At-Tawbah
আত-তাওবা: 112
9 আত-তাওবা At-Tawbah · 129 আয়াত التوبة
মূল আরবি
ٱلتَّـٰٓئِبُونَ ٱلْعَـٰبِدُونَ ٱلْحَـٰمِدُونَ ٱلسَّـٰٓئِحُونَ ٱلرَّٰكِعُونَ ٱلسَّـٰجِدُونَ ٱلْـَٔامِرُونَ بِٱلْمَعْرُوفِ وَٱلنَّاهُونَ عَنِ ٱلْمُنكَرِ وَٱلْحَـٰفِظُونَ لِحُدُودِ ٱللَّهِ ۗ وَبَشِّرِ ٱلْمُؤْمِنِينَ
English Translations
[Such believers are] the repentant, the worshippers, the praisers [of Allāh], the travelers [for His cause], those who bow and prostrate [in prayer], those who enjoin what is right and forbid what is wrong, and those who observe the limits [set by] Allāh. And give good tidings to the believers.
(The believers whose lives Allah has purchased are) those who repent to Allah (from polytheism and hypocrisy, etc.), who worship Him, who praise Him, who fast (or go out in Allah's Cause), who bow down (in prayer), who prostrate themselves (in prayer), who enjoin (people) for Al-Ma'ruf (i.e. Islamic Monotheism and all what Islam has ordained) and forbid (people) from Al-Munkar (i.e. disbelief, polytheism of all kinds and all that Islam has forbidden), and who observe the limits set by Allah (do all that Allah has ordained and abstain from all kinds of sins and evil deeds which Allah has forbidden). And give glad tidings to the believers.
(They are) those who repent, those who worship, those who praise (Allah), those who journey (in Allah’s way), those who bow in Rukū‘, those who prostrate in sajdah, those who bid the Fair and forbid the Unfair and those who preserve the limits prescribed by Allah. And give the good news to the believers.
[9:112] Those who constantly turn to Allah in repentance, who constantly worship Him, who celebrate His praise, who go about the world to serve His cause, who bow down to Him, who prostrate themselves before Him, who enjoin what is good and forbid what is evil, and who keep the limits set by Allah. Announce glad tidings to such believers.
(Triumphant) are those who turn repentant (to Allah), those who serve (Him), those who praise (Him), those who fast, those who bow down, those who fall prostrate (in worship), those who enjoin the right and who forbid the wrong and those who keep the limits (ordained) of Allah - And give glad tidings to believers!
Those that turn (to Allah) in repentance; that serve Him, and praise Him; that wander in devotion to the cause of Allah,: that bow down and prostrate themselves in prayer; that enjoin good and forbid evil; and observe the limit set by Allah;- (These do rejoice). So proclaim the glad tidings to the Believers.
