At-Tawbah
আত-তাওবা: 84
9 আত-তাওবা At-Tawbah · 129 আয়াত التوبة
মূল আরবি
وَلَا تُصَلِّ عَلَىٰٓ أَحَدٍ مِّنْهُم مَّاتَ أَبَدًا وَلَا تَقُمْ عَلَىٰ قَبْرِهِۦٓ ۖ إِنَّهُمْ كَفَرُوا۟ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَمَاتُوا۟ وَهُمْ فَـٰسِقُونَ
English Translations
And do not pray [the funeral prayer, O Muḥammad], over any of them who has died - ever - or stand at his grave. Indeed, they disbelieved in Allāh and His Messenger and died while they were defiantly disobedient.
And never (O Muhammad SAW) pray (funeral prayer) for any of them (hypocrites) who dies, nor stand at his grave. Certainly they disbelieved in Allah and His Messenger, and died while they were Fasiqun (rebellious, - disobedient to Allah and His Messenger SAW).
And never offer a prayer on any one of them who dies, and do not stand by his grave. They disbelieved in Allah and His Messenger and died while they were sinners.
[9:84] Do not ever pray over any of them who dies, nor stand over his grave. They disbelieved in Allah and His Messenger and died in iniquity.
And never (O Muhammad) pray for one of them who dieth, nor stand by his grave. Lo! they disbelieved in Allah and His messenger, and they died while they were evil-doers.
Nor do thou ever pray for any of them that dies, nor stand at his grave; for they rejected Allah and His Messenger, and died in a state of perverse rebellion.
বাংলা অনুবাদ
তাদের কেউ মারা গেলে তুমি কক্ষনো তাদের জন্য (জানাযার) নামায পড়বে না, আর তাদের কবরের পাশে দন্ডায়মান হবে না। তারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সঙ্গে কুফুরী করেছে আর বিদ্রোহী পাপাচারী অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়েছে।
আর তাদের মধ্যে যে মারা গিয়েছে, তার উপর তুমি জানাযা পড়বে না এবং তার কবরের উপর দাঁড়াবে না। নিশ্চয় তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অস্বীকার করেছে এবং তারা ফাসিক অবস্থায় মারা গিয়েছে ।
আর ভবিষ্যতে তাদের (মুনাফিকদের) কোন লোক মারা গেলে তার (জানাযার) সালাত তুমি কখনই আদায় করবেনা এবং তাদের কাবরের পাশে কখনও দাঁড়াবেনা। তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে কুফরী করেছে এবং তারা কুফরী অবস্থায়ই মৃত্যু বরণ করেছে।
আর তাদের মধ্যে কারো মৃত্যু হলে আপনি কখনো তার জন্য জানাযার সালাত পড়বেন না এবং তার কবরের পাশে দাঁড়াবেন না; তারা তো আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে অস্বীকার করেছিল এবং ফাসেক অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়েছে।
তাদের মধ্যে কারও মৃত্যু হলে তুমি কখনও তার জন্য (জানাযার) সালাত পড়বে না এবং তার কবরের পার্শ্বে দাঁড়াবে না; তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অস্বীকার করেছিল এবং পাপাচারী অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়েছে।
৮৪. হে রাসূল! আপনি কখনো মৃত কোন মুনাফিকের জানাযার নামায পড়বেন না। না তার কবরের নিকট তার মাগফিরাতের দু‘আর জন্য দাঁড়াবেন। কারণ, তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে কুফরি করেছে। উপরন্তু তারা আল্লাহর আনুগত্যের বাইরে থাকা অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছে। আর যার অবস্থা এমন হবে তার জন্য কোন নামায নেই এবং দু‘আও নেই।
তাফসীর
আল্লাহ তাআলা স্বীয় রাসূল (সঃ)-কে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তিনি যেন মুনাফিকদের সাথে কোনই সম্পর্ক না রাখেন, তাদের কেউ মারা গেলে যেন তার জানাযার নামায না পড়ান এবং তার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা বা দুআ করার উদ্দেশ্যে যেন তার কবরের কাছে না দাঁড়ান। কেননা তারা আল্লাহ ও তার রাসূল (সঃ)-এর সাথে কুফরী করেছে এবং ঐ অবস্থাতেই মারা গেছে।এ আয়াতটি মুনাফিকদের নেতা ও ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালের ব্যাপারে বিশেষভাবে অবতীর্ণ হলেও এটা ব্যাপক ও সাধারণ হুকুম। যার মধ্যেই নিফাক বা কপটতা পাওয়া যাবে তারই ব্যাপারে এই হুকুম প্রযোজ্য হবে। সহীহ বুখারীতে ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই মারা গেলে তার পুত্র আব্দুল্লাহ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ) -এর দরবারে হাযির হয়ে আবেদন করেঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)!
আমার পিতার কাফনের জন্যে আপনার গায়ের জামাটি দান করুন!” রাসূলুল্লাহ (সঃ) তার আবেদন মঞ্জুর করে তাকে জামাটি দিয়ে দেন। অতঃপর তিনি নবী (সঃ)-কে তাঁর পিতার জানাযার নামায পড়াবার জন্যে অনুরোধ করেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁর এ আবেদনও কবুল করেন এবং তার জানাযা পড়াবার জন্যে দাড়িয়ে যান। তখন উমার (রাঃ) তার কাপড়ের অঞ্চল টেনে ধরে বলেনঃ “আপনি এর জানাযার নামায পড়াবেন? অথচ আল্লাহ তা'আলা আপনাকে এ থেকে নিষেধ করেছেন!”রাসূলুল্লাহ (সঃ) তখন তাকে বলেনঃ “দেখো, আল্লাহ তাআলা আমাকে ইখতিয়ার দিয়ে বলেছেন- ‘তুমি তাদের (মুনাফিকদের) জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা কর বা নাই কর (সমান কথা), যদি তুমি তাদের জন্যে সত্তর বারও ক্ষমা প্রার্থনা কর তবুও আল্লাহ তাদেরকে কখনো ক্ষমা করবেন না।
সুতরাং আমি সত্তরেরও অধিক বার ক্ষমা প্রার্থনা করবো।” উমার (রাঃ) বললেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! এ লোকটি তো মুনাফিক ছিল।” তথাপিও রাসূলুল্লাহ (সঃ) তার জানাযার নামায পড়ালেন। তখন মহা মহিমান্বিত আল্লাহ এ আয়াতটি অবতীর্ণ করেন। অন্য রিওয়ায়াতে আছে যে, ইবনে উমার (রাঃ) বলেনঃ “রাসূলুল্লাহ (সঃ) আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই এর জানাযার নামায পড়ান এবং আমরাও তার সাথে নামায পড়ি। তখন আল্লাহ তা'আলা এই আয়াত অবতীর্ণ করেন।”ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ “যখন আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই মারা যায় তখন তার জানাযার নামায পড়াবার জন্যে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে ডাকা হয়।
তিনি নামাযের জন্যে দাঁড়িয়ে গেলে আমি সফ’ বা সারির মধ্য থেকে বের হয়ে তার সামনে হাযির হই এবং বলি, আপনি কি আল্লাহর শত্রু আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই এর জানাযার নামায পড়াবেন? অথচ অমুক দিন সে এ কথা বলেছিল এবং অমুক দিন ঐ কথা বলেছিল। তিনি তার কথাগুলোর পুনরাবৃত্তি করেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ) মুচকি হেসে সবই শুনতে থাকেন। অবশেষে তিনি বলেনঃ “হে উমার! আমাকে ছেড়ে দাও। আল্লাহ তাআলা আমাকে ক্ষমা প্রার্থনা করার ইখতিয়ার দিয়েছেন। আমি যদি জানতে পারি যে, সত্তরের অধিকবার ক্ষমা প্রার্থনা করলে তার পাপরাশি ক্ষমা করিয়ে নিতে পারবো তবে অবশ্যই আমি সত্তরেরও অধিকবার তার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করবো।” এ কথা বলে তিনি তার জানাযার নামায পড়ান, জানাযার সাথেও চলেন এবং দাফন কার্যেও শরীক থাকেন।
উমার (রাঃ) বলেনঃ “এরপর আমার এই ঔদ্ধত্যপনার কারণে আমি দুঃখ করতে লাগলাম যে, এসব ব্যাপারে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই (সঃ) খুব ভাল জানেন। সুতরাং এরূপ হঠকারিতা করা আমার পক্ষে মোটেই উচিত হয়নি। অল্পক্ষণ পরেই এ দু'টি আয়াত অবতীর্ণ হয়ে যায়। এরপরে শেষ জীবন পর্যন্ত নবী (সঃ) না কোন মুনাফিকের জানাযার নামায পড়িয়েছেন, না তার কবরে এসে দুআ' ইসতিগফার করেছেন।” (হাদীসটি মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে)জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, যখন আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই মারা যায় তখন তার পুত্র রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কছে এসে আরয করেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)!
