Yunus

ইউনুস: 32

10:32
টেক্সট কপি
10 ইউনুস Yunus · 109 আয়াত يونس

মূল আরবি

فَذَٰلِكُمُ ٱللَّهُ رَبُّكُمُ ٱلْحَقُّ ۖ فَمَاذَا بَعْدَ ٱلْحَقِّ إِلَّا ٱلضَّلَـٰلُ ۖ فَأَنَّىٰ تُصْرَفُونَ

English Translations

Sahih International

For that is Allāh, your Lord, the Truth. And what can be beyond truth except error? So how are you averted?

Muhsin Khan

Such is Allah, your Lord in truth. So after the truth, what else can there be, save error? How then are you turned away?

Taqi Usmani

So, that is Allah, your Lord in truth. And what is there after truth but error? To where, then, are you being diverted (by your whims)?

Abul Ala Maududi

Such, then, is Allah, your true Lord. And what is there after truth but error? How, then, are you being turned away?

Pickthall

Such then is Allah, your rightful Lord. After the Truth what is there saving error? How then are ye turned away!

Yusuf Ali

Such is Allah, your real Cherisher and Sustainer: apart from truth, what (remains) but error? How then are ye turned away?

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

তিনিই আল্লাহ, তোমাদের প্রকৃত প্রতিপালক। প্রকৃত সত্যের পর গুমারাহী ছাড়া আর কী থাকতে পারে? তোমাদেরকে কোনদিকে ঘুরানো হচ্ছে?

রাওয়াই আল-বায়ান

অতএব, তিনিই আল্লাহ, তোমাদের প্রকৃত রব। অতঃপর সত্যের পর ভ্রষ্টতা ছাড়া কী থাকে? অতএব কোথায় তোমাদেরকে ঘুরানো হচ্ছে?

শাইখ মুজিবুর রহমান

সুতরাং তিনিই হচ্ছেন আল্লাহ, যিনি তোমাদের প্রকৃত রাব্ব, অতএব সত্যের পর ভ্রষ্টতা ছাড়া আর কি রইল? তাহলে তোমরা (সত্যকে ছেড়ে) কোথায় ফিরে যাচ্ছ?

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

অতএব, তিনিই আল্লাহ্‌, তোমাদের সত্য রব। সত্য ত্যাগ করার পর বিভ্রান্তি ছাড়া আর কী থাকে? কাজেই তোমাদেরকে কোথায় ফেরানো হচ্ছে?

ফাতহুল মাজীদ

তিনিই আল্লাহ, তোমাদের সত্য প্রতিপালক। প্রকৃত সত্যের পর বিভ্রান্তি ব্যতীত আর কী থাকে? সুতরাং তোমরা কোথায় চালিত হচ্ছ?

মুখতাসার

৩২. হে মানুষ! যিনি এসব করেন তিনিই হলেন স্রষ্টা ও তোমাদের সকল ব্যাপার পরিচালনাকারী সত্য আল্লাহ। সত্য জানার পর তা থেকে দূরে থাকা ও বিনষ্ট ছাড়া আর কী থাকতে পারে?! তাহলে এ সুস্পষ্ট সত্য থেকে তোমাদের বিবেকগুলো কোথায় যায়?!

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

10:31

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

অতএব, তিনিই আল্লাহ্‌, তোমাদের সত্য রব [১]। সত্য ত্যাগ করার পর বিভ্রান্তি ছাড়া আর কী থাকে [২] ? কাজেই তোমাদেরকে কোথায় ফেরানো হচ্ছে [৩]?

[১] অর্থাৎ যদি এসবই আল্লাহর কাজ হয়ে থাকে, যেমন তোমরা নিজেরাও স্বীকার করে থাকো, তাহলে তো প্রমাণিত হলো যে, একমাত্র আল্লাহই তোমাদের প্রকৃত মালিক, রব, প্রভু এবং তোমাদের বন্দেগী ও ইবাদাতের হকদার। [ইবন কাসীর] কাজেই অন্যের, যাদের এসব কাজে কোন অংশ নেই তারা কেমন করে রবের দায়িত্বে শরীক হয়ে গেলো। কিভাবে তারা ইবাদত পেতে পারে?