বাংলা অনুবাদ
তারা অনুশোচনাভরে (আল্লাহর দিকে) প্রত্যাবর্তনকারী, ‘ইবাদাতকারী, আল্লাহর প্রশংসাকারী, রোযা পালনকারী, রুকু‘কারী, সাজদাহকারী, সৎকাজের আদেশ দানকারী, অন্যায় কাজ হতে নিষেধকারী, আল্লাহর নির্ধারিত সীমা সংরক্ষণকারী, কাজেই (এসব) মু’মিনদেরকে সুসংবাদ দাও।
তারা তাওবাকারী, ইবাদাতকারী, আল্লাহর প্রশংসাকারী, সিয়াম পালনকারী, রুকূকারী, সিজ্দাকারী, সৎকাজের আদেশদাতা, অসৎকাজের নিষেধকারী এবং আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা হেফাযতকারী। আর মুমিনদেরকে তুমি সুসংবাদ দাও।
তারা হচ্ছে তাওবাহকারী, ইবাদাতকারী, আল্লাহর প্রশংসাকারী, সিয়াম পালনকারী, রুকু ও সাজদাহকারী, সৎ বিষয় শিক্ষা প্রদানকারী এবং মন্দ বিষয়ে বাধা প্রদানকারী, আল্লাহর সীমাসমূহের (অর্থাৎ আহকামের) সংরক্ষণকারী; আর তুমি এমন মু’মিনদেরকে সুসংবাদ শুনিয়ে দাও।
তারা তাওবাহকারী, ‘ইবাদাতকারী, আল্লাহ্র প্রশংসাকারী, সিয়াম পালনকারী, রুকূ’কারী, সিজদাকারী, সৎকাজের আদেশদাতা, অসৎকাজের নিষেধকারী এবং আল্লাহ্র নির্ধারিত সীমারেখা সংরক্ষণকারী; আর আপনি মুমিনদেরকে শুভ সংবাদ দিন।
তারা তাওবাহকারী, ‘ইবাদতকারী, আল্লাহর প্রশংসাকারী, সিয়াম পালনকারী, রুকূ‘কারী, সিজ্দাকারী, সৎ কার্যের নির্দেশদাতা, অসৎ কার্যে নিষেধকারী এবং আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা সংরক্ষণকারী; এ মু’মিনদেরকে তুমি শুভ সংবাদ দাও।
১১২. এ জাতীয় প্রতিদান অর্জনকারীরা আল্লাহর অপছন্দনীয় ও রাগের বস্তু থেকে তাঁর পছন্দনীয় ও সন্তুষ্টির বস্তুর ফিরে আসে। যারা আল্লাহর ভয়ে ও তাঁর সামনে অতিশয় বিনয়ী হয়ে সত্যিকারার্থেই তাঁর আনুগত্য করে এবং সর্বাবস্থায় তাঁদের প্রতিপালকের প্রশংসা করে। যারা রোযাদার, নামাযী, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ এবং নিষেধ মান্যকারী উপরন্তু তাঁর আদেশ ও নিষেধের হিফাযতকারী। হে রাসূল! আপনি এ বৈশিষ্ট্যাবলীর অধিকারী মু’মিনদেরকে এমন বস্তুর সংবাদ দিন যা দুনিয়া ও আখিরাতে তাদেরকে আনন্দিত করবে।
তাফসীর
এই পবিত্র আয়াতটি ঐ মুমিনদের প্রশংসায় অবতীর্ণ হয়েছে যাদের জান ও মালকে আল্লাহ তা'আলা তাদের এই উত্তম গুণাবলীর বিনিময়ে ক্রয় করে নিয়েছেন। তারা সমস্ত পাপ ও নির্লজ্জতাপূর্ণ কার্য থেকে বিরত থাকে, নিজেদের প্রতিপালকের ইবাদতের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং নিজেদের কথা ও কাজের উপর কড়া দৃষ্টি রাখে। কথার মধ্যে বিশিষ্ট বিষয় হচ্ছে আল্লাহর প্রশংসা। এ জন্যেই মহান আল্লাহ (আরবী) বলেছেন। আর আমল ও কাজের দিক দিয়ে উত্তম কাজ হচ্ছে সিয়াম। সিয়াম বা রোযা বলা হয় পানাহার, স্ত্রী-সহবাস হতে বিরত থাকাকে। আর (আরবী) দ্বারা এই সিয়ামকেই বুঝানো হয়েছে।