যদি আপনি আমার পিতার জানাযা না পড়ান তবে এটা চিরদিনের জন্যে আমাদের পক্ষে দুর্ভাগ্যের কারণ হবে।” তিনি যখন হাযির হন তখন উবাইকে কবরে নামিয়ে দেয়া হয়েছিল। তিনি বললেনঃ “এর পূর্বেই কেন আমাকে নিয়ে আসনি?” অতঃপর তাকে কবর থেকে উঠিয়ে নেয়া হলো। তখন তিনি তার সারা দেহে নিজের মুখের থুথু দিয়ে দম করলেন। আর তাকে জামাটি পরিয়ে দিলেন। (এ হাদীসটিও ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন) সহীহ বুখারীতে আব্দল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (সঃ) আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই-এর কাছে এমন সময় আগমন করেন যখন তাকে কবরে প্রবেশ করিয়ে দেয়া হয়েছিল। তিনি তাকে কবর থেকে বের করার নির্দেশ দেন।
সুতরাং তাকে কবর হতে বের করা হয়। তিনি তাকে স্বীয় জানুদ্বয়ের উপর রাখেন এবং তার উপর থুথু দিয়ে দম করেন। অতঃপর তাকে নিজের জামাটি পরিয়ে দেন। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে যে, মৃত্যুর পূর্বে আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই নিজেই অসিয়ত করে গিয়েছিল যেন তার জানাযা স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সঃ) পড়িয়ে দেন। তার মৃত্যুর পর তার পুত্র রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর দরবারে হাযির হয়ে বলেনঃ “আমার পিতা অসিয়ত করে গেছেন যে, আপনি যেন তার জানাযার নামায পড়িয়ে দেন। তার এ অসিয়তও রয়েছে যে, আপনার জামা দ্বারা যেন তাকে কাফন পরানো হয়।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) যেই মাত্র তার জানাযা শেষ করেছেন, তখনই জিবরাঈল (আঃ) এ আয়াতগুলো নিয়ে অবতীর্ণ হন।
আর একটি রিওয়ায়াতে আছে যে, জিবরাঈল (আঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কাপড়ের অঞ্চল ধরে তাঁর সালাতের ইচ্ছার সময়েই তাঁকে এ আয়াত শুনিয়ে দেন। কিন্তু এই রিওয়ায়াতটি দুর্বল। আর একটি বর্ণনায় রয়েছে যে, আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই রোগাক্রান্ত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে তার কাছে যাওয়ার নিবেদন করে ডেকে পাঠায়। তিনি তার নিকট গমন করেন। নবী (সঃ) তাকে বলেনঃ “ইয়াহুদীদের প্রেম তোমাকে ধ্বংস করে দিয়েছে।” সে বলেঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! এখন ধমক ও তিরস্কারের সময় নয়। বরং আমার আকাক্ষা এই যে, আপনি আমার জন্যে দুআ ও ক্ষমা প্রার্থনা করবেন এবং যখন আমি মারা যাব তখন আপনার জামা দ্বারা আমাকে কাফন পরাবেন।” সুতরাং তার মৃত্যুর পর তার ছেলে আব্দুল্লাহ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট তার জামাটি চাইলেন, যেন তা দ্বারা স্বীয় পিতার কাফন বানাতে পারেন।