[২] ইনিই হলেন সেই মহান সত্তা যাঁর গুণ-পরাকাষ্ঠার বিবরণ এইমাত্র বর্ণিত হলো, তারপরে পথভ্রষ্টতা ছাড়া আর কি থাকতে পারে? অর্থাৎ যখন আল্লাহ তা'আলার নিশ্চিত উপাস্য হওয়া প্রমাণিত হয়ে গেল, তখন প্রমাণিত হলো যে, তিনি ছাড়া আর সবই বাতিল। তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। তাঁর কোন শরীক নেই। [ইবন কাসীর] সুতরাং সেই নিশ্চিত সত্যকে পরিহার করে অন্যান্যদের প্রতি মনোনিবেশ করা কঠিন নির্বুদ্ধিতার কাজ। এর দ্বারা প্রমাণিত হয়ে যায় যে, ঈমান ও কুফরির মাঝে কোন সংযোগ নেই। যা ঈমান হবে না, তাই কুফর হবে। [কুরতুবী]

[৩] বলা হচ্ছে, “তোমাদেরকে কোথায় ফেরানো হচ্ছে?” অর্থাৎ যখন তোমরা জানতে পারলে যে, আল্লাহ্‌ই একমাত্র রব, তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন তখন কীভাবে তাঁর ইবাদাত ছেড়ে অন্যের ইবাদতের দিকে তোমাদের ফেরানো হয়? [ইবন কাসীর] এ থেকে সুস্পষ্টভাবে বুঝা যাচ্ছে যে, এমন কিছু বিভ্রান্তকারী রয়েছে যারা লোকদেরকে সঠিক দিক থেকে টেনে নিয়ে ভুল দিকে ফিরিয়ে দেয়। তাই মানুষকে আবেদন জানানো হচ্ছে, তোমরা অন্ধ হয়ে ভুল পথপ্রদর্শনকারীদের পেছনে ছুটে যাচ্ছে কেন? নিজেদের বুদ্ধি ব্যবহার করে চিন্তা করছে না কেন যে, প্রকৃত সত্য যখন এই, তখন তোমাদেরকে কোন দিকে চালিত করা হচ্ছে?

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা ইউনুস (১০): আয়াত ৩২] পূর্ণ পৃষ্ঠা

‌[সূরা ইউনুস (১০): আয়াত ৩১]আপনি বলুন, "কে তোমাদের আসমান ও জমিন থেকে রিজিক দান করেন? অথবা কে কান ও চোখের মালিক? আর কে জীবিতকে মৃত থেকে বের করেন এবং মৃতকে জীবিত থেকে বের করেন? আর কে সকল বিষয় পরিচালনা করেন?" তখন তারা অবশ্যই বলবে, "আল্লাহ"। সুতরাং আপনি বলুন, "তবে কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না (আল্লাহকে ভয় করবে না)?" (৩১)এই বক্তব্যের প্রেক্ষাপটের উদ্দেশ্য হলো মুশরিকদের খণ্ডন করা এবং তাদের বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণাদি উপস্থাপন করা। তাদের মধ্যে যারা এটি স্বীকার করে নেয়, তাদের বিরুদ্ধে তো প্রমাণ স্পষ্ট। আর যারা স্বীকার করে না, তাদের জন্য এটি সুপ্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে যে, এই আসমান ও জমিনের অবশ্যই একজন স্রষ্টা আছেন; কোনো বিবেকবান ব্যক্তিই এ বিষয়ে সংশয় পোষণ করেন না।