আল্লাহ তা'আলা (আরবী) বলেছেন। যেমন তিনি (আরবী) শব্দ দ্বারা নবী (সঃ)-এর সহধর্মিণীদের প্রশংসা করেছেন। এই (আরবী) দ্বারা (আরবী) ভাবার্থ নেয়া হয়েছে। অনুরূপভাবে (আরবী) ও (আরবী) দ্বারা সালাত বা নামায অর্থ নেয়া হয়েছে এবং (আরবী) ও (আরবী) বলা হয়েছে। তারা শুধু নিজেদের উপকারের প্রতি লক্ষ্য রেখেই ইবাদত করে না, বরং আল্লাহর অন্যান্য বান্দাদেরকেও সুপথ প্রদর্শন করতঃ “সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ”-এর উপর আমল করে উপকার পৌছিয়ে থাকে। কোন্ কাজ করা উচিত এবং কোন্ কাজ পরিত্যাগ করা ওয়াজিব এসব কথা বাতলিয়ে থাকে আর জ্ঞান ও আমল উভয় প্রকারে হালাল ও হারামের ব্যাপারে আল্লাহর সীমা সংরক্ষণের প্রতি তারা পূর্ণ দৃষ্টি রাখে।
সুতরাং তারা আল্লাহর ইবাদত ও সৃষ্টজীবের মঙ্গল কামনা-এই উভয় প্রকারের ইবাদতে পতাকাধারী। এ জন্যেই মহান প্রতিপালক আল্লাহ বলেন-মুমিনদেরকে শুভ সংবাদ দিয়ে দাও, কেননা ও দুটোর সমষ্টির নামই হচ্ছে ঈমান এবং পূর্ণমাত্রায় সৌভাগ্য তো তারাই লাভ করেছে যারা এই দুটো গুণে গুণান্বিত।(আরবী) দ্বারা (আরবী) বা রোযাকে বুঝানো হয়েছে। সুফিয়ান সাওরী (রঃ) বলেন যে, (আরবী) -এর অর্থ হচ্ছে (আরবী) বা সিয়াম পালনকারীগণ। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, আল্লাহ পাক কুরআন কারীমের মধ্যে যেখানেই (আরবী) শব্দ ব্যবহার করেছেন সেখানেই উদ্দেশ্য হচ্ছে (আরবী) বা (আরবী) রোযা।
যহহাকও (রঃ) এ কথাই বলেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন যে, এই উম্মতের (আরবী) হচ্ছে রমযানের সিয়াম পালন করা। মুজাহিদ (রঃ), সাঈদ (রঃ), আতা (রঃ), আব্দুর রহমান (রঃ), যহ্হাক (রঃ) এবং সুফইয়ান ইবনে উয়াইনা (রঃ) সবাই এই খেয়ালই রাখেন যে, দ্বারা রোযাদারদেরকে বুঝানো হয়েছে। হাসান বসরী (রঃ) বলেন যে, (আরবী) দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে রমযানের রোযাদারগণ। আবূ আমর আল আবদীও (রঃ) এ কথাই বলেন। একটি মারফ হাদীসেও এটাই এসেছে। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ সিয়ামকারী লোকদেরকে বলা হয়।” (এ হাদীসটি ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন ।
এটা মাওকুফ, অত্যধিক বিশুদ্ধ) উবাইদ ইবনে উমাইর (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, নবী (সঃ)-কে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেনঃ “তারা হচ্ছে সিয়ামকারী।” (এ হাদীসটি ‘মুরসাল’ এবং খুবই উত্তম। আর এটা বিশুদ্ধ ও প্রসিদ্ধতম উক্তি) এই উক্তিও আছে যে, (আরবী) দ্বারা জিহাদকে বুঝানো হয়েছে। ইমাম আবু দাউদ (রঃ) স্বীয় কিতাব সুনানের মধ্যে আবু উমামা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, একটি লোক রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট আবেদন করেঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমাকে ‘সিয়াহাত’-এর অনুমতি দিন!” তখন নবী (সঃ) বলেনঃ “আমার উম্মতের ‘সিয়াহাত’ হচ্ছে আল্লাহর পথে জিহাদ।”