Yunus
ইউনুস: 101
10 ইউনুস Yunus · 109 আয়াত يونس
মূল আরবি
قُلِ ٱنظُرُوا۟ مَاذَا فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۚ وَمَا تُغْنِى ٱلْـَٔايَـٰتُ وَٱلنُّذُرُ عَن قَوْمٍ لَّا يُؤْمِنُونَ
English Translations
Say, "Observe what is in the heavens and the earth." But of no avail will be signs or warners to a people who do not believe.
Say: "Behold all that is in the heavens and the earth," but neither Ayat (proofs, evidences, verses, lessons, signs, revelations, etc.) nor warners benefit those who believe not.
Say, “Look at what is there in the heavens and the earth.” But, signs and warnings do not suffice a people who do not believe.
Tell them: 'Observe carefully all that is in the heavens and the earth.' But no signs and warnings can avail those who are bent on not believing.
Say: Behold what is in the heavens and the earth! But revelations and warnings avail not folk who will not believe.
Say: "Behold all that is in the heavens and on earth"; but neither Signs nor Warners profit those who believe not.
বাংলা অনুবাদ
বল ‘‘আসমানসমূহ আর যমীনে যা কিছু আছে তার দিকে চেয়ে দেখ, যারা ঈমান আনে না তাদের জন্য নিদর্শনাবলী আর ভয়-ভীতি প্রদর্শন কোন কাজে আসে না।
বল, ‘আসমানসমূহ ও যমীনে কী আছে তা তাকিয়ে দেখ। আর নিদর্শনসমূহ ও সতর্ককারীগণ এমন কওমের কাজে আসে না, যারা ঈমান আনে না’।
বলে দাওঃ তোমরা লক্ষ্য কর, যা কিছু রয়েছে আসমানসমূহে ও যমীনে; আর যারা ঈমান আনেনা, প্রমাণাদী ও ভয় প্রদর্শন তাদের কোন উপকার সাধন করতে পারেনা।
বলুন, আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে সেগুলোর প্রতি লক্ষ্য কর।’ আর যারা ঈমান আনে না, নিদর্শনাবলী ও ভীতি প্রদর্শন এমন সম্প্রদায়ের কোনো কাজে আসে না।
বল: ‘আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে তার প্রতি তোমরা লক্ষ্য কর।’ নিদর্শনাবলী ও ভীতি প্রদর্শন অবিশ্বাসী সম্প্রদায়ের কোন উপকারে আসে না।
১০১. হে রাসূল! যে মুশরিকরা আপনার নিকট নিদর্শনাবলী চায় আপনি তাদেরকে বলুন, আল্লাহর ক্ষমতা ও একত্ববাদ বুঝায় আকাশ ও জমিনের এমন নিদর্শনাবলী নিয়ে তোমরা একটু চিন্তা করো। কুফরির উপর গোঁয়ার্তুমির দরুন যে জাতির ঈমান আনার কোন প্রস্তুতিই নেই। রাসূল, প্রমাণাদি ও নিদর্শনাবলী নাযিল করায় তাদের কোন লাভ নেই।
তাফসীর
১০১-১০৩ নং আয়াতের তাফসীর: এ আয়াতে আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বন্দাদেরকে অন্তদৃষ্টি প্রসারিত করার উপদেশ দিতে গিয়ে বলেন- সারা বিশ্বে আমার যেসব নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে, যেমন আকাশের তারকারাজি, নক্ষত্র, সূর্য, চন্দ্র, রাত, দিন ইত্যাদি, এগুলোর প্রতি তোমরা তোমাদের অন্তর্দৃষ্টি নিক্ষেপ করে দেখো যে, কিভাবে রাত্রির মধ্যে দিবসকে এবং দিবসের মধ্যে রাত্রিকে প্রবেশ করিয়ে দেয়া হচ্ছে! কখনো দিন বড় হচ্ছে, আবার কখনো রাত বড় হচ্ছে। আর আকাশের উচ্চতা ও প্রশস্ততা, তারকারাজি দ্বারা তাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করা, আকাশ হতে বৃষ্টি বর্ষণ, যমীন শুষ্ক হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় তাকে সঞ্জীবিত ও সবুজ-শ্যামল করা, উদ্ভিদ ও বৃক্ষরাজিতে ফল, ফুল ও পাঁপড়ি সৃষ্টি করা, বিভিন্ন প্রকারের তরুলতা উৎপন্ন করা, বিভিন্ন প্রকারের জীব-জন্তু সৃষ্টি করা, এগুলোর আকৃতি, রং, উপকারিতা ও অপকারিতা পৃথক হওয়া, পাহাড়, মরুভূমি, বন-জঙ্গল, বাগবাগিচা, আবাদী ও পতিত ভূমি, সমুদ্র, তার তলদেশের বিস্ময়কর বস্তুরাজি, তরঙ্গমালা, জোয়ার-ভাটা, এতদসত্ত্বেও ভ্রমণকারীদের ওর উপর দিয়ে নৌকা, জাহাজ ইত্যাদি যোগে ভ্রমণ করা, এ সবগুলো হচ্ছে মহাশক্তিশালী আল্লাহ তা'আলার নিদর্শনসমূহ, যিনি ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই।
কিন্তু বড়ই পরিতাপের বিষয় এই যে, এসব নিদর্শন কাফিরদের চিন্তা ও গবেষণার কোনই কারণ হচ্ছে না। আল্লাহর দলীল সাব্যস্ত হয়ে গেছে, এরা ঈমান আনছে না এবং আনবেও না। এ লোকগুলো তো ঐ শাস্তির দিনগুলোরও অপেক্ষা করছে, যার সম্মুখীন হয়েছিল তাদের পূর্ববর্তী কওমগুলো। আল্লাহ পাক বলেনঃ হে নবী (সঃ)! তাদেরকে বলে দাও- তোমরা সময়ের জন্যে অপেক্ষা কর। আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষা। করছি। অবশেষে যখন অপেক্ষার সময় শেষ হয়ে শাস্তি এসেই পড়বে তখন আমি রাসূলদেরকে এবং তাদের উম্মতদেরকে বাঁচিয়ে নিব। আর যারা রাসূলদেরকে অস্বীকার করেছিল তাদেরকে ধ্বংস করে দিব।
মুমিনদেরকে রক্ষা করার যিম্মা মহান আল্লাহ গ্রহণ করেছেন, যেমন তিনি সকর্মশীলদের উপর করুণা বর্ষণ নিজের যিম্মায় নিয়েছেন। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, আল্লাহর কিতাব লাওহে মাহফুজে, যা আরশের উপর রয়েছে, তাতে লিখিত আছেঃ “আমার রহমত আমার গযবের উপর জয়যুক্ত।”
বলুন, আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে সেগুলোর প্রতি লক্ষ্য কর।’ আর যারা ঈমান আনে না, নিদর্শনাবলী ও ভীতি প্রদর্শন এমন সম্প্রদায়ের কোন কাজে আসে না [১]।
[১] আল্লামা শানকীতী বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর সমস্ত বান্দাদেরকে এ নির্দেশই দিচ্ছেন যে, তারা যেন আসমান ও যমীনের বৃহৎ সৃষ্টিগুলোর দিকে তাকায় যেগুলো তাঁর মহত্বতা, পূর্ণতা, ও তিনিই যে একমাত্র ইবাদতযোগ্য ইলাহ তার উপর প্রমাণবহ। অনুরূপ নির্দেশ তিনি অন্য আয়াতেও দিয়েছেন। যেমন, “অচিরেই আমরা তাদেরকে আমাদের নিদর্শনাবলী দেখাব, বিশ্ব জগতের প্রান্তসমূহে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে; যাতে তাদের কাছে সুস্পষ্ট হয়ে উঠে যে, অবশ্যই এটা (কুরআন) সত্য। এটা কি আপনার রবের সম্পর্কে যথেষ্ট নয় যে, তিনি সব কিছুর উপর সাক্ষী?” [সূরা ফুসসিলাত: ৫৩] [আদওয়াউল বায়ান] বস্তুত: ঈমান আনার জন্য তারা যে দাবীটিকে শর্ত হিসেবে পেশ করতো এটি হচ্ছে তার শেষ ও চূড়ান্ত জবাব।
তাদের এ দাবীটি ছিল, আমাদের এমন কোন নির্দশন দেখান যার ফলে আপনার নবুওয়াতকে আমরা সত্য বলে বিশ্বাস করতে পারি। এর জবাবে বলা হচ্ছে, যদি তোমাদের মধ্যে সত্যের আকাংখা এবং সত্য গ্রহণ করার আগ্রহ থাকে তাহলে যমীন ও আসমানের চারদিকে যে অসংখ্য নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে এগুলো মুহাম্মদের বাণীর সত্যতার ব্যাপারে তোমাদের নিশ্চিন্ত করার জন্য শুধু যথেষ্ট নয় বরং তার চাইতেও বেশী। শুধুমাত্র চোখ খুলে সেগুলো দেখার প্রয়োজন। কিন্তু যদি এ চাহিদা ও আগ্রহই তোমাদের মধ্যে না থাকে, তাহলে অন্য কোন নির্দশন, তা যতই অলৌকিক, অটল ও চিরন্তন রীতি ভংগকারী এবং বিস্ময়কর ও অত্যাশ্চর্য হোক না কেন, তোমাদেরকে ঈমানের নিয়ামত দান করতে পারে না।
