At-Tur

আত-তূর: 17

52:17
টেক্সট কপি
52 আত-তূর At-Tur · 49 আয়াত الطور

মূল আরবি

إِنَّ ٱلْمُتَّقِينَ فِى جَنَّـٰتٍ وَنَعِيمٍ

English Translations

Sahih International

Indeed, the righteous will be in gardens and pleasure,

Muhsin Khan

Verily, the Muttaqun (pious - see V. 2:2) will be in Gardens (Paradise), and Delight.

Taqi Usmani

Of course, the God-fearing will be in gardens and bliss,

Abul Ala Maududi

Surely the God-fearing shall be in Gardens and bliss,

Pickthall

Lo! those who kept their duty dwell in gardens and delight,

Yusuf Ali

As to the Righteous, they will be in Gardens, and in Happiness,-

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

মুত্তাক্বীরা থাকবে জান্নাতে আর নি‘মাত সম্ভারের মাঝে,

রাওয়াই আল-বায়ান

নিশ্চয় মুত্তাকীরা (থাকবে) জান্নাতে ও প্রাচুর্যে।

শাইখ মুজিবুর রহমান

মুত্তাকীরা থাকবে জান্নাতে ও ভোগ করবে বিলাস।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

নিশ্চয় মুত্তাকীরা থাকবে জান্নাতে ও আরাম-আয়েশে,

ফাতহুল মাজীদ

নিশ্চয়ই মুত্তাকীরা থাকবে জান্নাতে ও ভোগ-বিলাসে,

মুখতাসার

১৭. অবশ্যই আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মান্য করার মাধ্যমে মুত্তাকীরা উদ্যানসমূহ ও অবারিত মহা ভোগসামগ্রীতে থাকবে।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

১৭-২০ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা সৌভাগ্যবানদের পরিণাম বর্ণনা করছেন যে, তারা ঐ সব শাস্তি হতে রক্ষা পাবে যেসব শাস্তি হতভাগ্যদেরকে দেয়া হবে এবং তাদেরকে সুখময় জান্নাতে প্রবিষ্ট করা হবে। সেখানে তারা উন্নতমানের নিয়ামত ভোগ করতে থাকবে। সেখানে তাদের জন্যে সর্ব প্রকারের ভোগ্যবস্তু, নানা প্রকারের সুখাদ্য, বিভিন্ন প্রকারের সুপেয় পানীয়, উন্নত মানের পোশাক-পরিচ্ছদ, ভাল ভাল সওয়ারী, সুউচ্চ অট্টালিকা এবং সব রকমের নিয়ামতরাশি প্রস্তুত রয়েছে। সেখানে তাদের কোন প্রকারের ভয়-ভীতি থাকবে না। মহান আল্লাহ বলেনঃ তিনি তাদেরকে রক্ষা করবেন জাহান্নামের শাস্তি হতে।

মহামহিমান্বিত আল্লাহ তাদেরকে বলবেনঃ তোমরা যা করতে তার প্রতিফল স্বরূপ তোমরা তৃপ্তির সাথে পানাহার করতে থাকো। যেমন তিনি অন্য জায়গায় বলেছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তোমরা পানাহার কর তৃপ্তির সাথে, তোমরা অতীত দিনে যা করেছিলে তার বিনিময়ে।” (৬৯:২৪)মহান আল্লাহ বলেনঃ ‘তারা শ্ৰেণীবদ্ধভাবে সজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসবে।' হযরত হায়সাম ইবনে মালিক তাঈ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ “মানুষ বালিশে হেলান দিয়ে বসে থাকবে। চল্লিশ বছর পর্যন্ত সে এভাবে আরামে বসে থাকবে, তার নড়াচড়া বা উঠবার কোনই প্রয়োজন হবে না। যা তার মনে চাইবে এবং যাতে তার চক্ষু ঠাণ্ডা হবে তাই তার কাছে এসে যাবে।” (এ হাদীসটি ইমাম ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমাদের কাছে খবর পৌঁছেছে যে, জান্নাতে মানুষ সত্তর বছর পর্যন্ত বালিশে হেলান দিয়ে আরামে বসে থাকবে।