আম্মারা ইবনে গাযিয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একদা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট (আরবী) সম্পর্কে আলোচনা করা হলে তিনি বলেনঃ “আল্লাহ তা'আলা আমাদের জন্যে আল্লাহর পথে জিহাদ করাকে ও প্রত্যেক উঁচু স্থানের উপর তাকবীর পাঠ করাকে (আরবী) বানিয়েছেন।” ইকরামা (রঃ)-এর খেয়াল এই যে, এর দ্বারা বিদ্যা অন্বেষণকারীদেরকে বুঝানো হয়েছে।
আর আব্দুর রহমান ইবনে যায়েদ ইবনে আসলাম (রঃ) বলেন যে, এর দ্বারা মুহাজিরদেরকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। এই উক্তি দু’টি ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন। এখানে এটা মনে রাখার বিষয় যে, এই স্থালে ‘সিয়াহাত' দ্বারা ঐ অর্থ বুঝানো হয়নি যা কোন কোন দরবেশ ও বনবাসী প্রকৃতির লোক বুঝেছেন যে, এর অর্থ হচ্ছে ভূ-পৃষ্ঠে একাকী সফর করা এবং ঐ লোকগুলোর উদ্দেশ্য, যারা পাহাড়-পর্বতে, খাল-খন্দকে এবং বন-জঙ্গলে ঘুরে বেড়ায় ও জনপদ থেকে পলায়ন করে। কেননা এরূপ করা শরীয়ত সম্মত নয়। তবে হ্যাঁ, যদি ফিৎনার যুগ হয় এবং দ্বীনের মধ্যে অসঙ্গতিপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর অবস্থার সৃষ্টি হয় তাহলে সেটা অন্য কথা।
যেমন সহীহ বুখারীতে আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “অচিরেই এমন এক যামানা আসবে যখন কোন ব্যক্তির সর্বোত্তম মাল হবে তার বকরীগুলো, যেগুলোকে সে পাহাড়-পর্বতে ও বৃষ্টিবর্ষণের স্থানে চরিয়ে নিয়ে বেড়াবে এবং ফিত্না হতে বাঁচার উদ্দেশ্যে নিজের দ্বীন নিয়ে পালাতে থাকবে।”(আরবী) দ্বারা আল্লাহর আনুগত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদেরকে বুঝানো হয়েছে। আর হাসান বসরী (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, এর দ্বারা ঐ সব। লোককে বুঝানো হয়েছে যারা আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ যথাযথভাবে পালন করে এবং তার উপর সুপ্রতিষ্ঠিত থাকে।
তারা [১] তাওবাহকারী, ‘ইবাদাতকারী, আল্লাহ্র প্রশংসাকারী, সিয়াম পালনকারী [২] , রুকূ’কারী, সিজদাকারী, সৎকাজের আদেশদাতা, অসৎকাজের নিষেধকারী এবং আল্লাহ্র নির্ধারিত সীমারেখা সংরক্ষণকারী [৩]; আর আপনি মুমিনদেরকে শুভ সংবাদ দিন।
