Al-Ma'arij

আল-মাআরিজ: 2

70:2
টেক্সট কপি
70 আল-মাআরিজ Al-Ma'arij · 44 আয়াত المعارج

মূল আরবি

لِّلْكَـٰفِرِينَ لَيْسَ لَهُۥ دَافِعٌ

English Translations

Sahih International

To the disbelievers; of it there is no preventer.

Muhsin Khan

Upon the disbelievers, which none can avert,

Taqi Usmani

the disbelievers; there is no one to avert it,

Abul Ala Maududi

(a chastisement meant) for the unbelievers, one which none can avert;

Pickthall

Upon the disbelievers, which none can repel,

Yusuf Ali

The Unbelievers, the which there is none to ward off,-

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

কাফিরদের জন্য তা প্রতিরোধ করার কেউ নেই

রাওয়াই আল-বায়ান

কাফিরদের উপর, যার কোন প্রতিরোধকারী নেই।

শাইখ মুজিবুর রহমান

কাফিরদের জন্য, ইহা প্রতিরোধ করার কেহ নেই।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

কাফিরদের জন্য, এটাকে প্রতিরোধ করার কেউ নেই।

ফাতহুল মাজীদ

(বলে দাও) কাফিরদের হতে তা প্রতিরোধ করার কেউ নেই।

মুখতাসার

২. যা আল্লাহকে অবিশ্বাসীদের জন্য অবধারিত। যে শাস্তিকে প্রতিহত করার কেউ নেই।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

70:1

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

কাফিরদের জন্য, এটাকে প্রতিরোধ করার কেউ নেই [১]।

[১] এখানে কাফেরদের উপর আযাব আসার কিছু স্বরূপ বর্ণিত হয়েছে যে, এই আযাব কাফেরদের জন্যে দুনিয়াতে কিংবা আখেরাতে কিংবা উভয় জাহানে অবধারিত। একে প্রতিহত করার সাধ্য কারও নেই। এ আযাব আল্লাহ্ তা‘আলার পক্ষ থেকে আসবে যিনি অবস্থান, সম্মান ও ক্ষমতা সর্বদিক থেকেই সবার উপরে। [সা‘দী]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-মাআরিজ (৭০): আয়াত ১ হতে ৪] পূর্ণ পৃষ্ঠা

[সূরা আল-মাআরিজ-এর তাফসীর]সূরা আল-মাআরিজ; এটি সর্বসম্মতিক্রমে মক্কী সূরা। এটি চুয়াল্লিশটি আয়াত বিশিষ্ট। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। ‌‌[সূরা আল-মাআরিজ (৭০): আয়াত ১ হতে ৪]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামেএক আবেদনকারী সেই আযাব প্রার্থনা করেছে যা অবধারিতভাবে সংঘটিত হবে, (১) কাফিরদের জন্য, যার কোনো প্রতিরোধকারী নেই, (২) আল্লাহর পক্ষ হতে, যিনি উচ্চ মর্তবার (আরোহণের সোপানসমূহের) অধিকারী। (৩) ফেরেশতাগণ এবং রূহ (জিবরাঈল) তাঁর দিকে আরোহণ করে এমন এক দিনে, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর। (৪)মহান আল্লাহর বাণী: (এক আবেদনকারী সেই আযাব প্রার্থনা করেছে যা অবধারিতভাবে সংঘটিত হবে) নাফে এবং ইবনে আমির ‘সাআলা’ (সয়াল) শব্দটি হামযাহ ছাড়া পাঠ করেছেন।

অবশিষ্ট কিরাত বিশেষজ্ঞগণ হামযাহ যোগে পাঠ করেছেন। যিনি হামযাহ যোগে পাঠ করেছেন, তার নিকট এটি ‘সুয়াল’ (জিজ্ঞাসা বা প্রার্থনা) হতে উদ্ভূত। এক্ষেত্রে ‘বা’ বর্ণটি অতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে, আবার ‘আন’ (সম্পর্কে) অব্যয়ের অর্থেও হতে পারে। এখানে ‘সুয়াল’ অর্থ দুআ বা প্রার্থনা; অর্থাৎ ‘এক আহ্বানকারী আযাবের জন্য প্রার্থনা করেছে’। এটি ইবনে আব্বাস এবং অন্যদের থেকে বর্ণিত। বলা হয়ে থাকে: অমুক ব্যক্তির জন্য ধ্বংসের বদদোয়া করা হয়েছে, কিংবা তার ওপর আযাবের বদদোয়া করা হয়েছে। আরও বলা হয়: ‘আমি যায়েদকে ডেকেছি’, অর্থাৎ আমি তার উপস্থিতি প্রার্থনা করেছি।

এর সারমর্ম হলো, এক প্রার্থনাকারী কাফিরদের জন্য আযাব প্রার্থনা করেছে, যা কিয়ামতের দিন তাদের ওপর অনিবার্যভাবে আপতিত হবে। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী ‘বা’ বর্ণটি অতিরিক্ত, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণী: ‘তৈল সহ উৎপন্ন হয়’ [সূরা আল-মুমিনুন: ২০] এবং তাঁর বাণী: ‘তুমি খেজুর গাছের কাণ্ডটি নিজের দিকে নাড়া দাও’ [সূরা মারইয়াম: ২৫]-এ ব্যবহূত হয়েছে; এটি মূলত গুরুত্বারোপের জন্য। অর্থাৎ, এক আবেদনকারী একটি অনিবার্য আযাব প্রার্থনা করেছে। (কাফিরদের জন্য) অর্থাৎ কাফিরদের ওপর। তিনি হলেন নযর ইবনুল হারিস; যখন সে বলেছিল: ‘হে আল্লাহ! যদি এটি আপনার পক্ষ থেকে সত্য হয়, তবে আমাদের ওপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষণ করুন অথবা আমাদের নিকট কোনো যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি নিয়ে আসুন’ [সূরা আল-আনফাল: ৩২]।

ফলে তার এই প্রার্থনার প্রেক্ষিতে আয়াতটি নাযিল হয় এবং সে বদরের যুদ্ধে বন্দি অবস্থায় (সবর) নিহত হয়। সে এবং উকবা ইবনে আবি মুআইত ছাড়া আর কাউকেও বন্দি অবস্থায় হত্যা করা হয়নি—একথা ইবনে আব্বাস ও মুজাহিদ বলেছেন। আবার বলা হয় যে, এখানে আবেদনকারী হলেন হারিস ইবনে নুমান আল-ফিহরি। এর প্রেক্ষাপট হলো, যখন তার কাছে আলী (রা.) সম্পর্কে নবী (সা.)-এর এই বাণী পৌঁছেছিল: ‘আমি যার মাওলা, আলীও তার মাওলা’, তখন সে তার উটে আরোহণ করে এলো এবং আবতাহ নামক স্থানে উট বসিয়ে বলল: ‘হে মুহাম্মদ! আপনি আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই...’(১).

দেখুন: ১২তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১১৪(২). দেখুন: ১১তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৯৪(৩). দেখুন: ৮১তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৯৮(৪). আস-সবর: কোনো ব্যক্তিকে হত্যার উদ্দেশ্যে বেঁধে বা আটকে রাখা।