কোন কোন গুরুজন আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইকে জামা প্রদানের কারণ প্রসঙ্গে বলেছেন যে, আব্বাস (রাঃ) যখন আগমন করেন তখন তার জন্যে একটি জামা চাওয়া হয়। কিন্তু তিনি খুব লম্বা চওড়া দেহ বিশিষ্ট লোক ছিলেন বলে আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই এর জামা ছাড়া অন্য কারো জামা তার গায়ে ঠিক হয়নি। তখন তার জামাটিই তাঁকে দেয়া হয়। এরই প্রতিদান হিসাবে রাসূলুল্লাহ (সঃ) আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই-এর কাফনের জন্যে তার জামাটি দান করেন। এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (সঃ) কোন মুনাফিকের জানাযা পড়াননি এবং কারো জন্যে ক্ষমা প্রার্থনাও করেননি।মুসনাদে আহমাদে রয়েছে যে, যখন রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে কোন জানাযার জন্যে ডাকা হতো তখন তিনি ঐ মৃতব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতেন।
জনগণ তার সম্পর্কে ভাল মন্তব্য করলে তিনি গিয়ে তার জানাযা পড়াতেন। আর যদি তার সম্পর্কে এরূপ ওরূপ কথা তার কানে আসতো তবে তিনি স্পষ্টভাবে যেতে অস্বীকার করতেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর ইন্তিকালের পর উমার (রাঃ)-এর নীতি এই ছিল যে, যার জানাযা হুযাইফা (রাঃ) পড়তেন, তিনিও তার জানাযায় শরীক হতেন। আর হুযাইফা (রাঃ) যার জানাযা পড়তেন না, তিনিও পড়তেন না। কেননা রাসূলুল্লাহ হুযাইফা (রাঃ)-কে মুনাফিকদের নাম নির্দিষ্টভাবে বলে দিয়েছিলেন। ঐ নামগুলো শুধু তাঁরই জানা ছিল। এ জন্যেই তাঁকে “রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর বিশ্বস্তজন” আখ্যা দেয়া হয়েছে। এমন কি একদিন এটাও ঘটেছিল যে, উমার (রাঃ) এক ব্যক্তির জানাযার জন্যে দাঁড়িয়েছেন, এমন সময় হুযাইফা (রাঃ) তাঁকে চিমটি কেটে এ থেকে বিরত রাখেন।মুনাফিকদের ব্যাপারে জানাযা এবং ক্ষমা প্রার্থনা থেকে মুসলিমদেরকে বিরত রাখা এই বিষয়েরই দলীল যে, মুসলিমদের ব্যাপারে এ দুটো বিষয়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
এতে মৃতদের জন্যেও পূর্ণ উপকার রয়েছে এবং জীবিতদের জন্যেও পূর্ণ প্রতিদান রয়েছে, যেমন বিশুদ্ধ হাদীস দ্বারা এটা প্রমাণিত। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি জানাযায় হাযির হয়ে সালাত আদায় করা পর্যন্ত তথায় উপস্থিত থাকে তার জন্যে রয়েছে এক কীরাত (সওয়াব)। আর যে ব্যক্তি দাফন করা পর্যন্ত হাযির থাকে তার জন্যে রয়েছে দু’কিরাত (সওয়াব)।” জিজ্ঞেস করা হলোঃ “কীরাত কি?” উত্তরে তিনি বললেনঃ “সবচেয়ে ছোট কীরাত হচ্ছে উহুদ পাহাড়ের মত।” রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর অভ্যাস ছিল এই যে, মৃতব্যক্তির দাফনকার্য শেষ করার পর তিনি তার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে সাহাবীদেরকে হুকুম করতেনঃ “তোমাদের সাথীর জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং কবরে তার অটল ও স্থির থাকার দুআ কর।
এই সময় কবরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”