[১] এ গুণাবলী হলো সেসব মুমিনের যাদের সম্পর্কে পূর্বের আয়াতে বলা হয়েছে- আল্লাহ্ জান্নাতের বিনিময়ে তাদের জান-মাল খরিদ করে নিয়েছেন’। আল্লাহ্র রাহে জিহাদকারী সবাই এ আয়াতের মর্মভুক্ত। তবে এখানে যে সমস্ত গুণাবলীর উল্লেখ হয়েছে, তা শর্তরূপে নয়। কারণ, আল্লাহর রাহে কেবল জিহাদের বিনিময়েই জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। তবে এ গুণাবলী উল্লেখের উদ্দেশ্য এই যে, যারা জান্নাতের উপযুক্ত, তারা এ সকল গুণের অধিকারী হয়। [কুরতুবী]
[২] অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে আয়াতে উল্লেখিত (السائحون) দ্বারা উদ্দেশ্য সাওম পালনকারীগণ। [কুরতুবী; ইবন কাসীর] আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ ও আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুম বলেন, কুরআন মাজীদে ব্যবহৃত (سائحون) শব্দের অর্থ রোযাদার। [বাগভী; কুরতুবী] তাছাড়া (سائح) বলে জিহাদকারীদেরকেও বুঝায়। তবে মূল শব্দটি (سياحة) যার অর্থঃ দেশ ভ্রমণ। বিভিন্ন ধর্মের লোক দেশ ভ্রমণকে ইবাদাত মনে করতো। অর্থাৎ মানুষ পরিবার পরিজন ও ঘর-বাড়ী ত্যাগ করে ধর্ম প্রচার করার উদ্দেশ্যে দেশ দেশান্তরে ঘুরে বেড়াত। ইসলাম একে বৈরাগ্যবাদ বলে অভিহিত করে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে [ইবন কাসীর] এর পরিবর্তে সিয়াম পালনের ইবাদতকে এর স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে।
আবার কতিপয় বর্ণনায় জিহাদকেও দেশ ভ্রমনের অনুরূপ বলা হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ‘আমার উম্মতের দেশভ্রমণ হলো জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ।’ [আবুদাউদ: ২৪৮৬]
[৩] আলোচ্য আয়াতে মুমিন মুজাহিদের আটটি গুণ উল্লেখ করে নবম গুণ হিসেবে বলা হয়েছে “আর আল্লাহর দেয়া সীমারেখার হেফাযতকারী" মূলতঃ এতে রয়েছে উপরোক্ত সাতটি গুণের সমাবেশ অর্থাৎ সাতটি গুণের মধ্যে যে তাফসীল রয়েছে, তার সংক্ষিপ্ত সার হলো যে, এরা নিজেদের প্রতিটি কর্ম ও কথায় আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা তথা শরী’আতের হুকুমের অনুগত ও তার হেফাযতকারী। [আত-তাহরীর ওয়াত তানওয়ীর]
[সূরা আত-তাওবাহ (৯): আয়াত ১১২] পূর্ণ পৃষ্ঠা
সপ্তম- মহান আল্লাহর বাণী: (আর আল্লাহর চেয়ে নিজ প্রতিশ্রুতি রক্ষায় অধিক বিশ্বস্ত আর কে আছে?) অর্থাৎ আল্লাহর চেয়ে নিজ প্রতিশ্রুতি রক্ষায় অধিক বিশ্বস্ত আর কেউ নেই। এটি ভালো কাজের প্রতিশ্রুতি (ওয়াদা) এবং মন্দ কাজের জন্য শাস্তির ভীতি (ওয়াইদ) উভয়েরই বাস্তবায়নকে শামিল করে। তবে মহান স্রষ্টার পক্ষ থেকে মন্দ কাজের শাস্তির ভীতির বিষয়টি সকলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; পক্ষান্তরে তাঁর ভালো কাজের প্রতিশ্রুতি সকলের জন্য প্রযোজ্য। আর তাঁর শাস্তির ভীতি বা ধমকি বিশেষ কিছু পাপিষ্ঠ, বিশেষ কিছু গুনাহ এবং বিশেষ কিছু অবস্থার জন্য নির্দিষ্ট। এই বিষয়টি ইতিপূর্বে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে।