তার কাছে পরমা সুন্দরী হুরীগণ বিদ্যমান থাকবে। তারা তার মনের চাহিদা মেটাবে। বহু খাদেম তার খিদমতের জন্যে তার চারদিকে ঘোরা ফেরা করবে। অসংখ্য নিয়ামতের মধ্যে সে ডুবে থাকবে। সত্তর বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর যখন সে অন্য দিকে ঘুরবে তখন সে সম্পূর্ণ নতুন দৃশ্য দেখতে পাবে। সে এমন হ্রদেরকে দেখতে পাবে যাদেরকে পূর্বে কখনো দেখেনি। তারা তাকে বলবেঃ “আমরা আপনার প্রতি বড়ই কৃতজ্ঞ যে, আপনার দৃষ্টি আমাদের দিকে পড়েছে।” মোটকথা, এভাবে মন মাতানো ও প্রাণ ভুলানো নিয়ামতরাশির মধ্যে তারা নিমগ্ন থাকবে। মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ তাদের একের মুখ অপরের মুখের দিকে থাকবে।

যেমন অন্য জায়গায় আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তারা মুখখামুখি হয়ে আসনে আসীন হবে।” (৩৭:৪৪)। এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ আমি তাদের মিলন ঘটাবো আয়ত-লোচনা হুরের সঙ্গে। অর্থাৎ আমি তাদের জন্যে রাখবো উত্তম সঙ্গিনী ও সুন্দরী স্ত্রী, যারা হবে আয়ত-লোচনা হুরদের মধ্য হতে। আর মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, এর ভাবার্থ হলোঃ আমি আয়ত-লোচনা হুরদের সাথে তাদের বিয়ে দিয়ে দিবো। এদের গুণাবলী সম্বলিত হাদীসগুলো কয়েক জায়গায় বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং ওগুলোর পুনরাবৃত্তি নিষ্প্রয়োজন।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

নিশ্চয় মুত্তাকীরা থাকবে জান্নাতে ও আরাম-আয়েশে,

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আত-তূর (৫২): আয়াত ১৭ থেকে ২০] পূর্ণ পৃষ্ঠা

(দুর্ভোগ) শব্দটি ধ্বংসপ্রাপ্তদের জন্য ব্যবহৃত হয়। এখানে 'ফা' (অব্যয়) যুক্ত হয়েছে কারণ এই বক্তব্যের মধ্যে প্রতিফল বা প্রতিদানের অর্থ বিদ্যমান। (যারা ক্রীড়াচ্ছলে অনর্থক বিতর্কে লিপ্ত) অর্থাৎ বাতিলের মধ্যে দোদুল্যমানতায় লিপ্ত; আর তা হলো মুহাম্মাদ (সা.)-এর নবুয়তকে অস্বীকার করার বিষয়ে তাদের মত্ততা। আবার বলা হয়েছে: তারা দুনিয়ার উপায়-উপকরণ নিয়ে মত্ত হয়ে খেল-তামাশা করছে, তারা হিসাব-নিকাশ কিংবা প্রতিফল সম্পর্কে কোনো ভ্রূক্ষেপ করে না। এটি ইতিপূর্বে (সূরা) 'বারাআত'-এ বর্ণিত হয়েছে «১»। মহান আল্লাহর বাণী: (যেদিন তাদেরকে ধাক্কা দেওয়া হবে); এখানে 'দিনটি' শব্দটি 'সেদিন'-এর স্থলাভিষিক্ত।