এটি স্বতঃসিদ্ধ সত্যের পর্যায়ের নিকটবর্তী। "আসমান থেকে" অর্থাৎ বৃষ্টির মাধ্যমে। "আর জমিন থেকে" অর্থাৎ উদ্ভিদরাজির মাধ্যমে। (অথবা কে কান ও চোখের মালিক?) অর্থাৎ কে তোমাদের জন্য এই শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি সৃষ্টি করেছেন ও দান করেছেন। (আর কে জীবিতকে মৃত থেকে বের করেন) অর্থাৎ জমিন থেকে উদ্ভিদ, বীর্য থেকে মানুষ, দানা থেকে শস্যের শিষ, ডিম থেকে পাখি এবং কাফির থেকে মুমিন বের করেন। (আর কে সকল বিষয় পরিচালনা করেন?) অর্থাৎ কে এসব নির্ধারণ করেন ও ফয়সালা করেন। (তখন তারা অবশ্যই বলবে, "আল্লাহ") কারণ তারা বিশ্বাস করত যে স্রষ্টা কেবল আল্লাহই।

অথবা তারা বলবে যে, "তিনিই আল্লাহ" যদি তারা চিন্তা-ভাবনা করে এবং ইনসাফ করে। (সুতরাং আপনি বলুন) হে মুহাম্মদ, আপনি তাদের বলুন। (তবে কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না?) অর্থাৎ তোমরা কি দুনিয়া ও আখেরাতে তাঁর শাস্তি ও আযাবকে ভয় করবে না? ‌‌[সূরা ইউনুস (১০): আয়াত ৩২]অতএব তিনিই আল্লাহ, তোমাদের প্রকৃত পালনকর্তা। সুতরাং সত্যের পর বিভ্রান্তি ছাড়া আর কী থাকে? অতএব তোমরা কোথায় বিমুখ হচ্ছ? (৩২)আল্লাহ তাআলার বাণী: (অতএব তিনিই আল্লাহ, তোমাদের প্রকৃত পালনকর্তা। সুতরাং সত্যের পর বিভ্রান্তি ছাড়া আর কী থাকে?) - এতে আটটি মাসয়ালা (আলোচ্য বিষয়) রয়েছে: প্রথম— আল্লাহ তাআলার বাণী: "অতএব তিনিই আল্লাহ, তোমাদের প্রকৃত পালনকর্তা"—অর্থাৎ যিনি এসব কাজ করেন তিনিই তোমাদের প্রকৃত রব, সেইসব উপাস্য নয় যাদের তোমরা তাঁর সাথে শরিক করেছ।

"সুতরাং সত্যের পর কী থাকে"—এখানে 'যা' শব্দটি সংযোগকারী হিসেবে এসেছে। এর অর্থ হলো, যখন তুমি সত্য ইলাহের ইবাদত ছেড়ে দাও, তখন সেই ইবাদত পরিত্যাগের পর বিভ্রান্তি ছাড়া আর কিছুই থাকে না। পূর্বসূরিদের কেউ কেউ বলেছেন: এই আয়াতের বাহ্যিক দিক নির্দেশ করে যে, আল্লাহ ছাড়া যা কিছু আছে তা-ই বিভ্রান্তি। কারণ আয়াতের শুরু হলো "অতএব তিনিই আল্লাহ, তোমাদের প্রকৃত পালনকর্তা" এবং শেষ হলো "সুতরাং সত্যের পর বিভ্রান্তি ছাড়া আর কী থাকে?" সুতরাং এটি ঈমান ও কুফরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, কর্মের ক্ষেত্রে নয়। আবার কেউ কেউ বলেছেন: কুফর হলো সত্যকে গোপন করা; আর যা কিছু সত্য নয়, তা এই একই ধারায় পরিচালিত হয়।

সুতরাং হারাম হলো বিভ্রান্তি এবং মুবাহ (বৈধ) হলো হেদায়েত; কারণ আল্লাহই তো বৈধকারী ও হারামকারী। তবে প্রথম মতটিই সঠিক। কারণ এর পূর্ববর্তী বাক্যটি হলো—"আপনি বলুন, কে তোমাদের আসমান ও জমিন থেকে রিজিক দান করেন?"