আর তাদের মধ্যে কারো মৃত্যু হলে আপনি কখনো তার জন্য জানাযার সালাত পড়বেন না এবং তার কবরের পাশে দাঁড়াবেন না [১]; তারা তো আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে অস্বীকার করেছিল এবং ফাসেক অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়েছে।
[১] এ আয়াত দ্বারা একথা প্রমাণিত হয় যে, কোন কাফেরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে তার সমাধিতে দাঁড়ানো কিংবা তা যেয়ারত করতে যাওয়া জায়েয নয়। এ আয়াত নাযিল হওয়ার পরে রাসূলুলাহ সালালাহু আলাইহি ওয়া সালাম আর কোন মুনাফিকের জানাযায় হাজির হতেন না এবং তাদের কবরের পাশেও দাড়াতেন না। [ইবন কাসীর] আবু কাতাদা বলেন, রাসূলুলাহ সালালাহু আলাইহি ওয়া সালামের কাছে যখন কোন জানাযা হাজির হতো, তখন তিনি তার সম্পর্কে লোকদের জিজ্ঞেস করতেন, তারা যদি ভালো বলে সত্যয়ন করত তখন তিনি তার উপর সালাত আদায় করতেন। পক্ষান্তরে যদি তারা তার সম্পর্কে অন্য কিছু বলতো, তখন তিনি বলতেন, তোমরা এটাকে নিয়ে কি করবে কর, তিনি নিজে সালাত আদায় করতেন না [মুসনাদে আহমাদ: ৫/২৯৯] অথচ যদি ঈমানদার হতেন, তাহলে রাসূলুলাহ সালালাহু আলাইহি ওয়া সালাম তার জন্য দোআ করার জন্য কবরের পাশে দাঁড়াতেন।
হাদীসে এসেছে, রাসূলুলাহ সালালাহু আলাইহি ওয়া সালাম বলেছেন, যে কেউ জানাযার সালাত শেষ হওয়া পর্যন্ত থাকবে তার জন্য এক কীরাত, আর যে কেউ সালাত শেষ হওয়ার পর দাফন পর্যন্ত থাকবে তার জন্য দুই কীরাত। বলা হল, কেমন দুই কীরাত? তিনি বললেন, তার ছোটটি ওহুদ পাহাড়ের সমতুল্য। [বুখারী: ১৩২৫; মুসলিম: ৯৪৫] অন্য হাদীসে এসেছে, রাসূলুলাহ সালালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন দাফন শেষ করতেন, তখন তার কবরের পাশে দাঁড়াতেন এবং বলতেন, তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা চাও, আর তার জন্য স্থিতি বা দৃঢ়তার জন্য দোআ কর; কেননা তাকে এখন প্রশ্ন করা হচ্ছে। [আবুদাউদ: ৩২২১]
[সূরা আত-তাওবাহ (৯): আয়াত ৮৪] পূর্ণ পৃষ্ঠা
"আল-খালিফীন" বলতে মুনাফিকদের মধ্যে যারা পিছনে রয়ে গিয়েছিল তাদের বোঝানো হয়েছে। হাসান (রহ.) বলেন: এর অর্থ হলো নারী এবং পুরুষদের মধ্যে যারা দুর্বল তাদের সাথে অবস্থান করা; তবে এখানে (উভয় লিঙ্গকে অন্তর্ভুক্ত করতে) পুংলিঙ্গবাচক শব্দকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। আবার বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো তোমরা পাপাচারীদের সাথে বসে থাকো। এটি আরবদের এই প্রবাদ থেকে নেওয়া হয়েছে যে, "অমুক ব্যক্তি তার পরিবারের কলঙ্ক (খালিফাহ)" যখন সে তাদের মধ্যে পাপাচারী হয়। এটি রোজাদারের মুখের গন্ধ (খুলুফ) পরিবর্তনের মূল শব্দমূল থেকে উদ্ভূত। আবার যেমন বলা হয়: "দুধ নষ্ট হয়ে গেছে", অর্থাৎ পাত্রে দীর্ঘ সময় থাকার ফলে তা বিকৃত হয়ে গেছে।
