At-Tawbah

আত-তাওবা: 12

9:12
9 আত-তাওবা At-Tawbah · 129 আয়াত التوبة

আরবি

وَإِن نَّكَثُوٓا۟ أَيْمَـٰنَهُم مِّنۢ بَعْدِ عَهْدِهِمْ وَطَعَنُوا۟ فِى دِينِكُمْ فَقَـٰتِلُوٓا۟ أَئِمَّةَ ٱلْكُفْرِ ۙ إِنَّهُمْ لَآ أَيْمَـٰنَ لَهُمْ لَعَلَّهُمْ يَنتَهُونَ

English Translations

Sahih International

And if they break their oaths after their treaty and defame your religion, then combat the leaders of disbelief, for indeed, there are no oaths [sacred] to them; [fight them that] they might cease.

Muhsin Khan

But if they violate their oaths after their covenant, and attack your religion with disapproval and criticism then fight (you) the leaders of disbelief (chiefs of Quraish - pagans of Makkah) - for surely their oaths are nothing to them - so that they may stop (evil actions).

Taqi Usmani

And if they break their oaths after they have made a covenant, and speak evil of your Faith, then fight the leaders of infidelity,-since their oaths are nothing,-so that they may desist,

Abul Ala Maududi

[9:12] But if they break their pledges after making them and attack your faith, make war on the leaders of unbelief that they may desist, for they have no regard for their pledged words.

Pickthall

And if they break their pledges after their treaty (hath been made with you) and assail your religion, then fight the heads of disbelief - Lo! they have no binding oaths - in order that they may desist.

Yusuf Ali

But if they violate their oaths after their covenant, and taunt you for your Faith,- fight ye the chiefs of Unfaith: for their oaths are nothing to them: that thus they may be restrained.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

তারা যদি চুক্তি করার পর তাদের শপথ ভঙ্গ করে আর তোমাদের দীনের বিরুদ্ধে কটুক্তি করে, তাহলে কাফিরদের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে লড়াই কর, শপথ বলে কোন জিনিস তাদের কাছে নেই, (কাজেই শক্তি প্রয়োগ কর) যাতে তারা (শয়ত্বানী কার্যকলাপ থেকে) নিবৃত্ত হয়।

রাওয়াই আল-বায়ান

আর যদি তারা তাদের অঙ্গীকারের পর তাদের কসম ভঙ্গ করে এবং তোমাদের দীন সম্পর্কে কটূক্তি করে, তাহলে তোমরা কুফরের নেতাদের বিরুদ্ধে লড়াই কর, নিশ্চয় তাদের কোন কসম নেই, যেন তারা বিরত হয়।

শাইখ মুজিবুর রহমান

আর যদি তারা অঙ্গীকার করার পর নিজেদের শপথগুলিকে ভঙ্গ করে এবং তোমাদের ধর্মের প্রতি দোষারোপ করে তাহলে তোমরা কুফরের অগ্রনায়কদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর, (এই অবস্থায়) তাদের শপথ রইলনা, হয়তো তারা বিরত থাকবে।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আর যদি তারা তাদের চুক্তির পর তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে এবং তোমাদের দীন সম্মন্ধে কটুক্তি করে, তবে কুফরের নেতাদের সাথে যুদ্ধ কর; এরা এমন লোক যাদের কোনো প্রতিশ্রুতি নেই; যেন তারা নিবৃত হয়।

ফাতহুল মাজীদ

চুক্তির পর তারা যদি তাদের প্রতিশ্র“তি ভঙ্গ করে ও তোমাদের দীন সম্বন্ধে বিদ্রƒপ করে তবে কাফিরদের প্রধানদের সাথে যুদ্ধ কর‎; এরা এমন লোক যাদের কোন প্রতিশ্র“তি বহাল নেই; যেন তারা বিরত থাকে।