অষ্টম- মহান আল্লাহর বাণী: (সুতরাং তোমরা যে কেনাবেচা করেছ, সেই চুক্তির জন্য আনন্দিত হও) অর্থাৎ তোমরা এর মাধ্যমে আনন্দ প্রকাশ করো। 'বিশারা' (সুসংবাদ) হলো চামড়া বা অবয়বে আনন্দের বহিঃপ্রকাশ ঘটানো। এটিও ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। হাসান বসরী রহ. বলেন: আল্লাহর কসম, পৃথিবীর বুকে এমন কোনো মুমিন নেই যে এই বায়আত বা চুক্তির অন্তর্ভুক্ত নয়। (আর সেটিই হলো মহাসাফল্য) অর্থাৎ জান্নাত লাভ এবং সেখানে চিরকাল অবস্থান করা। [সূরা আত-তাওবাহ (৯): আয়াত ১১২]তারা তওবাকারী, ইবাদতকারী, প্রশংসাকারী, রোজা পালনকারী (বা আল্লাহর পথে পরিভ্রমণকারী), রুকুকারী, সেজদাকারী, সৎকাজের আদেশদানকারী, অসৎকাজে নিষেধকারী এবং আল্লাহর নির্ধারিত সীমানাসমূহ হেফাজতকারী; আর মুমিনদের সুসংবাদ দিন (১১২)।এর মধ্যে তিনটি মাসয়ালা রয়েছে: প্রথম- মহান আল্লাহর বাণী: "তওবাকারী, ইবাদতকারী"।
তওবাকারী হলেন তারা, যারা আল্লাহর নাফরমানিরূপ নিন্দনীয় অবস্থা থেকে আল্লাহর আনুগত্যরূপ প্রশংসনীয় অবস্থার দিকে প্রত্যাবর্তন করেন। তওবাকারী মানেই হলো প্রত্যাবর্তনকারী। আর পাপ কাজ থেকে প্রত্যাবর্তনকারীর তুলনায় আনুগত্যের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী অধিক উত্তম, কারণ তিনি উভয় বিষয়ের (পাপ বর্জন ও আনুগত্য গ্রহণ) সমন্বয় ঘটিয়েছেন। "ইবাদতকারী" অর্থাৎ আনুগত্যশীল বান্দা, যারা তাদের ইবাদতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির সংকল্প করেন। "প্রশংসাকারী" অর্থাৎ যারা তাঁর ফয়সালায় সন্তুষ্ট এবং তাঁর নেয়ামতসমূহকে তাঁরই আনুগত্যের পথে ব্যয় করেন, যারা সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রশংসা করেন।
ইবনে মাসউদ ও ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা এবং অন্যান্যদের মতে "সায়িহুন" অর্থ রোজা পালনকারী। এ থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: "ইবাদতকারিণী, রোজা পালনকারিণী" [আত-তাহরিম: ৫]। সুফিয়ান বিন উয়াইনা বলেন: রোজা পালনকারীকে "সায়িহ" বা পরিব্রাজক বলা হয় কারণ তিনি আহার, পানীয় এবং দাম্পত্য মিলনের মতো সকল ভোগবিলাস ত্যাগ করেন। আবু তালিব বলেছেন:এবং সেই পরিব্রাজকদের (রোজা পালনকারীদের) শপথ যারা এক ফোঁটা পানিও আস্বাদন করে না … তাদের রবের সন্তুষ্টির নিমিত্তে, আর জিকিরকারী ও আমলকারী নারীদের শপথ।(১). দ্রষ্টব্য: খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৩৩৩ এবং পরবর্তী অংশ।(২).