এই অর্থ অনুযায়ী এর তাৎপর্য দাঁড়ায়: তোমরা পাপাচারীদের সাথে বসে থাকো। এটি নির্দেশ করে যে, যুদ্ধে নিরুৎসাহ প্রদানকারী ব্যক্তিকে সাথে নেওয়া বৈধ নয়। [সূরা আত-তাওবাহ (৯): আয়াত ৮৪]আর তাদের মধ্যে কারো মৃত্যু হলে আপনি কখনো তার ওপর জানাজার সালাত পড়বেন না এবং তার কবরের পাশে দাঁড়াবেন না। নিশ্চয়ই তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি কুফরি করেছে এবং পাপাচারী অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়েছে (৮৪)।এতে এগারোটি মাসআলা রয়েছে: প্রথম— বর্ণিত আছে যে, এই আয়াতটি আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুল এবং তার ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জানাজা পড়ার প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়েছে।
এটি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) এবং অন্যান্য গ্রন্থে প্রমাণিত। রেওয়ায়েতসমূহ থেকে স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জানাজা পড়েছিলেন এবং এরপর এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন জানাজা পড়ার জন্য সামনে অগ্রসর হলেন, তখন জিবরাঈল (আ.) এসে তাঁর কাপড় টেনে ধরলেন এবং তাঁর সামনে তিলাওয়াত করলেন: "আর তাদের মধ্যে কারো মৃত্যু হলে আপনি কখনো তার ওপর জানাজার সালাত পড়বেন না"—এই আয়াতটি। ফলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিরে আসলেন এবং জানাজা পড়লেন না।
তবে প্রমাণিত রেওয়ায়েতসমূহ এর বিপরীত। বুখারীতে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জানাজা পড়লেন এবং এরপর ফিরে আসলেন। এর অল্প সময় পরই সূরা বারআত (তাওবাহ)-এর এই আয়াতদ্বয় নাজিল হয়: "আর তাদের মধ্যে কারো মৃত্যু হলে আপনি কখনো তার ওপর জানাজার সালাত পড়বেন না"। ইবনে উমর (রা.) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে, যা ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন। ইবনে উমর (রা.) বলেন: যখন আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুল মারা গেল, তার পুত্র আবদুল্লাহ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকটে আসলেন এবং তাঁর কাছে আবেদন করলেন যাতে তিনি তাঁর জামাটি প্রদান করেন যা দিয়ে তিনি তাঁর পিতাকে কাফন পরাবেন।
তিনি তাকে তা প্রদান করলেন। এরপর তিনি নবীজীর কাছে তাঁর জানাজা পড়ার অনুরোধ জানালেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জানাজা পড়ার জন্য দণ্ডায়মান হলেন। এমতাবস্থায় উমর (রা.) দাঁড়িয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাপড় ধরে ফেললেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কি তার জানাজা পড়বেন অথচ আল্লাহ আপনাকে তার ওপর সালাত পড়তে নিষেধ করেছেন? তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "আল্লাহ তাআলা আমাকে এখতিয়ার দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: ‘আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন অথবা না করুন; যদি আপনি তাদের জন্য সত্তর বারও ক্ষমা প্রার্থনা করেন’ [তাওবাহ: ৮০]।
আর আমি এর চেয়েও বাড়িয়ে দেব..."