মুখতাসার

১২. যাদের সাথে আপনি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুদ্ধ বন্ধ করার চুক্তি করেছেন সে মুশরিকরা যদি তাদের চুক্তি ও অঙ্গীকারগুলো ভঙ্গ করে এবং তোমাদের ধর্মের দোষ-ত্রুটি ধরে ও তার অবমাননা করে তাহলে তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করবে। কারণ, তারা হলো কাফিরদের পুরোধা ও নেতা। তাদের সাথে আর কোন চুক্তি ও অঙ্গীকার চলবে না। যা তাদের রক্তকে হিফাযত করবে। বরং তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করো। যাতে তারা নিজেদের কুফরি, চুক্তিভঙ্গ ও ধর্মের অবমাননা করা থেকে ফিরে আসে।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

আল্লাহ তা'আলা বলেন, যে মুশরিকদের সাথে নির্দিষ্ট মেয়াদে তোমাদের চুক্তি হয়েছে তারা যদি তাদের কসম ভেঙ্গে দিয়ে ওয়াদা ও চুক্তি ভঙ্গ করে এবং তোমাদের ধর্মের প্রতি দোষারোপ করে তবে তোমরা তাদের মাথা ভেঙ্গে দাও। এ জন্যেই আলেমগণ বলেছেন যে, যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে গালি দেবে বা দ্বীনের উপর দোষারোপ করবে কিংবা ঘৃণার সাথে এর উল্লেখ করবে তাকে হত্যা করে দিতে হবে।তাদের শপথের কোনই মূল্য নেই। তাদেরকে কুফরী, শিরক ও বিরুদ্ধাচরণ হতে ফিরিয়ে আনার এটাই পন্থা। কাতাদা (রঃ) প্রমুখ মুরুব্বীগণ বলেন যে, কুফরীর অগ্রনায়ক হচ্ছে আবু জেহেল, উত্ব, শায়বা, উমাইয়া ইবনে খালফ প্রভৃতি ব্যক্তিবর্গ। একদা সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাঃ) খারেজীদের একটি লোকের পার্শ্ব দিয়ে গমন করেন। ঐ খারেজী সা'দ (রাঃ)-এর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেঃ “ইনি হচ্ছেন কুফরীর অগ্রনায়ক।” তখন সা'দ (রাঃ) বলেনঃ “তুমি মিথ্যা বলছো। আমি বরং কুফরীর অগ্রনায়কদেরকে হত্যা করেছি।” হুযাইফা (রাঃ) বলেন যে, এর পরে এই আয়াতওয়ালাদেরকে হত্যা করা হয়নি। আলী (রাঃ) হতেও এরূপই বর্ণিত আছে। সঠিক কথা এই যে, শানে নুযূল হিসেবে এই আয়াত দ্বারা মুশরিক কুরায়েশ উদ্দেশ্য হলেও আয়াতটি ‘আম’ বা সাধারণ। হুকুমের দিক দিয়ে তারা ও অন্যান্য সবাই এর অন্তর্ভুক্ত। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক সঠিক জ্ঞানের অধিকারী। আবু বকর (রাঃ) সিরিয়া অভিমুকে সেনাবাহিনী প্রেরণ করার সময় তাদেরকে বলেনঃ “তোমরা তথায় এমন কতকগুলো লোককে দেখতে পাবে যাদের মাথা কামানো রয়েছে। তোমরা ঐ শয়তানের দলকে তরবারী দ্বারা হত্যা করে ফেলবে। আল্লাহর কসম! তাদের একজন লোককে হত্যা করা অন্য সত্তরজন লোককে হত্যা করা অপেক্ষা আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়। কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “তোমরা কুফরের অগ্রনায়কদেরকে হত্যা করে দাও।” (এটা ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আর যদি তারা তাদের চুক্তির পর তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে এবং তোমাদের দ্বীন সম্মন্ধে কটুক্তি করে [১], তবে কুফরের নেতাদের সাথে যুদ্ধ কর [২]; এরা এমন লোক যাদের কোন প্রতিশ্রুতি নেই [৩] যেন তারা নিবৃত হয় [৪]।