দ্রষ্টব্য: খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৩৮।(৩). দ্রষ্টব্য: খণ্ড ১৮, পৃষ্ঠা ১৯২।
আল্লাহ ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর ওপর তা-ই অবতীর্ণ করেছেন যা তিনি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ করেছেন: (তওবাকারী, ইবাদতকারী, প্রশংসাকারী...) (সূরা আত-তাওবা, আয়াত ১১২) থেকে (মুমিনদের সুসংবাদ দিন) পর্যন্ত এবং (মুমিনগণ সফলকাম হয়েছে) (সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত ১-১১) থেকে (তারা সেখানে চিরকাল থাকবে) পর্যন্ত এবং (নিশ্চয়ই মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারীগণ...) (সূরা আল-আহযাব, আয়াত ৩৫) আয়াতটি। এবং যা সূরা আল-মাআরিজ-এ আছে: (যারা তাদের সালাতে সদানিষ্ঠ) (সূরা আল-মাআরিজ, আয়াত ২৩-৩৩) থেকে (দণ্ডায়মান) পর্যন্ত।
এই বিধানসমূহ বা বৈশিষ্ট্যসমূহ ইবরাহিম ও মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ব্যতীত অন্য কেউ পূর্ণরূপে পালন করেননি।ইবনে সাদ তাঁর 'তাবাকাত'-এ সালমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম) তাঁর রবের কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করলেন। অতঃপর ভোরবেলায় তাঁর মাথার দুই-তৃতীয়াংশ শুভ্র হয়ে গেল। তিনি বললেন: এটি কী? তাঁকে বলা হলো: এটি দুনিয়াতে গাম্ভীর্য এবং আখিরাতে নূর (আলো)।ইমাম আহমাদ 'আয-যুহদ' গ্রন্থে সালমান আল-ফারিসি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম) তাঁর বিছানায় বিশ্রাম নিতে গেলেন এবং আল্লাহর কাছে তাকে কল্যাণ দান করার প্রার্থনা করলেন।
ভোরবেলা দেখা গেল তাঁর মাথার দুই-তৃতীয়াংশ চুল পেকে গেছে। এতে তিনি ব্যথিত হলেন। তখন বলা হলো: আপনি ব্যথিত হবেন না, কারণ এটি দুনিয়াতে গাম্ভীর্য এবং আখিরাতে আপনার জন্য নূর। আর এটিই ছিল মানব ইতিহাসে সর্বপ্রথম প্রকাশিত বার্ধক্যের চিহ্ন।দায়লামি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: সর্বপ্রথম যিনি মেহেদী ও কাতাম (এক প্রকার উদ্ভিদ) দ্বারা খেজাব লাগিয়েছেন তিনি হলেন ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)।বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ ইবরাহিম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: নিশ্চয়ই ইহুদি ও খ্রিস্টানরা চুলে রঙ লাগায় না, সুতরাং তোমরা তাদের বিপরীত করো।আবু দাউদ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ এটিকে সহিহ বলেছেন আবু যার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: বার্ধক্যের শুভ্রতা পরিবর্তনের জন্য তোমরা যা ব্যবহার করো তার মধ্যে মেহেদী ও কাতামই সর্বোত্তম।তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং এটিকে সহিহ বলেছেন আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: তোমরা বার্ধক্যের শুভ্রতা পরিবর্তন করো এবং ইহুদিদের সাদৃশ্য অবলম্বন করো না।বাজ্জার ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: তোমরা অনারবদের সাদৃশ্য অবলম্বন করো না, তোমরা তোমাদের দাড়ির শুভ্রতা পরিবর্তন করো।ইবনে আবি শায়বাহ 'আল-মুসান্নাফ'-এ এবং বাজ্জার সাদ থেকে, তিনি ইবরাহিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন: সর্বপ্রথম মিম্বরে দাঁড়িয়ে যিনি খুতবা দিয়েছেন তিনি হলেন ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম); যখন লুত (আলাইহিস সালাম) বন্দী হয়েছিলেন এবং রোমক বাহিনী তাঁকে বন্দী করে নিয়ে গিয়েছিল, তখন ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম) অভিযান পরিচালনা করেন এবং তাঁকে রোমকদের হাত থেকে উদ্ধার করেন।ইবনে আসাকির হাসসান ইবনে আতিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যুদ্ধে সর্বপ্রথম সৈন্যবাহিনীকে ডান পার্শ্ব, বাম পার্শ্ব এবং মধ্যভাগ—এভাবে বিন্যস্ত করেছিলেন ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম), যখন তিনি লুত (আলাইহিস সালাম)-কে বন্দীকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যাত্রা করেছিলেন।
মহান আল্লাহর বাণী: “নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি রহমত বর্ষণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরূদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো।”ইবনে জারীর, ইবনুল মুনযির, ইবনে আবি হাতিম এবং ইবনে মারদুওয়াইহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে সালাত পাঠ করেন
আয়াতাংশের ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন যে, এর অর্থ হলো—তাঁরা বরকত দান করেন।আবদ বিন হুমাইদ এবং ইবনে আবি হাতিম আবুল আলিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবীর প্রতি আল্লাহর সালাত হলো ফেরেশতাদের নিকট তাঁর প্রশংসা করা, আর ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে সালাত হলো তাঁর জন্য দোয়া করা।ইবনে আবি হাতিম, 'আল-আযামাহ' গ্রন্থে আবুশ শায়খ এবং ইবনে মারদুওয়াইহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে—বনী ইসরাঈল মুসা (আলাইহিস সালাম)-কে জিজ্ঞাসা করেছিল: “আপনার পালনকর্তা কি সালাত (দোয়া বা রহমত) পাঠ করেন?” তখন তাঁর পালনকর্তা তাঁকে ডেকে বললেন: “হে মুসা!