পূর্ণ পৃষ্ঠা পূর্ণ পৃষ্ঠা পূর্ণ পৃষ্ঠা
নবী (সা.) বললেন, আমি সত্তর বারের চেয়েও বেশি (ক্ষমা প্রার্থনা) করব।অতঃপর আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: "আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন বা না করুন, তা তাদের জন্য সমান; আল্লাহ তাদের কখনোই ক্ষমা করবেন না।" (সূরা মুনাফিকুন, আয়াত: ৬)।ইবনে আবি শায়বা, ইবনে জারির এবং ইবনুল মুনজির মুজাহিদ (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: যখন এই আয়াত অবতীর্ণ হলো— "যদি আপনি তাদের জন্য সত্তর বারও ক্ষমা প্রার্থনা করেন, তবুও আল্লাহ তাদের কখনোই ক্ষমা করবেন না"—তখন নবী (সা.) বললেন: আমি সত্তর বারের বেশি করব। অতঃপর আল্লাহ তাআলা সেই সূরায় অবতীর্ণ করলেন যেখানে মুনাফিকদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে— "আল্লাহ তাদের কখনোই ক্ষমা করবেন না।" (সূরা মুনাফিকুন, আয়াত: ৬)।ইবনে জারির ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হলো, আমি শুনলাম যে আমার পালনকর্তা তাদের ব্যাপারে আমাকে অবকাশ দিয়েছেন।
তাই আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই সত্তর বারের চেয়েও বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করব, সম্ভবত আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দেবেন।অতঃপর তাদের ওপর আল্লাহর চরম ক্রোধের কারণে আল্লাহ বললেন: "আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন বা না করুন, তা তাদের জন্য সমান; আল্লাহ তাদের কখনোই ক্ষমা করবেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না।" (সূরা মুনাফিকুন, আয়াত: ৬)।ইমাম আহমদ, বুখারি, তিরমিজি, নাসায়ি, ইবনে আবি হাতিম, আন-নাহহাস, ইবনে হিব্বান, ইবনে মারদুওয়াইহ এবং আবু নুয়াইম 'আল-হিলইয়া' গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি ওমর (রা.)-কে বলতে শুনেছি: যখন আবদুল্লাহ ইবনে উবাই মারা গেল, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে তার জানাজার নামাজের জন্য ডাকা হলো।
তিনি তার লাশের সামনে দাঁড়ালেন। যখন তিনি দাঁড়ালেন, তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আল্লাহর শত্রু আবদুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের জানাজা পড়ছেন, যে অমুক অমুক কথা বলেছিল এবং অমুক অমুক কাজ করেছিল? আমি তার কৃতকর্মগুলো একে একে স্মরণ করিয়ে দিতে লাগলাম, আর রাসূলুল্লাহ (সা.) মুচকি হাসছিলেন। যখন আমি অনেক বেশি বলতে লাগলাম, তখন তিনি বললেন: হে ওমর, তুমি আমার থেকে সরে দাঁড়াও। আমাকে ইখতিয়ার (পছন্দ করার সুযোগ) দেওয়া হয়েছে। আমাকে বলা হয়েছে— "আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন বা না করুন; যদি আপনি তাদের জন্য সত্তর বারও ক্ষমা প্রার্থনা করেন..."।
সুতরাং আমি যদি জানতাম যে সত্তর বারের বেশি করলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে, তবে আমি অবশ্যই তার বেশি করতাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) তার জানাজা পড়লেন এবং তার সাথে হাঁটলেন যতক্ষণ না তিনি তার কবরের পাশে দাঁড়ালেন এবং দাফন সম্পন্ন হলো। আমি তখন নিজের আচরণের জন্য এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে আমার ধৃষ্টতার জন্য অবাক হচ্ছিলাম; অথচ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক অবগত। আল্লাহর কসম, এর কিছুক্ষণ পরেই এই দুটি আয়াত অবতীর্ণ হলো: "তাদের মধ্যে কারো মৃত্যু হলে আপনি কখনো তার জানাজা পড়বেন না এবং তার কবরের পাশে দাঁড়াবেন না।" (সূরা তাওবাহ, আয়াত: ৮৪)।
এরপর থেকে রাসূলুল্লাহ (সা.) আর কোনো মুনাফিকের জানাজা পড়েননি যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা তাঁর ওফাত দান করেন।ইবনে আবি হাতিম শাবি (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেছেন: ইসলামে থাকাকালীন আমি এমন এক ভুল করে ফেলেছিলাম যা আগে কখনো করিনি। রাসূলুল্লাহ (সা.) আবদুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের জানাজা পড়াতে চাইলেন, তখন আমি তাঁর কাপড় টেনে ধরলাম এবং বললাম: আল্লাহর কসম, আল্লাহ আপনাকে এমন আদেশ দেননি; আল্লাহ তো বলেছেন— "আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন বা না করুন; যদি আপনি তাদের জন্য সত্তর বারও ক্ষমা প্রার্থনা করেন, তবে আল্লাহ তাদের কখনোই ক্ষমা করবেন না।" তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: আমার রব আমাকে ইখতিয়ার দিয়েছেন এবং বলেছেন— "আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন বা না করুন।" অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) বসলেন...