[سورة يونس (10): آية 101] পূর্ণ পৃষ্ঠা
মহান আল্লাহর বাণী: (আর আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত ঈমান আনা কোনো প্রাণের সাধ্য নয়)। এখানে "মা" শব্দটি না-বোধক। অর্থাৎ, তাঁর ফয়সালা, তকদির, ইচ্ছা ও অভিপ্রায় ব্যতীত কোনো প্রাণের পক্ষেই ঈমান আনা সংগত নয়। (আর তিনি অপবিত্রতা চাপিয়ে দেন)। হাসান, আবু বকর এবং মুফাদদ্বল 'ওয়া নাজআলু' (আমরা চাপিয়ে দেই) নূন যোগে পাঠ করেছেন যা মহানুভবতা প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়। আর 'রিজস' অর্থ হলো আজাব বা শাস্তি; 'রা' বর্ণে পেশ ও যের উভয়ই ভাষার ব্যাকরণে প্রচলিত পঠন। (তাদের ওপর যারা বোঝে না) মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর আদেশ ও নিষেধসমূহ। [সুরা ইউনুস (১০): আয়াত ১০১]বলুন, তোমরা তাকিয়ে দেখো আসমান ও জমিনে কী আছে।
আর নিদর্শনসমূহ এবং সতর্কবার্তাকারীগণ সেই সম্প্রদায়ের কোনো উপকারে আসে না যারা ঈমান আনে না। (১০১)মহান আল্লাহর বাণী: (বলুন, তোমরা তাকিয়ে দেখো আসমান ও জমিনে কী আছে)। এটি কাফেরদের প্রতি একটি নির্দেশ যাতে তারা সৃষ্টিজগতের নিদর্শনাদি লক্ষ্য করে শিক্ষা গ্রহণ করে, যা মহান স্রষ্টা ও পূর্ণ ক্ষমতাবান সত্তার অস্তিত্বের প্রমাণ দেয়। এই বিষয়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যা ইতিপূর্বে একাধিক স্থানে গত হয়েছে (১)। (আর উপকারে আসে না) এখানে 'মা' না-বোধক, অর্থাৎ কখনোই উপকারে আসবে না। আবার বলা হয়েছে এটি প্রশ্নবোধক, যার অর্থ দাঁড়ায়—কী আর উপকারে আসবে? (নিদর্শনসমূহ) অর্থাৎ প্রমাণাদি।
(সতর্কবার্তাকারীগণ) অর্থাৎ রাসুলগণ; এটি 'নাজির' শব্দের বহুবচন, যা দ্বারা রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বোঝানো হয়। (সেই সম্প্রদায়ের কোনো... যারা ঈমান আনে না) অর্থাৎ যাদের সম্পর্কে আল্লাহর আদি জ্ঞানে নির্ধারিত আছে যে তারা ঈমান আনবে না। [সুরা ইউনুস (১০): আয়াত ১০২]তবে কি তারা তাদের পূর্ববর্তীদের অতিক্রান্ত দিনগুলোর মতো দিন আসারই অপেক্ষা করছে? বলুন, তবে তোমরা অপেক্ষা করো, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষমানদের অন্তর্ভুক্ত। (১০২)মহান আল্লাহর বাণী: (তবে কি তারা তাদের পূর্ববর্তীদের অতিক্রান্ত দিনগুলোর মতো দিন আসারই অপেক্ষা করছে?) এখানে 'দিনগুলো' বলতে ঐতিহাসিক ঘটনাবলি বা বিপর্যয় বোঝানো হয়েছে।
যেমন বলা হয়, অমুক ব্যক্তি আরবদের দিনগুলো সম্পর্কে বিজ্ঞ, অর্থাৎ তাদের ঐতিহাসিক যুদ্ধ ও ঘটনাবলি সম্পর্কে। কাতাদা বলেন: এর অর্থ হলো নূহ, আদ, সামুদ ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা আজাব বা বিপর্যয়সমূহ। আর আরবরা আজাবকেও দিন বলে এবং নেয়ামতকেও দিন বলে অভিহিত করে, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: "আর তাদেরকে আল্লাহর দিনগুলো স্মরণ করিয়ে দিন" (২)। আপনার অতীতে অতিক্রান্ত হওয়া ভালো বা মন্দ সবকিছুই হলো 'দিন'। (অপেক্ষা করো) অর্থাৎ প্রতীক্ষা করো, এটি মূলত একটি ধমক ও সতর্কবাণী। (আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষমানদের অন্তর্ভুক্ত) অর্থাৎ আমার প্রতিপালকের প্রতিশ্রুত বিষয়ের প্রতীক্ষাকারীদের অন্তর্ভুক্ত।(১) দেখুন খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৩৩০।(২) দেখুন খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৩৪১।