[১] এ বাক্য থেকে আলেমগণ প্রমাণ করেন যে, মুসলিমদের ধর্মের প্রতি বিদ্রুপ করা চুক্তিভঙ্গের নামান্তর। যে ব্যক্তি ইসলাম, ইসলামের নবী বা ইসলামী শরী’আতকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে, তাকে চুক্তি রক্ষাকারী বলা যাবে না। শরীআত তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলে। [ইবন কাসীর]

[২] কতিপয় মুফাসসির বলেন, এখানে কুফর-প্রধান বলতে বোঝায় মক্কার ঐ সকল কোরাইশ প্রধান যারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে লোকদের উস্কানি দান ও রণ প্রস্তুতিতে নিয়োজিত ছিল। বিশেষতঃ এদের সাথে যুদ্ধ করতে আদেশ এজন্যে দেয়া হয় যে, মক্কাবাসীদের শক্তির উৎস হল এরা। [তাবারী; ইবন কাসীর] কোন কোন মুফাসসির বলেনঃ এখানে অঙ্গীকার অর্থ, ইসলাম ও রাষ্ট্রীয় আনুগত্য। কারণ সন্ধি-চুক্তি তো পূর্বেই প্রত্যাহার করা হয়েছিল, তারপর ভবিষ্যতে তাদের সাথে নতুন করে কোন চুক্তি বা সন্ধি করার এখন কোন ইচ্ছাই ছিল না। কাজেই এখানে অঙ্গীকার ভংগ করা ও চুক্তি বিরোধী কাজ করার কোন প্রশ্নই উঠতে পারে না। তা ছাড়া এ আয়াতটি পূর্ববর্তী আয়াতের পরেই উল্লেখিত হয়েছে। আর পূর্ববর্তী আয়াতে বলা হয়েছে যে, “তারা যদি তাওবা করে, নামাজ পড়ে ও যাকাত আদায় করে তা হলে তারা তোমাদের ভাই হবে"। এরপর “তারা যদি অঙ্গীকার ভংগ করে” বলার পরিষ্কার অর্থ এই হতে পারে যে, এর দ্বারা সে লোকদের ইসলাম কবুল ও ইসলামী রাষ্ট্রের আনুগত্যের অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ করা-ই বুঝানো হয়েছে। আসলে এ আয়াতে মুর্তাদ হওয়ার ফেতনার কথাই বলা হয়েছে, যা তখনো আসেনি। যা এর দেড় বছর পর আবু বকর সিদীক রাদিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফতের শুরুতে হয়েছিল। আৰু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু এ সময় যে কর্মনীতি গ্রহণ করেছিলেন তা কিছুকাল পূর্বে এ আয়াতে দেওয়া হেদায়াত অনুরূপই ছিল। [তাবারী; ইবন কাসীর]

[৩] এখানে বলা হয়েছেঃ “এদের কোন শপথ নেই”; কারণ, এরা শপথ ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গে অভ্যস্ত। তাই এদের শপথের কোন মূল্য মান নেই। [সা’দী]

[৪] এ থেকে বুঝা যায় যে, মুসলিমদের যুদ্ধ-বিগ্রহের উদ্দেশ্য অপরাপর জাতির মত শক্ৰ নির্যাতন ও প্রতিশোধ স্পৃহা নিবারণ, কিংবা সাধারণ রাষ্ট্রনায়কগণের মত নিছক দেশ দখল না হওয়া চাই। বরং তাদের যুদ্ধের উদ্দেশ্য হওয়া চাই শক্রদের মঙ্গল কামনা ও সহানুভূতি এবং বিপথ থেকে তাদের ফিরিয়ে আনা। হয়ত তারা যুদ্ধ থেকে বিরত থাকবে, ইসলামে অপবাদ দেয়া বাদ দিবে, অথবা ঈমান আনবে। [সা’দী]