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরের কিনারায় অবস্থান করছিলেন। তখন লোকেরা তার পুত্রকে লক্ষ্য করে বলছিল: হে হুবাব, তুমি এটি করো; হে হুবাব, তুমি ওটি করো। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: হুবাব হচ্ছে একটি শয়তানের নাম; তুমি হলে আবদুল্লাহ।আবুশ শাইখ সুদ্দী থেকে আল্লাহর বাণী "তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন" আয়াতটির প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন যে,তিনি বলেন: এটি মুনাফিকদের জানাযার নামায সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি আরও বলেন: যখন মুনাফিক আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুল মারা গেল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আমি যদি জানতাম যে তার জন্য একাত্তর বার ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করলে তাকে ক্ষমা করা হবে, তবে আমি অবশ্যই তা করতাম।" এরপর আল্লাহ মুনাফিকদের জানাযার নামায পড়া এবং তাদের কবরের পাশে দাঁড়ানো নিষিদ্ধ করে নাযিল করলেন: (আর তাদের মধ্যে কেউ মারা গেলে আপনি কখনোই তার ওপর জানাযার নামায পড়বেন না এবং তার কবরের পাশে দাঁড়াবেন না) (সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত ৮৪)।
আর সূরা আল-মুনাফিকুনে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অবতীর্ণ হয়েছে: (আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন বা না করুন, তাদের জন্য উভয়ই সমান) (সূরা আল-মুনাফিকুন, আয়াত ৬)। আয়াত ৮১
অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর নিকট সংবাদ পাঠালেন যে, তাঁকে প্রবেশ করতে দাও। তিনি তা করলেন। এরপর মাত্র কয়েক দিন অতিবাহিত হতেই আব্দুল্লাহ অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং তাঁর যন্ত্রণা তীব্র আকার ধারণ করল। তখন তিনি তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহকে বললেন: হে বৎস, আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাছে যাও এবং তাঁকে আহ্বান করো; কেননা তুমি তাঁর নিকট চাইলে তিনি তা করবেন।তাঁর পুত্র তা-ই করলেন এবং রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাছে উপস্থিত হয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই অত্যন্ত যন্ত্রণাকাতর এবং তিনি আমার কাছে অনুরোধ করেছেন যেন আমি আপনার কাছে যাই এবং আপনি তাঁর নিকট আসেন; কেননা তিনি আপনার সাক্ষাতের জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছেন।
অতঃপর তিনি তাঁর পাদুকা পরিধান করে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং তাঁর সাথে সাহাবীদের একটি দলও দাঁড়ালেন। অবশেষে তাঁরা তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন প্রবেশ করলেন, তখন আব্দুল্লাহ তাঁর পরিবারকে বললেন: আমাকে বসিয়ে দাও। তাঁরা তাঁকে বসালেন। তখন তিনি কাঁদতে লাগলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: হে আল্লাহর শত্রু, এখন কি তুমি অস্থির হয়ে পড়লে? তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি আপনাকে আমাকে তিরস্কার করার জন্য ডাকিনি, বরং ডেকেছি যেন আপনি আমার প্রতি দয়া করেন। তখন রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দু’চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল।
তিনি বললেন: তোমার হাজত কী? তিনি বললেন: আমার হাজত হলো, আমি যখন মারা যাব তখন আপনি আমার গোসলে উপস্থিত থাকবেন, আপনার পোশাকের মধ্য থেকে তিনটি কাপড়ে আমাকে কাফন পরাবেন, আমার জানাজার সাথে হাঁটবেন এবং আমার জানাজার নামাজ পড়াবেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা-ই করলেন। এরপর এই আয়াতটি অবতীর্ণ হলো: (তাদের মধ্যে কারও মৃত্যু হলে আপনি কখনও তার জন্য জানাজার নামাজ পড়বেন না এবং তার কবরের পাশে দাঁড়াবেন না) (সূরা আত-তাওবা, আয়াত: ৮৪)। আয়াত ৯ - ১১
