, and they take no heed.
বাংলা অনুবাদ
তারা কি দেখে না যে, প্রতি বছরই তাদেরকে একবার বা দু’বার পরীক্ষায় ফেলা হয়; তারপরেও তারা তাওবাও করে না, আর শিক্ষাও গ্রহণ করে না।
তারা কি দেখে না যে, তারা প্রতি বছর এক বার কিংবা দু’বার বিপদগ্রস্ত হয় ? এর পরও তারা তাওবা করে না এবং উপদেশ গ্রহণ করে না।
আর তারা কি লক্ষ্য করেনা যে, তারা প্রতি বছর একবার অথবা দু’বার কোন না কোন বিপদে পতিত হয়? তবুও তারা তাওবাহ করেনা, আর না তারা উপদেশ গ্রহণ করে।
তারা কি দেখে না যে, ‘তাদেরকে প্রতিবছর একবার বা দু’বার বিপর্যস্ত করা হয়?’ এর পরও তারা তাওবাহ্ করে না এবং উপদেশ গ্রহন করে না।
তারা কি দেখে না যে, ‘তাদেরকে প্রতি বৎসর একবার বা দু’বার বিপর্যস্ত করা হয়?’ এরপরও তারা তাওবাহ করে না এবং উপদেশও গ্রহণ করে না।
১২৬. আল্লাহ তা‘আলা প্রতি বছর একবার বা দু’বার মুনাফিকদের মুনাফিকী ও তাদের গোমর ফাঁস করে তাদেরকে বিপদের সম্মুখীন করা দেখে তারা কেন তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে না?! তারা এ কথা জানা সত্ত্বেও যে, স্বয়ং আল্লাহ তা‘আলাই তাদের সাথে এ আচরণ করছেন তারপরও তারা কুফরি থেকে তাওবা করে না। না তারা মুনাফিকী থেকে ফিরে আসে। না তারা নিজেদের উপর নাযিল হওয়া বিপদের কথা স্মরণ করে এবং এ কথা মনে করে যে, এটি নিশ্চয়ই আল্লাহর পক্ষ থেকেই ঘটেছে।
তাফসীর
১২৬-১২৭ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তাআলা বলেন- এই মুনাফিকরা কি এটুকুও বুঝে না যে, প্রতি বছর তাদেরকে একবার বা দু'বার ফিত্যায় জড়িয়ে ফেলা হয়। তথাপি তারা তাদের পূর্ববর্তী গুনাহ্ থেকে বিরত থাকছে না এবং এই ব্যাপারে আগামীতে তাদের যে অবস্থা ঘটতে যাচ্ছে তা থেকে একটুও ভয় করছে না? কাতাদা (রঃ) বলেন যে, যুদ্ধের বিপদ তাদের মাথায় পতিত হতো। সাহাবীগণ বলেনঃ “প্রতি বছর আমরা কোন না কোন মিথ্যা গুজব শুনতাম যার ফলে অধিকাংশ লোক বিভ্রান্ত হয়ে পড়তো। (এটা ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন)আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ “কাঠিন্যের যুগ বেড়ে চলছে, হীনমন্যতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং প্রত্যেক বছর পূর্ব বছরের তুলনায় খারাপ অনুভূত হচ্ছে।” উল্লিখিত আয়াত মুনাফিকদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়। এতে বলা হয়েছে যে, নবী (সঃ)-এর উপর যখন কোন সূরা অবতীর্ণ হয় তখন তারা একে অপরকে লক্ষ্য করে বলে- তোমাদেরকে কেউ দেখছে না তো? তারপর তারা সত্য থেকে ফিরে যায়। দুনিয়ায় এই মুনাফিকদের অবস্থা এই যে, না তারা সত্যের সামনে আসে, না তা বুঝে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ তাদের কি হলো যে, তারা এই উপদেশ হতে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে? যেন তারা বন্য গাধা যারা ব্যাঘ্র হতে পলায়ন করছে।” (৭৪:৪৯-৫১) আর এক জায়গায় আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “সুতরাং কাফিরদের কি হলো যে, তারা (এসব বিষয় জেনে নেয়া সত্ত্বেও তা মিথ্যা প্রতিপাদনের জন্যে) তোমার দিকে দৌড়িয়ে আসছে ডনি দিক থেকে এবং বাম দিক থেকে দলবদ্ধভাবে?” (৭০:৩৬-৩৭) তারা যেন বন্য পশু। তারা ব্যাঘ্র হতে পলায়ন করছে এবং একবার ডান দিকে যাচ্ছে, একবার বাম দিকে যাচ্ছে। সত্য থেকে মিথ্যার দিকে তারা ঝুঁকে পড়ছে। আল্লাহ তাআলা তাদের অন্তরগুলো ফিরিয়ে দিয়েছেন। না তারা আল্লাহর ডাক বুঝতে পারছে, না বুঝবার চেষ্টা করছে।
তারা কি দেখে না যে, ‘তাদেরকে প্রতিবছর একবার বা দু’বার বিপর্যস্ত করা হয় [১]?’ এর পরও তারা তাওবাহ্ করে না এবং উপদেশ গ্রহন করে না।
[১] এখানে মুনাফিকদের সতর্ক করা হয়েছে যে, তাদের কপটতা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ প্রভৃতি অপরাধের পরিণতিতে প্রতিবছরই তারা কখনো একবার, কখনো দু’বার নানা ধরনের বিপদে বা পরীক্ষায় নিপতিত হয়। মুজাহিদ বলেন, তারা দুর্ভিক্ষ ও ক্ষুধায় পতিত হয়। [আত-তাফসীরুস সহীহ] অথবা রোগ-শোকে। হাসান বসরী বলেন, রাসূলের সাথে যুদ্ধ ও জিহাদে অংশগ্রহণের মাধ্যমে [কুরতুবী] তাছাড়া কখনো তাদের কাফের মিত্ররা পরাজিত হয়, কখনো তাদের গোপন অভিসন্ধি ফাঁস হয়ে যাওয়ার ফলে তারা দিবানিশি মর্মপীড়া ভোগ করে। [বাগভী]