আর 'ধাক্কা দেওয়া হবে' এর অর্থ হলো—তাদেরকে অত্যন্ত কঠোরতা ও নিষ্ঠুরতার সাথে জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেওয়া হবে। বলা হয়ে থাকে: 'আমি তাকে সজোরে ধাক্কা দিয়েছি', অর্থাৎ আমি তাকে ঠেলে দিয়েছি। মহান আল্লাহর এই বাণীটি সেই মূল থেকেই নির্গত: (সে-ই তো সেই ব্যক্তি, যে এতিমকে রূঢ়ভাবে তাড়িয়ে দেয়) «২»। তাফসিরে বর্ণিত হয়েছে: জাহান্নামের রক্ষীরা তাদের হাতগুলোকে ঘাড়ের সাথে শিকলবদ্ধ করবে এবং তাদের কপালের চুল ও পা একত্রে বেঁধে ফেলবে। অতঃপর তাদের চেহারার ওপর উপুড় করে সজোরে ধাক্কা দিয়ে এবং ঘাড় মটকিয়ে আগুনের দিকে ঠেলে দেবে, যতক্ষণ না তারা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হয়।

আবু রাজা আল-আতারদি এবং ইবনুল সুমাইকা (যেদিন তাদেরকে জাহান্নামের আগুনের দিকে আহ্বান জানানো হবে) কিরাআতে 'দাল' বর্ণটিকে হালকাভাবে 'আহ্বান করা' অর্থে পাঠ করেছেন। যখন তারা আগুনের নিকটবর্তী হবে, তখন রক্ষীরা তাদের বলবে: (এটিই সেই আগুন, যাকে তোমরা দুনিয়াতে অস্বীকার করতে)। মহান আল্লাহর বাণী: (এটা কি তবে জাদু?)—এই প্রশ্নবোধক বাক্যটি তিরস্কার ও ধমক প্রদানের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ তাদের বলা হবে: (এটা কি জাদু) যা তোমরা এখন তোমাদের চোখে দেখছ, (নাকি তোমরা দেখতে পাচ্ছ না?)। কেউ কেউ বলেছেন: এখানে 'অথবা' শব্দটি 'বরং' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

অর্থাৎ বরং তোমরা দুনিয়াতে অন্ধ ছিলে এবং তোমাদের কোনো বোধশক্তি ছিল না। মহান আল্লাহর বাণী: (এতে দগ্ধ হও) অর্থাৎ রক্ষীরা তাদের বলবে: এতে প্রবেশের মাধ্যমে এর উত্তাপ আস্বাদন করো। (অতঃপর তোমরা ধৈর্য ধারণ করো অথবা না করো, উভয়ই তোমাদের জন্য সমান)। অর্থাৎ তোমাদের জন্য তাতে ধৈর্য থাকা বা না থাকা সমান। এখানে 'সমান' শব্দটির বিধেয় উহ্য রয়েছে; অর্থাৎ তোমাদের জন্য হাহাকার করা এবং ধৈর্য ধরা একই কথা, কোনো কিছুই তোমাদের উপকারে আসবে না। যেমনটি আল্লাহ তাদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে তারা বলবে: (আমরা হাহাকার করি কিংবা ধৈর্য ধরি—উভয়ই আমাদের জন্য সমান) «৩»।

(তোমরা যা করতে, তোমাদের কেবল তারই প্রতিফল দেওয়া হচ্ছে)। ‌‌[সূরা আত-তূর (৫২): আয়াত ১৭ থেকে ২০]নিশ্চয়ই মুত্তাকীরা থাকবে জান্নাতে ও নেয়ামতের মধ্যে। (১৭) তারা উপভোগ করবে যা তাদের পালনকর্তা তাদের দেবেন এবং তাদের পালনকর্তা তাদের জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করবেন। (১৮) (বলা হবে:) তোমরা যা করতে তার বিনিময়ে তৃপ্তির সাথে পানাহার করো। (১৯) তারা সারিবদ্ধ সিংহাসনে হেলান দিয়ে বসবে এবং আমি তাদের আয়তলোচনা হুরদের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করে দেব। (২০)(১). দেখুন খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ২০১।(২). দেখুন খণ্ড ২০, পৃষ্ঠা ২১১।(৩). দেখুন খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৩৫৫।

[ ..... ]