যদি তারা তোমাকে জিজ্ঞাসা করে যে তোমার পালনকর্তা সালাত পাঠ করেন কি না, তবে বলো: হ্যাঁ।”“আমি এবং আমার ফেরেশতাগণ আমার নবী ও রাসূলগণের ওপর সালাত পাঠ করি।” অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর এই আয়াত অবতীর্ণ করেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি রহমত বর্ষণ করেন...
শেষ পর্যন্ত।ইবনুল মুনযির ইবনে জুরাইজ থেকে নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ...
আয়াতের প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন—তিনি বলেন: যখন এই আয়াত অবতীর্ণ হলো, তখন মানুষ তাঁকে (নবীজিকে) মুবারকবাদ জানাতে লাগল। উবাই ইবনে কাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: “আপনার শানে এমন কোনো কল্যাণ অবতীর্ণ হয়নি যাতে আমরা আপনার সাথে অংশীদার ছিলাম না, কেবল এই আয়াতটি ছাড়া (যা একান্তই আপনার সম্মানে)।”তখন অবতীর্ণ হলো: এবং মুমিনদের সুসংবাদ দিন
(সূরা আত-তাওবা, আয়াত ১১২)।ইবনে মারদুওয়াইহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে এই আয়াত সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবীর ওপর আল্লাহর সালাত হলো তাঁর পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রদর্শন।নিশ্চয়ই আল্লাহ (মাখলুকের মতো) সালাত আদায় করেন না, বরং তিনি ক্ষমা করেন।
আর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি মানুষের সালাত হলো তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা।ইবনে মারদুওয়াইহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এভাবে পাঠ করতেন: (তোমরা তাঁর ওপর দরূদ পাঠ করো যেভাবে তিনি তাঁর ওপর দরূদ পাঠ করেছেন এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো)।সাঈদ বিন মানসুর, আবদ বিন হুমাইদ, ইবনে আবি হাতিম এবং ইবনে মারদুওয়াইহ কাব বিন উজরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি রহমত বর্ষণ করেন; হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরূদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো
আয়াতটি অবতীর্ণ হলো, তখন আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল!
আপনাকে সালাম দেওয়ার পদ্ধতি তো আমরা জেনেছি, কিন্তু আপনার ওপর দরূদ পাঠ করব কীভাবে? তিনি বললেন: তোমরা বলো: “হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারবর্গের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি রহমত বর্ষণ করেছেন ইবরাহিম ও ইবরাহিমের পরিবারবর্গের ওপর। নিশ্চয়ই আপনি পরম প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারবর্গের ওপর বরকত নাযিল করুন, যেমন আপনি বরকত নাযিল করেছেন ইবরাহিম ও ইবরাহিমের পরিবারবর্গের ওপর। নিশ্চয়ই আপনি পরম প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।”ইবনে জারীর ইউনুস বিন খাব্বাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট পারস্যে খুতবা প্রদানকালে জনৈক ব্যক্তি পাঠ করলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ...
।
